পোস্টগুলি

মার্চ, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৪০৮ অসন্তোষের শিকড়

ছবি
৪০৮    অসন্তোষের শিকড়   প্রবাহ তত্ত্বের জনক  মিহলি সিক্সজেন্টমিহালির অমর গ্রন্থ 'ফ্লো' -য়ের অন্তর্গত "দি রুটস্ অফ ডিসকনটেন্ট" থেকে নেওয়া  ও তার  ভাব অবলম্বনে - ভূমিকা- মানুষ জন্মলগ্ন থেকে মৃত্যুর শেষ দিন পর্যন্ত আদি অকৃত্তিম অনুভূতি  সেই  সুখের খোঁজে প্রাণপাত করে। কিন্তু সে তো বারবার অধরা থেকে যায়।  তাকে খুঁজতে গিয়ে কখন যে দুঃখকে ঘরে নিয়ে আসে, সে নিজেই জানেনা।  যুগে যুগে কতনা মানুষ ভেবেছিলেন, কত কিছুই না মানুষ সৃষ্টি করতে পারে আবার অযাচিত বস্তুকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে সরিয়ে দিতে পারে, তবে এই অবাঞ্চিত 'দুঃখ'কে কেন নয় ?  যুগ যুগান্ত ধরে চলল তার কারণ অনুসন্ধান। প্রচার বিমুখ ভারতীয় দর্শনও বহু আগে মানুষকে বোঝাবার চেষ্টা করেছেন। বৈষ্ণব পদাবলীর এক কবি বলেগেছেন - "সুখের লাগিয়ে এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। " গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ তার কবিতায় বলেছেন -"প্রেমের আনন্দ থাকে শুধু স্বল্পক্ষন, প্রেমের বেদনা থাকে সারাটি জীবন। "  এই খোঁজাখুঁজির আবহে আধুনিক মনোবিজ্ঞানী মিহলি তার দীর্ঘ গবেষনার ফসল হিসাবে মানবজাতিকে "ফ্লো" বা প্রবাহ নামক গ্রন্থে...

৪০৭ বঞ্চনার বুমেরাং: এক ভদ্রলোকের আত্মকথা

ছবি
৪০৭    বঞ্চনার বুমেরাং: এক ভদ্রলোকের আত্মকথা আমার এক আত্মীয় আছেন—নামধাম বলা বারণ, কারণ তিনি এখনো সমাজে “বিশ্বাসযোগ্য” মানুষ হিসেবে পরিচিত। তবে এই বিশ্বাসযোগ্যতার ভিতটা যে কতটা পলিথিনের মতো, তা তিনি নিজেও জানেন, আমিও জানি—শুধু সমাজ জানে না। সমাজ সাধারণত একটু দেরিতে জানে, আর জানলে এমনভাবে জানে যে, আর জানার মতো কিছুই থাকে না। এই ভদ্রলোকের একটি অদ্ভুত গুণ আছে—তিনি কখনো সরাসরি মিথ্যা বলেন না, তিনি “পরিস্থিতিকে একটু ঘুরিয়ে দেন”। একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, —“আপনি কি মিথ্যা বলেন?” তিনি খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, —“না রে বাবা, আমি সত্যকে একটু বিশ্রাম দিই মাত্র!” এই “বিশ্রাম দেওয়া” সত্যটা যে একদিন উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করবে, তা তিনি ভাবেননি। প্রথম প্রথম ব্যাপারটা বেশ মজার ছিল। তিনি এক জায়গায় একরকম কথা বলছেন, আরেক জায়গায় আরেকরকম। ফলে তাঁর জীবনটা হয়ে উঠল এক ধরনের মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা—একই মানুষ, কিন্তু বিভিন্ন স্ক্রিনে বিভিন্ন চরিত্র। কোথাও তিনি সৎ, কোথাও তিনি অসৎ, কোথাও তিনি নিরীহ, কোথাও আবার ভীষণ বুদ্ধিমান। কিন্তু সমস্যা হলো—টিকিট কেটে সবগুলো সিনেমা একসঙ্গে দেখা তাঁর পক্ষেও সম...

৪০৬ মন-ভ্রমণ, ইঁদুরের অ্যানিমেশন ও নাতি-উপাখ্যান

ছবি
 ৪০৬   মন-ভ্রমণ, ইঁদুরের অ্যানিমেশন ও নাতি-উপাখ্যান ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর উপর   ড্যানিয়েল  গোলমানের   "ফোকাস" এর অন্তর্গত   "Finding Balance" অবলম্বনে লেখা - পণ্ডিতেরা কিতাবে লিখে গেছেন—মন নাকি বড়ই চঞ্চল। তা তাঁরা বলতেই পারেন, কারণ তাঁদের আমলে বোধহয় হাতে হাতে এই স্মার্টফোন নামক জাদুবাক্সটি ছিল না। আজকাল মন শুধু চঞ্চল নয়, রীতিমতো পাখা গজিয়ে বিশ্বভ্রমণ করে বেড়াচ্ছে। সেদিন দুপুরে জম্পেশ একখানা আহারের পর, ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে ভাবছি—এইবার একটু সেই ‘মাইন্ডফুলনেস’ বস্তুটার চর্চা করা যাক। মনকে টেনে হিঁচড়ে একেবারে ‘বর্তমান মুহূর্তে’ নামিয়ে আনতে হবে। চোখ দুটি আধবোঁজা করে, শ্বাস-প্রশ্বাসে মন দিয়ে সবেমাত্র নিজের মন নামক বেয়াড়া ঘোড়াটার লাগাম টেনে ধরেছি, ভাবছি—আহা, কী অনাবিল শান্তি! এই বুঝি নির্বাণ লাভ হলো বলে! ঠিক তখনই কানের কাছে এক মোক্ষম আওয়াজ— "দাদু!" তড়ফড়িয়ে উঠে দেখি, সামনে আমার নাতি বাবাজি দণ্ডায়মান। চোখেমুখে এক রাশ উত্তেজনা। বিরক্তি চেপে বললাম, "কী রে ভাই? দেখছিস না দাদু এখন গভীর ধ্যানে মগ্ন?" সে ভারী তাজ্জব হয়ে বলল, "ধ্যান? কিন্তু তুমি তো দি...

৪০৫ মাথার ভাড়া-বাড়ি: এক দারোয়ান, দুই ভাড়াটে, আর এক অসহায় মালিক

ছবি
 ৪০৫  মাথার ভাড়া-বাড়ি: এক দারোয়ান, দুই ভাড়াটে, আর এক অসহায় মালিক ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স-এর উপর   ড্যানিয়েল  গোলমানের   "ফোকাস" এর অন্তর্গত   "এটেনশন টপ এন্ড বটম" অবলম্বনে লেখা - একদিন আবিষ্কার করলাম যে , আমার মাথাটা মানে আমার হেডঅফিস,  সে যেন একটা ভাড়া-বাড়ি। তবে এই বাড়ির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মালিক আমি হলেও, এই মাথার নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই। বাড়িতে থাকে মোটে তিনজন—  একজন নিচতলার ভাড়াটে যার নাম 'উল্টে' তার একটা ইংরেজি নাম আছে 'বটম আপ'।  একজন ছাদের ঘরের ভাড়াটে 'পাল্টে' তার আবার ইংরেজি নাম 'টপ ডাউন',   আর একজন দারোয়ান 'আবেগ' তার আবার সাহেবি নাম '  অ্যামিগডালা' ।  আর আমি? একজন বাড়িওয়ালা, আমি শুধু ভাড়া তুলি—তাও মাঝে মাঝে!  এরা আমার বাড়িতে বসবাস করার সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু কাজও তারা করে। আমি আবার দূর থেকে সেটা নজর করি। আমি দ্রষ্টা আর তারা দৃশ্য।  নিচতলার ভাড়াটে ভীষণ পরিশ্রমী।  সে কখনও ছুটি নেয় না, বেতন চায় না, কিন্তু বাড়ির প্রায় সব কাজ করে।  সকালে দাঁত মাজা, চা খাওয়া, রাস...

৪০৪ মহিষাসুর না থাকিলে দেবী দুর্গাকে কে চিনিত:

ছবি
৪০৪   মহিষাসুর না থাকিলে দেবী দুর্গাকে কে চিনিত:  একদিন বিকেলে বসে ভাবছিলাম—এই পৃথিবীতে যদি সব মানুষই  ভদ্র থাকতেন, তাহলে ইতিহাস বইয়ের কী হাল হতো! প্রথম পাতাতেই লেখা থাকত—  “সবাই ভালো ছিল, তাই আর কিছু ঘটেনি।” বই বন্ধ। এই জায়গাতেই এসে হাজির হন  মহিষাসুর । তিনি ভদ্রলোক ছিলেন না—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান।   মহিষাসুর: একটু বেশি ‘আমি-আমি’ করা মানুষ মহিষাসুরকে আমরা সাধারণত দানব বলি। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন, তিনি আসলে আমাদেরই চেনা এক প্রজাতি— যারা অফিসে ঢুকেই ভাবে, “এই কোম্পানিটা আমিই চালাই।”যারা বাড়িতে ঢুকেই ভাবে, “এই সংসারটা আমার ইশারায় চলে।” অর্থাৎ, মহিষাসুর আসলে একেবারে আধুনিক।  তিনি শুধু একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলেন—পৃথিবীটাই নিজের বলে ধরে নিয়েছিলেন। দেবতাদের বিপদ: যখন ‘ম্যানেজমেন্ট’ ফেল করে এবার সমস্যা হলো, দেবতারা কেউই তাঁকে সামলাতে পারছেন না।  যাকে বলে—সব সিনিয়র ম্যানেজার ব্যর্থ।  তখন তারা মিটিং ডাকলেন।   এজেন্ডা: “এখন কী করা যায়?” অনেক ভেবেচিন্তে তারা তৈরি করলেন এক নতুন ‘প্রজেক্ট’— দেবী দুর্গা । এ যেন কর্পোরেট ভাষায়— “একজন নতুন...

৪০৩ মানুষ কেন পরিযায়ী নয় — আপাত সত্য

ছবি
৪০৩  মানুষ কেন পরিযায়ী নয় — আপাত সত্য প্রথমে সাধারণ অর্থে দেখি। ‘পরিযায়ী’ বলতে আমরা বুঝি—যে জীব বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই স্থান পরিবর্তন করে । যেমন পাখি, শ্রমিক, যাযাবর সম্প্রদায়।  এই অর্থে মানুষ পরিযায়ী নয় , কারণ— মানুষ স্থায়ী বসতি তৈরি করে (গ্রাম, শহর, রাষ্ট্র)  সে ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে—সংস্কৃতি, ভাষা, স্মৃতি।  “ঘর” তার কাছে শুধু জায়গা নয়, এক মানসিক আশ্রয়।  এখানে মানুষ নিজেকে স্থিতির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।  অর্থাৎ, সে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে স্থায়িত্বের স্বপ্ন দেখে ।  কিন্তু মানুষ কেন পরিযায়ী — গভীর সত্য  এবার একটু গভীরে নামি। দেহের স্তরে সাংখ্য দর্শনের ভাষায়, মানুষ “অনিত্য”— যার জন্ম আছে, মৃত্যু আছে, পরিবর্তন আছে।  অতএব— শিশুকাল - যৌবন - বার্ধক্য।     এই ক্রমাগত পরিবর্তন নিজেই এক ধরনের “অন্তর্গত পরিযান”।  জীবনের স্তরে  জা পল সাত্রে  বলেছিলেন—  মানুষ আগে আসে, তারপর নিজের অর্থ তৈরি করে। অর্থাৎ—  জন্মের সময় আমরা “স্থির সত্তা” নই,  অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক—এসবের মধ্যে দিয়ে আমরা বদলাই।  ...

৪০২ যে আপন গৃহে মানুষ কখনই যেতে চায় না

  ৪০২  যে আপন গৃহে মানুষ কখনই যেতে চায় না বিপিনবাবু আজকাল একটু সন্দেহপ্রবণ হয়ে উঠেছেন।  না, অফিসের ফাইল চুরি হচ্ছে এমন সন্দেহ নয়—নিজের জীবনটাই যেন চুরি হয়ে গেছে, এই সন্দেহ। ডালহৌসি স্কোয়ারের সেই পুরোনো সরকারি দালানে বসে তিনি যখন সারাদিন কাগজে সই করতে করতে নিজের নামটাকেই অপরিচিত মনে করতে শুরু করেন, তখনই বুঝতে পারেন—কিছু একটা গড়বড় আছে। আজও ৫:৩০ বাজার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেন বন্দি পাখির মতো খাঁচা খুলে বেরিয়ে এলেন। ট্রাম, তারপর শিয়ালদহ, তারপর সেই চিরচেনা বনগাঁ লোকাল—সব যেন এক যান্ত্রিক নাটকের পুনরাবৃত্তি। কিন্তু আজ ট্রেনের জানলার ধারে বসে হঠাৎ একটা অদ্ভুত চিন্তা মাথায় ঢুকে পড়লো— “আমি কোথায় যাচ্ছি?” না, প্রশ্নটা ভৌগোলিক নয়। বনগাঁ লাইনের শেষ স্টেশন পর্যন্ত তিনি বহুবার গেছেন—সেখানে নতুন কিছু নেই। প্রশ্নটা ছিল— “আমি আসলে কোথায় ফিরছি?” প্রথম প্রথম বাড়ি মানেই ছিল বনলতা।  ছাদের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একজোড়া চোখ, যার জন্য লোকাল ট্রেনের প্রতিটা মিনিট যেন ঘণ্টা হয়ে যেত। তারপর বিয়ে, তারপর চামেলী— বাড়ি তখন একটা শব্দ নয়, একটা আবেগ। কিন্তু আজকাল? আজকাল বনলতার “চা খাবে?” প্রশ্নটা এমন এক স...

৪০১ মায়ার বন্ধন ও অনন্তের পান্থশালা

ছবি
 ৪০১  মায়ার বন্ধন ও অনন্তের পান্থশালা তপনবাবু গতকাল আমাদের ছেড়ে অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন। তার স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে জীবন-মৃত্যুর সার্বজনীন রূপটি আমার কাছে যা প্রতিভাত হয়েছে, তারই কিছু কথা -  মানুষের এই নশ্বর শরীর নিয়ে অহংকারের যেন কোনো সীমা নেই। আমরা ভুলে যাই যে এই দেহ কেবল একটি সাময়িক আশ্রয়মাত্র। একদিন পারিপার্শ্বিক সমস্ত মায়া, মোহ এবং হাতছানিকে পিছনে ফেলে এই শরীর অনন্তের মাঝে বিলীন হয়ে যায়। এই বিশ্ব চরাচরে কোনো প্রাণীই তার নিজস্ব স্বাধীন ইচ্ছায় আগমন করে না; বরং প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়মে, বিভিন্ন প্রলোভনের আকর্ষণে সে এই পৃথিবীর আলো দেখে। তারপর প্রকৃতির এই বিশাল রঙ্গমঞ্চে যখন তার নির্দিষ্ট অভিনয়ের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, তখন একরকম জোর করেই তাকে বিদায় নিতে হয়। প্রকৃতির রঙ্গমঞ্চ ও মায়ার কুহক -  প্রকৃতি একাধারে স্রষ্টা এবং মায়াবিনী। সে নিজে মোহময়ী, আর 'মায়া' হলো তার পাতা এক বিস্তীর্ণ জাল। বেদান্ত দর্শনে যেমন বলা হয়, মানুষের আত্মস্বরূপ অনন্ত ও মুক্ত, কিন্তু সে মায়ার বশবর্তী হয়ে নিজেকে সীমাবদ্ধ ভাবতে শুরু করে। প্রকৃতি আমাদের পঞ্চইন্দ্রিয় দান করে বিশ্বকে অনুভব করার সুযোগ দিয়েছে...

৪০০ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(২৭)

ছবি
৪০০ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে -(২৭ ) ২২শে অক্টোবর,১৮৯৪ সালে স্বামী অখণ্ডানন্দকে লিখিত ২য় পত্রের   ভাবার্থের অনুসরণে -   চার দেওয়ালের বাইরে ঈশ্বর: স্বামী বিবেকানন্দের 'শিবজ্ঞানে জীবসেবা' ও মানুষ গড়ার ধর্ম ১৮৯৪ সালের ২২শে অক্টোবর। আমেরিকার ওয়াশিংটন থেকে স্বামী অখণ্ডানন্দকে (গঙ্গাধর মহারাজ) লেখা স্বামী বিবেকানন্দের একটি চিঠি যেন ঘুমন্ত ভারতের বুকে এক নতুন জাগরণের মন্ত্রণা নিয়ে এল। যুগ যুগ ধরে যে ধর্ম কেবল মঠ-মন্দিরের চার দেওয়ালে, শাস্ত্রের নিথর পাতায় আর কিছু যান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে বন্দি ছিল, স্বামীজী তাকে মুক্ত করে নিয়ে এলেন খোলা আকাশের নিচে—দরিদ্র, অবহেলিত ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। এই চিঠিটি নিছকই কোনো ব্যক্তিগত পত্র ছিল না, এটি ছিল এক ঐতিহাসিক 'প্রেম আন্দোলন' এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সেবাধর্মের অলিখিত ইস্তাহার। ধর্মের প্রকৃত অর্থ ও সীমানা অতিক্রম স্বামীজী গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন যে, কেবল "প্রভু রামকৃষ্ণ" নাম জপ করা বা তাঁর নামে একটি নতুন সম্প্রদায় গড়ে তোলার মধ্যে প্রকৃত ধর্মচারণ নেই। তাঁর মতে, ধর্ম তখনই সার্থক য...

৩৯৯ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২৬)

ছবি
৩৯৯ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২৬ ) ২২শে অক্টোবর,১৮৯৪ সালে বাল্টিমোর, আমেরিকা থেকে লেখা  চিঠির ভাবার্থের অনুসরণে - জাগরণের শঙ্খধ্বনি: সমুদ্রপারের চিঠি ও কর্মযোগের অনন্ত আহ্বান। জাগরণের শঙ্খধ্বনি কালের যাত্রাপথে মাঝে মাঝে এমন এক-একটি লগ্ন আসে, যখন সুদূর সিন্ধুপার হতে ভেসে আসা কোনো এক উদাত্ত আহ্বান আমাদের চিরচেনা জড়তাকে প্রবল বেগে আঘাত করে। রবীন্দ্রনাথে আমরা যে ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’-এর সাধনা দেখি, স্বামীজীর চিঠির বাণীতে তারই এক প্রমূর্ত, কর্মোদ্দীপ্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে। "লোহাকে ততক্ষণ আঘাত করো, যতক্ষণ না সে তপ্ত হয়"—এ কেবল কোনো সাধারণ কর্মের নির্দেশ নয়, এ হলো অন্তরাত্মাকে নিরন্তর শাণিত করার এক অগ্নিমন্ত্র। আমাদের ভেতরে যে সুপ্ত প্রাণশক্তি ঘুমিয়ে আছে, অলসতার মরচে পড়ে যা আজ মলিন, তাকে তো প্রবল ইচ্ছাশক্তির আঘাতেই জাগিয়ে তুলতে হবে। আঘাতের পর আঘাতে যখন চিত্তের লৌহ কঠিন থেকে তপ্ত হবে, তখনই তাকে দেওয়া যাবে যুগান্তরের নতুন আকার। কিন্তু এ পথ তো কুসুমাস্তীর্ণ নয়! সার্থকতা আর ব্যর্থতার মাঝখানে যে দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, তার উপাদান হলো আমাদের কুঁ...

৩৯৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২৫)

ছবি
  ৩৯৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২৫ ) ২৯শে সেপ্টেম্বর,১৮৯৪ আমেরিকা থেকে লেখা  চিঠির ভাবার্থের অনুসরণে - সমুদ্রপারের চিঠি: শিকল ভাঙার গান ভৌগোলিক দূরত্ব জিনিসটা বড় অদ্ভুত। মানুষ হাজার হাজার মাইল দূরে চলে যায়, কিন্তু মন পড়ে থাকে সেই চেনা পথের ধারে, যেখানে আছে এক  ধুলোমাখা উঠোন, প্রাচীন গাছগাছালিতে ঘেরা একচালা একটি  ঘরে।  ১৮৯৪ সাল। আটলান্টিকের ওপারে এক সম্পূর্ণ অচেনা শহর, অচেনা মানুষজনের ভিড়। কিন্তু জানলার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা গেরুয়াধারী সন্ন্যাসীর চোখে ভাসছে দক্ষিণেশ্বরের সেই পাগলাটে ঠাকুরের মুখ। স্বামীজী বুঝছিলেন, শিকড় থেকে দূরে গেলেই বরং শিকড়ের টান সবচেয়ে বেশি টের পাওয়া যায়। রামকৃষ্ণের যে ভাব-আন্দোলন, তাকে তো শুধু গঙ্গার পাড়ে আটকে রাখলে চলবে না, তাকে ছড়িয়ে দিতে হবে পৃথিবীর এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্তে। তার জন্য চাই মানুষ, চাই নিজস্ব সংবাদপত্র, চাই একটা শক্ত ভিত। স্বপ্ন আর বাস্তবের এই যে সেতুবন্ধন—এটাই তো তাঁর জীবনের আসল কাজ। তিনি মানুষ চিনতেন। খুব কাছ থেকে, আবার অনেক দূর থেকে, মানুষের মনের অন্ধকার গলিঘুঁজিগুলো তাঁর চেনা ছিল। এক অদ্ভুত ব...