317 মুক্তি চেতনায় উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
317 মুক্তি চেতনায় উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
জন্মের প্রথম লগনে দুঃখ এসে বাসা বেঁধেছিলো মানুষের মনে। সারা জীবন ধরে মানুষ সংগ্রাম করে গেছে সেই দুঃখের ওপারে পৌঁছানোর। মানব জীবনে মাঝে মাঝে কিছু পথ প্রদর্শক এসে বলেছেন, দুর্গম যে আপন মনের অন্তরালে, তাকে একমাত্র দূর করতে পারে যে তোমাকে অকৃপণ হস্তে দান করছেন সকল দুঃখ দুর্দশা। তাকেই ভালোবেসে, তার কাছ থেকে আদায় করে নাও মুক্তির ঠিকানা।
কবি তার কবিতায় বলছেন, প্রকৃতির স্পর্শে দূর হয়ে যাবে যুগসঞ্চিত হতাশা, হৃদয়ের অন্ধকার আর জাগ্রত হবে অন্তরাত্মা। এইটা একটি পরিবর্তনের চক্র। যা অন্তরে আন্দোলিত হয় অর্থাৎ আন্দোলন করতে হয় আর সেই আন্দোলনের লবকুশরা এত দিন অন্যান্য কবি সাহিত্যিকদের সৃষ্টিতে অভিজাত সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রাধান্য পেয়ে এসেছিলেন। কবি সেখানে শ্রেণী বিভেদকে বহুদূরে পাঠিয়ে কিষান, শ্রমিক, গ্রামের প্রত্যন্ত মানুষদের কবিতার কেন্দ্র বিন্দুতে নিয়ে এসেছিলেন। কবিতা যে সার্বজনীন- এই বার্তা কবি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
একটা বিশ্বাসবোধ কবির অন্তরে দীপের ন্যায় প্রজ্জ্বলিত ছিল তার শিখাকে পাঠকের অন্তরে জাগ্রত করার কাজটি তার সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করেছেন। মানুষের আত্মার মধ্যে এক আশ্চর্য্য শক্তি আছে আর সে মানুষকে সত্যের পথে টেনে নিয়ে যায়। বাইরে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না, সে অন্তরেই বাস করে।
অন্য অনেকের মতো কবি ফরাসি বিপ্লবকে মানুষের দুঃখ নিবারণের প্রতীক হিসাবে ভেবে ছিলেন এবং তাকে সমর্থনও জানিয়েছিলেন। কিন্তু অচিরেই সেই বিশ্বাসবোধটা হারিয়ে ফেলেন তার রক্তক্ষয়ী পরিণতি দেখে। তবুও তিনি সেই বিশ্বাসকে সারাজীবন ধরে আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন - শিক্ষা আনে চেতনাকে আর চেতনাই মুক্ত করে মানুষের বন্দীদশাকে।
তারিখ ১৮/০৮/২৫
মন্তব্যসমূহ