৩৮৭ প্রেমের ভাষা ও ভাষাহীনতা

 ৩৮৭ প্রেমের ভাষা ও ভাষাহীনতা 


ভাষাহীন ক্রন্দনে প্রেম এক নীরব ভাষা হয়ে অনুভূতির স্কন্ধে চেপে বসে। প্রেমকে কি কোনো ভাষায় ব্যক্ত করা যায়?—এই প্রশ্নটি অবন্তিকা তুলতেই সপ্তর্ষি  হেসে বলল, “ভাষায় যদি প্রেম ধরা পড়ত, তবে কবিদের বেকারত্ব বাড়ত, আর প্রেমিকদের চাকরি যেত!” অবন্তিকা ভ্রু কুঁচকে জবাব দিল, “তুমি আবার প্রেমকে অর্থনীতির খাতায় নাম লেখালে নাকি?”—এইভাবে শুরু হলো তাদের অনন্ত জিজ্ঞাসার মিষ্টি কাঁটাযুক্ত বাক্যালাপ।

প্রেম ভাষাবদ্ধ না ভাষাতীত?
অবন্তিকার মতে, প্রেম হলো নীরবতার সুর—যেখানে চোখ কথা বলে, স্পর্শ কবিতা লেখে, আর নিঃশ্বাস উপন্যাস হয়ে ওঠে। ভাষা সেখানে কেবল সাবটাইটেল। সপ্তর্ষি  প্রতিবাদ করল, “ভাষা না থাকলে ‘ভালোবাসি’ শব্দটি কে আবিষ্কার করত? মানুষ কি শুধু তাকিয়েই সংসার চালায়?” অবন্তিকা মৃদু হেসে বলল, “সংসার ভাষায় চলে, প্রেম চলে ভ্রূকুঞ্চনে।”
সুতরাং সিদ্ধান্ত—প্রেম ভাষায় ধরা দেয়, আবার ভাষা ফসকে পালায়ও। যেন সাবান—ধরলেই পিছলে যায়।

 প্রেম কি অতলান্তিক?
সপ্তর্ষি  বলল, “প্রেম সমুদ্র হলে আমি লাইফজ্যাকেট পরব, ডুবতে চাই না।” অবন্তিকা বলল, “ডুব না দিলে প্রেমের মুক্তো পাবে কেমন করে?” সপ্তর্ষি  একটু ভেবে বলল, “তা ঠিক, কিন্তু মুক্তো পেতে গিয়ে যদি সর্দি লাগে?”
অতএব বোঝা গেল—প্রেম অতলান্তিক বটে, তবে সর্দি-কাশির ঝুঁকি সহকারে। যে ডুবতে ভয় পায়, সে তীরে দাঁড়িয়ে শুধু ঢেউ গুনে; আর যে ডুব দেয়, সে কখনো মুক্তো পায়, কখনো লবণ জল খায়।

 প্রেম পাবার স্বাদ কেমন?
অবন্তিকা বলল, “প্রেমের স্বাদ মধুর—মিষ্টি, নরম, উষ্ণ।” সপ্তর্ষি সঙ্গে সঙ্গে যোগ করল, “আর কখনো ঝাল—বিশেষত যখন ‘তুমি বদলে গেছ’ বাক্যটি শোনা যায়!”
প্রেমের স্বাদ আসলে রসগোল্লার মতো—মুখে দিলে গলে যায়, কিন্তু সিরা ঝরে জামা নোংরা করে। তবু মানুষ খায়, কারণ মিষ্টির টান যুক্তির চেয়ে প্রবল।

প্রেমের বিষাদ কখন?
সপ্তর্ষি  বলল, “যখন ‘অনলাইন’ থাকে, কিন্তু রিপ্লাই আসে না।” অবন্তিকা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “যখন কাছে থেকেও দূরত্ব জন্মায়, আর নীরবতা শব্দকে হার মানায়।”
প্রেমের বিষাদ ঠিক সূর্যাস্তের মতো—রঙিন, সুন্দর, কিন্তু অন্ধকারের পূর্বাভাস। তবু সেই অন্ধকারেই মানুষ তারা খোঁজে—হয়তো নতুন ভোরের আশায়।


অবন্তিকা বলল, “তাহলে প্রেম কী?” সপ্তর্ষি  একটু ভেবে উত্তর দিল, “প্রেম হলো এক অদ্ভুত ব্যাকরণ—যেখানে ভুল করলেই বাক্য সুন্দর হয়, আর ঠিক বললেই ঝগড়া।”
অবন্তিকা হেসে বলল, “তাই তো, প্রেমকে পুরো বোঝা যায় না—শুধু বাঁচা যায়।”

প্রেম তাই ভাষায় ব্যক্তও হয়, আবার ভাষাহীনও থাকে; অতলান্তিকও, আবার একফোঁটা জলের মতো সহজ; মধুরও, আবার বিষাদমাখা।
আর অবন্তিকা ও সপ্তর্ষি  তর্ক?—তা চলবেই, কারণ প্রেমের মতোই প্রশ্নেরও শেষ নেই।

ব্লগার- রবীন মজুমদার 

তারিখ -১৭/০২/২৬
যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করুন 
rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)