৪০৩ মানুষ কেন পরিযায়ী নয় — আপাত সত্য
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
৪০৩ মানুষ কেন পরিযায়ী নয় — আপাত সত্য
প্রথমে সাধারণ অর্থে দেখি। ‘পরিযায়ী’ বলতে আমরা বুঝি—যে জীব বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই স্থান পরিবর্তন করে। যেমন পাখি, শ্রমিক, যাযাবর সম্প্রদায়। এই অর্থে মানুষ পরিযায়ী নয়, কারণ—মানুষ স্থায়ী বসতি তৈরি করে (গ্রাম, শহর, রাষ্ট্র) সে ভূমির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে—সংস্কৃতি, ভাষা, স্মৃতি।
“ঘর” তার কাছে শুধু জায়গা নয়, এক মানসিক আশ্রয়। এখানে মানুষ নিজেকে স্থিতির মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। অর্থাৎ, সে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে স্থায়িত্বের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু মানুষ কেন পরিযায়ী — গভীর সত্য এবার একটু গভীরে নামি।
দেহের স্তরে
সাংখ্য দর্শনের ভাষায়, মানুষ “অনিত্য”—যার জন্ম আছে, মৃত্যু আছে, পরিবর্তন আছে। অতএব—শিশুকাল - যৌবন - বার্ধক্য। এই ক্রমাগত পরিবর্তন নিজেই এক ধরনের “অন্তর্গত পরিযান”।
জীবনের স্তরে
জা পল সাত্রে বলেছিলেন— মানুষ আগে আসে, তারপর নিজের অর্থ তৈরি করে।অর্থাৎ— জন্মের সময় আমরা “স্থির সত্তা” নই, অভিজ্ঞতা, সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক—এসবের মধ্যে দিয়ে আমরা বদলাই। এই বদলটাই মানসিক পরিযান।
আত্মার স্তরে
স্বামী বিবেকানন্দের মতে -মানুষের ভিতরে সুপ্ত দেবত্ব আছে। জীবন হলো সেই দেবত্বের দিকে যাত্রা। এখানে মানুষ এক যাত্রী— গন্তব্য বাহিরে নয়, নিজের ভিতরে।
সৃষ্টিশীলতার স্তরে-
রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় - মানুষ সীমার মধ্যে অসীমকে প্রকাশ করে-সে প্রকৃতির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত হয়-এখানে মানুষ এক “অভিব্যক্তির পরিযায়ী”—যে অদৃশ্য থেকে দৃশ্যে, সম্ভাবনা থেকে সৃষ্টিতে যাত্রা করে।
সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব- তাহলে আসল প্রশ্নটা দাঁড়ায়— মানুষ কি “থাকার” প্রাণী, নাকি “চলার”?
উত্তর হলো - দেহ চায় স্থিরতা। মন চায় পরিবর্তন। আত্মা চায় মুক্তি অর্থাৎ, মানুষ একইসাথে— ❝ঘর খোঁজে, আবার ঘর ছেড়ে যায়❞
দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে - মানুষ বাহ্যিকভাবে পরিযায়ী নয়, কিন্তু অস্তিত্বগতভাবে সে এক অনন্ত পরিযায়ী। কারণ— সে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এক যাত্রায় আছে। সে নিজেকে ক্রমাগত বদলাচ্ছে ( শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত)সে এক অজানা উৎস থেকে এসে আবার অজানার দিকেই ফিরে যাচ্ছে।
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মন্তব্যসমূহ