(২৭৩) রবি সৃষ্টির বৈচিত্রতা (ষষ্ঠ নিবেদন)
(২৭৩) রবি সৃষ্টির বৈচিত্রতা (ষষ্ঠ নিবেদন)
ঊনিশ শতকে এই পৃথিবীর বুকে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। সমস্তটাই ছিল ভাঙা গড়ার খেলা। যুদ্ধের সাথে সাধারণ মানুষ পরিচিত ছিল কিন্তু সেটি কত ভয়ঙ্কর হতে পারে তা জানা ছিলনা। সেই শতকে সারা পৃথিবী প্রত্যক্ষ করলো তার ভয়াবহতাকে। সারা পৃথিবীর মনীষীরা মানব সভ্যতার এই নগ্ন চেহারা দেখে আর্তনাদ করে উঠলেন। মানবতার ধর্ষণের বিরুদ্ধে কবির কলমও যেমন থেমে থাকেনি তার সাথে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মনীষীদের সাথে যুক্ত হয়ে যুদ্ধ বিরোধী প্রচারে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছিলেন। আসলে, মানবাত্মার অপমৃত্যু কবিমন সহ্য করতে পারেনি। তিনি জানতেন, বাইরের যুদ্ধটা কেবল প্রকাশ মাত্র আসলে তার থেকে অনেক কঠিনতর সেই অন্তরের যুদ্ধ জয়ের রাস্তাটাকে মসৃন করাটাই আসল সংগ্রাম, যাঁকে ভারতীয় সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে পালন করে আসছে।
*****************
" মরু বিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে হে প্রবল প্রাণ। "
সত্যের আলাদা কোনো রূপ হয় না। যেভাবেই তাকে সম্বোধন করা হোক না কেন, সে ঘুরে ফিরে তার অভিমুখ হবে সেই চেতনাকে কেন্দ্র করে। বাইরে যেটা সংগীত রূপে প্রতীয়মান, অন্তরে সেটাই চেতনারই অন্তর্নিহিত সুর। রবীন্দ্রচর্চায় বার বার সেটাই উঠে এসেছে। সেই সুরের অনুরণনে যেমন জাগ্রত হবে সকাল আর সেই ভোরের বাতাস তাকে বহন করে নিয়ে যাবে সেই সন্ধ্যা রাগে, সৃষ্টি করবে এক শান্তির বাতাবরণ। যাঁর জীবন সম্পর্পিত মানবাত্মার উন্মেষের মন্ত্রে, যতনা রূপকের অন্তরালে থাকুক না কেন, তার প্রকাশ হবে তাকেই আশ্রয় করে ।
*****************
"ওই মহামানব আসে। দিকে দিকে রোমাঞ্চ লাগে -"
যাঁর অন্তঃস্থলে চৈতন্যের নিবাস, সে তো পার্থিব বস্তুর মধ্যেও চৈতন্যকে খুঁজতে চাইবেন, তার মধ্যে কোনো বিচিত্রতা নেই। পচাগলা সমাজের মধ্য থেকেই বিকশিত হয় পরিবর্তনের অঙ্কুর। পচন একটি বস্তুর সাময়িক অবস্থা মাত্র। সত্যকে যেমন হত্যা করা যায় না, তেমনি এই পৃথিবীতে মানবতারও মৃত্যু নেই, সে হয়তো সাময়িকভাবে অহংকারের মেঘে আড়াল হয়ে ছিল। এই বিশ্বে যা কিছু প্রকাশ তার পশ্চাতে তার কারণটি লুকিয়ে থাকে। জড়ের পিছনে সেই চেতনই কাজ করে। মহামানব হলো সেই বাহ্য প্রকৃতি যে ব্যক্ত হচ্ছে চৈতন্যের শক্তিতে এবং সূচনা করছে এক নব যুগের।
যেমনটি প্রচন্ড ঝড়ের উন্মাদনায় সাময়িকভাবে রবির কিরণ ব্যাহত হয় কালো মেঘের আস্তরণে। খানিকবাদে সত্য পুনরায় উদ্ঘাটিত হয় ধরিত্রীতে প্রবল শঙ্খনিনাদের জয়ডঙ্কা বাজিয়ে।
সুতরাং যারা সংকীর্ণবাদ আর মানবতাবিরোধী আর সেই অন্ধকারের পূজারী , তাদের সজাগ থাকা উচিত, কেননা তাদের ভাবনাটা সাময়িক আর সত্য হচ্ছে চিরন্তন। রাষ্ট্র তথা এই বিশ্ব চরাচর একদিন মুক্ত হবেই এই অন্ধকারের আলিঙ্গন থেকে আর প্রতিষ্ঠিত হবে এক মানবতাকে অবলম্বন করে একটি সমাজ, এটাই কবির দর্শন এবং সেটা হবে মানুষেরই হাত ধরে।
*****************
ক্রমশঃ
ব্লগার -রবীন মজুমদার
তারিখ -২০/০৫/২৫
ভালো লাগলে অন্যকে শেয়ার করুন।

মন্তব্যসমূহ