২৯৪ ইতিহাসের পূর্ণ আলোকে মেঘদূত দর্শন - ১৪ তম পর্ব

 ২৯৪  ইতিহাসের পূর্ণ আলোকে মেঘদূত দর্শন -  ১৪ তম   পর্ব  

রামায়ণ ও কালিদাসের মেঘদূত  এবং পরবর্তী সময়   (৪) 

 একটা কাব্য কি করে ধীরে ধীরে জনজীবনের গল্প হয়ে যায়, কখন যেন  বাস্তবতার মাটিকে স্পর্শ করে তার অনন্য নজির রামায়ণে লক্ষ্য করা যায়।   ভাতৃপ্রেমে আপ্লুত লক্ষণ অবশ্যিই প্রশ্ন তুলতেই পারেন, কোন এক কালে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গিয়ে পিতা দশরথ ও মাতা কৈকেয়ীর অমাতৃসুলভ আচরণের কারণে জৈষ্ঠ্য ভ্রাতার রাজ্য থেকে নির্বাসন। সেই যুগে সরাসরি  উত্তর না দিতে পারলে, নীতিবাক্যের গুদাম  থেকে কয়েকটি নীতি বাক্য তুলে এনে  প্রশ্নকর্তাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করা হতো হত। ধর্মবীর শ্রীরামচন্দ্র সেরকম কিছু একটা বলে লক্ষণকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। ধর্মের দোহাই দেওয়াটা অবশ্য শাসকদের প্রশ্ন থেকে অব্যাহতি পাবার বিশাল অস্ত্র বললেও  অত্যুক্তি হয় না।  

এই ধর্ম নামক শব্দটির আড়াল থেকে শর প্রয়োগের আঘাতে আজও সমাজে মানুষ যেমন  আক্রান্ত,  আবার  রামায়ণ, মহাভারত প্রভৃতি মহাকাব্যে বহু অনৈতিক কর্মকে ধর্মের দোহাই দিয়ে সামাজিকীকরণ করা হয়েছি, তারও দৃষ্টান্ত আছে। সমাজের উপর থেকে নেমে আসা এই বিধি নিষেধ বা গৃহীত  নিয়মগুলিকে নিয়ে পথ চলতে চলতে সাধারণ মানুষ ভুলেই যায় কোনটা কেতাবি ধর্ম আর কোনটি মেকী। এই প্রসঙ্গে মহাভারত থেকে ছোট্ট ঘটনা কি ভাবে অধর্ম থেকে  ধর্ম হয়ে গেল তার একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। পান্ডু এবং ধৃতরাষ্ট্রের  জন্ম কাহিনী তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেটি যদি সাধারণ পরিবারে হতো , তাহলে সমাজে রি রি আওয়াজ উঠতো।  

 শক্তিশেলের আঘাতে লক্ষণ যখন প্রাণহীন অবস্থায় পরে আছেন, তখন তার পাশে বসে রাম  যে ভাষায় তার শোককে ব্যক্ত  করছেন, তার মর্মস্পশী  বিলাপ  আমাদের অন্তরকে বিদ্ধ করে।  সেই শোক প্রকাশের ভাষা পারিপার্শিক জনজীবন থেকে নেওয়া। এখানেই বাল্মীকির কৃতিত্ব।  

আবার আমরা দেখি, রামচন্দ্র রাবনকে হত্যা করার পর আত্মগর্বে উল্লসিত হয়ে একটি অতি সাধারণ যোদ্ধার মতো নিজের কৃতিত্বকে পুরুষত্বের চূড়ান্ত নিদর্শন বলে নিজ অহংকারকেই একমাত্র প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টার মধ্যেও কবি একটি বাস্তব জীবনের  প্রতিচ্ছবিকে তুলে ধরলেন।   

রাম চরিত্রটি যে কখনো তৎকালীন সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির বাইরে নন, সেটি মহাকবি কখনো আমাদের ভুলতে দেন নি। তাই  রামচন্দ্র কখনো ভুলে যাননি যে তিনি যে জনগণের পালক হিসাবে জনগনের প্রতি তাঁর ঋণকে, যাদের সেবায়, আত্মত্যাগে রাজারা রাজত্ব করে থাকেন।  স্বামী হিসাবে তাঁর স্ত্রীকে মর্যাদা অপেক্ষা  বৃহত্তর পটভূমিতে  জনসাধারণের মনের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে সীতাকে চরিত্রের শুদ্ধতা প্রমানের মতো কঠোর মনোভাব দেখিয়েছিলেন।  একদিকে স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য আবার রাজা হিসাবে প্রজাদের অনুভূতিকে প্রাধান্য দেবার প্রশ্নে যে চারিত্রিক দ্বান্দ্বিকতার ছবি ফুটে উঠেছে, সেখানে রাজা হিসাবে রামচন্দ্র জয়যুক্ত হয়ে স্বামী রামচন্দ্রকে পরাস্ত করে নতুন ইতিহাস রচনা  করেছিলেন।  এখানে কবি সামাজিক টানাপোড়েন থেকে উত্তীর্ন এক আদর্শ  মানুষ হিসাবে রামচন্দ্রকে বর্ণনা করে তাঁর কাব্যকে অনেকবেশী গ্রহনযোগ্য করে তুলেছিলেন। 

চলবে ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

ব্লগার -রবীন মজুমদার 

তারিখ ২৫/০৭/২৫
ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে  শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন। 
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)