পোস্টগুলি

জুন, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

(২৮০) দম্ভের দাম্ভিকতা -

(২৮০)  দম্ভের দাম্ভিকতা -  যে দম্ভে বিশ্ব শক্তিরা জর্জরিত, সেই দম্ভে আমাদের দেশ ও প্রদেশের রাজারাও কলুষিত। এ এক অদ্ভুত ভাইরাস।  এই ভাইরাসে প্রায় আমরা  সবাই নিজ নিজ বৃত্তে কমবেশি আক্রান্ত। দাম্ভিকতা প্রকাশের উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই আস্তিন থেকে ভাইরাসের বটিকা খুলে পরিবেশন করার লোভ সামলাতে পারিনা।  আত্মানুসন্ধান করলেই এই বক্তব্যের সারবত্তা উপলদ্ধি করা যাবে।   যদি বৈদিক যুগে এ ঘটনা ঘটতো, তাহলে ঋষিবরেরা নির্ধিধায় বলতেন,    এরা বড্ড ইন্দ্রিয়ের দোষে দূষিত।  অর্থাৎ,  তমগুনের তেজে  সমগ্র বিশ্ব ঝলসে যাচ্ছে, এদের একমাত্র ঔষধ নিরন্তর সাধনার মাধ্যমে আত্মানুসন্ধান। বস্তু নির্ভর পৃথিবীতে বাহ্যিক দিকের প্রতি এতোই নজর রাখতে হচ্ছে, যে দুদন্ড বসে নিজের অন্দরে   যে  নজর দেব, তার উপায় নেই।  আমরা ভালো কিংবা খারাপ, যেকোন একটা শব্দে ঘটনা প্রবাহকে বিশ্লেষণ করি।  একবার ভাবিনা এক দেশ বিদেশের রাজ্-রাজারা কি অসম্ভব একটা রোগে আক্রান্ত। রাজাদের কোথায়ও প্রজারা মাথা না হেলালেই তারা সেই ব্যক্তি বা রাষ্ট্র কে শত্রু বলে ভাবে। আর যেই না শত্রু...

(২৭৯) আবার মেঘদূত

(২৭৯)   আবার মেঘদূত  কি রাজসিক তার আয়োজন, আকাশকে রনশয্যায় সাজিয়ে নিয়ে বজ্রের দুন্দভি বাজিয়ে বর্ষার আগমন। মনের মাটিকে সিক্ত করে বাস্তবের মাটিতে আষাঢ়ের বর্ষা ঢলে পড়ে। তাইতো মন তাকেই বারেবারে চায়, মনের শুস্কতা নিবারনের জন্য। প্রাচীনকালে বর্ষার সময় না করা যেত যুদ্ধ, না করা যেত ব্যবসা বাণিজ্য, প্রায় পূর্ণ সময়টা মানুষ  ছিল কর্মহীন। জলপথে ও স্থলপথে চলাফেরা করা ছিল অসম্ভব। যে সব পুরুষরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকতো, তারাও ঘরে ফিরে আসতেন। যদি কোন কারণে পতি সেই সময়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন করতে না পারলে স্ত্রী ও স্বামী উভয়ের কাছে এই সাময়িক বিরহ এক  গভীর বেদনার আকার ধারণ করতো। ভারতীয় কাব্য সাহিত্যে বর্ষা আর বিরহ প্রায় সমার্থক। একটু দিক্পাত করলেই তার যথাযথ উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে। শুধু যদি রামায়নের সময়কাল থেকে ধরা হয়, তাহলে, কিস্কিন্ধ্যাকান্ড, মেঘদূত, জয়দেব ও বৈষ্ণব গীতিকা এবং সর্বোপরি রবীন্দ্রনাথের সময়কাল পর্যন্ত বর্ষার মেঘ কি ধরনের মায়া বিস্তার করে পাঠককে সহযাত্রী এবং সহমর্মী  করে তুলেছিল, তা আমরা ভুলতে পারিনি।  বর্ষা যদিবা মানুষকে বহির্মুখী করতে বাধা দান করতে পারে, কিন্তু ভা...

(২৭৮) সংস্কৃতভাষার সাংস্কৃতিক গুণপনা -

(২৭৮)   সংস্কৃতভাষার সাংস্কৃতিক গুণপনা  - পণ্ডিত  কমে যাবার সাথে কি মূর্খের সংখ্যা বৃদ্ধির কি কোন সম্পর্ক আছে ? থাকলে থাকতেও পারে কিংবা নেই। প্রচলিত ' পণ্ডিত ' উপাধিটির সাথে সংস্কৃত  সাহিত্য চর্চার একটা  নিবিড় যোগাযোগ আছে। অথচ, এই ভাষাকেই ব্রাহ্মণ্যবাদীরা জনসাধারণের  ভাষা   যাতে না হয় তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। যে মহাকাব্যগুলি ভারতবাসীকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে সেই চিরনবীন মহাকাব্যগুলি, বেদ-বেদান্ত, উপনিষদ ও অন্যান্য মহামূল্যবান দর্শনগুলি এই সংস্কৃত ভাষাতেই  লেখা হয়েছিল। এই ভাষাটির ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম এবং সেই অর্থে তাকে নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে।  ক্ষীণ হলেও বহু ভাষাভাষীর আগমনে তার সাথে সংগ্রাম করে সে তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছিলো।   অবশেষে এলো, ইংরেজ আমল,   ভাষাকে দাড়িপাল্লায় বসিয়ে তার ব্যবহারিক মূল্য যখন ভাষা চর্চ্চার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়ালো, তখন সংস্কৃত ভাষার চর্চ্চার পরিসর ক্রমেই ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হতে লাগলো।   যে কোন ভাষাভাষীর কাছে তাদের ভাষা নিজ নিজ হৃদয়ের বিকাশের অন্যতম মাধ্যম...

(২৭৭) মেঘদূতের সাথে প্রথম পরিচয়

(২৭৭)   মেঘদূতের সাথে প্রথম পরিচয়  উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময় পাঠসংকলন পুস্তকে রবীন্দ্রনাথের "মেঘদূত" পাঠ্য বিষয় ছিল।  সেদিন থেকে তাকে জানার তৃষ্ণা অন্তরে অনুভূত হয়েছিল, আজ অখন্ড অবসরে সেই প্রায় হারিয়ে যাওয়া অতৃপ্ত আকাংখাগুলিকে  একটু একটু করে খুঁজতে চেষ্টা করছি।  মানুষের সাথে প্রকৃতির এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন, হবেই বা না কেন, সে  তো মানুষের সৃষ্টিকর্তা।  তাই যক্ষ তাঁর হৃদয়ের বেদনাকে সহন করতে না পেরে, মাতৃসম প্রকৃতির কোলে তুলে দিয়েছেন। বেদনা না থাকলে কাব্য বোধ হয় সম্পূর্ণ হয়ে ওঠেনা আর তার শেষ গন্তব্যস্থল হল প্রকৃতি। মেঘদূত  যেন প্রকৃতির কাছে মানুষের সমর্পনের গল্প হয়ে উঠেছে। এযেন এক অভূতপূর্ব বিরহের সাথে পর্যটন, মুহূর্তের মধ্যে পাঠক তার অবস্থান ভুলে গিয়ে পূর্বমেঘের সাথে আকাশে ভেসে বেড়ায়। খোলা চোখে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে উপভোগ করে তৃপ্ত হয়।  যদি কুবেরের অভিশাপে যক্ষের এক বৎসরকাল যত্রতত্র ভ্রমণের স্বাধীনতা হরণ না হতো, তাহলে আজ আমরা হয়ত মেঘদুতকে জানতে পারতাম না। মহাকবি কালিদাস তার শাস্তিকালীন সময়কার চিত্রটা  'কেনোপনিসেদ' থেকে যক্ষকে তুলে এনে আমাদের ক...

(২৭৬) জীবন কি শুধুমাত্র বৈচিত্রের মধ্যে একতা ?

ছবি
  (২৭৬)  জীবন কি  শুধুমাত্র বৈচিত্রের মধ্যে একতা ?  রেখায় রবীন                      সেদিন চা'য়ের টেবিলে আলোচনা করছিলাম নারী-পুরুষের সম্পর্কের বৈচিত্রতাকে   নিয়ে, সেই প্রেক্ষিতে, আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতায় একটা অপারেশনাল ম্যানুয়াল     লিখব।      কন্যা বলে উঠলো, 'তোমার বাংলা আমি হয়তো বুঝতে পারবোনা, যদি সেটাকে ইংরেজিতে ট্রান্সলেট করে দাও, তাহলে ভালো হয়'।  এই লেখাটি তারই মুখবন্ধ।  মানুষের জীবন যেন এক ধারাবাহিক যাওয়া-আসার পথ — জন্ম থেকে মৃত্যু, ঘর থেকে বাহির, আশা থেকে হতাশা।   কেবল সময় ও ঘটনা ভেসে বেড়াচ্ছে সে নিয়ত্রনের অতীত।   ক্ষণস্থায়ী হাসি-কান্না, সুখ আর তাকে অনুসরণ করছে প্রতিনিয়ত দুঃখ, এযেন  আলো-আঁধারে  ক্ষণস্থায়ী খেলা।  জীবনে যা কিছু আমরা পাই তা সাময়িক — দেখা পাই, কিন্তু ধরে রাখতে পারি না; ছুঁতে পারি, কিন্তু স্থায়ী হয় না। প্রিয়জন কিংবা স্বপ্ন আমাদের স্পর্শ করে চলে যায় দূরে, আর আমরা ব্যর্থ আকুলতায় কাঁদি। দুরাশা জেনেও জীবনের...

(২৭৫) বজ্রের বাঁদরামি

ছবি
(২৭৫)  বজ্রের বাঁদরামি  কবিদের সাথে মেঘের সম্পর্ক বেশ কয়েক সহস্র বছরের। মেঘ একাধারে কবির কাছে যেমন কাব্য সৃষ্টির প্রেরণা আবার  সেই মেঘই যখন পরস্পরের প্রতি আলিঙ্গনরত  হতে উদ্যত হয় তখন বজ্র এসে তার ঝলকানিতে মর্তবাসীর অস্তিত্ব বিসর্জনের দামামা বাজিয়ে তোলে।  কিই বা দরকার ছিল বজ্রের মেঘেদের পারস্পরিক আকর্ষণকে শঙ্খ নিনাদে তাকে সার্বজনীন করে তোলার।  সেই কবে দেবরাজ ইন্দ্র ভারতীয় দেবতাদের আসন অলকৃত করে ছিল, সারা ঋগ্বেদর প্রায় সমস্ত শ্লোক শুধু তাকে নিয়েই কবিরা তাই নিয়ে ব্যস্ত ছিল। হায় ! সময়ের কোপে পরে সে প্রায় বিস্মৃতির পথে।  ইদানিং, বরুণের হাত ধরে সল্প মেঘের বাতাবরণে আলোর উৎসবে সারা আকাশ মাতাচ্ছে। যারা একদিন তোমাকে দেবতাদের আসন থেকে বিচ্যুত করেছে ,  আজ সে আবার তার বজ্রহানা হেনে  সেই মানুষের সাথে অন্তরের সম্পর্ক ঘুচিয়ে একেবারে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে যারপর নাই আগ্রহান্বিত হয়ে উঠেছে। এতে করে মানুষ তোমার অযাচিত আগমনে আনন্দিত হবার পরিবর্তে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।  ************************************************** উষ্ণতার ঔদ্ধত্ব   এই পৃথিবীতে ম...