মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৩৯তম অধ্যায় || (১০২) Searching for hidden Truth (7)
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৩৯তম অধ্যায় || (১০২)
Searching for hidden Truth (7)
গত সংখ্যার পর........
দৃশ্য ও দ্রষ্টা -
মানুষ এই পৃথিবীতে যা কিছু দেখে, তার মাধ্যম হলো চক্ষু ( চোখের তারায় বস্তুর প্রতিবিম্ব ভেসে উঠে ) । অনেক সময় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বলে উঠে " আমি তো দেখতে পাইনি " , অথচ তার চোখ খোলাই ছিল। কারন চোখের পিছনে মন সক্রিয় ছিল না।
চোখ দিয়ে মানুষ দেখে, এখন প্রশ্ন হল, সেই চোখকে কি দেখা যায় ? কোন অবস্থায় চোখকে দেখা যায় না, কেবল মাত্র তার প্রতিবিম্ব আয়নাতে দেখা যায়। আসলে কোন অবলম্বন ছাড়া কোন বস্তুকে প্রতক্ষ্য করা যায় না।
জাগ্রত অবস্থায় এই জগৎকে একজন দেখছেন, সে হচ্ছে ইন্দ্রিয়, আবার ইন্দ্রিয়ের পিছনে যদি মন না থাকে তাহলে কিছু দেখা যাবেনা। তাই বস্তু হচ্ছে দৃশ্য আর মন হচ্ছে দ্রষ্টা। সেই মন যখন আবার স্বপ্নময় অবস্থায় চলে যায় তখন সেই মনের ভিতরে থাকা আরো সুক্ষ মন তা দেখছেন, তাই সেখানে মন হয়ে গেল দৃশ্য আর সুক্ষ মন হয়ে গেল দ্রষ্টা। মানুষ যখন গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে যায়, যেখানে স্বপ্নময় অবস্থাকে অতিক্রম করে সুষুপ্তি অবস্থায় পৌঁছায়, তখন সেই অবস্থাটাও একজন প্রত্যক্ষ করেন, তাই সেই সুষুপ্তি অবস্থা হলো দৃশ্য আর দ্রষ্টা হলেন, সেই সর্ব শক্তিমান চৈতন্য বা আত্মা। তিনিই হচ্ছেন এই জড় পৃথিবীর প্রকৃত দ্রষ্টা।
এটা সহজেই বোঝা যায় দৃশ্য এবং দ্রষ্টা অর্থাৎ যিনি দেখেন, তারা কখনই এক হতে পারেন না। যখন সে দৃশ্য অবস্থায় থাকে তখন সে বস্তু আর বস্তু ধর্মের নিয়মানুসারে সে পরিবর্তনশীল আর পরিবর্তনশীল বস্তু স্থান কাল পাত্র অনুসারে তার নির্দ্দিষ্ট কোন রূপের ও গুনের পরিচয় না থাকার কারনে, তাকে চিরন্তন সত্য বলে মেনে নেওয়া যায় না, যাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া যায়না, তাহলে সে অবশ্যই মিথ্যা। যেমন, সমুদ্রের জলের বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। কখন যখন সমুদ্রের উপর ঢেউগুলি খেলা করে মন তখন চোখ দিয়ে দেখে তাকে ঢেউ হিসাবে পরিচয় করায়। এইভাবে কখন ফেনা, বুদ্বুদ প্রভৃতি রূপ ধারণ করে কিন্তু সবটাই আসলে সমুদ্রের জল। যে কোন অবস্থায় পরিবর্তিত হয়না সেই-ই সত্য। চৈতন্য বা আত্মা পরিবর্তনশীল নয়। এটাই আত্মার স্বরূপ।
ক্ৰমশঃ
ব্লগার -রবীন মজুমদার
মন্তব্যসমূহ