পোস্টগুলি

ujaan

৪৫৯ প্রেম বনাম গ্যাস চেম্বার

ছবি
  ৪৫৯   প্রেম বনাম গ্যাস চেম্বার  ইতিহাস যখন মৃত্যুর পরোয়ানা লেখে, প্রেম তখনও চিঠি লেখে। কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে প্রেমের দাম বেড়ে যায়। অবশ্য তখন প্রেম করার মতো অবস্থা থাকে না। চারদিকে বোমা পড়ছে, রাস্তায় ট্যাঙ্ক চলছে, রেডিওতে নেতারা গলা ফাটিয়ে জাতির গৌরব ঘোষণা করছেন। এমন সময়ে প্রেমিক যদি প্রেমিকাকে বলে, ‘তোমার চোখ দুটো কী সুন্দর’, মেয়েটি স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমার মাথাটা কি ঠিক আছে? আমাদের বাড়ির ছাদটা এইমাত্র উড়ে গেল!’ তবু প্রেম হয়। হয়তো এই কারণেই মানুষের ইতিহাসে যুদ্ধের সংখ্যা যত বেড়েছে, প্রেমের গল্পের সংখ্যাও তত কমেনি। ১৯৩৮ সালের বার্লিন। শহরটার চেহারা তখন বদলে যাচ্ছে। রাস্তায় রাস্তায় পতাকা, দেওয়ালে দেওয়ালে স্লোগান, বক্তৃতার মঞ্চে উত্তেজিত মুখ। জার্মানির মানুষকে বোঝানো হচ্ছে, তাদের দুর্দশার জন্য দায়ী কিছু নির্দিষ্ট মানুষ। ইতিহাসের এই পুরোনো কৌশলটি বেশ কার্যকর—নিজের ঘরের আগুন নেভাতে না পারলে প্রতিবেশীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দাও। তারপর সবাই মিলে আগুনের শিখা দেখে জাতীয় গৌরব অনুভব করো। অ্যাডলফ হিটলার তখন জার্মানির ক্ষমতার কেন্দ্রে। প্রথম ব...

৪৫৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(৩৩)

ছবি
  ৪৫৮  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(৩৩ ) ১৮৯৫ সালে বিদেশ থেকে শিষ্যদের উদ্দেশ্য পাঠানো পত্রের   ভাবার্থের অনুসরণে-   জীবন সংক্ষিপ্ত কিন্তু কাজ যে পরে আছে অসঙ্খ্য। অথচ এই সংক্ষিপ্ত জীবনের মধ্যেই মানুষকে চিহ্নিত করতে হয় সঠিক কাজকে। তার সাথে  সম্পন্ন করতে হয় তার প্রধান   কাজগুলিকে। সময়ের সীমাবদ্ধতা আর কর্তব্যের অসীমতা—এই দুইয়ের মধ্যে দাঁড়িয়েই মানুষকে বেছে নিতে হয় তার জীবনের লক্ষ্য। কেউ নিজের মুক্তির সন্ধানে নির্জনতার পথ বেছে নেন, কেউ জ্ঞানচর্চার মধ্য দিয়ে সত্যকে আবিষ্কার করেন, আবার কেউ নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে অতিক্রম করে বৃহত্তর মানবসমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। স্বামী বিবেকানন্দের জীবন এই শেষোক্ত পথের এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর বিশ্বধর্ম মহাসভায় ভারতীয় দর্শন ও ধর্মচিন্তাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে বিবেকানন্দ আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর জীবনের তাৎপর্যকে কেবল একজন বিশ্ববিখ্যাত সন্ন্যাসীর সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে তাঁর প্রকৃত পরিচয় অধরাই থেকে যায়। বিদেশের সভামঞ্চ...

৪৫৭ লুকোচুরি খেলা

ছবি
  ৪৫৭  লুকোচুরি  খেলা    লুকোচুরি অতি প্রাচীন খেলা। পৃথিবীতে মানুষের জন্মের আগে থেকেই বোধ হয় এই খেলার প্রচলন ছিল। অন্তত পশুপাখিদের দেখে তেমনই মনে হয়। বাঘ শিকারের আগে আড়ালে থাকে, হরিণ তাকে দেখতে পায় না। তারপর হঠাৎ বাঘের আবির্ভাব। হরিণের তখন আর খেলার মেজাজ থাকে না। সে বুঝতে পারে, খেলাটা নিছক খেলা ছিল না। এইখান থেকেই লুকোচুরি খেলার দুটি শাখা আবিষ্কার করা যেতে পারে—নিরামিষ ও আমিষ। মানুষ সাধারণত নিরামিষ লুকোচুরি খেলে। যেমন, ছোটবেলায় বন্ধুরা চোখ বুজে একশো পর্যন্ত গুনছে, আর অন্যরা কেউ খাটের তলায়, কেউ আলমারির পিছনে, কেউ বা গাছের ডালে উঠে বসে আছে। ধরা পড়লে বড়জোর কিছুক্ষণ মুখ ভার করে থাকা। তারপর আবার খেলা শুরু। কিন্তু বয়স বাড়লে খেলাটির চরিত্র বদলে যায়। তখন আর কেউ গাছে ওঠে না, আলমারির পিছনেও লুকোয় না। মানুষ লুকোয় নিজের স্বভাব, নিজের অভ্যাস, নিজের আয়-ব্যয়, এমনকি নিজের বিবেকটিকেও। বিবেক অবশ্য খুব সুবিধের জিনিস নয়। তাকে যতই লুকিয়ে রাখা হোক, মাঝেমধ্যে এমন সব শব্দ করে ওঠে যে পাশের ঘরের লোকও শুনতে পায়। আমাদের পাড়ায় মেজো ছেলেটি খুব ভালো ছেলে বলে পরিচিত। সকালে মন্দিরে যায়, বিকেলে ...

৪৫৬ খেলা ভাঙ্গার এই খেলা

ছবি
৪৫৬ খেলা ভাঙ্গার এই খেলা    বেচারা ঐ গুপীর দল। একদল লোক এসে বইয়ের স্টল থেকে বই ফেলে দিচ্ছে বলে  আর্তনাদের শেষ নেই।  কি যে বোকার দল যাদের নির্দেশনায়  বইয়ের মেলার  পাশাপাশি   এত সুন্দর অক্ষর নিধনের জীবন্ত অনুষ্ঠান পরিবেশন করছেন যারা, তাদের  বিরুদ্ধে আবার সেই নাটক নির্দেশকদের কাছে মিনতি করছে, অনুষ্ঠান  বন্ধ করার।  সে অনেকদিন আগের কথা, আমাদের ছেলেবেলার কথা। গুরুজনেরা বই এগিয়ে দিলে  ছোট ছোট অবলা জীবেরা পরম যত্ন সহকারে পাতা গুলি ছিড়ে খেলা করতো।  পাতা ছেড়ার খেলাটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটা সঠিকভাবে বলা যাবেনা। জীবনধারণের  জন্য পাতার প্রয়োজন সেটা সেই লম্বা ঠেঙ্গা জিরাফ থেকে ছোট ছোট  পোকাগুলি ও জানে। এবছর দেখলাম ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক  মানুষ এই পাতা ছেড়ার খেলায় মেতে উঠেছে।   খুব কষ্ট করে দেখতে বড় আসলে শিশুরা পাতা ছিড়তে এসেছে। বয়জ্যেষ্ঠ্যরা ছিড়তে  দেবেনা আর তাদের বায়না, তাদের ছিড়তে দিতেই হবেই। আসলে কেউ তাদের বুঝতে  চেষ্টা করছে না, যেমনটি শিশুদের মস্তিস্ক উর্বর হলে তারা ঐ পাতার ...