১৬২ হিউস্টনের ডাইরি (১০ তম পর্ব )
১৬২ হিউস্টনের ডাইরি (১০ তম পর্ব )
সৃঞ্জনীর হিউস্টনের ডাইরির নির্বাচিত অংশ পূর্বে প্রকাশিতকাব্য নিঃসন্দেহে যে কোন সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য মাধ্যম। সেটা হতে পারে নৈস্বর্গিক প্রকৃতির ব্যঞ্জনা অথবা নারী দেহের সুগভীর ছন্দ। সবক্ষেত্রেই কাব্য সমানভাবে সাবলীল।
ভাষায় প্রাণশক্তি এলে তা বিস্তৃত হয় সাহিত্যে আর সাহিত্য সমৃদ্ধ হলে জাতিতে প্রাণশক্তি আসে। অদেখা ছবিকে মনের পর্দায় বসিয়ে দেবার অন্যতম কারিগর ভাষা। আর তাকে বোঝাবার প্রয়োজনে রূপকের যথেচ্ছ ব্যবহারের বহু উদাহরণ আছে। কেননা দেহ সৌষ্ঠবের বিভিন্ন অংশের বৈচিত্রটাকে ফুটিয়ে তুলতে গেলে রূপকের দুয়ারে আসতেই হবে। সেদিনের পাঠক অলৌকিকতাকে ভীষণ পছন্দ করত।
যেমন, চিত্রশিল্পী ছবির বিভিন্ন অংশকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যবহার করে থাকেন। তাই উপস্থাপনার স্বার্থে কোথাও রূপক সেখানে কোথাও কঠিন, নরম, শ্লীল ও অশ্লীল শব্দকে সাহিত্যের মোড়কে বেঁধে পরিবেশন করতে হয় বৈ কি। সেই অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজতে গিয়ে পাঠককে বেশ নাজেহাল হতে হয় । সাবেকি রূপকের ব্যবহার সংকৃত সাহিত্যের অতি প্রচলিত অভ্যাস। সেই আবর্তে পাঠক বেশ চিন্তান্বিত হয়ে পরে বিষয়ের রত্ন উদ্ধার করতে গিয়ে কখনো কখনো কুয়োর অতলে বিচরণ করে। অনেক ক্ষেত্রে ধরেই নেওয়া হয় পাঠক উদ্ধারকৃত অর্থই কাব্যের মূল ভাব, সেখানে বাস্তবের সাথে ব্যবধান থাকলোই বা।
আধুনিক পাঠককে যজ্ঞের মধ্যে দিয়ে মানুষের যে জন্ম হতে পারে, এটা বিশ্বাস করাতে ভীষণ অসুবিধা হবে কিন্তু মহামতি ব্যাসদেবের সাহিত্যের মূর্ছনার মধ্যেই যে লুকিয়ে আছে সেই অর্থ, যা পাঠকের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হয়ে উঠবে। তাই দরকার তাকে খোঁজ করার। অবশ্য মহাভারতের সময় কালটা আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগের। সময়ের চাহিদায়, সেদিন অলৌকিকতা সাহিত্যে ভীষণ প্রাধান্য পেত।
কাব্যিক রং আর সৃষ্টির তুলির টানে মহামতি ব্যাসদেব যাজ্ঞসেনীকে মহাভারতের পটভূমিতে একবারে প্রস্ফুটিত যৌবনাসম্পন্ন নারী হিসাবে উপস্থাপন করেছিলেন। তার শৈশব, কৈশোরের বর্ণনাকে উপেক্ষা করে অযোনীজাত প্রাপ্ত বয়স্কা নারী হিসাবে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। তার সৌন্দর্যের এবং ব্যক্তিত্বের পরিচয় সে তো বহুল চর্চিত ও ইতিহাসবন্দিত বটে।
গতানুগতিক পথে না হেটে বরং কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের যাজ্ঞসেনীর জন্ম বৃত্তান্তের রূপকের যথাযথ অর্থের প্রামাণ্য দলিলের সন্ধান করা যাক। তিনি হয়তো জানতেন, হাজার হাজার বছর পরে এই জন্মবৃত্তান্তের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাঠককুল জানতে চাইবেন। কিছু মহাভারতের আদি পর্বে, বন পর্বে, পুরাণে এবং ঋকবেদে, বৃহদারণ্যক উপনিষদ, পুরাণে রূপকের ব্যাখ্যা গুলি পাওয়া যায়।
কেন এই রূপকের অবতারণা ------
অযোনি সম্ভবা প্রাণী সেই যুগে একটি বিরল ঘটনা, কেননা আজকের মতো টেস্ট টিউব বেবি বা ক্লোনিংয়ের কোন দৃষ্টান্ত সেযুগে ছিল না। তাই যজ্ঞ, বেদি , অগ্নি প্রমুখ শব্দের অর্থের মধ্যেই তার উত্তর লুকিয়ে রাখতো। এই ভাবনার বিশ্বাস যোগ্যতার ভিত্তির সময়সীমার সীমাব্ধতাকে অতিক্রম করতে হবে।
ক্রমশঃ
১৭/০৭/২০২৩ পর্যন্ত ১৬২ টি ব্লগ পোস্ট করা হয়েছে
আত্মদর্শনমূলক ব্লগ -
- ওপারের সংগীত
- ঐকতান
- সভ্যতার নামে প্রহসন
- নাড়ী ছেড়ার গান
- আত্মত্যাগ কখনো কখনো আত্মহত্যার সামিল হয়
- দলিতের সভ্যাভিমান
- একটি প্রান্তিক মানুষের মৃত্যু সভা
- ২১শে ফেব্রুয়ারীর মূল্যবোধ (১৫২)
- বনবিতান
- চে গুয়েভারা দ্য রেভলিউশনারী আইকন অল দ্য টাইম ( ৪টি পর্বে )
- আমি মহাভারতের পৃথা (১৭টি পর্বে )
- ব্যাসদেবের জীবনের অপ্রকাশিত ঘটনা
- মহাভারতের রাজনীতি ও নারীদের নীরব বলিদান (৬ টি পর্বে )
- মহাভারতের যাজ্ঞসেনী (৪৬টি পর্বে )
- ধর্ম ও শাসক
- সমাজের রাজন্যবর্গ
- হালচাল
- সহাবস্থান
- নারদের মর্তে ভ্রমণ ( ১৮+৬=২৪ টি পর্বে )
- মনীষীরা কি আজকের রাজনীতির কাঁচামাল
- ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই এই সুন্দর ভুবনে
- রজ্জুতে সর্প দর্শন
- কুরুক্ষেত্রে একটি বিনিদ্র রাত (১-৪ পর্ব )
- বনবিতান
- অহংকারের রসায়ন (৮টি পর্ব - এখনো চলছে )
- আসা আর যাওয়া
- সংঘর্ষ
- উত্তর মীমাংসা
- আগামী
- আমরা বাস করি আনন্দে
- সৃষ্টির মুলে দন্দ্ব
- অখন্ড যখন খণ্ডিত হয়
- কোথায় পাব তারে
- গোলক ধাঁধা
- চির যৌবনা
- রূপ ও স্বরূপের লুকোচুরি
- একটি অক্ষরের গল্প
- মহাভারতের যাজ্ঞসেনী (৪৫ টি পর্বে -এখনো চলবে )
- সরণি
- পরম্পরা
- মেলবন্ধন
- সন্ধিক্ষণ
- অনুভূতির বহুগামিতা
- অসুখ
- সংকট কারে কয়
- অন্ধজনে দেহ আলো
- প্রেমহীনতা কি সামাজিক ব্যাধি
- ১৬২ হিউস্টনের ডাইরি (১০ তম পর্ব )

মন্তব্যসমূহ