(২৭৫) বজ্রের বাঁদরামি

(২৭৫)  বজ্রের বাঁদরামি 


কবিদের সাথে মেঘের সম্পর্ক বেশ কয়েক সহস্র বছরের। মেঘ একাধারে কবির কাছে যেমন কাব্য সৃষ্টির প্রেরণা আবার  সেই মেঘই যখন পরস্পরের প্রতি আলিঙ্গনরত  হতে উদ্যত হয় তখন বজ্র এসে তার ঝলকানিতে মর্তবাসীর অস্তিত্ব বিসর্জনের দামামা বাজিয়ে তোলে।  কিই বা দরকার ছিল বজ্রের মেঘেদের পারস্পরিক আকর্ষণকে শঙ্খ নিনাদে তাকে সার্বজনীন করে তোলার।

 সেই কবে দেবরাজ ইন্দ্র ভারতীয় দেবতাদের আসন অলকৃত করে ছিল, সারা ঋগ্বেদর প্রায় সমস্ত শ্লোক শুধু তাকে নিয়েই কবিরা তাই নিয়ে ব্যস্ত ছিল। হায় ! সময়ের কোপে পরে সে প্রায় বিস্মৃতির পথে। 

ইদানিং, বরুণের হাত ধরে সল্প মেঘের বাতাবরণে আলোর উৎসবে সারা আকাশ মাতাচ্ছে। যারা একদিন তোমাকে দেবতাদের আসন থেকে বিচ্যুত করেছে ,  আজ সে আবার তার বজ্রহানা হেনে  সেই মানুষের সাথে অন্তরের সম্পর্ক ঘুচিয়ে একেবারে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে যারপর নাই আগ্রহান্বিত হয়ে উঠেছে। এতে করে মানুষ তোমার অযাচিত আগমনে আনন্দিত হবার পরিবর্তে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। 
**************************************************
উষ্ণতার ঔদ্ধত্ব  

এই পৃথিবীতে মিথ্যা অহংকারকে কেউ বেশি দিন সহ্য করতে অপরাগ। তাইতো দীর্ঘ  উষ্ণতার  দাপাদাপিতে প্রকৃতির সংখ্যা গরিষ্ঠ সন্তানেরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে উষ্ণতার বিদায় ঘন্টা বাজিয়ে দিয়ে প্রমান করলো, অনন্তের শক্তিকে ভুলক্রমে নিজ শক্তি বলে যদি অহংকার করো, তবে বস্তু জগতে পরিবর্তনের নিয়ম মেনে তোমার পতনও অবিশ্যম্ভাবী হবেই। 

 সূর্য অনন্তকাল ধরে আলোর সাথে উষ্ণতাকেও  বিতরণ করে যাচ্ছে। যা তাপ বিকিরণের অন্যতম উৎস। তার সাথে প্রকৃতি সেই উষ্ণতার একচেটিয়া ক্ষমতাকে খর্ব করার জন্য বৃক্ষ সম্ভারকে উপহার দিয়ে  প্রকৃতির রাজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বন্দোবস্ত করেছে। সেই অরণ্যানীকে সভ্যতা বিস্তারের নাম করে এবং বিশেষ কিছু মানুষকে উপকৃত করতে, নিকৃষ্ট পার্থিব  উপহারের বিনিময়ে অরণ্য থেকে বৃক্ষকে বিসর্জনের মতো অসভ্যতা করে প্রকৃতির রাজ্যে ক্রমাগত  ভারসাম্য  বিঘ্নিত করছে।  এও একধরনের  ক্ষমতার উষ্ণতা প্রদর্শনের নিদর্শন। 

এই উষ্ণতার গর্বকে চূর্ন করতে বিদ্রোহীরা  বৃষ্টির রূপ ধারণ করে মর্তে আশার বাণী শোনাতে এসে বলল, হে মানুষ, তোমার যদি নিরবিচ্ছিন্নভাবে  এই উষ্ণতার দাপটকে বেঁধে রাখতে চাও, তবে সমবেতভাবে বনানীকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করো, তারাই এর পরিবর্তে তোমাদের সে  বেঁচে থাকার পরিবেশ দেবে। 

অবশেষে আকাশ ভেঙ্গে আনন্দ বৃষ্টি আদিবাসীদের মাদলের মতো শব্দ সহযোগে আছড়ে পড়লো উষ্ণতার সৈন্যবাহিনীর উপর, সাময়িকভাবে ছিন্ন বিছিন্ন করে দিলো সেই সৈন্যদলকে। বৃষ্টির রেখাগুলি শরীরের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে অনুভূতির হাত ধরে হৃদয়ে পৌঁছাতে চাইলো। মিষ্টি মধুর অনুভূতিতে মানুষ দীর্ঘদিনের পরে আপ্লুত হল। আর কানে কানে বলে গেলো, "আমরা তোমাদের সাময়িক স্বস্তি দিলাম বটে, কিন্তু সুখ, শান্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে তোমাদের সঙ্গবদ্ধ ভাবে অরণ্যকে বাঁচাতে হবে। " 

ব্লগার -রবীন মজুমদার 
তারিখ -০৬/০৬/২৫

ভালো লাগলে পরিচিতদের শেয়ার করুণ। 
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)