(২৭১) রবি সৃষ্টির বৈচিত্রতা (তৃতীয় নিবেদন)
(২৭১) রবি সৃষ্টির বৈচিত্রতা (তৃতীয় নিবেদন)
আধুনিকতার যদি কোন সংজ্ঞা খুঁজে হয়, তবে রবীন্দ্র সাহিত্যেকেই আশ্রয় করতে হবে। যে পার্থিব জগতের শত পরিবর্তনের মধ্যেও থেকেও সে অমলিন। তার সৃষ্টিতে আমরা গভীর দর্শনের স্বাদ সব সময়ে পেয়ে থাকি, তাই আজও তাকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই।
রবীন্দ্রসৃষ্টি নিয়ে আরো একটি কোলাজ
"বিপদে মোরে রক্ষা করো - এ নহে মোর প্রার্থনা "
স্বামী বিবেকানন্দ পরবর্তী যুগে , নাস্তিকতা আর আস্তিকতার অর্থ নতুন করে সংজ্ঞায়িত হয়েছে। যাঁর নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা আছে তিনিই আস্তিক আর যার নেই সে নাস্তিক।
কবি মনে প্রাণে উপলদ্ধি করেছিলেন এই দুঃখময় পৃথিবীতে বেদনার সাথে সংগ্রামের একটি মাত্র হাতিয়ার নিজেকে প্রস্তুত রাখা, অর্থাৎ আত্মবিশ্বাস এবং আত্মনির্ভরতার উপর নির্ভর করে দুঃখকে জয় করতে হবে। তাই তাঁর প্রার্থনার অভিমুখ সান্ত্বনা নয় বরং ঈশ্বর বা আত্মা কিংবা চৈতন্যের আলোকে অবিনস্ত মনকে একত্রিত করা এই যুদ্ধকালীন অবস্থায়। এ এক অন্তঃশক্তির জাগরণের আহবান। এটি এক চরম আস্তিকতার নিদর্শন।
#############################
"অন্তর মম বিকশিত করো .. অন্তরতর হে। "
আজ চারিদিকে বস্তু জগতের হাতছানিতে মানুষ দিশেহারা, ক্লান্ত এবং দিনের শেষে না পাওয়ার বেদনায় কাতর। এই গভীর অন্ধকারাছন্ন পরিবেশ থেকে উত্তরণের পথ সেই রবি ঠাকুরের সেই কবে লিখে রাখা কয়েকটা শব্দের মালা।
এই ইন্দ্রিয় নির্ভর বাহ্য পৃথিবীতে শুধু চঞ্চলতা আর তার থেকে মনের বিকাশ রোহিত। তাই আজ বড্ড প্রয়োজন দৃষ্টিকে অন্তঃকরণের প্রতি নিবদ্ধ করার যেখানে ঈশ্বরের নিবাস। মানুষের বাসনার বন্ধন থেকে মুক্তির ঠিকানা সেখানেই লেখা আছে। কবির সুরে এখানে বেজে উঠেছে একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও আত্মশুদ্ধির প্রার্থনা।
#############################
"আজ ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায়"
'ভাব আগে না বস্তু আগে '- এই প্রশ্ন নিয়ে দার্শনিক যুদ্ধ বহুকাল ধরে চলে আসছে। এখানে কল্পনাকে আশ্রয় করতে হয়েছে প্রকৃতির সৃষ্টি একটা চাঁপা ফুলের গাছের সাথে। মানব জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের সাথে কবির নিবিড় পরিচয়। এক জন পূর্ণ বয়স্ক কবি যেন অনায়াসে তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে একটি শিশুমনের কোণে কোন সুরটা বাজছে, সেটা তিনি যেন স্পষ্ট অনুভব করতে পারছেন। এখানেই রবি ঠাকুরের বৈচিত্রের বিচিত্রতা।
শিশু জীবনের প্রথম পর্যায়টা মাকে নিয়েই গড়ে ওঠে। যদি সে চাঁপা ফুলের আড়ালে নিজেকে আত্মগোপন করে থাকে, আর শ্নেহশীলা জননী শিশুটির আকস্মিক অন্তর্ধানে মাতার হৃদয়ে বেদনার সুর বেজে ওঠে আর তাকেই উপলদ্ধি করে শিশুটি লুকোচুরি খেলার আনন্দ অনুভব করে ,সেটাই এই কাব্যের উপজীব্য বিষয়। এ এক শিশু ও তার মাতার গভীর সম্পর্কের প্রাণবন্ত প্রতিচ্ছবি।
#############################
" অমল ধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া "
অচেনাকে চেনার অজানাকে জানার এক চিরন্তন আকর্ষণ গৃহীকে করছে সন্যাসী, মন তার ডানা মেলে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড ঘুরে ইপ্সিত পথের ঠিকানা না পেয়ে আশ্রয় নিয়েছেন একান্ত মনের কোনে। এই দীর্ঘ পরিক্রমা তিনি চিত্রিত করছেন, কখন প্রকৃতির আশ্রয়ে, আবার উপমা সহযোগে নৌকো বিহার এক অনন্ত পথের যাত্রীর ইঙ্গিত বহন করে। উপনিষদের আলোকে আলোকিত কবি দিন শেষে সেই নিজ অন্তরে গভীর অনুসন্ধানে মনোনিবেশ করেন।
ক্রমশঃ
ব্লগার -রবীন মজুমদার
তারিখ -১৩/০৫/২৫

মন্তব্যসমূহ