উজানের পথে - ২য় পর্ব
উজানের পথে - ২য় পর্ব
(উজানের সাথে ১থম পর্বের পর )
সময়ের হাত ধরে জীবন একে একে শৈশব থেকে প্রৌঢ়ত্বের অস্তিত্ব ঘুচিয়ে বার্ধক্যের দিকে অগ্রসর হয়। যৌবনের না হেরে যাবার মানসিকতা একসময়ে মন থেকে অন্তর্হিত হয়, তার পরিবর্তে মনের সেই খালি জায়গাটা দখল করে নেয় মৃত্যুর চিন্তা, আর তার সাথে যদি সেই দিনগুলিতে আর্থিক সুস্থিতি না থাকে, তাহলে তো অর্ধেক জীবনীশক্তি কোথায় যেন হারিয়ে যায়। খরার দিনে চাষী যেমন আকাশ পানে মেঘের প্রতিশ্রুতি খুঁজে বেড়ায় আর এক টুকরো কালো মেঘের ঝলক তাদের মনে সহস্র আশার আলো সঞ্চারিত করে।
অশোক আর স্বাতীর জীবনের আকাশে আজ সেই কালো মেঘ দেখবার আশায় ভীষণ চঞ্চল আর সেই সঞ্চারিত কালো মেঘের রূপকার তার একমাত্র বিবাহিত এবং প্রতিষ্ঠিতা কন্যা ঈশিতা। জীবনের হিসাবের খাতায় প্রতিদান বলে একটা কলাম নিজেদের অজান্তে পরিপূর্ণ হয়। আশার উপর ভিত্তি করে তার জন্ম আর প্রয়োজনের বাস্তবতার উপর নির্ভর করে তার প্রকাশ । বার্ধক্যকালীন অবস্থায় পিতামাতার কিছু অপ্রকাশিত দাবী থাকে তাদের সন্তানদের কাছে সেটা ধারাবাহিকভাবে কুশলতার সংবাদ গ্রহণ ও অসুস্থ অবস্থায় সহমর্মিতার মধ্যেও হতে পারে। তাছাড়া, জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে অর্থের টানাপোড়েনে সন্তানদের আর্থিক প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধদম্পতিকে মানসিকভাবে সুদৃঢ় করে তোলে।
সংসার
রায় দম্পতিরা তাদের জীবনের সব সঞ্চয় তার কন্যার ক্যরিয়ার থেকে শুরু করে বিবাহদান পর্যন্ত সম্পন্ন করে তাদের ভান্ডারকে শূন্য করে চাতক পাখির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। এই সংসারের কিছু অলিখিত নিয়ম আছে ' সং ' সেজে অর্থাৎ অভিনয় করে তুমি যদি ' সার ' অর্থাৎ সংসারে বেস্ট পারফরমেন্স দিতে পার তাহলে সব থেকে স্বার্থক সংসারী আর সেটাই সবাই চায় এবং তাতে সুখ না হলেও শান্তি পাওয়া যায়।
প্রত্যাশার প্রত্যাশিত পটভূমি
গাছের চারা বা মানুষ যাইই হোকনা কেন , এই মাটিতে সেই নব জীবনকে প্রতিষ্ঠা করতে গেলে, বহু প্রতিকূলতাকে মোকাবিলা করতে হয় সেই কারিগরদের আর তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ত্যাগ ছাড়া নব জীবনের পূর্ণতা প্রাপ্তি সম্ভব নয় । শৈশবের যখন উত্তরণ হয় ঠিক তার সাথে সাথে কারিগরদের হৃদয়ে প্রত্যাশার চারার উন্মেষ ঘটে । যেমন, একটা গাছের পরিচর্যা করতে করতে পরিচারকের মনে হয় একদিন সেই গাছ তাকে ফুল , ফলে আর ছায়ায় ভরিয়ে দেবে, কেননা এই ভাবনার মধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা নেই, প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মেই একসময়ে গাছে ফল আসবে, সে ছায়া দেবে। আজকের পরিচারক বা পিতামাতা সময়ের নিয়মে বার্ধক্যের দিকে দৌড়ে যাবে আর তাদের শূন্য স্থান পূরণ করবে তাদের সন্তানরা আর তারা তুলে নেবে সংসার নামক নিরন্তর আবর্তনের নির্ধারিত আসনটা।
উত্তরণ
এই ভারতের ঋষিরা যেমন পূরাণে বহু গল্পের অবতারণা করে ধর্মের মূল আদর্শকে সাধারণ মানুষকে বোঝতে চেষ্টা করে গিয়েছিলেন ঠিক তেমনি রায় দম্পতিরা অরণ্যে রোদন না করে তাদের মতো করে গল্পের অবতারণা করে নিজেদের অভিমান দূর করে আর প্রয়োজনের সাথে বাস্তবের দূরত্ব ঘুচিয়ে ইপ্সিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে সেটাই আমাদের আশা।
ব্লগার -রবীন মজুমদার।

মন্তব্যসমূহ