৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

 ৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)



যদি একমত হন, তবে বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করুন 

স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত 
২২শে  অক্টোবর, ১৮৯৪
বাল্টিমোর, আমেরিকা
"লোহার উপর ততক্ষন আঘাত হানো  যতক্ষণ না সে তপ্ত  হয়।  "-
- গভীর কোন অনুসন্ধান নয়, একান্তই বাস্তবতা, জড়কে বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ব্যবহার্য করে তুলতে  গেলে  সেটাই বস্তুর রূপান্তর প্রয়োজন। তার প্রাথমিক শর্ত হলো চেতনার উন্মেষ আর শিক্ষা হচ্ছে তার বাহক। চৈতন্য  ছাড়া মানুষ ও জড় সম্প্রদায়ভুক্ত।  

বাস্তবতা থেকে স্বামীজীর দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বিশ্বের যে স্বরূপটি উদ্ভাসিত হয়েছিল তা থেকে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিসরে , কাজকে আঁকড়ে ধরেই এই জগতের উন্নতি করতে হবে। এই জগৎটাকে কাজের ক্ষেত্র ব্যাতিত আর কিছু ভাবতে পারেন নি। সেই কাজটা একমাত্র জগতের উন্নয়ন, যা মানুষের আত্মিক বিকাশ  ছাড়া সম্ভব নয়।  জীবনের ধর্ম হচ্ছে মানব প্রেম আর তার জন্য প্রয়োজন ছিল মুক্ত বাতাবরণের। সেই মুক্ত বাতাস ছিল ব্রিটিশ কারাগারে বন্দী। তাই সেই বন্দিত্বের দশা মুক্ত না হলে মানুষের ধর্মচারণ বাধা প্রাপ্ত হচ্ছিলো।  

দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক শোষনের নিষ্পেষণে ভারতবাসী, তাদের আত্মগরিমা হারতে বসেছিল এবং তাদের মনে একধরনের বিশ্বাস জন্মে গিয়েছিলো, যে এই বন্দিদশা তাদের নসিব। দেশের মানুষের এই যন্ত্রনা স্বামীজী অনুভব করেছিলেন আর এই ঘুমন্ত ভারতবাসীকে জাগানোর জন্য বারবার বারবার তাঁদের হৃদয়ের ঠান্ডা হয়ে যাওয়া লৌহ আকরিককে  তাঁর বাণীর উত্তাপে উত্তপ্ত করে কার্যকরী করে তুলতে প্রয়াসী হয়েছিলেন। 

নেতি ও ইতিবাচকের মধ্যে দ্বন্দ্ব  চিরকালের আর এই দ্বৈতভাব থেকে জন্ম নেয় জ্ঞান।  ইন্দ্রিয়ের অতীত সেই অব্যক্ত যখন চৈতন্যের সংস্পর্শে আসে তখনিই সে ব্যক্ত হয়। এই দ্বন্দ্বের পটভূমি মানব মনের অন্তরে, যাঁকে দেখা যায় না, শুধু উপলদ্ধি করতে হয়।  মানুষের এই অন্তর্জগতের স্থায়ী পরিবর্তনই ছিল স্বামীজীর লক্ষ্য আর সেই লক্ষ্যে উপনীত হলে মানুষ সবরকমের বাহ্যিক প্রতিকূলতা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে  পারবে। সেই জ্ঞানই ঢাল হবে সব ধরনের আক্রমণকে প্রতিহত করবে। 

স্কাইলার্কের মতো উর্ধ আকাশে বিহারী হয়েও সুদূরে অবস্থিত তাঁর দেশবাসীর সুখ-দুঃখের উপর তার নজর কখনো সরেনি।  একাধারে আমেরিকার মতো উন্নত দেশে এসে  তাঁদের জীবনযাত্রার মান দেখে যেমন অবিভূত হয়েছিলেন, তেমনি ভারতীয়দের দুঃখকষ্ট দেখে তাঁকে ব্যথিত করে তুলেছিল। 

স্বামীজী ছিলেন সেই পথের দিশারী, যাঁরা মানুষের দুঃখ দেখে নিজের অশ্রুজল বিসর্জন দেননা বরং উত্তরণের পথ নির্দেশ করেন। তাই তিনি বারবার সমস্ত নেতিবাচক অর্থশূন্য হিংসা ও দলাদলিকে বিসর্জন দিয়ে কর্মকে জীবনের ধৰ্ম চারণ করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। 

এই চিঠিগুলি আজও প্রাসঙ্গিক। ব্রিটিশরা ছিল শোষকের প্রতীক আর সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে অর্থনৈতিক সমতা, যার থেকে আজও তারা বঞ্চিত। শোষক হতে গেলে যে সাদা চামড়া বাধ্যতামূলক নয় আর স্বামীজীর বাক্য গুলিও কোন সময়কে নির্দ্দেশ করেনা, বরং একটা দর্শন যা মানবতার উপর আঘাত আসলে তাকে মোকাবিলা করার মন্ত্র। যতদিন মানবসভ্যতা পদদলিত হবে, ততদিন এই পত্রগুলি প্রাসঙ্গিক থাকবে। 

ক্রমশঃ 
ব্লগার- রবীন মজুমদার 
তারিখ -২১/১২/২৫
ভালো লাগলে শেয়ার করুণ -
rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)