(২৭৭) মেঘদূতের সাথে প্রথম পরিচয়
(২৭৭) মেঘদূতের সাথে প্রথম পরিচয়
উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় পাঠসংকলন পুস্তকে রবীন্দ্রনাথের "মেঘদূত" পাঠ্য বিষয় ছিল। সেদিন থেকে তাকে জানার তৃষ্ণা অন্তরে অনুভূত হয়েছিল, আজ অখন্ড অবসরে সেই প্রায় হারিয়ে যাওয়া অতৃপ্ত আকাংখাগুলিকে একটু একটু করে খুঁজতে চেষ্টা করছি।
মানুষের সাথে প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন, হবেই বা না কেন, সে তো মানুষের সৃষ্টিকর্তা। তাই যক্ষ তাঁর হৃদয়ের বেদনাকে সহন করতে না পেরে, মাতৃসম প্রকৃতির কোলে তুলে দিয়েছেন। বেদনা না থাকলে কাব্য বোধ হয় সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনা আর তার শেষ গন্তব্যস্থল হল প্রকৃতি। মেঘদূত যেন প্রকৃতির কাছে মানুষের সমর্পনের গল্প হয়ে উঠেছে। এযেন এক অভূতপূর্ব বিরহের সাথে পর্যটন, মুহূর্তের মধ্যে পাঠক তার অবস্থান ভুলে গিয়ে পূর্বমেঘের সাথে আকাশে ভেসে বেড়ায়। খোলা চোখে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করে তৃপ্ত হয়।
যদি কুবেরের অভিশাপে যক্ষের এক বৎসরকাল যত্রতত্র ভ্রমণের স্বাধীনতা হরণ না হতো, তাহলে আজ আমরা হয়ত মেঘদুতকে জানতে পারতাম না। মহাকবি কালিদাস তার শাস্তিকালীন সময়কার চিত্রটা 'কেনোপনিসেদ' থেকে যক্ষকে তুলে এনে আমাদের কাছে হাজির করেছেন।
এখানে একটা অনুভূতি ব্যক্ত না করলে অসম্পূর্ন থেকে যাবে, তা হলো কালিদাসের ভাবটা বস্তু ভিত্তিক। কেননা, বাল্মিকীর রামায়ন না পড়লে হয়তো তিনি এতটা প্রভাবিত হতে পারতেন না, যার সাথে কিছু কিছু অংশের সদৃশ খুঁজে পাওয়া যায়। যাইহোক, কালিদাস বাল্মীকি রামায়নের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেন নি। তাই তিনি রামগিরি পর্বত বা চিরকুট পর্বত যেখানে রামসীতা অল্প কিছুদিন বাস করে ছিলেন, সেই পর্বতটাকে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন নি।
যে কোন সংবাদ প্রেরণের বাহক হিসাবে আজ পর্যন্ত কোন জড়কে বাহক হিসাবে ব্যবহার করা হয় নি। কালিদাস সব প্রচলিত ধারণাকে ভেঙ্গেচুরে মনের বাসনাকে প্রেরণ করার জন্য গতিশীল মাধ্যমের প্রতিভূ হিসাবে মেঘকে বেছে নিয়েছেন। কামনা মানুষের এক শক্তিশালী ইচ্ছার অনুভূতি, ইন্দ্রিয়গণ তাকে নিয়েই চিরকালই যারপরনাই বিব্রত।
একটা অবাস্তবকে বাস্তবে রূপ দেবার কৃতিত্ব হলো যক্ষের স্বগোক্তি। মাঝে মাঝে মনে হয়, যক্ষের দূত মেঘের হাত ধরে আমরা দেখলাম প্রেম-বিরহ কিংবা কামনার বাইরে একটা বৃহৎ পৃথিবী আছে, তার যে সব অপূর্ব সৃষ্টি আছে, তার সাথে পরিচিত হয়ে নুতন ভাবনার দুয়ার খুলে গেল।
এই রকম কামের রূপ কে দেখেছে ? যক্ষ তার সত্তার সাথে কালিদাসের হাতধরে সমগ্র পৃথিবীর জড়দের সত্তার সাথে একাকার করে দিয়েছে। কামের এই বিশ্বজনীন রূপ ফুটে উঠেছে কালিদাসের মেঘদূত কাব্যে , যা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। মানুষ তো দূর ছাড়, জড়দের তিনি রেহাই দেননি। নদ-নদী, পাহাড়-জঙ্গল,পাহাড়-পর্ব্বত, নদনদীর ঢেউ, গাছপালা, মেঘ-বৃষ্টি সবাই কামাগ্নিতে যেন ঝলসে গেছে।
মেঘদূত নামক মহীরুহটা বেড়ে উঠেছে ভূলোক-দ্যুলোক থেকে তার রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে, তাই তো তার সুবাস বিশ্ববন্দিত।
চলবে ০০০০০০০০০
ব্লগার -রবীন মজুমদার
তারিখ -১৬/০৬/২৫
ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন।
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে।
মন্তব্যসমূহ