উজানের পথে - প্রথম পর্ব
উজানের পথে - প্রথম পর্ব
এই সংসারে যা শুধুমাত্র পরিবারের মধ্যে যা আবদ্ধ বলে মনে হয়, সেখানেও সম্পর্কের টানা পোড়ানে বহু না বলা কথা শুধুমাত্র উপযুক্ত পরিবেশ না পেয়ে সঠিক স্থানে প্রকাশ করা যায়না, সে না বলা বাণী ( সেটা স্ত্রীর স্বামীর কাছে, স্বামীর স্ত্রীর কাছে, পিতামাতার সন্তানের কাছে বা সন্তানের পিতামাতার কাছে, অফিস কাচারীতে বসের কাছে বা মালিকের শ্রমিকের কাছে, ক্যাডারের নেতার কাছে হোতে পারে ) মাঝে মাঝে অম্বলের ঢেকুরের মতো মনের অলিতে গলিতে ঘুরে বেড়ায় আর তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে শরীর ও মন উভয়কে ক্লান্ত আর অসুস্থ করে তোলে। সেই সব আমাদের মতো মানুষের না বলার জায়গা উজান ( এই ব্লগের নাম ) তার স্বল্প পরিসরে মুক্ত মনে, সীমিত জ্ঞানে তাকে মঞ্চ হিসাবে তুলে ধরতে ব্রতী হয়েছে। তাতে হয়তো একদিন আমরা সবাই মিলে একসাথে নতুন করে বাঁচার অর্থ খুঁজে পাব। ভীষণ মজার ঘটনা এটাই হতে পারে, যখনই আমরা দেখব আমাদের থেকে অনেকেই ভীষণ খারাপ আছে আর তখন নিজের সমস্যা ভুলে গিয়ে অন্যের দুঃখের ভাগিদার হবার চেষ্টা করব, তখন আকাশটা অনেক বড় বলে মন হবে আর কখন যেন ভুলে যাব কি যেন আমাদের কি একটা কষ্ট ছিল। ভুল করতে করতে একদিন সঠিক রাস্তাটি খুঁজে পাব। আজকের প্রসঙ্গ - এক মধ্যবিত্ত সংসারের এক সাধারণ দম্পতির না বলতে পারা কথা এবং তাদের একমাত্র প্রতিষ্ঠিত বিবাহিতা কন্যার কাছ থেকে নূন্যতম ভালো লাগার বাণী শোনা।
অশোক আর স্বাতী ছাত্র জীবনে এক সময়ে একই কলেজে পড়ত। স্বাভাবিক নিয়মেই একটা পুরুষের এক নারীকে ভালোলাগতেই পারে, সে নারীও তথৈবচ। প্রেমের জটিলতা বিয়ের পিঁড়িতে পূর্ণতা পেল।যথা সময়ে নারী পুরুষের দৈহিক চাহিদার মিলনের ফল স্বরূপ একটি কন্যার জন্ম। মধ্যম মাপের চাকুরী, তার শর্ত অনুযায়ী ইতিমধ্যে কলকাতা থেকে অশোকের বদলি হয়ে গেল গুজরাতে। একমাত্র রোজগেরে হবার সুবাদে সংসারের ইঞ্জিন অশোকই , তাই তার বগিগুলি তাকে অনুসরণ করে কোলকাতা থেকে গুজরাত যাত্রা করল। বিশ্বসংসারের নিয়ম অনুসারে যে অখন্ড প্রেম প্রাথমিকভাবে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তা একবারে নতুন মানুষের আগমনে তাকে আবর্তিত হয়ে চলতে শুরু করে । জীবনে স্বপ্ন নামক উড়ানটি যেন শাঁখের করাত থাকলেও বিড়াম্বনা আর না থাকলে স্থবিরতা। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পেরিয়ে তাদের একমাত্র কন্যা ঈশিতা উচ্চ শিক্ষার জগতে পৌঁছাল তার প্রত্যেকটি দিনক্ষণের হিসাব অশোক রায়ের ডায়রিতে লেখা আছে। রায় দম্পতির সীমিত আর্থিক পরিস্থিতি স্বপ্ন পূরণের যথেষ্ট না থাকলেও ভাবনার ক্ষেত্রে তার যথেষ্ট কারন ছিল ঈশিতার ধারাবাহিক সাকসেস রেট। অবশেষে জয়েন্টএ পাশ করে গুজরাত মেডিকেল কলেজে ভর্তি। অবশ্য এর পিছনে অশোকের দিনরাত পরিশ্রম আর স্বাতীর যোগ্য সঙ্গত না থাকলে হতো না। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে গেলে চলার রাস্তার প্রতি অকুন্ঠ বিশ্বাস আর পথের মসৃণতার জন্য অর্থ দুইটিই সমান প্রয়োজন।
ক্রমশঃ
ব্লগার -রবীন মজুমদার

মন্তব্যসমূহ