পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৪১০ নজরানার প্রতিযোগিতা

ছবি
৪১০ নজরানার প্রতিযোগিতা   রবিবার সকাল মানেই বলাইদার চায়ের দোকানে আড্ডা—এ এক অলিখিত সংবিধান। ভারতবর্ষের সংবিধানে না থাকলেও পাড়ার সংবিধানে এই নিয়ম অমোঘ। সকাল ৯টা বাজলেই একে একে হাজির হয় সোনা, দিপু, মান্না, কালু, পরী, বাবলা—আর শেষে নাটকীয় ভঙ্গিতে প্রবেশ করে কপিল। কপিলের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আড্ডার মান এক ধাপ বেড়ে যায়—কারণ সে শুধু চা খায় না, চিন্তাও খায়। আর সেই চিন্তা হজম না হলে বাকিদের উপর উগরে দেয়। সেদিনও সে ঢুকেই গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলো— “কে বা আগে প্রাণ করিবেক দান!” তারপর নিজেই হেসে বলল— —প্রাণ নয় রে ভাই, এখন সবাই “নজরানা” দানে ব্যস্ত! কালু সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করলো— —নজরানা নয়, এটাকে “বিড” বল। দেশটা এখন একেবারে নিলামঘর হয়ে গেছে। দিপু চা নাড়তে নাড়তে বলল— —মানে আমরা সবাই পণ্য? কপিল বলল— —না, আমরা পণ্য নই—আমরা “ভোটকয়েন”! এই সময় বাবলা উত্তেজিত হয়ে উঠলো— —এটা কিন্তু একেবারে ঘুষ! অর্থনৈতিক অপরাধ! কপিল চায়ে চুমুক দিয়ে বলল— —তুই খুব সোজাসাপ্টা ভাবছিস। এটা ঘুষ নয়, এটা “প্রতিশ্রুতির অগ্রিম কিস্তি”। ঠিক তখনই আড্ডার মধ্যে প্রবেশ করলেন অপুদা—যাদবপুরের দর্শনের অধ্যাপক। তিনি আসলে এই আড্ডার “...

৪০৯ আমরা ঠকতে চাই

ছবি
৪০৯   আমরা ঠকতে চাই  ঘড়িতে ভোটের ঘণ্টা বাজলেই বাঙালির ভেতরের দার্শনিক, অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী—সব একসাথে জেগে ওঠে। যে মানুষটি গত পাঁচ বছর ধরে বাজারে কুমড়োর দাম নিয়ে নিঃশব্দে হাহাকার করছিলেন, তিনিই হঠাৎ করে এমন ভঙ্গিতে “গণতন্ত্রের সংকট” ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন যে, শুনলে মনে হয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের চেয়ারটি বুঝি সাময়িকভাবে শ্যামবাজারে স্থানান্তরিত হয়েছে। নির্বাচন নামক এই অপূর্ব যজ্ঞটি বড় বিচিত্র। এখানে দেবতা একজন—ভোটার, আর পুরোহিত বহুজন—প্রার্থী। তবে যজ্ঞ শেষে দেখা যায়, দেবতা প্রসাদ পান না, পুরোহিতরাই পেট ভরে খেয়ে নেন। ভোটের আগে প্রার্থীরা এমনভাবে আপনার দরজায় কড়া নাড়বেন, যেন আপনার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বহু জন্মের। “দাদা, আপনি না থাকলে আমরা কিছুই না”—এই বাক্যটি তারা এমন আন্তরিকতার সঙ্গে বলবেন যে, শুনে আপনার মনে হবে, আপনি না থাকলে রাষ্ট্রপতির পদটিও হয়তো খালি পড়ে থাকত। ভোটের সময় প্রতিশ্রুতির যে বৃষ্টি হয়, তা বর্ষাকেও হার মানায়। রাস্তা হবে, কাজ হবে, হাসপাতাল হবে, এমনকি মাঝে মাঝে স্বর্গও নামিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়। আমি একবার এক প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করেছি...