৩৬৭ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৪)
৩৬৭ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৪)
স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত
২৭ শে অক্টোবর ,১৮৯৪ ওয়াশিংটন থেকে লেখা পত্রের ছায়া অবলম্বনে -
।। প্রেমহীনতাই মানুষের সর্বদুঃখের কারণ।।
লোকশিক্ষার প্রচলন ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের মুখ্য উদ্দেশ্য। স্বামী বিবেকানন্দ শত কাজের মধ্যে তাঁর গুরুদেবের আদর্শকে পুনরায় প্রচারে ব্রতী হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ওনার শিষ্য ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে।
নিজ শক্তির পরিমাপ করার জন্য কাজ একমাত্র মাপকাঠি। অসম্ভব আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্বামীজীর কাছে সত্যকে গোপন করে নিজেকে মহান করে তুলে ধরার কোন প্রবণতা ছিল না। কঠিন বাস্তবতাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন মানবমুক্তির সোপান হিসাবে, সেখানে না ছিল তথাকথিত অন্তঃসারশূন্য ঈশ্বরকে আরাধনার বাগাড়ম্বর, ধর্মের মূল লক্ষ্যকে অতিক্রম করে সত্যের অপলাপ। গভীর সত্যে উপলদ্ধির পুঁজি যাঁর অন্তরে তিনিই একমাত্র বলতে পারেন -" যে ধর্ম বা যে ঈশ্বর বিধবার অশ্রুমোচন অথবা পিতৃমাতৃহীন অনাথের মুখে এক টুকরো রুটি দিতে না পারে, আমি সে ধর্মে বা সে ঈশ্বরে বিশ্বাস করি না। যত সুন্দর মতবাদ হউক, যত গভীর দার্শনিক তত্ত্বই উহাতে থাকুক, যতক্ষণ উহা মত বা পুস্তকেই আবদ্ধ, ততক্ষন উহাকে আমি ধর্ম নাম দিই না। চক্ষু আমাদের পৃষ্ঠের দিকে নয়, সামনের দিকে - অতএব সম্মুখে অগ্রসর হও, আর যে ধর্ম তোমরা নিজের ধর্ম বলিয়া গৌরব কর তাহার উপদেশগুলি কার্য্যে পরিণত কর। "
উদ্দীপক হবার যথেষ্ট গুণ স্বামীজীর মধ্যে ছিল এবং তিনি নিজেই সেটা উপলদ্ধি করতেন। তাই তিনি বলতেন, কাজ কখনো পর নির্ভরশীল না হয়ে, নিজের উপর নির্ভর করে করার অভ্যাস করতে হবে। স্বামীজী বিশ্বাস করতেন প্রেম ও ভালবাসা একটি মৌলিক উপাদান, যা মানুষের অনভ্যাসের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে সে আড়ালে থেকে যায় আর যাঁকে অজ্ঞানবশত আসল ঈশ্বরকে আড়াল করে রেখে মানুষ ঈশ্বরের অনুসন্ধান করে, ফলত তাকে কোনদিনই খুঁজে পায় না। যাঁর নিবাস তো জীবের অন্তরে, যে প্রেমরূপে সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে বিরাজমান। সুতরাং জীবের প্রতি প্রেমই একমাত্র ঈশ্বরকে উপলদ্ধির একমাত্র পথ।
একই হৃদয়ে একদিকে হিংসা, বিদ্বেষ,ঘৃণা যেমন বাস করে, ঠিক তেমনি প্রেম,প্রীতি, ভালোবাসাও বাস করে। আর সেখান থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা যদি দূর হয়ে যায় তখন হৃদয়ে শুধু পরে থাকে প্রেম। যে প্রেম সর্ব প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে, সেই পরম শক্তিতে যিনি করায়ত্ব করতে পেরেছেন , তিনিই তো সর্বশক্তিমান।
কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ যুগ যুগ ধরে সমাজে হিংসার বীজ রোপন করে সৃষ্টি কর্তার অপরূপ সৃষ্টি সেই প্রেমকে দলিত করে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রতিষ্ঠিত করার অশুভ প্রয়াসকে স্বামীজী অনুভব করেছিলেন। যা আজও কিছু রাজনৈতিক নেতা আর ধর্মগুরুর যৌথ প্রযোজনায় আর সংবাদ মাধ্যমের একনিষ্ঠ প্রচারের করিশ্মায় প্রায় ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বামীজীর সেদিনের চিঠিগুলির প্রাসঙ্গিতা আজও বিদ্যমান আর উপলদ্ধিতা মানুষের কাছে।
ক্রমশঃ
ব্লগার- রবীন মজুমদার
তারিখ -২৮/১২/২৫
ভালো লাগলে শেয়ার করুণ -
rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে।
মন্তব্যসমূহ