(২৭২) রবি সৃষ্টির বৈচিত্রতা (চতুর্থ নিবেদন)

 (২৭২) রবি সৃষ্টির  বৈচিত্রতা (চতুর্থ   নিবেদন)


এক সীমাহীন বিরাটত্ব নিয়ে তিনি বাংলা সাহিত্যজগতে রবীন্দ্রনাথের আভির্ভাব।  সাহিত্য যে  সমাজের সত্যিকারের দর্পন হতে পারে তার নিদর্শন রবীন্দ্ররচনা। তাঁর সাহিত্যের সাথে দর্শনের এক অদ্ভুত মিশেল পাঠকের জীবনের বিভিন্ন পর্বের  ঘটনা ও দুর্ঘটনার সাথে পরিচয় করেই ক্ষান্ত হয়নি, সেই পথ থেকে উত্তরণের দিশাও তিনি দেখিয়েছিলেন।  কবির কথায় আজ বলতে হয় " বিপুলা এ  পৃথিবীর কতটুকু জানি", আপাতত  জানতে চলি তার রহস্য ভান্ডারকে।  তারই  ভান্ডার থেকে কিছু রত্ন তুলে নিয়ে  আজকের কোলাজ। 

                    *                                 *                                 *

" আজি এ প্রভাতে রবির কর "

কবি এখানে সৃষ্টিতত্ত্বের গভীরে প্রবেশ করেছেন। একদিন পুরুষ (চৈতন্য) এবং প্রকৃতির মিলনে এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে প্রাণের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল । প্রকৃতি  জড় সম্প্রদায়ভুক্ত আর আমরা এই মানুষও সেই প্রকৃতিরই সন্তান, তাই  আমরাও জড়। দেহ জড়,  চৈতন্য ব্যতিরেকে দেহের অঙ্গ- প্রতঙ্গ চালিত হয় না, এটা প্রমাণিত।ইন্দ্রিয়ের পশ্চাতে থাকে সেই চৈতন্য। চৈতন্য হলো আলোকবর্তিকা স্বরূপ, যে অন্ধকার নামক বাধাকে সরিয়ে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। এই চৈতন্যের নিবাস হলো মানুষের অন্তঃস্থলে। অন্ধকারসম বস্তুগুলি হলো অজ্ঞানতা আর এই অজ্ঞানতার প্রাচীরটা আসলে মায়া আর অহংকার দিয়ে তৈরি। তাই তাকে না সরালে চৈতন্যের আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনা।  তাই কবি এই রূপকের  মাধ্যমে এই  আত্মজাগরণের  কথাই বলতে চেয়েছেন। সেই জাগরণের জন্য আত্মপ্রত্যয়  গঠনের উপর জোর দিয়েছেন। এই দৈন্যতা চিরকালীন, তাই মানবের  দুরবস্থা অপরিবর্তনীয়।  কবির আহবান ঠিক এই  অন্ধকার থেকে মুক্ত হবার জন্য  জ্বালতে  হবে জ্ঞানের জোতিষ্ককে। 

                       *                                 *                                 *

" সম্মুখে শান্তি পারাবার - ভাসাও তরণী হে কর্ণধার"। 

উপনিষদের গভীর প্রভাব কবিকে প্রভাবিত করেছিল। ভারতীয় সংস্কৃতির বাহক কবি প্রতিটা মুহূর্তকে জীবন দিয়ে উপলদ্ধি করেছিলেন আর এই উপলদ্ধিই তাঁর সৃষ্টিকে দর্শনের উচ্চস্থানে প্রতিষ্ঠিত করে ছিল। 

মানুষের জীবনটা জন্মলগ্ন থেকে বন্ধনে আস্টেপিস্টে বাঁধা।  মুক্তি পিপাসু মানুষ নিজ অন্তরে কেঁদে ব্যাকুল হচ্ছে সেই মুক্তির জন্য।  মোহের বাঁধন থেকে মুক্ত করে, আত্মশুদ্ধি করতে  একমাত্র হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরই পারেন, যিনি আমাদের আত্মা। 

অন্তরের সেই জ্ঞান আর অজ্ঞানের সংগ্রামটা ভীষণ ভয়ঙ্কর। সেই অজ্ঞান নামক আঁধারকে  অতিক্রম করে জ্ঞানের পথে পৌঁছাতে গেলে এক অসম্ভব অধ্যাত্ম শক্তির প্রয়োজেন , সেটি কবি অনুভব করেছিলেন। এই কাব্যের প্রতিটি ছত্রে ছত্রে মুক্তিকামী কবি  রূপকের অন্তরালে সে কথাই বলতে চেয়েছেন।  


                      *                                 *                                 *

ক্রমশঃ 

ব্লগার -রবীন মজুমদার 
তারিখ -১৬/০৫/২৫
ভালো লাগলে অন্যকে শেয়ার করুন। 

মন্তব্যসমূহ

নামহীন বলেছেন…
দর্শনে ভরপুর।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)