৩৬৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৫)

 ৩৬৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৫)


যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করুন 
স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত 
 ১৮ নভেম্বর , ১৮৯৪ নিউইয়র্ক থেকে লেখা পত্রের ছায়া অবলম্বনে -

। একটি জাতির অগ্রগতি ও অধোগতির ঐতিহাসিক মানচিত্র।

 ঐক্যই শক্তি আর বিভেদই  ধ্বংস। হারিয়ে যাওয়া সেই নীতি ও আদর্শের কথা স্বামীজী  পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন  হতদরিদ্র ভারতবাসীর  অন্তরে। একটি  দেশ সর্বংসহা ধরিত্রীর মতো দুবাহু বিস্তার করে তার অভ্যন্তরের মানুষদের  আগলে রাখে বহিঃশক্তির আক্রমণ থেকে। সেখানে সেই শত্রুই যদি হৃদয়ের অভ্যন্তরে বসে সেই পবিত্রতাকে নষ্ট করে, তবে তাকে বাঁচাবে কার সাধ্য ? সেই শত্রুরূপী জাত্যাভিমান, কুরে কুরে দেশের তথা  সমগ্র সমাজের সংহতিকে টুকরো করে দেশটাকেই  দুর্বল করে তোলে এবং  তার ফলে সেই দেশের পতনকে অনিবার্য করে তোলে- সেটা হতে পারে সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক অথবা রাজনৈতিক এইটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। 

এই বিশ্ব চরাচরে ভালোবাসার বহু উপকরণ আছে। কতিপয় স্বাস্থ্যকর আবার কতিপয় প্রাণহরণকারী। ইতিহাসের পাতায় সেই তপ্ত গরল ভালোবাসার পুস্করিণীতে অবগাহন করে প্রথমে কাল্পনিক স্বর্গীয় অনুভূতি লাভ করেছে বহু দেশনায়ক কিন্তু কালবিলম্বে বিষক্রিয়ায় কত রাজাউজিরের জীবন বিসর্জিত হয়েছে, তার অসংখ্য কাহিনী খোদাই করা আছে। 

কত মানুষ যে বেঘোরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, শুধু মাত্র ক্ষমতাকে ভালোবেসেছিলো বলে। প্রেম দমিত হলে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয় , সেই শূন্যতাকে গরল এসে ভরাট করে আর সেই অনলে মানবাত্মা পুড়ে ছারখার হয়ে যায় , এটাই বাস্তবতা। ক্ষমতা আর তৃষ্ণার মধ্যে চরিত্রগত কোন পার্থক্য নেই, তৃষ্ণা একবার পূর্ণ হলে পুনরায়  প্রত্যাশী হয়  আর এই সর্বগ্রাসী প্রত্যাশা মানুষকে ভিতরে ভিতরে দুর্বল করে তোলে অতৃপ্ত আকাঙ্খার কারণে। 

স্বামীজী তাঁর জীবনে সেটি অনুভব করে বলেছিলেন, এই ক্ষমতা নামক বিষক্রিয়ার একমাত্র প্রতিষেধক হচ্ছে প্রেম। একবার সে যদি হৃদয়ে স্থান করতে পারে তবে সে মানুষ হবে সর্বশক্তিমান। এইভাবে দেশের প্রত্যেক মানুষ যদি প্রেম নামক সম্পদকে আত্মস্থ করতে পারে তবে এক শক্তিশালী জাতি হিসাবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে তাহলে মাতৃভূমির কোন সংকট আসবেনা। 

ইতিহাসের পটভূমি থেকে উদ্ঘাটিত সত্যকে  স্বামীজী বিশ্বাস করতেন। মানুষ বীর বলে প্রতিপন্ন হয় তখন, যখন সে অন্তরস্থ সব ভেদাভেদকে পরাস্ত করে সার্বজনীন প্রেমকে প্রতিষ্ঠা করেন আর  সেই অমৃত  সম্পদ হরণকারী, মানুষে মানুষে বিভেদকামী শক্তিদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন ও সংহত করেন।  ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে স্বামীজী সোচ্ছার ছিলেন, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সন্যাসী নিজের জীবন দিয়ে তাকে অনুভব করেছিলেন।  তিনি তার এই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন -    " একজন পাদ্রী যদি ভারতে যায়, আমাদের দেশের লোক তাহার সহিত কিরূপ ব্যবহার করে ? তোমরা তাহাদিগকে স্পর্শ পর্যন্ত কর না, তাহার যে ম্লেচ্ছ !!!  বৎস, কোন ব্যক্তি, কোন জাতিই অপরের প্রতি ঘৃণাসম্পন্ন হইলে জীবিত থাকিতে পারে না।  যখনই ভারতবাসীরা ম্লেচ্ছ শব্দ আবিষ্কার করিল ও অপর জাতির সহিত সর্ববিধ সংস্রব পরিত্যাগ করিল , তখনিই ভারতের অদৃষ্টে ঘোর  সর্ব্বনাশের সূত্রপাত হইল।  তোমরা ভারতবর্ষের দেশবাসীদের প্রতি উক্ত ভাব পোষণ সম্বন্ধে বিশেষ সাবধান হইও।  বেদান্তের কথা ফসফস মুখে আওড়ান খুব ভালো বটে, কিন্তু উহার একটি ক্ষুদ্র উপদেশও কার্য্যে পরিণত করা কি কঠিন !"

আমরা আজও যদি স্বামী বিবেকানন্দর চিঠির অন্তরস্থ ভাবের সাথে বর্তমান সময়কে মিলাতে যাই, তবে দেখা যাবে, কালকে অতিক্রম করে সেই সারমর্ম এখনো প্রাসঙ্গিক এবং ভারতবাসী আজও ম্লেছ আর অম্লেচ্ছের কাঁটাতারে বন্দী আর ক্রমশই সেই তারের খোঁচায় আমাদের হৃদয় বিদ্ধ আর মেরুদণ্ডের ঋজুতার  অভাবে  উপর পানে তাকাতে অপরাগ। 

ক্রমশঃ 
ব্লগার- রবীন মজুমদার 
তারিখ -২৯/১২/২৫
ভালো লাগলে শেয়ার করুণ -
rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)