মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪১তম অধ্যায় || (১০৪)
Searching for hidden Truth (9)
গত সংখ্যার পর........
" কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে " - বাউল শিল্পী গগন হরকরার বিখ্যাত সেই গান। জীব মাত্রই স্থায়ী শান্তির জন্য লালায়িত। মানুষ এর মধ্যে এক উন্নততর জীব। যুগ- যুগান্তর ধরে তার ( অর্থাৎ পরমব্রম্মের) খোঁজ চলে আসছে ভিন্ন ভিন্ন ধারায়। পথ ও মত হয়তো আলাদা কিন্তু লক্ষ্যটা এক সে হচ্ছে বন্ধন থেকে মুক্তি । যেই ক্ষেত্রটার উপর মুক্তির সৌধ নির্মিত হবে তার নাম মন। এখানে মনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে "ক্ষেত্র " শব্দটা লিখতে হল, যা চরিত্রগত ভাবে জড় গোত্রের মধ্যে পরে।
কাম্য বস্তুকে পেতে গেলে অনুসন্ধান করতে হবে। কাম্য বস্তুটা কি ? তা হল চিরস্থায়ী শান্তি লাভ । একদিন মানুষ বাইরের জগৎ থেকে ভুরি ভুরি সুখ আর সমৃদ্ধি এনে ঘর ভরিয়ে ফেললো। কিছুদিন ভোগ করার পরে সে গুলিতো পুরোনো হয়ে গেল। এবার প্রশ্ন এলো এর পরে কি হলে সুখ পাবে মানুষ, আবার জাগতিক বাজারে খোঁজ চালালো, আর নতুন কিছুই খুঁজেই পাওয়া গেল না। এবার এই না পাওয়াটা অপূর্ন ইচ্ছার বেদনা হয়ে মনের উপর হাজার কিলোর পাথর বসিয়ে দিলো। সব মিলিয়ে মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লো। এবার এই পাথর সরানোর পালা। মনের ডাক্তার এসে বলে গেলো, দায়ী তোমার ইন্দ্রিয় আর মন। বাইরে খুঁজে কিছু লাভ নেই, মনের দেশের গহন প্রদেশে শান্তির বাস, ওখানে গেলে সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে। ছোট্ট একটা প্রেসক্রিপশন, যাতে লেখা ছিল প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্তি লক্ষণ ধর্মের রাস্তায় হাঁটার অভ্যাস করলে এই রোগের উপশম হবে।
প্রশ্নোত্তরে মন -
প্রশ্ন :মনকে কেন জড় বলা হয় ?
উত্তর : যেই অর্থে প্রকৃতিকে জড় বলা হয়, কেননা , প্রকৃতিতে চৈতন্য ও বুদ্ধি অনুপস্থিত তাই সে জড়। ঠিক তেমনি মন ও জড় কেনে মনে বুদ্ধি ও চৈতন্য বাস করেন না। মন থেকে বুদ্ধি ও চৈতন্য আলাদা।
ব্লগার -রবীন মজুমদার
মন্তব্যসমূহ