পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৩৮৩ আধিপত্যের চঞ্চলতা

৩৮৩   আধিপত্যের চঞ্চলতা  আধিপত্য বড় মজার বস্তু। যে পায়, সে ভাবে—“আমি ঈশ্বরের ছোট ভাই”; আর যে পায় না, সে ভাবে—“সময় এলে দেখিয়ে দেব।” এই দুই ভাবনার মাঝখানে মানবসভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে—এক হাতে রাজদণ্ড, আরেক হাতে হজমের ওষুধ। আদিম কালে মানুষ প্রকৃতির কাছে এমন ধমক খেত যে, আজকের স্কুলের ছাত্রও তেমন খায় না। বজ্রপাত একদিন এমন গর্জে উঠল যে, আদিম মানুষ বলল—“দেখিস, তোকে একদিন ব্যাটারিতে ভরে টর্চ বানাব!” তারপর সত্যিই সে বিদ্যুৎ ধরল, বাল্ব জ্বালাল, পাখা ঘোরাল—কিন্তু লোডশেডিং এলেই আবার মোমবাতির কাছে হাতজোড় করে দাঁড়ায়। প্রকৃতি তখন বলে—“বাবা, আধিপত্য করবি কর, কিন্তু বিলটা আগে দে!” মানুষের আধিপত্যবোধ সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় ঘরের ভেতর। স্বামী সকালবেলা বুক ফুলিয়ে বলে—“এই সংসারের আমি কর্তা!” ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে স্ত্রীর গম্ভীর ডাক—“বাজারের ব্যাগটা নিয়ে এসো।” কর্তা তখন ব্যাগ হাতে এমন দৌড়ায়, যেন সেনাপতি যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছে। অফিসেও একই দশা। বস চেয়ারে বসে গম্ভীর মুখে বলে—“আমিই এই প্রতিষ্ঠানের মস্তিষ্ক।” কিন্তু চা-ওয়ালা দেরি করলে তার মস্তিষ্ক এমন ঝিমিয়ে পড়ে, যেন বিদ্যুৎহীন পাখা। আর ফাইল যদি পিয়নের...

৩৮২ এক যে ছিল জ্ঞানী বুড়ো

  ৩৮২ এক যে ছিল জ্ঞানী  বুড়ো  গ্রামের প্রাচীন বটগাছটার নিচে প্রতিদিন বিকেলে বসতেন বৃদ্ধ শিক্ষক। চারপাশে ছেলেমেয়েরা খেলত, গরু ফিরত খামারে, আর বাতাসে ভেসে আসত শিউলি ফুলের গন্ধ। সেদিন তাঁর সামনে বসেছিল এক কৌতূহলী শিষ্য—নাম তার অনির্বাণ। শিষ্য জিজ্ঞেস করল, — গুরুজি, “শিক্ষা” আর “সাধনা” কি আলাদা জিনিস? শিক্ষক মৃদু হেসে পাশে রাখা একটি মাটির হাঁড়ি আর একটি প্রদীপ দেখালেন। — দেখ অনির্বাণ, এই হাঁড়িটা হলো তোমার মন। আর এই প্রদীপের আগুন তোমার চর্চা। আমি এখন হাঁড়িতে জল ঢালছি—এটা হলো শিক্ষা, বাইরের জগৎ থেকে সংগ্রহ করা অসম্পূর্ন জ্ঞান। বই, মানুষ, অভিজ্ঞতা—এ সব মিলিয়েই  জল, সে  বাড়তেই থাকে। শিষ্য মন দিয়ে দেখছে। শিক্ষক আবার বললেন, — এখন হাঁড়িটা আগুনে বসাই। যখন জল ফুটতে শুরু করবে, তখন অপ্রয়োজনীয় উপাদানগুলি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে। যা থাকবে, সেটাই জ্ঞানের নির্যাস—এটাই সাধনা। শিক্ষা তোমাকে ভরায়, সাধনা তোমাকে পরিশুদ্ধ করে। ঠিক তখন পাশ দিয়ে এক রাখাল ছেলে হাঁটছিল। সে হেসে বলল, — গুরুজি, তাহলে বেশি পড়লে কি বেশি জ্ঞানী হওয়া যায়? শিক্ষক হাসলেন, — না রে, শুধু জল ভরলে হাঁড়ি উপচে পড়ে। ...

৩৮১ “মৌলবাদীর খোঁজে বাপু”

  ৩৮১ “মৌলবাদীর খোঁজে বাপু” বাপু একদিন ঠিক করলেন—এই পৃথিবীতে “মৌলবাদী” কাকে বলে, তার হদিস না পেলে আর শান্তি নেই। কারণ চারদিকে শুধু অভিযোগ—“ওই লোকটা মৌলবাদী”, “ওই দলটা সাম্প্রদায়িক”, “ওই মতবাদটা বিপজ্জনক”! বাপু ভাবলেন, এত মৌলবাদী যদি থাকে, তবে নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও মৌলবাদীদের একটা ইউনিয়ন অফিস আছে—সেখানে গিয়ে খোঁজ নিলেই সব পরিষ্কার। প্রথমে বাপু গেলেন ধর্মপাড়ায়। সেখানে এক ভদ্রলোক খুব গম্ভীর মুখে বললেন, “আমাদের ধর্মই শেষ কথা। বাকি সব ভ্রান্ত।” বাপু খাতায় টুকে নিলেন— ধর্মীয় মৌলবাদ: উপস্থিত । তারপর বাপু ঢুঁ মারলেন বর্ণপাড়ায়। সেখানে এক দাদা বললেন, “আমাদের বংশই শ্রেষ্ঠ, বাকি সব নিম্নমানের।” বাপু আবার লিখলেন— বর্ণ মৌলবাদ: উপস্থিত । এরপর বাপু হাজির হলেন শ্রেণীপাড়ায়। সেখানে লাল পতাকা উড়ছে, স্লোগান—“দুনিয়ার সর্বহারা এক হও!” এক নেতা বললেন, “আমরা শুধু শ্রমিক  শ্রেণীর পক্ষেই।” বাপু খাতায় লিখলেন— শ্রেণী মৌলবাদ: সম্ভাব্য উপস্থিত । কিন্তু বাপুর কৌতূহল মেটে না। তিনি ভাবলেন—“এত মৌলবাদ যদি চারদিকে থাকে, তবে কি কেউ মৌলবাদী নয়?” তাই বাপু শেষমেশ নিজের বাড়িতে ফিরলেন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকেই জিজ্ঞ...