৪৬৪ কুলুঙ্গিতে রাখা প্রথম প্রেম
৪৬৪ কুলুঙ্গিতে রাখা প্রথম প্রেম একটি নিটোল প্রেমের গল্প সেদিন আকাশে রোদ ছিল, তবে তার তেজ ছিল না। নভেম্বরের কলকাতায় এমন একটা মায়াবী আলো নামে, যে আলোয় পুরোনো বাড়ির দেওয়াল, রাস্তার ধারের কৃষ্ণচূড়া আর মানুষের মুখের বলিরেখাগুলোও কেমন যেন অতীতের গল্প বলতে শুরু করে। গৌতমের বয়স এখন একষট্টি। চুলের বেশির ভাগটাই সাদা, চোখের কোণে সময়ের স্বাক্ষর, হাঁটার মধ্যে সেই পুরোনো ছটফটানি আর নেই। সংসার, চাকরি, দায়িত্ব, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি—সব মিলিয়ে জীবন তাকে অনেক দূর নিয়ে এসেছে। এত দূর যে, পেছনে ফেলে আসা পথটার দিকে ফিরে তাকানোর অবকাশও যেন আর তেমন হয়নি। অথচ সেদিন, রাস্তার মোড়ে ওষুধের দোকানটা পেরোতে না পেরোতেই, একটি মেয়েলি কণ্ঠ তার পায়ের তলায় অদৃশ্য শিকল পরিয়ে দিল। —গৌতম? কণ্ঠটা খুব পরিচিত। আবার যেন বহু দূরের কোনও গ্রাম থেকে ভেসে আসা বাঁশির সুর। সে মুখ ফেরাল। একজন মহিলা দাঁড়িয়ে। পরনে হালকা নীল শাড়ি, কাঁধে শান্তিনিকেতনী ব্যাগ। চুলে রুপোলি রেখা, মুখে বয়সের ছাপ। তবু চোখ দুটো! গৌতমের মনে হলো, কেউ যেন হঠাৎ তার বুকের ভেতর থেকে একটা বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছে। —শুভ্রা! নামটা উচ্চারণ করতে গিয়ে তার গলা কেঁপে গেল কি না, ...