১৬২ হিউস্টনের ডাইরি (১০ তম পর্ব )

১৬২ হিউস্টনের  ডাইরি (১০ তম পর্ব )

 সৃঞ্জনীর হিউস্টনের  ডাইরির নির্বাচিত অংশ পূর্বে প্রকাশিত 

১৪৬- সরনী (১ম পর্ব ) ১৪৭ পরম্পরা (২য় পর্ব ) ১৪৮ মেলবন্ধন (৩য়  পর্ব ) 
১৪৯ সন্ধিক্ষণ  (৪ র্থ ) ১৫০ অনুভূতির বহুগামিতা (৫ম পর্ব ) 
১৫১ অসুখ  (৬ ষ্ঠ পর্ব ) ১৫৩ সংকট কাহারে কয় (৭ম পর্ব )
১৫৪ অন্ধজনে দেহ আলো (৮ম পর্ব)
১৫৫ প্রেমহীনতা কি সামাজিক ব্যাধি (৯ম পর্ব)


          শনিবার  সবারই আজকে হলিডে। সন্ধ্যে বেলায় বিভিন্ন জায়গা থেকে বন্ধুরা একত্রিত হয়েছে সৃঞ্জনীদের হিউস্টনের বাড়িতে।  যেন এক আন্তর্জাতিক মহা সম্মেলন বসে গেছে। পৃথিবীর সব মহাদেশের থেকে কেউ না কেউ প্রতিনিধিত্ব করছে। আড্ডা যেখানে সেখানে পানীয়তো আড্ডার বাইন্ডারের কাজ করে। 
            রাত বাড়ার সাথে সাথে বাইন্ডার তার কেরামতি দেখাতে  শুরু করলো।  কখন যে তারা কয়েক হাজার বছর পিছনে গিয়ে মিথোলজি নিয়ে চর্চা শুরু করলো সৃঞ্জনী তার শুরুটা ধরতেই পারলোনা। 
           স্পেনের ছেলে সাজ্জিও ভারতের মহাকাব্য মহাভারতের অলৌকিকতার কাহিনীকে নিয়ে খানিকটা ব্যঙ্গ করা শুরু করলো, তখন এখানে   তুলনামূলক সাহিত্যে নিয়ে গবেষণারত বাংলাদেশের পাবনার ছেলে অতনুর সেটা ভালো লাগছিলো না।  
            কথাটা শুরু হয়েছিল মহাভারতের দ্রৌপদীর অলৌকিক জন্ম কাহিনী নিয়ে। অতনু সাজ্জিওকে কথার মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে, ভীষণ গম্ভীরভাবে বলতে শুরু করলো। সাহিত্যের পাঠক দুই ধরনের।  একদল সরাসরি পড়েই তাকে  বিশ্বাস করতে শুরু করে,  আর সেটা যদি ধর্মগ্রন্থ হয় তো কথাই নেই। আরেকদল পাঠক সাহিত্যের রূপককে উদ্ধার করতে ব্যস্ত হয়ে পরে, তারা আবার সংখ্যায় খুব কম। 
        আমরা সাধারণত  যা পড়ে থাকি তা কারোর না  কারোর অভিজ্ঞতার  ফসল। মহাকবি বেদব্যাসের ভাবনার ইঙ্গিত সেখানে  হয়তবা মিলবে কিন্তু ভাষ্যকারের  ভাবনাটাই  সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে পাঠকের কাছে , অবশ্য সেটা  যদি যুক্তিগ্রাহ্য  হয়। 

                    কাব্য নিঃসন্দেহে যে কোন সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলবার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য মাধ্যম। সেটা হতে পারে নৈস্বর্গিক প্রকৃতির  ব্যঞ্জনা  অথবা নারী দেহের সুগভীর ছন্দ। সবক্ষেত্রেই কাব্য সমানভাবে সাবলীল।  

            ভাষায় প্রাণশক্তি এলে তা বিস্তৃত হয় সাহিত্যে আর সাহিত্য সমৃদ্ধ হলে জাতিতে প্রাণশক্তি আসে। অদেখা ছবিকে মনের পর্দায় বসিয়ে দেবার অন্যতম কারিগর ভাষা। আর তাকে বোঝাবার প্রয়োজনে  রূপকের  যথেচ্ছ ব্যবহারের বহু উদাহরণ আছে।  কেননা দেহ সৌষ্ঠবের বিভিন্ন অংশের বৈচিত্রটাকে ফুটিয়ে তুলতে গেলে রূপকের দুয়ারে আসতেই হবে। সেদিনের পাঠক অলৌকিকতাকে ভীষণ পছন্দ করত। 

                 যেমন, চিত্রশিল্পী ছবির বিভিন্ন অংশকে ফুটিয়ে তোলার জন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যবহার করে থাকেন। তাই  উপস্থাপনার স্বার্থে  কোথাও রূপক সেখানে কোথাও  কঠিন, নরম, শ্লীল ও অশ্লীল শব্দকে   সাহিত্যের মোড়কে বেঁধে পরিবেশন করতে হয় বৈ কি। সেই  অন্তর্নিহিত অর্থ খুঁজতে গিয়ে  পাঠককে বেশ নাজেহাল হতে হয় । সাবেকি রূপকের ব্যবহার সংকৃত সাহিত্যের অতি প্রচলিত অভ্যাস। সেই  আবর্তে পাঠক বেশ চিন্তান্বিত হয়ে পরে বিষয়ের রত্ন উদ্ধার করতে গিয়ে কখনো কখনো কুয়োর অতলে বিচরণ করে।  অনেক ক্ষেত্রে ধরেই  নেওয়া হয় পাঠক উদ্ধারকৃত অর্থই কাব্যের মূল ভাব,  সেখানে বাস্তবের সাথে  ব্যবধান থাকলোই বা। 

            আধুনিক পাঠককে  যজ্ঞের মধ্যে দিয়ে মানুষের যে  জন্ম হতে পারে, এটা বিশ্বাস করাতে ভীষণ অসুবিধা হবে কিন্তু মহামতি ব্যাসদেবের সাহিত্যের মূর্ছনার  মধ্যেই যে লুকিয়ে আছে সেই অর্থ, যা পাঠকের কাছে বিশ্বাস যোগ্য হয়ে উঠবে। তাই দরকার তাকে খোঁজ করার। অবশ্য মহাভারতের সময় কালটা আজ থেকে প্রায় ৫০০০ বছর আগের। সময়ের চাহিদায়, সেদিন অলৌকিকতা সাহিত্যে ভীষণ প্রাধান্য পেত।    

        কাব্যিক রং আর সৃষ্টির তুলির টানে মহামতি ব্যাসদেব যাজ্ঞসেনীকে মহাভারতের পটভূমিতে একবারে প্রস্ফুটিত যৌবনাসম্পন্ন  নারী হিসাবে উপস্থাপন করেছিলেন।  তার শৈশব, কৈশোরের বর্ণনাকে উপেক্ষা করে অযোনীজাত প্রাপ্ত বয়স্কা নারী হিসাবে পাঠকের সাথে পরিচয় করিয়েছেন। তার সৌন্দর্যের এবং ব্যক্তিত্বের পরিচয় সে তো বহুল চর্চিত ও  ইতিহাসবন্দিত বটে।  

             গতানুগতিক পথে না হেটে বরং কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের যাজ্ঞসেনীর জন্ম বৃত্তান্তের রূপকের যথাযথ অর্থের  প্রামাণ্য দলিলের সন্ধান করা যাক। তিনি হয়তো জানতেন, হাজার হাজার বছর পরে এই জন্মবৃত্তান্তের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাঠককুল জানতে চাইবেন।   কিছু মহাভারতের  আদি  পর্বে, বন পর্বে, পুরাণে  এবং  ঋকবেদে, বৃহদারণ্যক উপনিষদ, পুরাণে রূপকের ব্যাখ্যা গুলি পাওয়া যায়।

কেন এই রূপকের অবতারণা ------

অযোনি সম্ভবা প্রাণী সেই যুগে একটি বিরল ঘটনা, কেননা আজকের মতো টেস্ট টিউব বেবি বা ক্লোনিংয়ের কোন দৃষ্টান্ত সেযুগে  ছিল না।  তাই যজ্ঞ, বেদি , অগ্নি প্রমুখ শব্দের অর্থের মধ্যেই তার উত্তর লুকিয়ে রাখতো।  এই ভাবনার বিশ্বাস যোগ্যতার ভিত্তির সময়সীমার সীমাব্ধতাকে  অতিক্রম করতে হবে। 

  ক্রমশঃ 

বি: দ্রঃ  ভালো লাগলে শেয়ার করুন , কমেন্ট করুন , ফলো করুন আর খারাপ লাগলেও  কমেন্ট করুন'   

 

১৭/০৭/২০২৩ পর্যন্ত   ১৬২ টি  ব্লগ পোস্ট করা  হয়েছে 

আত্মদর্শনমূলক ব্লগ - 

  • ওপারের সংগীত 
  • ঐকতান 
  • সভ্যতার নামে  প্রহসন 
  • নাড়ী ছেড়ার গান 
  • আত্মত্যাগ কখনো কখনো আত্মহত্যার সামিল হয় 
  • দলিতের সভ্যাভিমান 
  • একটি প্রান্তিক মানুষের মৃত্যু সভা 
  • ২১শে ফেব্রুয়ারীর মূল্যবোধ  (১৫২)
নিছক প্রেমের গল্প -
  • বনবিতান 
জীবনের সংগ্রামের পাশাপাশি  মানুষের সংগ্রামের কথা   -
  • চে গুয়েভারা দ্য রেভলিউশনারী আইকন অল দ্য টাইম ( ৪টি পর্বে )
পৌরাণিক - বিশ্লেষণমূলক  
  • আমি মহাভারতের পৃথা (১৭টি পর্বে )
  • ব্যাসদেবের জীবনের অপ্রকাশিত ঘটনা 
  • মহাভারতের রাজনীতি ও নারীদের নীরব বলিদান (৬ টি পর্বে )
  • মহাভারতের যাজ্ঞসেনী (৪৬টি পর্বে )
নগর দর্পন -
  • ধর্ম ও শাসক 
  • সমাজের রাজন্যবর্গ 
  • হালচাল 
  • সহাবস্থান 
  • নারদের মর্তে ভ্রমণ ( ১৮+৬=২৪ টি পর্বে )
  • মনীষীরা কি আজকের রাজনীতির কাঁচামাল 
  • ক্ষুদ্র আমি তুচ্ছ নই এই সুন্দর ভুবনে 
  • রজ্জুতে সর্প দর্শন 
  •  কুরুক্ষেত্রে  একটি  বিনিদ্র রাত (১-৪ পর্ব )
নিছক প্রেমের গল্প -
  • বনবিতান 
দর্শন  ও ইতিহাস আশ্রিত   ব্লগ -
  • অহংকারের রসায়ন (৮টি পর্ব - এখনো চলছে )
  • আসা আর যাওয়া 
  • সংঘর্ষ 
  • উত্তর মীমাংসা 
  • আগামী 
  • আমরা বাস করি আনন্দে 
  • সৃষ্টির মুলে দন্দ্ব 
  • অখন্ড যখন খণ্ডিত হয় 
  • কোথায় পাব তারে 
  • গোলক ধাঁধা 
  • চির যৌবনা 
  • রূপ ও স্বরূপের লুকোচুরি 
  • একটি অক্ষরের গল্প 
  • মহাভারতের যাজ্ঞসেনী (৪৫ টি পর্বে -এখনো চলবে )
  • সরণি 
  • পরম্পরা 
  • মেলবন্ধন 
  • সন্ধিক্ষণ 
  •  অনুভূতির বহুগামিতা
  • অসুখ 
  •  সংকট কারে কয় 
  • অন্ধজনে দেহ আলো   
  • প্রেমহীনতা কি  সামাজিক ব্যাধি  
  • ১৬২ হিউস্টনের  ডাইরি (১০ তম পর্ব )

  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)