রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫

(২৫৯) ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -চতুর্থ পর্ব

  (২৫৯)  ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -চতুর্থ   পর্ব 

তৃতীয়  সংখ্যার পর  ..................................................

 ফিরে দেখা  ১

যাকে  মন খুঁজে খুঁজে পাগল, সে থাকে লোকচক্ষুর আড়ালে। সেদিনের গল্প শুনতে গেলে, তখনকার কি কি কাহিনী ছিল, তার মধ্যেই খুঁজতে হবে। ইতিহাসে যা চাই, তার সঠিক উত্তর মেলেনা, কিন্তু সূত্র পাওয়া যায়।  সেই সূত্র ধরেই ঋগ্বেদের পাতা উল্টানো। উল্টাতে গিয়ে দেখি, সোনা যেমন, বহু উপাদানের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে থাকে, ঠিক তেমনি, প্রার্থনা আর স্তবের মন্ত্রের সাথে মাখামাখি করে সমাজে পুরুষ ও নারীর অবস্থানের সূচনাগুলি  লুকিয়ে আছে। 

ঋগ্বেদটি বড্ড সুসজ্জিত, বিক্ষিপ্ত মন্ডলগুলিকে কেউ যেন সুশৃঙ্খলভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিবেশন করেছে, রচনার পরবর্তী সময়ে। ব্যসদেব মহাশয় যে তার সুযোগ্য চার শিষ্যদের দিয়ে বেদকে সুসংগঠিত করেছিলেন তার প্রমান  মিলেছে। শুধু এই ঋগ্বেদ সংহিতায় আছে ১০টি মণ্ডল  ২০,৪০০ সুক্ত আর সব মিলিয়ে লাইন আছে প্রায় নব্বই হাজার। 

 তখনকার দিনে সাধারণ মানুষ তার কামনা বাসনাকে পূরণ করার জন্য বিকল্প কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকাতে দেবতাদের উপর নির্ভরশীল ছিল। সেই জন্য প্রত্যেক দেবতাদের প্রতি প্রার্থনা মন্ত্র উচ্চারিত হতো।  সেখানেই শেষ নয়, সেই দেবতাদের  ভজাবার  জন্য ছিল অসংখ্য স্তব। ঋষিরা সেগুলি রচনা করতো আর সাধারণ  থেকে শুরু করে আপামর মানুষ যজ্ঞকালে সেই মন্ত্র পাঠ করতো পুরোহিত সহযোগে। যা বাস্তবে  ঘটতো তাকে নিয়েই তৎকালীন সাহিত্য। 

এক একটা মন্ডল এক একজন ঋষির ঘরানায় রচনা করা হয়েছে। আর সামাজিক ঘটনাবলীগুলি লুকিয়ে আছে কিছু কিছু শ্লোকের উপমায়।  ঋষিরা রচনা করতে গিয়ে বাস্তবতাকে কখনো অস্বীকার করেন নি। তদানীন্তন সমাজব্যবস্থার সার্বিক চরিত্রের উপর দাঁড়িয়ে আছে সামাজিক জীবদের অবস্থান।  কিংবা আরেকটু এগিয়ে গিয়ে বলা যেতে পারে, মানুষ যে ভাবে তাদের সমাজটাকে গঠন করেছিল এবং তার বিবর্তনের উপর দাঁড়িয়ে ছিল সমাজে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিতটা।    

 সমাজের অভ্যন্তরীন ব্যবস্থার দিকে নজর দিলে, তাহলে দেখাযাবে সাম্যভাব মোটেই ছিল না।  বর্ণাশ্রম, নারী ও পুরুষের মধ্যে ফারাক, শিক্ষা একশ্রেণীর হাতে কুক্ষিগত ছিল, এককথায় শ্রেণী বৈষম্যকে সমাজ মান্যতা দিয়েছিলো । সীমিত জ্ঞানের ভান্ডার দিয়ে  প্রাকৃতিক জগতের ভাঙাগড়ার রহস্যকে সাধারণ মানুষ ভেদ করতে জানতো না আর সেই অন্ধকারের পথ ধরে কুসংস্কার সমাজে দানা বেঁধেছিলো। 

একটা আদর্শ  সমাজের সাথে একটি পিছিয়ে পড়া সমাজের তুলনামূলক বিচারের নিরিখে সামাজিক বিবর্তনের যথার্থতা প্রমান করা যায়। উদাহরণ স্বরূপ  ডাটা সংগ্রহ করে,  তাকে কোডিং করে, টেবিল তৈরি করে, প্রত্যকটা ভেরিয়েবলের ভ্যালু  বসিয়ে অতীত ও বর্তমানের তুলনাকে শতাংশের হিসাবের একটি  পরিসংখ্যান দিয়ে যেমন সমাজের অগ্রগতির/ অধোগতির  বর্ণনা করা যেতে পারে, তেমনি আগামীর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া যেতে পারে। জারি থাকুক  তার সন্ধান।  



ক্রমশঃ 

ব্লগার -রবীন মজুমদার 
তারিখ -৩১/০৩/২৫
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 


বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫

(২৫৮) ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -৩য় পর্ব

  (২৫৮)  ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -৩য়  পর্ব 

অঙ্কনে রবীন 


দ্বিতীয়  সংখ্যার পর  ..................................................

 বাস্তবতা 

 কি এমন হলো, সেই  ঘন নীল অম্বর তলে  মাদঙ্গের  উন্মত্ত ধ্বনির তালে তালে হেসে কুদে বেড়ানো সেই লাস্যময়ীর দল কোথায়  যেন হারিয়ে গেল, কিসের ইঙ্গিতে ।  সেই বাস্তবতাকে  খুঁজতে হবে সেযুগের সাহিত্যের গভীরে। সভ্যতাকে খালি চোখে দেখা যায় কিন্তু সংস্কারকে অন্তরে অন্তরে  উপলদ্ধি করতে হয়। 

শুরুর পূর্ণতা শেষেই হয়  

ধনধান্যে পুষ্পে ভরা এই উপমহাদেশকে উপভোগ করার বাসনা সীমানার ওপারের  কিছু শক্তির দীর্ঘ দিন ধরে ছিল, তারা অপেক্ষা করছিলো উপযুক্ত সুযোগের। ক্রমশ দুর্বল হয়ে বৈদিক সমাজ ধীরে ধীরে যখন অন্তিম লগ্নে এসে উপস্থিত হলো। সেই সুযোগে একাধিক বিদেশী আক্রমণকারী  আর্য্যবর্তের উপর আক্রমণ  হানতে শুরু করলো।  

সমাজের বিবর্তনের প্রতিফলনে নারীদের স্বাধীনতার পরিধানটা ধীরে ধীরে খসে পড়লো। ধারণার অতীত হয়ে গেল যে, নারীরা একদিন  পুরুষের সাথে সম মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত ছিল। পুরুষের সাথে  হেটে চলে বেড়ানো নারী পরিবর্তনের  ঝাপটায় পণ্যে পরিণত হয়ে গেল। সেখানে অর্থনীতি ও সমাজনীতির মধ্যে কোনটা আসল কারণ, তাকে খুঁজতে হবে। একজন যদি সূর্য হয়, তাহলে অন্য জন হবে পৃথিবী। তবে সূর্য্য হবার দায়িত্বটা অর্থনীতিকেই বহন করতে হবে। 

 বিদেশী আক্রমণকারীরা প্রায়শই সফ্ট টার্গেট করে নারীদের আর সেই তাজা নারীদের পণ্য হিসাবে  ফিরে যাবার সময় অন্যান্য ছিনিয়ে যাওয়া সম্পদের সাথে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। শুধু রেখে যায়, একদল বর্ণশঙ্করদের। দুর্ব্বল সমাজের রক্ষকরা আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে না পেরে আত্মরক্ষার্থে তাদের পার্থিব সম্পত্তির সাথে নবযুক্ত সম্পদের মধ্যে নারী এবং শূদ্র নামক জীবকে , গরু,ভেড়া, ছাগলের সাথে এক পঙ্ক্তিতে  বসিয়ে দিয়ে অন্দরমহলে পাঠিয়ে দেয়। সেই যে নারী একবার ঘরের অন্দরে প্রবেশ করলো, তারপর তাদের যাত্রাপথ সীমায়িত  হলো রন্ধনঘর থেকে আঁতুরঘর পর্যন্ত। নারীর স্বাধীনতাটা ঘরের বাইরে সেই মাঠের মধ্যে গড়াগড়ি করে বৃথাই আর্তনাদ করতে  লাগলো। এটি নারী স্বাধীনতা হরণের একটি দৃষ্টান্ত।

এক যে ছিল 

সমাজের দর্পন হলো সাহিত্য। প্রাচীন সাহিত্যের গৌরব একমাত্র ঋগ্বেদই অর্জন করেছে। সাহিত্য আর বিবৃতির  মধ্যে পাথর্ক্য  আছে। সাহিত্য রচনার মুলে থাকে নারী-পুরুষের উপাখ্যান । সেই উপাদানদের প্রতি প্রত্যক্ষভাবে কিছু বলতে না পেরে, কাব্যের  ছত্রে লিখিত বর্ণনা থেকে একটা সুনির্দিষ্ট সামাজিক চিত্র ফুটিয়ে তোলে ।  ঋগ্বেদের প্রথম মন্ডল,সুক্ত ৪, স্ত্রোত্র ৪৬  এর বর্ণনার আতিশায্যে কখনো সূর্যের স্ত্রী, আবার কন্যা রূপে আবার মাতা রূপে দেবী ঊষাকে উপস্থাপন করেছে।  আবার অগ্নিকে দেখা যায়  স্ত্রী সঙ্গ লাভ করে অনাবিল আনন্দে বিভোর হয়ে থাকতে। এখানেই চোখে পড়ে নরনারীর ঐশ্বরিক প্রেমের নিদর্শন, যে  প্রেম  শুধু সম্মুখপানে ধেয়ে যায়, পশ্চাতপানে  দৃষ্টিপাত না করে। সেদিন নারীরা পুরুষের হৃদয়াসনে এক সন্মানীয় স্ত্রী হিসাবে অলংকৃত করতো। আবার চতুর্থ মণ্ডল,সুক্ত ৫৮, স্ত্রোত্র ৪ এ দেখি " পতিগৃহে কন্যা পদার্পনের প্রারম্ভিক বেশ চর্চা যেন ঘৃতধারার আচরণের  মতো যেন ক্ষনে ক্ষনে সোমের দিকে আকর্ষিত হচ্ছে। " একটি স্ত্রোত্রতে  দেখা যায়, বিবাহের রাতে স্বামীর অন্তরঙ্গ গভীর আবেদনে অধোবদন লাজুক স্ত্রীর অবগুণ্ঠনকে উন্মোচনের মাদকতা। স্ত্রী যেমন স্বামীর অলঙ্কার আবার স্বামীও স্ত্রীর অলঙ্কার। সেই অলংকার পছন্দের স্বাধীনতা সাময়িকভাবে স্ত্রীরা পেয়ে আসছিল। 

নারী-পুরুষের প্রেম বিনিময়ে সমাজের খুব একটা বিধি নিষেধ ছিল বলে মনে হয় না। অবৈধ তখনই হয় যখন আগেভাগে বৈধতার পাঠ পড়ানো হয়। যা সমাজে যখন উহ্য ছিল, তখন  বর্তমানের অভিধানে অতীতকে খোঁজাটা বৃথা। অবৈধ যে বৈধ ছিল সেটি ঋগ্বেদের  নবম মন্ডলের স্ত্রোত্রগুলির দিকে দিকপাত  করলেই  বোঝা যায়। 

ক্রমশঃ 

ব্লগার -রবীন মজুমদার 
তারিখ -২৭/০৩/২৫
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 


সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫

(২৫৭) ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -২য় পর্ব

 (২৫৭)  ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -২য়  পর্ব 


রবীন মজুমদার( অঙ্কনে )

প্রথম সংখ্যার পর  ..................................................

তথ্যের উপাদান

 নারী স্বাধীনতার কথা উঠলে  মন্তব্য উড়ে আসে, বৈদিক যুগে নারীদের স্থান বেশ উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত ছিল, যা একবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে।  যে পাতা ইতিহাসের কান্ড ছাড়া প্রস্ফুটিত হয় না, আর যাকে সমৃদ্ধ করে  বহু উপাদান ,  তবে সে ইতিহাস নামে  ভূষিত হয়। তার সঙ্গে  থাকবে পুরাণ, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, নৃবিজ্ঞানের প্রামাণ্য দলিল,  শিলালিপি,  বৈদিক সাহিত্য, বৌদ্ধ সাহিত্য আর সঙ্গে রামায়ন ও মহাভারত।  অনুক্রমটা যদি প্রাচীনতর সাহিত্য দিয়ে শুরু করতে হয়, তাহলে সর্বাজ্ঞে আসবে ঋগ্বেদ তারপরে অন্যান্য সাহিত্য।  

তৎকালীন সমাজে নারীর অবস্থান কখন মুক্ত বিহঙ্গের মতো খোলা আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে আবার কখন সে  বন্দী হয়ে খাঁচার মধ্যে এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্তে দাঁড়ের উপর দিয়ে হেটে বেড়াচ্ছে আবার কখন মনমরা হয়ে খাঁচার একপ্রান্তে চুপ করে বসে আছে। পলকে পলকে এক বৈচিত্রময় জীবন সমাজ তাদের উপহার দিয়েছিল তার কারণগুলির মুলে ছিল এক ধরনের ঘৃণ্য শ্রেণীবোধ।   

যাযাবর জীবন  থেকে  গ্রামীণ জীবনে উত্তরণ 

গঙ্গা-যমুনার অববাহিকার অনতিবিলম্বে সবুজ কার্পেটে বোনা উর্বরা জমিতে ফসল বুনতে বুনতে তারা ভুলেই গেছিল তাদের রুক্ষ জমির শুষ্ক আবহাওয়াতে তারা কত দিনই অতিক্রান্ত করেছে। পরিবেশের সাথে জীবনের এক অবিচ্ছেদ্দ আকর্ষণ এবং সেই কারণে জীবনের যাত্রা পথের কতনা পরিবর্তন। যারা পূর্বে  লিঙ্গ ভেদাভেদ ভুলে তারা জীবিকার্জ্জনের জন্য একসাথে কত না যুদ্ধে তারা অবতীর্ন হয়েছিল। সম্পত্তি নামক কোন পার্থিব সম্পদ আছে, সেই ধারনাই তাদের ছিল না।   তাদের অন্তরে বহুদিনধরে আত্মগোপন করে থাকা একটা বাসনা উজ্জীবিত হলো পরিবর্তিত সামাজিক ভাবধারার স্পর্শে।  

 পরিবর্তন 

প্রত্যেক সমাজের আর্থিক অবস্থানটা সামাজিক পরিবর্তনের দায়ভার গ্রহণ করে। আর্য্যদের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয় নি। যেহেতু , নারী ও পুরুষ তার অঙ্গ, তাই পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব তাদের উপর অবশ্যিই বর্তাবে। 

 ধীরে ধীরে মন থেকে আগের স্মৃতিগুলি কোথায় যেন হারিয়ে গেলো। সেই শুনসান জায়গা ভরাট হতে শুরু করলো  একের পর এক ঘটনার বহমান স্রোতে। সভ্যতা নামক শব্দটা বেশ জটিলতায় ভরা এক সামাজিক ব্যবস্থাকে  ইঙ্গিত করে।  পরিবেশ এবং সমাজে স্তরে স্তরে সাজানো মানব-মানবীদের  উপর কোথাও তার  নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি ও  যেমন থাকে আবার পাশাপাশি  শিথিলতাকে প্রশ্রয় দিয়ে যায়।

কোন কিছু গড়ার কিছু প্রাথমিক শর্ত থাকে তা হচ্ছে পুরাতনকে ভাঙ্গার। সেদিনের আর্য্য সমাজে  এই ভাঙ্গা গড়ার খেলায় প্রথম গোষ্ঠী ও কৌম ভেঙ্গে হলো কূল। আবার কূল থেকে  যৌথ পরিবার তারপরে সেটি গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলো একপুরুষের পরিবারে। এটি হল অনেক সামাজিক পুনর্গঠনের একটি ধাপ। 

সেদিনের জীবন-জীবিকার প্রথম সারিতে যারা ছিল সেই, পশুপালন, শিকার ইত্যাদি পরিবর্তিত  হল চাষ-আবাদে।  ফসল চাষের সাথে উৎপাদন শব্দটি ভীষণ ভাবে জড়িত।   উৎপাদনের ফলাফল চূড়ান্ত ভাবে  নির্ণয় করা হয় অর্থ মূল্য দিয়ে। সামাজিক ক্ষেত্রে একটা ধারণা প্রচলিত হলো যে, উৎপাদন ব্যবস্থায় যারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আছে অর্থাৎ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যাদের অবদান সব থেকে বেশি, তারাই গুরুত্ব পেতে শুরু করলো। আরেকটু ভেঙে বলা যেতে পারে, যে শ্রমকে বাজারজাত করা যায় সেটাই আক্ষরিক অর্থে সফল শ্রম আর  গৃহের শ্রমকে  বাজারজাত করা যায়না বলে  সে বিফল শ্রমের মর্য্যাদা পায় ।  

বন্ধনে বন্দিত্ব 

 উৎপাদনে অপর্যাপ্ত অংশগ্রহণে নারীকে শুধুমাত্র গৃহকর্মে সমাজ আবদ্ধ করে রাখলো। যে উৎপাদনে অংশগ্রহণ করেনা, সে অর্থমূল্য উপার্জ্জন করতেও সক্ষম নয়, জীবন-জীবিকার প্রশ্নে সে পরনির্ভরশীল, যেমন গৃহে ফাইফরমাশ খাটে সেই শূদ্রজাত স্ত্রী-পুরুষের মতো। বুৎপত্তিগত অর্থ ধরলে 'ভার্যা' অর্থাৎ স্ত্রী আরেকটি অর্থে ভরনীয়া এর সাথে নারী ও শূদ্রকে এক পঙ্ক্তিতে বসানো যায়, কেননা শূদ্রদের অন্ন গৃহকর্তার উপরেই নির্ভরশীল। অর্থনীতি ঘুরে বেড়ায় মাঠেঘাটে, সে প্রত্যক্ষ করে উৎপাদন আর শ্রমকে কিন্তু গৃহের অন্দরে প্রত্যহ যে যে শ্রম বিতরণ হয় আর যে শ্রম বিনা বাহ্যিক উৎপাদন এক পা ও এগোতে পারতো না, তাকে সে দেখতেই পারেনা। কেননা, গৃহদ্বারে  এক অদৃশ্য পাহারাদার বসে আছে  , যে আগাপাশতলা পুরুষতন্ত্রে বিশ্বাসী।  সেই আলোবাতাসহীন গৃহে সমাজের পাশবিক সংস্কারের চাবুকে রক্তাক্ত  হয় নারী আর শূদ্ররা। এও সভ্যতার অভূতপূর্ব নিদর্শন, আলোর নীচে একটা নিকষ কালো অন্ধকার। যারা সমর্থ, তারা আজও  সেই পাহারাদারদের দরজায় বসিয়ে ঘরের অন্দরে সেই পরম্পরাকে বজায় রেখেছে। কখনো বেরিয়ে আসা সত্য ঘটনাগুলিকে রাষ্ট্র ধামাচাপা দিয়ে যাচ্ছে, পাছে তাদের কাল্পনিক অগ্রগতির খতিয়ানটা  কালিমালিপ্ত হয়, সভ্যতার পতাকাটা যেন মিথ্যার বাতাসে পতপত করে উড়তে পারে। 


ক্রমশঃ 
ব্লগার -রবীন মজুমদার 
তারিখ -২৫/০৩/২৫
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 


রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৫

(২৫৬) ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -১ম পর্ব

 (২৫৬)  ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -১ম পর্ব 

এঁকেছে -রবীন মজুমদার 


ভুলভুলাইয়া 

সেই দিনের সামাজিক রীতিগুলির বেশ খানিকটা অংশ  সময়ের হাত ধরে আইনের রূপ নিলো আর যারা জায়গা পেলো না, তারা রয়ে গেল সংস্কার হিসাবে। তাই রীতি সেই অর্থে আইনের পিতৃত্বের দাবিদার। পূর্বে সমাজপত্তনের পর রীতি ছিল বটে কিন্তু রীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে নীতি কিছু ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের আলমারিতে ঠিক এখানকার মতোই আবদ্ধ  ছিল। 

অর্থনীতির পট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতার সাথে ঐতিহাসিকভাবে নারীদের উথান পতনের মানচিত্রটার বাস্তবতাকে অনুসন্ধানই  এই ব্লগের উদ্দেশ্য। 

বৈদিক যুগ 

 সময়কালটা খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ বছর পূর্ব থেকে শুরু। আর্যরা হিন্দুস্থানে এসেছে, শুরু হয়েছে বৈদিক যুগ।  যুদ্ধ-বিগ্রহের নিষ্পত্তিতে সেদিনের যাযাবর কালক্রমে তারা   স্থিতু হয়েছে। সামাজিক আবরণগুলি  ধীরে ধীরে ঘষে পড়েছে। আগে যে গোষ্ঠী, কৌম নামক আবরণের বিলুপ্তি ঘটিয়ে এলো যৌথ পরিবার এবং পরবর্তী সময়ে এক পুরুষের পরিবার। এইভাবেই সমস্ত গোষ্ঠীগুলি একইভাবে বিবর্তিত হতে লাগলো।  

সমাজনীতির সাথে অর্থনীতির একটা গভীর সম্পর্ক কিন্তু পরিচালক হলো সেই একজন, অর্থনীতি। জীবন মানেই তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লাগাতার সংগ্রাম। 
বিকল্পের সন্ধানে 

বিকল্পের খোঁজ তখনিই দরকার পরে যখন বর্তমান আর মানুষের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয় না। ঠিক এই কারণেই আর্য্যরা যাযাবরের জীবন যাত্রায় বাধ্য হয়েছিল। ক্রমান্বয়ে স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিশ্রান্ত মন খুঁজে বেড়াচ্ছিল এইটা স্থায়ী আস্তানার। সেই লক্ষ্য খাইবার গিরিপথের সব প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে অবশেষে তাদের ইপ্সিত স্থান ভারত ভূমিতে প্রবেশ করেছে।  স্বেচ্ছায় মেদিনীর অংশ কেউ ছাড়তে রাজী ছিল না, তাই অনিবার্যভাবে যুদ্ধ সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। যারা প্রতিনিয়ত যুদ্ধের আবহাওয়ার বিশুদ্ধ, তাদের কাছে সেটা কোন কঠিন বস্তু নয়। ঘোড়া আর লোহার ব্যবহার তাদের বাড়তি শক্তি জুগিয়ে ছিল। অবশেষে জয়  এলো, এবার সামনে বড় পরীক্ষা , যেটা তারা ইতিপূর্বে করেনি। সেটা ছিল সমাজ গঠনের  মতো সর্বাপেক্ষা কঠিন কাজ, তার মধ্যে পরিবার সংগঠন আজ পর্যন্ত পৃথিবীর অন্যতম  জটিল প্রক্রিয়া।  

সময়ের সাথে সাথে হাত মিলিয়েছে  প্রাগার্য্যদের সাথে, বিনিময় হয়েছে শিক্ষার, সংস্কৃতির। শিখেছে চাষ-আবাদ, উৎপাদনের সাথে তারা যুক্ত হয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়ার অভিমুখ হচ্ছে নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা। তাহলে অস্তিত্ব রক্ষার জন্য উৎপাদন আর উৎপাদনের  জন্য কর্ম আর যেহেতু উৎপাদন  অর্থ উপাৰ্জনের  পথ সুগম করে দেয় এবং বেঁচে থাকার প্রথম শর্ত পূরণ করে।      
 
যাযাবর  আর্য্যদের জীবনযাত্রা  

এইতো সেইদিন পর্যন্ত এই সবের বালাই আর্যদের সমাজে ছিল না। ছোট ছোট গোষ্ঠী ছিল নারী-পুরুষ একসাথে মিলে মিশে পশুপালন আর শিকার করে খেয়েদেয়ে তাঁবুতে শুয়ে থাকতো আর রাতে যাদের পাহারার দ্বায়িত্ব দেওয়া হতো তারা  পালা ক্রমে রাত পাহারা দিতো। সেদিনগুলিতে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাবার প্রশ্নে ছেলে আর মেয়েরা একই সাথে যুদ্ধটা করতো আর সেই জন্যিই তাদের মধ্যে  লিঙ্গ ভেদাভেদ ভুলে সহযোদ্ধা হিসাবে পারস্পরিক সৌহার্দের সম্পর্কটা গড়ে উঠেছিল। 
যতিহীন যৌনতা 

রাতের বেলায় যখন মদনদৈত্য চুপিসারে নারী-পুরুষের ঘাড়ে ভর করতো তখন হাতের  সামনে পুরুষ যে কোন নারীকে আবার নারীও যেকোন পুরুষের সাথে  ভূত ছাড়াতে যেত।  যাদের স্থায়ী ঘরবাড়িই নেই তাদের আবার শোয়া বসার নিয়ম বলে কোন  বস্তুই ছিল না। 

উহ ! বড্ড কষ্ট হতো যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি হতো কিংবা ঝড়ের পাগলা নাঁচন শুরু হতো , তখন মনে হতো কালকের দিনটা দেখতে পাবো কিনা। 

শুধু লড়াই করে বেঁচে থাকা। এক  গোষ্ঠীর সাথে অন্য গোষ্ঠীর লড়াই। যার শক্তি বেশী সে জোর করে পশুগুলিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে আর সঙ্গে নিয়ে যেত হেরে যাওয়া  গোষ্ঠীর তাজা তাজা মেয়েদের। পশু আর মেয়েমানুষদের মধ্যে কোন  ভেদাভেদ ছিলো না। 

ক্রমশঃ 
ব্লগার -রবীন মজুমদার 

তারিখ -২৪/০৩/২৫

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০২৫

(২৫৫ ) জীবন তরঙ্গ

 (২৫৫ ) জীবন তরঙ্গ 

Rabin creation

 ডিসেম্বরের শেষাশেষি , কোভালাম বিচের এখন তাপমাত্রা ১৯-২০ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে, যেন মৃদঙ্গের তালে তালে  সাগরের  তরঙ্গ  তীরে এসে তার প্রশ্নের উত্তর না পেয়ে চাপা অভিমান  নিয়ে আবার সাগরের  গহন গভীরে হারিয়ে যাচ্ছে। বিরামহীন তার ছন্দময় আসা যাওয়া। হয়তো, সাগরের  তরঙ্গের  এই প্রশ্নের  সাথে  তার জীবনের মূল প্রশ্নের কোন একটা আশ্চর্য্য  মিল রাজর্ষি দাশগুপ্ত খুঁজে পাচ্ছেন। মূলতঃ তিনি জীবনে শান্তির উৎসের সন্ধান করে বেড়াছেন। সাগরের তরঙ্গ  নিশ্চয় ভাবছে যে তারা সাগরের থেকে আলাদা। আসলে তারা নাম ও রূপের ধারণার উপর নির্ভরশীল। কখনও বা তার নাম তরঙ্গ আবার কখনও সে ভূষিত সাগর নামে, একই বস্তুর ভিন্ন নাম,  অথচ রূপের পরিবর্তনে ভিন্ন ভিন্ন  তার পরিচয়।  তরঙ্গ যখন চলে যায়, তখন তার রূপও চলে যায়।  সাগরকে তরঙ্গের থেকে তার রূপ কেবলমাত্র আলাদা করে। 

 ঐ রূপটাই বা কি? সে তো দেশ-কাল-কার্যকারণ ছাড়া কিছু নয়। দেশ-কাল-কার্যকারণ আবার পুরোপুরি নির্ভরশীল তরঙ্গের রূপের  উপর। তরঙ্গ চলে যাবার সাথে সাথে তাদের আমরা দেখতে পারিনা। এটাকেই কি  মায়া বলে ?

রাজর্ষি দাশগুপ্ত, উচ্চ শিক্ষিত, রুচিবান, সাংস্কৃতিক মনস্ক, প্রথম প্রজন্মের একজন স্বনামধন্য  শিল্পপতি, বেশ কয়েকবার বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতির আসনটি  অলংকৃত করেছেন। জীবনের মধ্যে গগনে পার্থিব জগতে তথাকথিত বৈষয়িক সাফল্যের পালকগুলি রাজর্ষি দাসগুপ্তের  মুকুটে শোভা বর্ধন করছিল।  অন্ততঃ  তার আশেপাশের লোকজন  তাই ভেবে থাকেন। প্রতিনিয়ত তাকে একটা ভাবনা তাড়া করে ফেরে যে, সাফল্য হয়ত এসেছে কিন্তু জীবনের স্বার্থকতা  কি এসেছে ?  জীবনে পার্থিব সম্পদ  হয়ত সুখ দিয়েছে, আনন্দ কি দিতে পেড়েছে ? 

রাজর্ষি ভাবছে, সারা জীবনে যতটা সুখ পেয়েছি  তার থেকে কয়েকগুন দুঃখ জীবনকে সইতে হয়েছে, তবে এই সুখের মানেটা কি। বার বার এই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে উদয় হয়- তাহলে জীবন মানে কি ?  নিরবিচ্ছিন্ন  শান্তি কি করে পাওয়া যায় ? আর আমাদের স্বরূপটাই  বা কি ? 

চাঁদিনী রাত, আকাশের দাম্ভিক তারারা জোছনার সাথে কি যেন আলোর  খেলায় মেতে উঠেছে। প্রায় ষাট ছুঁই ছুঁই রাজর্ষি বিচে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিয়ারের গ্লাস হাতে নিয়ে  এই রহস্যময় প্রকৃতির আশ্চর্য্য মোহিনী রূপসুধা আকন্ঠে  পান করছে।  সমুদ্রের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমকা বাতাস, তার স্মৃতির পাতা গুলিকে  একে একে উল্টে দিয়ে মনের পর্দায় ভাসিয়ে নিয়ে এসে  তাকে জীবন্ত করে তুলছে।

ফিরে দেখা সেই প্রেসিডেন্সি কলেজের  ছাত্র জীবন, কলেজ স্ট্রিটের কফি হাউস, দিনের পর দিন কফির পেয়ালায় ধুয়ো তুলে  বিভিন্ন বিষয়ে বিতর্কের বাতাবরণ তৈরি করা , তার জন্য কতরকমের প্রসঙ্গের অবতারণা। বামপন্থী এবং উগ্র বামপন্থী আন্দোলন আর প্রেসিডেন্সি কলেজ তখন ভীষণই সমার্থক।  অবশ্যই, তাদের আলোচনার জায়গাটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটাই  হবে, সে আর বলবার অবকাশ নেই। তাই  আলোচনা প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভাবে উঠে এসেছে বহু প্রশ্ন তা  কখন নকশাল বাড়ীর  আন্দোলন থেকে বামপন্থীরা কি শিক্ষা গ্রহণ করলো। যোসেফ স্তালিনের মৃত্যুর পরে পরেই  গ্লাসনস্তের বীজটা  সোভিয়েত রাশিয়ায় কি প্রোথিত হয়েছিল তার সুদীর্ঘ দলিলে কোথায় তার ইঙ্গিত মেলে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা এজেন্সী হিসাবে সি.আই.এ-র  প্রতিদ্বন্দ্বী  কে.জি.বি. না শ্যেনবেত ?  হিংস্রতায় কে এগিয়ে - গোয়েবলসের গেস্টাপো না হাইতির প্রেসিডেন্ট দুভ্যালিয়ের তুন তুন মাকুতে বাহিনী ? রাশিয়া এবং  চায়নায় গণতন্ত্র আছে কিনা ? মার্কসবাদকে ঠেকানোর জন্য ইংরেজরা কি গান্ধীবাদকে পরোক্ষ ইন্ধন জুগিয়ে ছিল তাকে জনপ্রিয় করতে ? আডাম স্মিথের অর্থনীতি  বা কার্ল  মার্ক্সের দাস ক্যাপিটাল কোনটা আজকের  দুনিয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য?  আলজেরিয়ায় আফ্রো-এশিয়ান সম্মেলনে সোভিয়েত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে   আর্নেস্তো  চে  গুয়েভারা  প্রকাশ্যে সোভিয়েত রাশিয়ার সমালোচনা করাতে ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে-র পারস্পরিক সম্পর্কের কতখানি চিড় ধরেছিল ? কে প্রকৃত কমিউনিস্ট - চে গুয়েভারা না ফিদেল কাস্ত্রো ? বলিভিয়া কি ল্যাটিন আমেরিকার দ্বিতীয় ভিয়েতনাম হবে কিনা ?    

বর্তমানে  সমাজে শিক্ষা, আর্থিক স্বাধীনতা অর্জন করা, মুক্ত অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ব্যাপক বৃদ্ধির পরে ভারতীয় নারীরা দীর্ঘদিনের সামাজিক বেড়ার গন্ডি অতিক্রম করেছে আর পাশাপশি  শ্রেণীচেতনার উন্মেষ হওয়াতে শূদ্র সম্প্রদায়ের প্রায় অবলুপ্তি ঘটেছে, এমত পরিস্থিতিতে "মনুবাদ" কতখানি প্রাসঙ্গিক ? কেন ব্রাহ্মণরা গৌতম বুদ্ধকে ভগবান বানিয়ে প্রচার শুরু করল? মেঘনাদ বধ কাব্য কি মাইকেলকে একঘরে করে দিয়েছিল?  বেদের মতো শ্রুতি, বেদান্তের মতো দর্শন ভারতবাসীকে কতখানি সমৃদ্ধ করেছে

রামকৃষ্ণ এবং বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভূমিকা সর্বোপরি রামকৃষ্ণ মিশন  ভারতবর্ষকে কতখানি পাশ্চাত্যের  কাছে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছে আধ্যাত্বিক ক্ষেত্রে ? বৈষ্ণবপদাবলীর মূল সুরটা কোথায় বাধা - জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনে  না চিরন্তন বিরহতত্ত্ব ?  ইত্যাদি ইত্যাদি। 

মিলি অর্থাৎ মালবিকা সেনের সাথে এই কফি হাউসেই পরিচয়।  বন্ধু  দীপাঞ্জনের ছোট মাসির একমাত্র মেয়ে।  সিটি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের  ছাত্রী। সুদর্শন রাজর্ষি বরাবরই নারী সঙ্গের ব্যাপারে বেশ উন্নাসিক, বহু নারী তার সান্নিধ্যে  আসার জন্য ব্যাকুল, সেটি  সে ভালোভাবেই বুঝতে পারত। কিন্তু মালবিকা এক্ষেত্রে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত, প্রথম দিনেই  রাজর্ষিকে  বাধ্য করেছিল তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ   করতে। সাধারণ বাঙালি মেয়েদের থেকে একটু সামান্য লম্বা, উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ, মেদহীন কটি, উন্নত কিন্তু সংযত বক্ষ, শাড়ির উপর  থেকে নিতম্ব ও উরুর সু-গঠনটা  দৃষ্টিনন্দন  , গোটা শরীরটাকে পেঁচিয়ে ধূসর রঙের শাড়ির উপর  বাদামি কল্কের ছাপগুলি  যেন বলতে চাইছে, দেখ আমার কি অবাধ যাতায়াত তোমাদের দৃশ্যবস্তুর আকর্ষণীয় বিভিন্ন প্রদেশের উপর যা তোমরা দৃষ্টি দিয়ে কামনা করে থাক । আয়াত চোখ, দৃষ্টিতে গভীরতা, পটে আঁকা দুই ভুরুর মাঝখানে ধূসর রঙের টিপ, এক রাশ চুল সারা পিঠেকে  আড়াল করে  রেখেছে, প্রসাধনের লেশ মাত্র নেই , কাঁধে একটা কাপড়ের ব্যাগ , সম্ভবতঃ কলেজের বই খাতা আছে,  হাতে পাবলো নেরুদার কবিতার বই ,সব মিলিয়ে আগাগোড়া এক আভিজাত্যের  নীরব অভিব্যক্তি তার শারীরিভাষায় বলে দিচ্ছে ।

 যাইহোক, আজকের দিনটার একটা বিশেষ তাৎপর্য্য ছিল , আজকে আমরা এবারকার রবীন্দ্রাজয়ন্তী পালন করবো, তার একটা রূপরেখা তৈরি করা হবে আর তার জন্য মালবিকার এখানে আসা।  আলোচনার শেষে প্রত্যেকবারের মতো আমার উপর সমস্ত অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পড়লো , কিন্তু এবারে আমার উৎসাহের মাত্রা আরো বেড়ে গেল, কারন আমার সর্বক্ষণের সঙ্গী হিসাবে মালবিকা থাকবে। মনে  ভালোলাগার এক হালকা ঢেউ বয়ে গেল।

পূর্ব-নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, রাজর্ষি তাদের লেকটাউনের বাড়ি থেকে নিজেই ড্রাইভ করে  বিরাটিতে মালবিকাদের বাড়িতে  ঠিক ঘড়ির কাটায় সকাল দশটায় এসে উপস্থিত হোল। আজকের দিনটা ঠিক করা ছিল ,  মঞ্চের ও আলোর  পরিকল্পনা, অনুষ্ঠানের সূচি নির্মাণ ,  সেই অনুযায়ী  সার্বিক আয়োজন।বাগানবাড়িটা ভালো করে জরিপ করে  মঞ্চ নির্বাচন, দর্শক বসবার ব্যবস্থা।  যে সব শিল্পী অংশগ্রহণ করবে , তারা কি কি বিষয় নিয়ে মঞ্চে উপস্থিত হবেন , সেই অনুযায়ী গোটা অনুষ্ঠানসূচিকে ভাগ করে পর পর সাজানো , তার আলোক ও  মঞ্চ সজ্জার রূপরেখা তৈরি। এই অনুষ্ঠানের বিশেষত্ব যে, শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের পাশাপাশি দর্শন ইন্দ্রিয়কে সজাগ রাখা। মিলির ধারণা যে, কোন বস্তুর উপস্থাপনার ক্ষেত্রে  উভয় ইন্দ্রিয়ের যোগ্য সংগত  হলে, অবশ্যই ভালোলাগাকে প্রাধান্য দিতে হবে, তবেইতো  দর্শকের মনের গভীরে সে দীর্ঘ দিন ধরে বাস করবে।  আর   মাত্র চার-পাঁচ ঘন্টায় রবীন্দ্রনাথের বিরাটত্ব এবং বহুগামিতাকে  রেখাপাত ব্যাতিত আর কিছু করা সম্ভব নয়। 

ঘন্টা খানেকের মধ্যে তারা বাগানবাড়িতে এসে পৌছাল।  গাড়ির মধ্যে তাদের  উল্লেখ করার মতো কোন আলোচনা হলনা। শুধু মাত্র, একপ্রকার পারিবারিক বৃত্তান্ত ও নিজ নিজ প্রোফাইল আর এম্বিশনের গল্পের  মধ্যেই সীমাবধ্য রইল। 

বাগানের ম্যানেজার ভোলাবাবু অফিস ঘরে অপেক্ষা করছিলেন।  ঘন্টাখানেকের মধ্যে ডেকোরেটার্সের সাথে ঘোষ ইলেট্রিকের প্রতিনিধি এসে উপস্থিত হলেন।  স্থির হলো, পুরো জায়গাকে জরিপ করে মূল মঞ্চ স্থান নির্ধারণ করা। 


প্রায়  পাঁচ  একর জমির উপর বাগানবাড়িটা। ভিতরের যে পথটি সোজা নাট মন্দিরে গিয়ে মিশেছে তার দু-পাশে কত জানা-অজানা বাহারি ফুলের গাছ পথের  উপরের অর্ধচন্দ্রের মতো লোহার পাতগুলিকে এক হাত অন্তর দাঁড়িয়ে থাকা  দুই পাশের লম্বা লম্বি ভাবে দাঁড়ানো  রডের সাথে আস্টেপিস্টে মিলে আছে আর তাকে  আলিঙ্গন করে আছে লতানো গাছগুলি। সারা রাস্তাকে মুড়ে রেখেছে ছোট ছোট নুড়ি পাথর। বাগানবাড়ির চারপাশে যেখানে আট ফুট উচ্চতার প্রাচীর দিয়ে ঘেরা আছে , তার ভিতরটা ঠিক সারিসারি সুপারি গাছ সৈনিকের মতো পুরো বাগানটাকে ভিতর থেকে  ঘিরে রেখেছে ।  শ্রেণিবদ্ধভাবে আম গাছ গুলি দাঁড়িয়ে আছে এক একটা সারিতে। বাগানের একটু ভিতরে প্রায় এক একর জমির মাঝে  সান বাঁধানো জলাশয়, আর তাকে প্রায় জড়িয়ে বেড়ে উঠেছে নারকেল গাছগুলি। জলাশয়ের পারে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ঔষধি গাছের সমারোহ। গাছগুলির পাতা ভেদ করে  সূর্য্যের আলো বাগানে এক আলো-আঁধারির রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি করেছে। অবশেষে, বর্ষ প্রাচীন নাট মন্দিরটাকে মঞ্চ হিসাবে ঠিক করা হলো। 

বিয়ের পরে পরেই রাজর্ষি লন্ডন স্কুল অফ ইকোনমিক্স-এ রিসার্চ ফেলো হিসাবে যোগদান করে। সেখান থেকে তার থিসিস আন্তর্জাতিক প্রথমশ্রেণীর প্রকাশনাগুলিতে   বিশেষ সমাদৃত হয়। তার পর  মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজে  যোগদান করে।  বিদেশের চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশের মাটিতে ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি  তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন।  তার পর একের পর এক উত্তরণ।

 মালবিকার আকস্মিক মৃত্যুটা জীবনের কঠিন লড়াইয়ের সৈনিককে একেবারে একা করে তুলেছিল। জীবনের দীর্ঘ লড়াইয়ে মিলিকে ভীষণভাবে পাশে পেয়েছিলেন। তার না থাকাটা এক বিরাট শূন্যতা। 

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলেন , জীবনে অনেক কিছুইতো হলো, এবার ছাড়ার পালা। বড় ছেলে সপ্তর্ষির কোম্পানী পরিচালনার ক্ষেত্রে গতিশীল  দৃষ্টিভঙ্গি অনেক কাছ থেকে দেখে রাজর্ষিকে মুগ্ধ করেছিল।  একদল দক্ষ পরিচালক মন্ডলীর সুযোগ্য নেতা হিসাবে সপ্তর্ষির কর্ম পদ্ধতি ACRM Journal of Business and Management Research এর বেশ কয়েকটি সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে বেড়িয়ে ছিল। কেউ কেউ আবার ম্যানেজমেন্ট গুরু সি. কে. প্রহ্লাদের ম্যানেজমেন্ট থিওরির সঠিক প্রয়োগ কৌশলী হিসাবে সপ্তর্ষিকে  মনে করে। কোম্পানি-র বিশেষ সাধারণ সভার আয়োজন করে সব শেয়ার হোল্ডারদের  উপস্থিতিতে সর্ব সম্মতিক্রমে সপ্তর্ষিকে  কোম্পানীর প্রধান কর্নধার পদে  অভিষিক্ত করা হয়। 

জীবন-যুদ্ধের প্রান্তে এসে রাজর্ষি ভাবতে লাগল এই জীবনটাতো অন্যান্য প্রাণীদের মতো জীবিকা অর্থাৎ এই স্থুল শরীরের অভাব অভিযোগ পূরণের জন্য অতিবাহিত করেছে। এক কথায় খাদ্য সংগ্রহ আর ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ। এই পরিবারে, এই সমাজে এরা একান্তই আমার, ব্যাঙ্কের অর্থকরী, গাড়ি বাড়ী সবই আমার, এদের আনন্দে আমার আনন্দ, এদের দুঃখে আমার দুঃখ, এই পর্যন্ত। তার বাইরে ভাববার অবকাশ পায়নি, কেননা এইসব পাওয়ার জন্য আমার দেহ ও মন নিয়োজিত ছিল। এই মায়ার সংসারে প্রতি মুহর্তে স্বপ্নভঙ্গের, মোহ ভঙ্গের ব্যাথা।  এই  দুঃখ যদি  জীবনের প্রকৃত  ফল হয়, তাহলে উন্নততর জীবন কি ? আমাদের জীবনটা কার দ্বারা পরিচালিত ? জীবনের নিয়ন্ত্রণ কোথায় ? আমি কে ?

আজ একা সমুদ্রের কিনারায়  বসে এর উত্তর খুঁজতে লাগল।  অজ্ঞান অনেকটা চোখের উপর ছানির মতো, দৃষ্টিকে স্বচ্ছতা  থেকে অনেক দূরে নিয়ে যায়। চক্ষু নামক ইন্দ্রিয়ের পিছনে থেকে যে এই দেখার কাজটি করে তা হল মন এবং সেই মনকে পরিষ্কার রাখার অনুশীলনটা চালিয়ে যেতে হবে। জানার কাজটা, যেটা সর্বাজ্ঞে করা উচিত ছিল, সেটাই আর হয়ে উঠেনি। 

বেদান্ত বলেছে "আমি কে"? এটা যদি কেউ জানে তাহলে তার জীবনে দুঃখ বলে কোন কিছুই থাকবেনা।   

ব্লগার -রবীন মজুমদার 

তারিখ -১৫/০৩/২৫

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫

(২৫৪) ফ্যাসিজমের রুট কজ

 (২৫৪) ফ্যাসিজমের রুট কজ 



 ডাক্তার যেমন তার জানার নির্দ্দিষ্ট পরিধির মধ্যে রোগীর রোগের কারণ নির্ণয় করার পরে চিকিৎসা শুরু করেন, ঠিক তেমনি আমাদের বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা নির্ধারণ হবে অবশ্যিই আমাদের সীমিত জানার মাপকাঠিতে। 

সাধারণজ্ঞান বলে জন্মলগ্ন থেকে মানুষের মধ্যে ফ্যাসিজমের রক্ত কখনই প্রভাবিত হয় না। তা  যদি না হয় তবে এর প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা আছে। কারণ ছাড়া কোন কার্য্য যেমন হয় না কিন্তু এটাও বলা নেই এই কারণকে খুঁজতে কতদূর পর্যন্ত যেতে হবে তার কি কোন নিদ্দিষ্ট সীমারেখা বোধহয় আছে। কাজটা ভীষণ কঠিন কিন্তু কঠিন পণ করলে উত্তরকে সামনে নিয়ে আসা যায়।   

আমাদের লক্ষ্য পূর্ব নির্ধারিত অর্থাৎ কিভাবে একটি মানুষ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠে তার পশ্চাদপদকে চিহ্নিত করা।  বাস্তবে সেই মানুষটি   ভীষণ কষ্টে আছে, কেননা সে  ভীষণ তৃষিত কিন্তু হালে পানি পাচ্ছেনা আর সেই  কারণে সে ক্রমেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মজার ব্যাপার হলো, এদের তৃষ্ণা উত্তরোত্তর এতই বৃদ্ধি পায় আর সেই তৃষ্ণা কোনদিনই পূর্ণতা লাভ করেনা, এটা প্রমাণিত। 

নিজ নিজ কাজে যখন সকলে ব্যস্ত, তখন সে সারা দিন ধরে নিজের অভীষ্ট পূরণের জন্য  মানুষের মধ্যে বিভাজনের বীজ বপনে তিনি মত্ত। এই বাসনা অসুস্থতার প্রাথমিক কারণ। দেশবাসীর সামাজিক দায়িত্ব এই অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তাকে পুনর্বাসন দেওয়া।   

বিশ্লেষণ করবার বহু পদ্ধতি আছে, সঠিক ফলাফল দেবার ক্ষেত্রে তার মধ্যে কোন পদ্ধতি ইতিমধ্যে  বিশেষ কৃতকার্যতার প্রমান দিয়েছে, তার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। এইসব মানুষের জীবনদর্শন প্রমান করে যে তাঁরা জীবনবোধের দর্শনের অদর্শনে পীড়িত।

বোধবুদ্ধির রকমফের আছে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব স্ফুরণে এই বোধের ভীষণ ভূমিকা আছে। এই বোধের আবার দুটি দিক আছে একটি উচ্চগামী এবং অন্যটি নিম্নগামী। নিম্নগামী বা ক্ষুদ্র ব্যক্তিত্ববোধের কারণে মানুষ নির্বোধের মতো আচরণ করে থাকে। নিম্নগামী বোধের উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় ক্ষুদ্র ব্যক্তিত্ববোধ, যার প্রতিক্রিয়া হিসাবে একজন ফ্যাসিবাদী আদর্শের অনুসরণকারী অপর মানুষের সাথে নিজেকে আলাদা ভাবে। এই ভাবনাটির পিছনে রয়েছে তার  ইন্দ্রিয় নির্ভরতা। মানুষের মনের মধ্যে যেমন ত্যাগের আদর্শ বাস করে, ঠিক তেমনি তার বিপরীত মেরুর ভাবনাগুলিও একই সাথে বাস করে, যেমন ভোগ,কামনা এবং বাসনা। যে সর্বদা নিজেকে অন্যদের থেকে সেরা ভেবে থাকে সে অহংকারী, আর যে ব্যক্তি অহংকারী সে কখনই ত্যাগ  করতে জানেনা। তাহলে মনের মধ্যে বাকি যেটা পরে থাকে অর্থাৎ কামনা,বাসনা আর ভোগ তাদের পিয়াসী হতে বাধ্য। এই পাবার লোভ থেকেই হৃদয় পিপাসিত হয়।       

 এক অপ্রতিরোধ্য আবেগ শিরা-উপশিরায় আলোড়ন তৈরি করে অন্তরের অন্তরতম প্রদেশ  থেকে  বলতে চাইছে, "হে মনুষ্য  তুমি সবার থেকে পৃথক এক জীব, তোমার গুণমান যে কোন প্রাণী থেকে উৎকৃষ্ট,আর তোমার চারপাশের জীবেরা একান্তই নিকৃষ্টমানের, সুতরাং এই সমাজে তুমিই কর্ণধার হবার সুযোগ্য প্রার্থী"। এখন প্রশ্ন হলো  তোমার যোগ্যতা কি  প্রমাণিত ? উত্তর প্রমান হয়নি। তাহলে কে তোমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে ? উত্তর আসবে অহংকার।  

বস্তুজগতে বস্তুধর্মানুসারে দুইভাগে বিভক্ত। একটি সসীম অপরটি অসীম। এই অহংকার সমীমবস্তুর অন্তর্গত, কেননা সে  জন্মগ্রহন করেছে আর যে বস্তু জন্মায় তার লয় অবধারিত। কিন্তু কেন সে প্রকাশমান হলো তার কারণকে অবশ্যিই জানতে হবে। সেই কাজের অনুসন্ধানের  দায়িত্ব দর্শনের উপর।  

 ইতিমধ্যে আমরা আভাস পেয়ে গেছি ফ্যাসিস্টদের সাথে  সাধারণ মানুষের গুনগত পার্থক্য হল চৈতন্যের। যার অভাবজনিত কারণে মানুষ মানুষের সাথে  অমানবিক ব্যবহার করে। আমরা কোন আত্মকেন্দ্রিক মানুষকে যেমন অবিহিত করে থাকি 'আত্মাটা কি  ছোট' এই বলে। 

দর্শন যখন কোন প্রকাশনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে, তখন তার ইতিবৃত্তকে খোঁজার চেষ্টা করে। প্রথমে অহংকারের জন্মবৃত্তান্ত খুঁজতে গিয়ে ভারতীয় প্রাচীন দর্শন  সাংখ্যর ব্যাখ্যা আকৃষ্ট করলো। এই দর্শনের আলোকে জানা যায়, প্রকৃতি জড় সম্প্রদায়ভুক্ত। তার পিছনে অবশ্য যথেষ্ট উদাহরণ তাঁরা দিয়েছেন। সত্ত্ব, রজ ও তম এই ত্রিগুণের সমাহারে এই প্রকৃতি। সৃষ্টির পূর্বে তারা সকলেই সমান ছিল। তারপর সৃষ্টির প্রক্রিয়া  যখন শুরু হলো তখন তারা পূর্বের অব্যক্ত অবস্থা থেকে ব্যক্ত হল, ব্যস তাদের  সেই পরাধীনতার শিকল ছিড়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের  প্রকাশ করলো। কোথাও রজ গুণের কতৃত্ব আবার কোথাও তম অর্থাৎ তামসিক গুনের কতৃত্ব পরিলক্ষিত হল।  কে বলেছে তুমি আর আমি আলাদা, এই ভাবনা থেকে যে  অসাম্য  অবস্থার   জন্ম হলো, সেটাই অহংকার নামে পরিচিত।     

সাংখ্য দর্শন  আত্মা  বা চেতনাকে সম্বোধন করেছে'পুরুষ'নামে। এই পুরুষ ও প্রকৃতির দুইয়ের মিলনেই সৃষ্টি। মন,বুদ্ধি ও অহংকার প্রকৃতিরই উপাদান। যেহেতু প্রকৃতি জড় সেজন্য এরাও জড় বস্তুর অন্তর্গত।  গাছের পাতার কোনদিন হেলদোল হতো  না যদিনা বাতাস বইতো। গাছ যেহেতু প্রকৃতির  উপাদান তাই সে জড়র অধীন। মানুষের মনও জড়ের অধীন সে চেতনা ছাড়া অপ্রকাশিত।

ধরা যাক,  একটা সামন্তরাল রেখার উপর চৈতন্য  (সর্ব বৃহৎ গোলক),তারপরে অহংকার ( ছোট গোলক), সর্বশেষে বুদ্ধি ( ছোট গোলক) দাঁড়িয়ে আছে। চৈতন্যের আলো বুদ্ধির উপর ততখানিই পৌঁছাবে  যতখানি অহংকারের গোলকটি ছোট হবে। কেননা অহংকারের ছায়াটা জ্ঞানকে উন্মোচিত করতে  না দেবার কারণে বুদ্ধি আছন্ন থাকে অহংকারে। এই মিথ্যা আবরণটাই মায়া। মায়াকে বিশ্বের আসল কারণ বলা হয়। কেননা, এই দেহ,মন ও আত্মার প্রকৃত স্বরূপ না জানার নামই মায়া। তাই মায়া নাম আর রূপ দিয়ে পার্থিব উপাদানগুলিকে আসল কারণ  থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তাই সবকিছুকে নাম রূপের আড়ালে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়। আসলে জীবাত্মার কোনো পৃথক অস্তিত্ব থাকতেই পারেনা, সবই মায়ার খেলা। এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে একটাই সত্ত্বা আছে। আমার একটা সত্ত্বা, তোমার আরেকটি সত্ত্বা থাকাটা অসম্ভব।  যত রকমের অবৈজ্ঞানিক  দ্বৈতজ্ঞানকে প্রচার করে বিভেদ সৃষ্টি করাই  হচ্ছে ফ্যাসিজমের উদ্দেশ্য। প্রগতির অর্থ এগিয়ে যাওয়া, পিছিয়ে পড়া নয়। 

পরবর্তী সংখ্যায় এই রোগের সম্ভাব্য প্রতিকার ।।

  ক্রমশঃ 

ব্লগার -রবীন মজুমদার 

তারিখ -১৪/০৩/২৫

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫

(২৫৩ ) ফ্যাসিজমের একাল সেকাল

 (২৫৩ ) ফ্যাসিজমের একাল সেকাল 


শক্তির সাথে শৃঙ্খলার এক আশ্চর্য মিশেল এই 'ফ্যাসিকো' যার থেকে ফ্যাসিজম কথাটির উৎপত্তি। যে আদর্শের উপর লক্ষ্য রেখে  এই শক্তি  জাতীয়তাবাদের ধোঁয়া তুলে শাসকের একনায়কতন্ত্রকে  প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। 

            **************************************

ইতিহাসে কেউ কেউ জায়গা করে নেয় তাদের কৃতকর্মের মাপকাঠিতে।  সেটা অবশ্যিই দৃষ্টান্তমূলক। সেই চরিত্রের দৃষ্টান্তটি   মানবিক কিংবা তার অমানবিক কারণও হতে পারে। সেখানে এমনিই একটা নাম   হিটলার, যাঁর সাথে ফ্যাসিস্ট শব্দটি সমার্থক হয়ে গেছে। যদিও বেনিতো মুসোলিনি এর উদ্গাতা কিন্তু হিটলার তার  রূপকার। এই ধরনের বিরল প্রজাতির মানুষ কোন কোন শতাব্দীতে দুই-একটা জন্মায়। অবশ্য তারা ভীষণ ক্ষণজন্মা। উত্তরসূরি তারা তৈরি করতে পারেনা , কেননা তারা  যখন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয় ,  তখন তাদের উপর এতোখানি ঘৃণা বর্ষিত হয় যে, সাহস করে কেউ সে পথে হাঁটেনা। তাদের জীবনে যবনিকা পরার ইতিহাসটা ভীষণ মর্মান্তিক। 

কিন্তু কালের নিয়মে এই ধরনের কিছু প্রজাতির সন্ধান পাওয়া যায়, পূর্ণাঙ্গরূপে নয় শুধু  তার অপূর্নরূপ মাত্র । অঙ্কুরেই ত্রাহিরব উঠে। পৃথিবী আর চায় না সেই বীভৎসরূপকে আবার দর্শন করতে। যেহেতু মানুষই এর সৃষ্টি কর্তা, তাই মানুষের দায়িত্বের মধ্যেই পরে এই আগাছা উৎপাটনের। তার প্রাথমিক পর্য্যায়ে লক্ষণকে বিলক্ষণ জানতে হবে।     
                 **************************************
বর্তমানে এই ধরনের শাসকরা, 'ধরণ' শব্দটি এই কারণে বলা হল, কেননা আক্ষরিক  ফ্যাসিস্টরা  এর থেকে আরো বেশি নির্মম।  চিত্তাকর্ষক মোড়কের আড়ালে নিজেদের আড়াল করে রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হয়।  রোমাঞ্চকর প্রতিশ্রুতির নিয়মিত প্রচারে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তাদের অনুকূলে টেনে নিয়ে আসে। 
      **************************************
মাঝে মাঝে মনে হয় এদের বাল্যখিল্যপনা দেখতে দেখতে প্রকৃতি তার দৈনিন্দন কাজকে শিকেয় তুলে হাসতে  থাকে।  প্রকৃতির রাজ্যে ভেদাভেদ বলে কোন শব্দ নেই। অবশ্য সে পুঞ্জীভূত অভিমান জমা হলে বর্ষণরূপে তাকে  নিষ্ক্রিয় করে দেয়। ঠিক সেরকম ইতিহাস ফ্যাসিবাদের কারণ থেকে উদ্ভূত বহুদিনের  জমানো বিদ্বেষ প্রচন্ড শক্তি হয়ে এক ভয়ংকর ঝড়ের আবির্ভাবে ঝরা পাতার মতো তাদের সাধের সৌধ মাটির সাথে মিলে মিশে একাকার করে দিল আর তার সাথে শেষ করল সেদিনের মতো  একনায়কের  একাঙ্ক  নাটক। 

কালের কি নির্মম পরিহাস, একদিন যার নাম  জার্মানির আকাশ বাতাস "হের হিটলার" বলে  উচ্চারিত হতো, আজ তার দেহাবসানের সাথে সাথে তার নামটিরও পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছে। 
      **************************************
অবশ্য মানুষ দুঃসাহসিক অভিযানের প্রয়াসী। পর পর দুটো বিশ্ব যুদ্ধের বিভীষিকা যখন তাদের স্মৃতিতে জায়গা করতে পারে না , অগত্যা সাময়িক ভালো লাগাকে তারা জীবনে চলার পথে পাথেয়  করতে চায়। সেই সব ইতিহাসের ঘৃণ্য নায়কদের  উত্তরসূরি হয়ে বাঁচতে চায়। 

ফ্যাসিজমের পূর্বরাগ 

পূর্বে অর্থাৎ আদিম ও মধ্যযুগে বিভিন্ন রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসক নিরুঙ্কুশ কর্তৃত্ব  প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিগত শতাব্দিতে সেই একচেটিয়া শাসনব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্যকে গোপন রেখে বাইরে তাকে  পরিচিত করাচ্ছে  এটি  একটি  উৎকৃষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসাবে। 
      **************************************
কি কি লক্ষণ থাকলে তাকে ফ্যাসিস্ট বলে চিহ্নিত করা যায়  -

দেশের জনসাধারণের জাতীয়তাবাদের প্রেরণাকে একটু একটু করে  উস্কে দিয়ে ধীরে ধীরে জনগণকে বোঝানো হয়, তাঁরা পৃথিবীর এক ঐতিহ্যশালী জনজাতির প্রতিনিধি। দীর্ঘ দিন ধরে সেই জাতির প্রতি অবহেলা ও অন্য জাতিগুলির প্রাধান্যে  তার গৌরব ভ্রুলুন্ঠিত হয়েছে, তাকে পুনুরুদ্ধার করতে হবে এবং তার একমাত্র কারিগর হচ্ছে এই জাতীয়তাবাদী  রাজনৈতিক দল ও তার শক্তিশালী নেতৃত্ব। সেই কারণে একনায়কের  ভীষণ প্রয়োজন, বহুজনে এই মহান কার্য্য সম্পাদন হবেনা। 
      **************************************
বাস্তবে সমাজে বহু জাতির বাস। তার মধ্যে থেকে একটা জাতিকে শ্রেষ্ঠ প্রমান  করতে হলে অবশ্যিই অন্য সংখ্যালঘু জাতিগুলিকে শত্রু হিসাবে চিহ্নিত  করতে হবে। 

জাতীয়তাবাদী দলের এই রাজনৈতিক ভাবাদর্শে জনগণ যেই মুহূর্তে আবেগতাড়িত হয়ে  উঠে,  তখন তাদের কাছে সেই রাজনৈতিক দলের নেতার প্রতি অন্ধ আনুগত্য চাওয়া হয়। আনুগত্য যুক্তির অপেক্ষা করেনা, তার ভিত্তি হচ্ছে অন্ধ বিশ্বাস। যেই যুক্তিতে অন্য জাতির প্রতি  ঘৃণার বিদ্বেষ ছড়ানো হয়, ঠিক একইভাবে গনত্রান্ত্রিক পরিসরে সেই বিদ্বেষ বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতি  সমভাবে বন্টিত  হয়।  একনায়কতন্ত্রের আগ্রাসনে ধীরে ধীরে গণতন্ত্র বিদায় নিতে শুরু করে। গণতন্ত্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলি যেমন, বিচার ব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের উপর  একটা অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়। সাথে সাথে গণতন্ত্রের গুরত্ব কমতে থাকে। রাজনীতির ক্ষেত্রে যারা প্রতিপক্ষ হিসাবে চিহ্নিত হন, তাদের উপর শাসকের সন্ত্রাস নেমে আসে। 
      **************************************
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার  অন্যতম হাতিয়ার নির্বাচন, সেই নির্বাচনী ব্যবস্থাকে  দুর্বল করে ফেলে, ভুয়া নির্বাচন ব্যবস্থা  চালু করে। বিরোধী দল ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে দমন করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তির স্বাধীনতা এবং মানবাধিকার  ক্রমেই সংকুচিত করে ফেলা হয়।  
      **************************************
 উন্নয়নমূলক কর্ম মিথ্যা প্রচারের আড়ালে  আত্মগোপন করে থাকে 

সরকারের অন্যতম কাজ জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। তার জন্য  চাই জনমুখী পরিকল্পনা। সরকার যখন সেই কাজ থেকে বিরত থাকে, তখন সেই ব্যর্থতাকে ঢেকে রাখার জন্য প্রয়োজন পরে মিথ্যা প্রচারের চাদরের।  সেটাকে মাথায় রেখে শাসক মিডিয়াকে ব্যবহার করে আর সেই  মিডিয়া যত্ন সহকারে ভুল তথ্য পরিবেশন করে জনগণকে সরকারি কাজের  ফিরিস্তি দিয়ে  আল্হাদিত করার চেষ্টা করে।  
      **************************************
সুস্থ চিন্তা থেকে মানুষের ব্যবধান  রচনা করতে কৃত্তিম সংকট প্রচারের জুড়ি মেলা ভার। সেখানে সংবাদ মাধ্যম  মিথ্যা ষড়যন্ত্রের গল্প শোনায়। 
      **************************************
তাতেও ও যদি জনগণ প্রভাবিত না হয়, তখন তাদের দৃষ্টি ঘোরাতে প্রচার করা হয় কোন নির্দ্দিষ্ট গোষ্ঠীর মনগড়া চক্রান্ত বিরুদ্ধে।  এর সাথে জুড়ে দেওয়া হয়, তারা দেশের অখন্ডতার  ধংসকারী হিসাবে। তাদের জন্মগত শত্রু হচ্ছে কম্যুনিস্টরা, তারপরে বুদ্ধিজীবী ও সংখ্যালঘুরা। 
      **************************************
ষড়যন্ত্রতত্ত্ব

ফ্যাসিস্টদের চিরকালের অভ্যাস নিজেদের ভুলকে ঢাকা দেবার জন্য ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সাজিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা। নিজেদের সংকট মুক্ত করতে সেটা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র নামক অস্ত্রকে সুচারু রূপে ব্যবহার করে থাকে।  
       **************************************
অর্থনৈতিক  নিয়ন্ত্রণ 

এইবার ধীরে ধীরে হাত বাড়ায় একাধারে অর্থনৈতিক ও অন্যদিকে সামাজিক  নিয়ন্ত্রণের পথে।  তার প্রাথমিক পর্য্যায়ে রাষ্ট্রের অধীনে যে সমস্ত ভারী শিল্প  ও অন্যান্য পরিষেবামূলক ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।  যারা দীর্ঘ দিন ধরে শ্রমিক স্বার্থ বজায় রাখার কাজ  যে সব ট্রেড ইউনিয়নগুলি করে আসছিল, তাদের আন্দোলন করার  অধিকার কেড়ে নেয়। 
                **************************************
সামাজিক নিয়ন্ত্রণ 

আগামী দিনে ফ্যাসিবাদীমুখী মতাদর্শকে লালন পালন করার জন্য এবং ভবিষৎ নাগরিক তৈরি করার কারখানা  প্রতিষ্ঠার জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।  
চিন্তাবিদ এবং মনীষীরা বারংবার বলেছেন, একটি জাতির উন্নতি নির্ভর করে পুরুষ ও নারীর সমঅধিকারের মাধ্যমে। সেখানে ফ্যাসিস্ট মতাদর্শ কোন অবস্থায় নারীদের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়। তারা লিঙ্গ বৈষম্যে বিশ্বাসী। তার বিশ্বাস করে নারীরা পরিবারে সুন্দর তাই তাদের পরিবারের বাইরে পা রাখা সমীচীন নয়। 
            **************************************
কৃত্তিম সংকটের বাতাবরণ 

কাল্পনিক ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে সবসময়  সংকটের বাতাবরণ তৈরি করে জনসাধারণকে আতঙ্কিত করে রাখে এবং তার সাথে নিজেদের একমাত্র সেই  সংকটের ত্রাণকর্তা হিসাবে পরিচিত করায়। সম্ভাব্য বিরোধিতার আশঙ্কায় তারা সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপর আক্রমন শানায়।
            **************************************
ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ 

বর্তমান পৃথিবীতে এইসব লক্ষণগুলি সর্বত্র সমানভাবে প্রকট না হলেও ফ্যাসিবাদীদের  একটি মাত্র উদেশ্য ক্ষমতাকে কেন্দ্রীকরণ করা।  সেটা নিজ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে হতে পারে বা পৃথিবীর যে কোন অপেক্ষাকৃত কম শক্তিধর রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও হতে পারে।
                **************************************
পরিশেষে, দেশের নাগরিকরা যদি কোন রাষ্ট্রনায়ক কিংবা নেতার মধ্যে এই ধরণের লক্ষণ দেখতে পান তবে নিকটবর্তী পুনর্বাসন কেন্দ্রে খবর দিন তাদের অভিবাসনের জন্য। 

পরবর্তী সংখ্যায় - এই রোগের কারণ ও প্রতিকার 

ক্রমশঃ 
ব্লগার -রবীন মজুমদার 

তারিখ -১৩/০৩/২৫

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

ujaan

(২৫৯) ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -চতুর্থ পর্ব

    (২৫৯)   ভারতীয় সমাজে নারীর উত্তরণ ও অবমননের মানচিত্র -চতুর্থ   পর্ব  তৃতীয়  সংখ্যার পর   ..................................................