পোস্টগুলি

ujaan

৪৪০ বিকাশের জ্বালা

ছবি
৪৪০ বিকাশের জ্বালা    আবিষ্কার -পাথরের অস্ত্র থেকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ও শ্রেণী বিভাজন    হাতে যথেষ্ট সময় আর মাথায় কোন ব্যথা না থাকলে যা হয়। হঠাৎ করে মাথার মধ্যে যে ভাবনাটা চেপে বসে তখন তাকেই যানবাহন বানিয়ে তার পিঠে চড়ে বসতে ইচ্ছা করে। এমনি এক সময়ে রেবতী বর্মনের "সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ" বইটা পড়ছিলাম।  সভ্যতার ক্রমবিকাশের এক জায়গায় গিয়ে দেখলাম কি ভাবে সমাজে গুটিগুটি পায়ে অর্থনৈতিক ভাবনার বিকাশ হলো আর পাশের বাড়ির লোকটার সাথে দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীর সাথে সম-ভাবনার সুতোটা আলগা হতে শুরু করলো। ঠিক এখান থেকেই প্রশ্নের উদয় হল, উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলল, কিভাবে এই সমাজটার মধ্যে প্রতিনিয়ত একটা সংঘর্ষ চলছে এবং তার ফলে সমাজজীবনে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের নিভৃতে ব্যাবধান রচিত হচ্ছে,  তার ছবিটা তুলে ধরতে হবে।  আদানের  সাথে প্রদানের এক গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক। একুল যখন গড়বে তখন ধরে নিতে হবে অপর একটি কুলের ভাঙ্গন অনিবার্য।   যে সময়ে শিকার করাই আদিম মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। জীবন্ত পশুকে খাদ্য বানাতে গেলে একমাত্র পাথরই তাদের অস্ত্ররূপে সহযোগিতা ...

৪৩৯ মুকুলের ফিরে দেখা

ছবি
৪৩৯ মুকুলের ফিরে দেখা  মুকুল একান্ত অবহেলায় পালিত একটি আম গাছের চারা যে আগামীর স্বপ্নে বিভোর।  আমার এই "মুকুল" নামটা ওই মাতৃহারা পাঁচবছরে ছেলে আকাশের দেওয়া।  এক সন্ধ্যায় মুকুল তার জীবনের অতীতের স্মৃতির দরজায়  হাত লেগে বেজে উঠল। তারপর সবকিছু একদম চুপচাপ।  বাতাসের সাথে বড্ড ভাব মুকুলের। তার জীবনের সবকিছুকে শুধু বাতাস আর আকাশের সাথে অকপটে ব্যক্ত করে।  মুকুল কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। বাতাসের কথাগুলো তার ছোট্ট পাতাগুলোর মধ্যে যেন মৃদু শিহরণ তুলেছিল। সে আকাশকে প্রতিদিন জানালার ধারে বসে থাকতে দেখেছে। দেখেছে তার দুটি পা  দীর্ঘদিন ধরে অসাড়,  অথচ চোখ দুটি কত দূরে চলে যায়।, সেই দিগন্ত রেখার কিংবা তাকে অতিক্রম করে কোন এক অজানা মহাশুন্যে।  মুকুল বলল, —“কিন্তু মন দিয়ে মানুষ কী করতে পারে? সে তো হাঁটতে পারে না, দৌড়তে পারে না, অন্যদের মতো মাঠে গিয়ে খেলতে পারে না।” বাতাস হেসে উঠল। তার হাসিতে পাতাগুলো একসঙ্গে দুলে উঠল। —“তুই এখনও ছোট, মুকুল। তাই ভাবছিস মানুষের শক্তি শুধু তার পায়ের মধ্যে। পা মানুষকে পথ দেখায় না, মন পথের সন্ধান করে। চোখ মানুষকে দৃশ্য দেখায়, কিন্তু মন...

৪৩৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(৩১)

ছবি
    ৪৩৮   কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(৩১ ) ১৭ই ফেব্রুয়ারী,১৮৯৫ সালে বিদেশ থেকে শিষ্যদের উদ্দেশ্য পাঠানো পত্রের   ভাবার্থের অনুসরণে-  সময় বড্ড কম, কিন্তু কাজ যেন অন্তহীন। কাজকে ফেলে রাখাও সম্ভব নয়। সময় আর কাজের অনুপাতে সময় কম। স্বামীজী তার বিশ্রামের সময়টাকে বিলম্বিত করে, সেই সময়টা কাজের জন্য ব্যয় করছেন। দীর্ঘ দিনের এই অভ্যাসের দরুণ দেহ তার পুঞ্জিত প্রাপ্য সেই বিশ্রামকে ফিরে পেতে চায়। স্বামীজী সে ডাকে যথাপোযুক্ত সাড়া না দেওয়ায় দেহ আজ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে।   কিন্তু স্বামীজীর সামনে থামার কোন অবকাশ নেই। যে কোন মহান কাজের অগ্রগতির পথের মধ্যে বিছানো থাকে,  কণ্টক। লক্ষ্যের সাথে পাল্লা দিয়ে তার দুর্গমতা বৃদ্ধি পায়।  স্বামীজীর লক্ষ্য তো কোন ভৌগলিক সীমানায় কিংবা কোন সম্প্রদায় বা কোন বিশেষ ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।  স্বামীজীর কাজ সমগ্র  বিশ্ব জুড়ে আর সেই কাজকে বাস্তবায়িত করতে গেলে  যে উপযুক্ত সময়ের প্রয়োজন, তার কাছে সেই সময়টুকু পর্যন্ত নেই।  মনে রাখতে হবে- স্বামীজীর বয়স তখন মাত্র ৩২ বছর এবং তার শরী...

৪৩৭ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(৩০)

ছবি
    ৪৩৭   কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(৩০ ) ১৮৮৫ সালে বিদেশ থেকে শিষ্যদের উদ্দেশ্য পাঠানো পত্রের   ভাবার্থের অনুসরণে-  ১৮৮৫ সাল। চিঠিটির তারিখ ও স্থান সেখানে উল্লেখিত নেই। শুধু কয়েকটি কথা, কয়েকটি ভাব, যেন সময়ের স্রোত পেরিয়ে এসে আমাদের দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। কথাগুলি পড়তে পড়তে মনে হওয়া স্বাভাবিক—একজন মানুষ চলে যাওয়ার পরও তাঁর সবচেয়ে বড় উপস্থিতি কি তাঁর নামের মধ্যে থাকে, না তাঁর তৈরি করে যাওয়া মানুষগুলির মধ্যে? প্রশ্নটা সহজ নয়। কারণ মানুষ চলে যাওয়া মানে অস্তিত্বের অস্তিত্বহীনতা মাত্র। তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত থাকে।  স্বামীজী যেন সেই জায়গাটাতেই হাত রেখেছিলেন। আদর্শ যদি একটি পতাকা হয়, তবে তাকে শুধু নেতার হাতে থাকলে চলবে কেন? নেতা তো চিরকাল থাকবেন না। একদিন তাঁকে চলে যেতেই হবে। তখন পতাকাটি কে বহন করবে? সেই উত্তরাধিকার যদি আগে থেকে মানুষের ভিতরে তৈরি না হয়, তবে পতাকা একসময় কেবল কাপড় হয়ে যায়—দণ্ড থাকে, রং থাকে, কিন্তু তার মধ্যে আর কোনো হাওয়া থাকে না। স্বামীজীর চিন্তার ভিতরে তাই একটা অদ্ভুত তাড়া ছিল—মানুষ চাই। শুধু ভক্ত নয়...
ছবি
  ৪৩৬  স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -১৯ তম   পর্ব )  ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )       গত সংখ্যায় যা আছে --     মানব মনের বৈচিত্রতা ও  সমাজে তার বাস্তব প্রতিফলনের  এক অদ্ভুত ককটেল এই মহাভারত। মহাভারতে দেখি যে দেবতারা  বেদে ভূমিষ্ঠ হলো, তারা এখানে এসে প্রতিষ্ঠা পেলো। এটাও দেবতাদের বিবর্তনের ইতিহাস বললেও অত্যুক্তি হবে না। কাব্য কখনো  কখনো বাস্তবতাকে ছাপিয়ে যায়, কেননা কল্পনা কবির  কাব্য রচনার রসদ। তাই দেখি অস্ত্রের আধুনিকতা সময়কে  ছাপিয়ে গেছে, জন্ম তো জৈবিক নিয়মের ধার ধারেনি, অবশ্য অধিকাংশ রূপকে মোড়া , যত্রতত্র অলৌকিকতার হাতছানি  কিন্তু মহাজাগতিক দর্শন মহাভারতকে দীর্ঘজীবন দিয়েছে। তাইতো, একটা রাজনৈতিক সংঘাত সবকিছুকে ছাপিয়ে একটি নৈতিক মহাকাব্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।    ১৯  তম  পর্বের শুরু -  “যাই বলো ভাই, মহাভারতের অন্তস্থলে প্রবেশের দরজাটা সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু একবার ভিতরে ঢুকে পড়লে সেখান থেকে বেরোনোর রাস্...

৪৩৫ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -১৮ তম পর্ব )

ছবি
  ৪৩৫  স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -১৮ তম   পর্ব )  ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )       গত সংখ্যায় যা আছে --     এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ভারতীয় দর্শন, মহাভারত এর উত্তর দিয়ে  গেছে। সময়ের গভীর রায় যদি বলা হয় - 'তুমি কতদিন বেঁচে ছিলে  তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং তুমি তোমার সময়কে কি দিয়েছিলে - সেটাই শেষ প্রশ্ন। " ১৮ তম  পর্বের শুরু -  একটা বিরাট আকারে নরেনের হাই তোলার শব্দে, আলোচনার মোড় ঘুরে গিয়ে ঘড়ির কাটার উপর গিয়ে পড়লো। মধুছন্দা বলল - রাত-তো অনেক হয়েছে এবার রাতের খাওয়ার পালাটা সেরে  ফেলা দরকার। রাত বাড়ার সাথে সাথে ঠান্ডাটাও বেশ বাড়ছে , ঘরের রুম হিটারগুলি চালিয়ে দিলে ভালো হয়।  আবার লামা ফ্যামিলিও জেগে আছে, সুতরাং কালবিলম্ব না করে ইন্টারকমে রাতের খাবার পাঠিয়ে দেবার অনুরোধ করলো।  লাবণ্য বলল - দার্জিলিঙে প্রথম যে দিন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল , তার পিছনে কারণ ছিল ইতিহাসের বিশুদ্ধতা খোঁজার চেষ্টা করা। আর যে কথাটা প্রচলিত আছে যে শাসক থেকে শুরু ...

৪৩৪ স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -১৭ তম পর্ব )

ছবি
  ৪৩৪  স্পর্ধা-আস্পর্ধা (ধারাবাহিক -১৭ তম   পর্ব )  ( বাস্তবের উপর দাঁড়িয়ে একটা ধারাবাহিক রচনা যা অতীত - বর্তমানে আর আগামীর আশঙ্কাকে  উস্কে দেয় )       গত সংখ্যায় যা আছে --     প্রতিজ্ঞার মধ্যে বাস্তবতা কম অন্ধত্ব বেশি আর অন্ধত্ব পারিপার্শিকতাকে বিশ্লেষেণ করে  সিদ্ধান্ত নেবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।  ১৭তম  পর্বের শুরু -  কেউ ইতিহাসের আবার কেউ বা দর্শন নিয়ে আজীবন চর্চা করে আসছো। আমাকে তোমরা বলো, এই যে মহাভারত থেকে মাঝে মাঝে "সময়" কথাটা উচ্চারিত হয়, আসলে  তার স্বরূপটা কি ? - নরেন প্রশ্নটা  যেন হাউসের দিকে ছুড়ে দিল। ইতিহাসের অধ্যাপিকা ও গবেষক মধুছন্দা প্রশ্নটা যেন লুপে নিলো  -  'সময়'কে অতীত,বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দিয়ে সীমারেখা টানার চেষ্টা করা হলে সেটা ব্যর্থ হবে কেননা তার ব্যাপ্তি  বিশ্বজনীন।  সব ধরণের পার্থিব ও অপার্থিব  বিষয়ে যার নিরন্তর যাতায়াত তাকে তো কোন  সীমিত পরিসরে বেঁধে রাখে কার সাধ্য।    নরেন দা, প্রশ্নটা সময়ের স্বরূপ হবে না বরং প্রশ্নটা যদি এমন হতো -"সময় কি বাস্ত...