মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪০তম অধ্যায় || (১০৩) Searching for hidden Truth (8)

 মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪০তম  অধ্যায়  ||  (১০৩)

Searching for hidden Truth (8) 

গত সংখ্যার পর........


অহং সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা - 

আত্মাকে "আমি" বা অহংরূপে সাধারণভাবে দেখা হয়। মানুষ তার প্রচলিত ধারণা  অনুযায়ী শরীর, ইন্দ্রিয় এবং মনের ধর্মকে আত্মার ধর্ম হিসাবে ভুল করে। 'আমিত্ব'কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে  মানুষ কখন কখন শরীরের আকৃতি, যেমন , স্থুল, কৃশ, অন্ধ বা বধির  ইত্যাদিকে 'আমিত্বের ' সাথে একাকার করে ফেলে।  শুধু এখানেই থেমে থাকেনা, আবার মনের অনুভূতির ব্যাখ্যা, যেমন , সুখ, দুঃখকে 'আমিত্বের'  সাথে মিলিয়ে ফেলে। 

প্রশ্নত্তোরে আত্মা  -

প্রশ্ন -আত্মা কি কখন স্থুল বা কৃশ হয় এবং আত্মার কখন সুখ ও দুঃখের অনুভূতি হয় ?

উত্তর- উভয় ক্ষেত্রেই  আত্মা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা। 

প্রশ্ন - কেন ভ্রান্ত ধারণা ?

উত্তর - আত্মার সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণার একটা পরম্পরা আছে। এর পিছনে আছে অধ্যাস বা মিথ্যাজ্ঞান। যেই বস্তু বাস্তবে যা নয় তাকে ভুলভাবে জানাটাকে অধ্যাস বা মিথ্যা জ্ঞান বলে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়, রজ্জুতে সর্প ভ্রম। রজ্জুকে সাপ হিসাবে জানাটাই অধ্যাস বা মিথ্যা জ্ঞান। ঠিক তেমনি শরীর ও মনের অভিব্যক্তিকে মানুষ আত্মার অভিব্যক্তি বলে ভুল করে। 

আত্মা প্রকাশক আর জড় প্রকাশ্য। প্রকাশ্য আর প্রকাশক কখন এক বস্তু নয়। যেমন আলো হচ্ছে প্রকাশক আর আলোর মাধ্যমে যে বস্তুকে দেখা যায় তা প্রকাশ্য। তাহলে, জড় বস্তু প্রকাশকের সাহায্য ছাড়া প্রকাশ্যে আসতে পারেনা। তাহলে এটাই মেনে নিতে হবে যে, মনের নির্দেশ যতক্ষন দেহের ইন্দ্রিয়ের কাছে না পৌঁছাচ্ছে ততক্ষন দেহ কাজ করে না। তাই এখানে মন হচ্ছে প্রকাশক আর দেহ হচ্ছে প্রকাশ্য। আবার এই মনকে সর্বদাই যে লক্ষ্য করছে আত্মা। সুতরাং আত্মা হচ্ছে প্রকাশক আর মন হচ্ছে প্রকাশ্য। 

যে বস্তুকে দেখা যায় বা অনুভব করা যায়, সে বস্তু কখন অনন্ত হতে পারে না। সেই অর্থে মন জড় বস্তু। যদি প্রশ্ন করা হয় মনকে কেন জড় বস্তু বলা হয় ? তার উত্তর হল, বস্তু জগতের নিয়ম অনুযায়ী যে সদাই পরিবর্তনশীল, তার কোন সত্য পরিচয় নেই, আর যে সত্য নয় তা মিথ্যা।  মন হচ্ছে  খানিকটা সমুদ্রের বেলাভূমির মতো, যেমন, নতুনের পদচিহ্নে পুরাতন পদচিহ্ন মুছে যায় ঠিক ইন্দ্রিয় দ্বারা নতুন একটি বার্তা এসে মনের আগের বার্তাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যায়।  এই জগৎ সত্য আর মিথ্যার সহাবস্থানের মধ্যে দিয়ে সংসার জীবন চলে আসছে  এবং মানুষ মিথ্যাকে সত্য বলে জানছে। 
 


ক্ৰমশঃ 

ব্লগার -রবীন মজুমদার   

  

মন্তব্যসমূহ

-Shyamal Sarkar বলেছেন…

বেশ ভালো লাগলো যে কঠিন সব বিষয় সহজ ভাবে বোঝানোর জন্য।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)