পোস্টগুলি

ujaan

৪১৮ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -চতুর্থ পর্ব )

  ৪১৮  স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -চতুর্থ   পর্ব ) ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )      

৪১৬ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক দ্বিতীয় পর্ব )

৪১৬ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক দ্বিতীয়    পর্ব ) ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )     সুযোগ পেলেই অহংকারী বিদেশীরা ভারতের প্রাচীন সভ্যতাকে অস্বীকার করে পাশ্চাত্যের  সভ্যতাকে বড় করে দেখাবার বাসনা ত্যাগ করতে পারতো না।  " দি  আর্লি হিস্ট্রি অফ ইন্ডিয়া" বইটিতে  ভিন্সেন্ট স্মিথ ৬৭ পাতা ব্যয় করেছিলেন শুধু মাত্র আলেক্সজান্ডারের বিজয় কাহিনী লিখে।  সেখানে ভীষণ মিতব্যয়ী ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত ও বিন্দুসারের জন্য ৪১টি পাতা আর সম্রাট অশোকের জন্য মাত্র ৪৪ পাতা বরাদ্দ করেন।   অবশ্য সত্য কখনই মিথ্যার পিছু ছাড়েনি।  নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকেরা প্রমান  করেছেন, আলেক্সজান্ডার কেবলমাত্র এক প্রান্তিক সামন্তরাজাকে  যুদ্ধে হারিয়ে দিয়েছিলেন।  কিন্তু  অন্যান্য ভারতীয় রাজাদের সামরিককুশলতার  খবর পেয়ে, সময় ব্যয় না করে তড়িঘড়ি ভারতবর্ষ  ত্যাগ করে  পালিয়ে গিয়েছিলেন।  এরকম মেলা উদাহরণ আছে ইতিহাসকে বিকৃত করার। আবার আমাদের দেশের মানুষেরা সংকীর্ণ স্বার্থে ব্রাহ্মণ্যবাদকে...

৪১৭ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -তৃতীয় পর্ব )

৪১৭  স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -তৃতীয়   পর্ব ) ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )   গত সংখ্যায় -   সনাতন' নামক ছাতার তলায় সব ধর্মকে স্থান দিতে হয়, তাহলে স্বীকার করতে হবে বিভিন্ন ব্রান্ডের ধর্ম বাজারে থাকলেও "চিরন্তন সত্যের" প্রশ্নে সব ধর্মই এক, সবই এক সুরে বাঁধা, সেই রামকৃষ্ণের দর্শন - তাকে গ্রহণ করতে হবে, এই বলে মধুছন্দা একটু থামলো।     ০০০০০০০০০০০  প্রশান্ত এতক্ষন শুনছিলো, এবার প্রশ্ন করলো, যদিও এসবের বস্তুনিষ্ঠ উত্তর দীর্ধদিন গবেষণার কাজে থাকার দরুন তারকাছে আছে, কিন্তু মানুষকে সক্রেটিসের মতো  প্রশ্ন করাকে অভ্যেসে পরিণত করার গোপন ইচ্ছা মনের কোন বাস করতো তাই সে নিজেই প্রশ্ন কর্তা হয়ে জিজ্ঞাসা তুলে দিল - এর পরে হয়ত সবাই জানতে চাইবে   "বেদ" তুমি কার ? যদি  উত্তর আসে  আর্যদের। স্বভাবতই পরের প্রশ্ন আসবে আর্যরা কি ভারতের প্রাচীন জাতি না পরবাসী ? যদি পরবাসী হয়, তবে বেদ ভারতীয়দের ধর্মের চূড়ান্ত নির্ণয়কারী কি হিসাবে হলো ? তবে কি এই উপমহাদেশের  নিজস্...

৪১৫ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -প্রথম পর্ব )

  ৪১৫   স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -প্রথম পর্ব ) ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )   পাথরের সুদৃশ্য কোটর থেকে ভোরের সল্প আলো ফোটার সাথে সাথে মোরগটা আড়মোড়া ভেঙে উচ্চস্বরে ডেকে উঠলো।  অবশ্য এই নিঃশব্দ পাহাড়ী পরিবেশে মোরগের  ডাকাটা খুব যে খারাপ লাগে তা বলা যাবে না। অগত্যা নরেন হাত বাড়িয়ে টেবিলের উপর থাকা ফ্লাস্কের মুখটা খুলে একগ্লাস জল খেয়ে নিল। নরেনের এইটা দীর্ঘ দিনের অভ্যাস।  আজ রবিবার, সকালটা একটু অলসতার সাথে দিনটা শুরু করবে, নরেনের মনে মনে সেই ইচ্ছা ছিল। গতকাল বন্ধুদের সাথে প্রায় মধ্যে রাত্রি পর্যন্ত সুরাপানের রেশটা এখনও  অল্প সল্প  সারা দেহ মনে ছড়িয়ে আছে।   জোড়বাংলার এই বাংলোটা সেই ব্রিটিশ আমলে তৈরি। চারপাশে সারি সারি পাইন গাছগুলিকে দেখে মনে হচ্ছে সুসজ্জিত পাহারাদাররা  অতন্দ্র প্রহরীর মতো আদেশের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।  বিচিত্র প্রজাতির  সিঙ্কোনা গাছগুলির লালচে বাদামি বাকল আর পাতার সমাহার লনটাকে বিশেষ আকর্ষণীয় করে তুলেছে  আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রডোড্রেনডন...

৪১৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(২৯)

ছবি
    ৪১৪  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(২৯ ) ৩রা জানুয়ারি'১৮৮৫। ৫৪১, ডিয়ারবর্ন এভিনিউ, চিকাগো থেকে  প্রেরিত পত্রের   ভাবার্থের অনুসরণে -   সৃষ্টির ধর্ম হচ্ছে বিচিত্রতা - এক দিন তিনি  ছিলেন একা। তার মধ্যে ইচ্ছা সঞ্চারিত হলো  "আমি আজ থেকে বহু হবো" - এই তত্ত্বটা আমাদের বহু বেদের মুলে আছে। এক থেকে বহুত্বে পৌঁছাতে না পারলে সৃষ্টি প্রকাশমান  হয়ে ওঠে না।  তাহলে, এই বহুত্ব বা বিচিত্রটাই সৃষ্টির কারণরূপে বিদ্যমান। এই বিচিত্রতার স্থবিরতা সৃষ্টিকে বিলোপ করে দিতে পারে।   মানুষ যেমন এক থাকতে ভালোবাসেনা, ঠিক তেমনি ঈশ্বরও একা থাকতে কোন দিনও চাননি। এক থেকে বহু হবার পিছনে সেই ইচ্ছাটাই কাজ করে। বৈচিত্রময়  প্রকৃতি আর নানা রকমের মানুষ সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন  ভাষা ও রুচি - এসবই সেই একের খেলা।   উদাহরণস্বরূপ বলা যায় , এক সেই সমুদ্র, অথচ তার ঢেউ অসংখ্য। ঢেউগুলিকে আলাদা আলাদা মনে হলেও তারা সকলেই সমুদ্রেরই প্রকাশ। তেমনি জগতের নানা রূপ, নানা মানুষ, নানা ঘটনা— সবই সেই এক পরম সত্তার প্রকাশ বা “খেলা”। এ যেন আম...

৪১৩ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(২৮)

ছবি
  ৪১৩  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(২৮ ) ১৮ই নভেম্বর' ১৮৯৪ , নিউয়র্ক থেকে  প্রেরিত পত্রের   ভাবার্থের অনুসরণে -   প্রেমই জীবন -দ্বেষই মৃত্যু-চেতনা, সমাজ ও মানুষের মুক্তির দর্শন  এই বিশ্ব প্রকৃতির ইতিহাস মূলত দুটি বিপরীত শক্তির ইতিহাস, মানুষের ইতিহাসের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। যেমন এর একদিকে আছে প্রেম, ঐক্য, বিস্তার আর অন্যদিকে আছে দ্বেষ,বিভাজন ও সংকোচন। সভ্যতার গতিপথ নির্ধারিত হয়েছে এই দুই শক্তির ধারাবাহিক সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে।  তাই স্বামীজী বলেন , "প্ৰেমই জীবন, দ্বেষই মৃত্যু।" আসলে এটা নিছক কোন জ্ঞানগর্ভ  উপদেশ নয় বরং তিনি মানব অস্তিত্বের এক গভীর দার্শনিক সত্যকে প্রকাশ  করেছিলেন এই চিঠিতে।  জড়ের সাথে চৈতন্যের গুনগত পার্থ্ক্য  চেতনা নেই বলে সেই জগতকে  জড় জগৎ বলা হয়।  জড় জগতে ভিন্ন ভিন্ন বস্তুর ভিন্ন ভিন্ন ক্রিয়া আছে। বস্তু ধর্ম অনুযায়ী এক বস্তু অপর বস্তুর সাথে মিলিত হতে পারেনা, তাই তারা আলাদা সত্ত্বা হিসাবে এই পৃথিবীতে পরিচিত। এর পশ্চাতের কারণ হচ্ছে চৈতন্যের অভাব। অথচ , এই বিশ্ব চরাচরে ...

৪১২ অদৃশ্য বস্তুর সন্ধানে

ছবি
 ৪১২  অদৃশ্য বস্তুর  সন্ধানে মানুষের চরিত্র বড় বিচিত্র। যা আছে, তা নিয়ে তার বিশেষ উৎসাহ নেই; যা নেই, তা নিয়েই তার যত মাথাব্যথা। আলমারিতে দশখানা জামা ঝুলছে, কিন্তু তার নজর থাকবে এগারো নম্বর জামাটির দিকে, যেটা এখনো কেনা হয়নি। সংসারে সুখ আছে, শান্তি আছে, বাজারে আলু-পটলও আছে—তবু মানুষ জিজ্ঞাসা করবে, "আচ্ছা, এর পরে কি আছে?" এই "এর পরে কি আছে?" প্রশ্নটাই সভ্যতার আসল ইঞ্জিন। না হলে মানুষ গুহা থেকে বেরোত না, সমুদ্রে নামত না, আকাশে উড়ত না, এমনকি প্রতিবেশীর বারান্দার দিকেও উঁকি মারত না। বস্তুত, অজানার প্রতি আকর্ষণ মানুষের জন্মগত। নারী পুরুষকে বোঝার চেষ্টা করে, পুরুষ নারীকে। বিবাহের পঁচিশ বছর পরেও উভয়পক্ষেরই মনে হয়, "লোকটাকে ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না!" সুতরাং যে প্রাণী নিজের জীবনসঙ্গীকেই পুরোপুরি বুঝতে পারে না, সে যে মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্যের পিছনে ছুটবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। বিজ্ঞানীরাও সেই কাজটাই করছেন। তারা আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তারাগুলো এমনভাবে ঘুরছে, যেন কোথাও একটা অদৃশ্য গুদামঘর আছে। হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা গেল, দৃশ্যমান পদার্থ দিয়ে ব্যাপারটা ঠিক বোঝানো য...