মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪৩তম অধ্যায় || (১০৬) Searching for hidden Truth (11)

 মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪৩তম  অধ্যায়  ||  (১০৬)

Searching for hidden Truth (11) 

 মায়া  পরমব্রহ্মর বশ আর জীব মায়ার বশ। 

গত সংখ্যার পর........



 
জগৎ মায়াময় -

ব্রহ্ম থেকে জগৎ সৃষ্টি ও স্থিতি অবশেষে বিলীন এই ব্রহ্মতেই ।  জগৎ দেশ কাল পরিমিত অর্থাৎ সে নিয়ম কানুনে আবদ্ধ। যে স্বভাবগত ভাবে বহুভাগে খণ্ডিত , মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তনশীল বা পরিবর্তনশীলতা যার ধর্ম তাই সে সত্যে ধর্মের বিপরীত মেরুতে দাড়িয়ে আছে , তাই সে মিথ্যা এবং সেই কারণেই জগৎ মিথ্যা। তাই এই  জগৎ মায়াময়। 

এই জগৎ কতক্ষন সত্য -

যতক্ষন পর্যন্ত মানুষের অদ্বৈত জ্ঞানের উন্মেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ এই জগৎকে ইন্দ্রিয়ের  মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করতে পারছে। আত্মবিকাশের একটা পর্যায়ে মানুষ যখন উপলদ্ধি করবে, তখন বিলোপ ঘটবে বস্তুর দ্বৈত চরিত্রের ঠিক তখনই তার কাছে জগৎ মিথ্যা হয়ে যাবে। 

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় নেকলেস, হার, চুড়ি, আংটি ইত্যাদি সোনা নামক ধাতুর  বিকৃত রূপ। সোনাকে বাদ দিলে নেকলেসের কোন অস্তিত্ব থাকেনা , সুতরাং নেকলেস স্বতন্ত্র কোন বস্তু নয়। সোনাকে জানলেই সোনার দ্বারা তৈরি যা কিছু এই বিশ্বে আছে তাকে চেনা যাবে। নেকলেস, হার, চুড়ি, আংটি ইত্যাদির সৃষ্টিগুলি আসলে সোনার ভিন্ন ভিন্ন নাম আর রূপ। সোনাকে বাদ দিয়ে তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে স্বীকার করাটা যেমন ভুল, ঠিক তেমনি ব্রহ্ম -এর বিভিন্ন রূপ হচ্ছে এই দৃশ্যমান জগৎ, তাদের  কোন আলাদা স্বত্বা নেই। তাই ব্রহ্ম থেকে জগৎকে আলাদা করে  ভাবাটা  ভুল হবে, কেননা তার আলাদা কোন স্বত্বা নেই।  এটাই মিথ্যার রহস্য, এটাই মায়া । 

ব্রহ্ম থেকে জগতের উৎপত্তি এই রহস্যটা কি -

পরম শক্তিমান ঈশ্বর বা ব্রহ্ম সৃষ্টির প্রাকমুহূর্তে এক থেকে বহু হলেন , এই সৃজনী বৃত্তিটাই মায়া।  আবার মায়া ঈশ্বরের শক্তি। এটা সংসারের  বাইরের চেহারা যা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে মানুষের গোচরে আসে।  যেমন,  সোনার বাইরের চেহারাটা নেকলেস। মায়ার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ঈশ্বর বা ব্রহ্মই একাধারে ক্ষেত্রে হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করেন আবার জীব ও জগৎ হিসাবে নিজেকে প্রকাশ করেন।  

মায়ার প্রভাবে কি কি পরিলক্ষিত হয় -

প্রকৃত জ্ঞানের অভাবে যে বুদ্ধির অপুষ্টিজনিত ব্যাধি হয় এবং তা ইন্দ্রিয়দোষে দুষ্ট হয়ে মিথ্যাকে সত্য বলে অনুভব করে, সেই অবস্থাটাই মায়া।  যেমন সোনা ধাতু সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে নেকলেসকে আলাদা বলে মনে হয়। 



ক্ৰমশঃ 

ব্লগার -রবীন মজুমদার   

  

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)