316 একটা ছোট্ট ছেলের মিষ্টি ভাবনার গল্প

316   একটা ছোট্ট ছেলের মিষ্টি ভাবনার গল্প  স্বপ্নের সিঁড়ির ছবি 


রাত বেশ গভীর। খোলা জানলা দিয়ে রুপালি আলোর বন্যা সারা ঘরকে আলোকিত করে দিয়েছে। মিতুন বিছানায় শুয়ে বিস্তীর্ন আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল - আচ্ছা ! "তারারা কি সত্যি কথা বলতে পারে?"

মনে মনে কথা বলা, যেন চাঁদ শুনতে পেয়ে গেলো, সে জানালা দিয়ে নেমে এসে যেন একটা ঝোলানো সিঁড়ি মিতুনের কাছ বরাবর নামিয়ে নিয়ে এলো। 

সে আর বিছানায় শুতে পারলো না।  পাশে দেখলো মা আর বাবা গভীর ঘুমে  আছন্ন। আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে খোলা জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। ভীষণ সাবধানে সেই পাদানিতে পা রাখলো।


 ব্যাস! মিতুন উঠতে লাগলো ,   জীবনে সে  এতো  আনন্দ পায়নি। যত উপরে উঠতে লাগলো, ততই চারপাশে কি সুন্দর  ঠান্ডা আর মিষ্টি বাতাস যেন তার ছোট্ট  শরীরটাকে জুড়িয়ে দিলো। কিছুদূর এগিয়ে যেতেই সে পৌঁছে গেলো এক আশ্চর্য জায়গায় , স্তূপাকৃত মেঘ একজোট হয়ে এক পাহাড়ের সৃষ্টি করেছে। কি অদ্ভুত সুন্দর  তাকে দেখতে ! ছোট ছোট পা মেলে যখন হাঁটছে, মনে হচ্ছে যেন নরম বালিশের  উপর দিয়ে  হেটে বেড়াচ্ছে। 



হঠাৎ, মেঘের আড়াল থেকে বেশ কয়েকটা খরগোশ এসে হাজির হলো। যে  খরগোশ আগে মিতুন দেখে এসেছে, এরা একটু অন্যরকম, রুপালি আলোর ঝলকানিতে চোখগুলিতে এক অদ্ভুত চঞ্চলতা সে লক্ষ্য করল। 

একটা খরগোশ তো মিতুনের গা-ঘেসে এসে দাঁড়ালো, তাকে বলল, "বেশ ! এতদিন  লাগলো আমাদের সাথে দেখা করতে, আমরা তো তোমায় খুঁজেই যাচ্ছিলাম। "

মিতুনের চোখে-মুখে বিস্ময়, সে বলল-
-" তোমরা আমাকে চিনলে কি করে ?"
খরগোশরা উচ্চস্বরে সবাইমিলে হেসে উঠলো -
-"যে শিশুরা ভাবতে ভালোবাসে, তাদের আমরা অনেক আগে থেকেই চিনি।"
 এরপরেই শুরু হয়ে গেলো খেলাধুলা। কেউ বা ৰংধেনুর রাস্তা ধরে দৌড়াচ্ছে, আবার কেউ মেঘের মধ্যে লুকিয়ে পড়ছে।  সে যেন এক রূপকথার মেলায় এসে পড়েছে। 
খেলতে খেলতে মিতুন দেখলো বাগানের সব ফুলের মাঝে মেঘ ফুলটিই কেবল কুঁকড়ে গেছে। মিতুন তার নতুন বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করলো -
- "ভাই ! কেন এমন হলো মেঘফুলের ?"
একটা খরগোশ আস্তে আস্তে বলল _
_ "যখন তোমাদের পৃথিবীর মানুষরা দুঃখে কাতর হয়ে উঠে, তখন এখানে একটা  ফুল কেঁদে উঠে। "
মিতুন এ কথা শুনে খানিকক্ষণ একদম চুপ করে রইলো। তারপর ধীরে ধীরে মেঘফুলের কাছে গিয়ে বলল _
_ "বন্ধু - কেঁদোনা। আমি তোমার কাছে প্রতিজ্ঞা করছি, পৃথিবীতে গিয়ে কাউকে দুঃখ পেতে দেবনা, সবাইকে আমি হাসবো।  যদি পারি, তোমার চোখের জল মুছিয়ে  দেব। "
ব্যস ! মুহূর্তের মধ্যে মেঘফুলের মুখটা যেন আনন্দে চকচকে হয়ে উঠল। সে মিতুনকে জড়িয়ে বলল - " সত্যি ! তুমি ভাই পারবে তো ?"
মিতুন বলল -" নিশ্চয়ই পারবো, তোমরা দেখে নিও। "
এই কথা শুনে সবাই আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠলো। 
তাদের মধ্যে নেতা যেই খরগোশটি, সে এসে মিতুনকে জড়িয়ে ধরে বলল -
- "ভাই, তুমি আমাদের এই গোপন শিক্ষাটা বুঝে গেলে - অন্যকে আনন্দ দেওয়া এক সত্যিকারের জাদুর মতো। "
তারপর সেই রুপালি সিঁড়িটা ঝলমল করতে করতে নিচের দিকে নামতে লাগলো। মিতুন চোখের জলে তার নতুন বন্ধুদের হাত নেড়ে বিদায় জানাল।
হঠাৎ চোখ খুলতেই সে দেখলো - সে কিন্তু নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। বাইরে চাঁদ  তখন তাকে দেখে বেজায় হাসছে। 
মিতুন মনে মনে বলল, নাই বা আমার শরীরটা সেই মেঘের দেশে যায়নি কিন্তু আমার  মনটা তো পাড়ি দিয়েছিল -
" আমি যে মেঘফুলকে কথা দিয়ে এসেছি। কাল থেকে আমি সবাইকে হাসব, কাউকে  দুঃখ পেতে দেব না। "

তারিখ ১৭/০৮/২৫ 

ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে  শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন।

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 




মন্তব্যসমূহ

Ani বলেছেন…
তোমার গল্প লেখায় ভালো মুন্সিয়ানা আছে, চালিয়ে যাও।
নামহীন বলেছেন…
অপূর্ব হয়েছে লেখাটা. ছোটদের ভীষণ ভালো লাগবে.
নামহীন বলেছেন…
এই গল্পের সাথে তোমার আঁকা ছবি থাকলে আরও জমে যাবে

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)