৩১১ ফিরে দেখা সত্তরের দশক ( দ্বিতীয় পর্ব )

 ৩১১ ফিরে দেখা সত্তরের দশক ( দ্বিতীয়  পর্ব )

এক সময়ে, বেলেঘাটা অঞ্চলকে ঘিরে বেশ কিছু ফ্যাক্টরি ছিল। তাদের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার মধ্যে  উল্লেখযোগ্য ছিল বেঙ্গল পটারী, ন্যাশনাল রাবার ফ্যাক্টরি, স্মল টুলস ইত্যাদি। একে একে সব ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেল, তাদের ঘরে ঘরে নীরব আর্তনাদ অনিমেষদের কানে পৌঁছেছিল। সামর্থের মধ্যে ছিল মধুবাবু, খালের ওপারের রমেশবাবুর রেশন দোকান থেকে সপ্তাহের রেশনটা বিনা পয়সায় পাঠানোর  ব্যবস্থা করা আর কিছু উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে সাহায্য।  

*********************************************

একটি রাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতে না পেরে শাসক  একের পর এক এনকাউন্টার করতে শুরু করলো। হঠাৎ একদিন দিনের বেলায় জোড়ামন্দিরের রাধামাধব দত্ত গার্ডেন লেন ও তার পার্শবর্তী অঞ্চল  থেকে অনিমেষের একান্ত বন্ধু আশীষ, মানু (দুইভাই), পল্টনদের পুলিশ  হত্যা করে, রাসমণি বাজারের মুরারিকেও  এইভাবেই হত্যা করে, তাদের দমন পীড়নকে অব্যাহত রাখে। 

**********************************************

সেদিন অনিমেষ মিলির চোখে আগুন দেখেছিলো, যেদিন লাল পতাকা হাতে নিয়ে শ্লোগান দিতে দিতে কলেজস্ট্রীট দিয়ে মিছিলটা এগিয়ে যাচ্ছে, এমন সময় অনিমেষ মিলির  হাতটা চেপে ধরলো। 

--"পিছু হটবো না মিলি। "

-- "প্রাণের ভয় পেলে বিপ্লব হয় না. " মিলির ঠোঁটে চ্যালেঞ্জ। 

এই মেয়েটির জন্যিই অনিমেষ বিশ্বাস করে - বিপ্লব সম্ভব। 

*******************************************

সকাল দশটার আশেপাশে আবার পুলিশ ঘিরে ফেললো সি আই টি বিল্ডিংস।  বোমা বন্দুকের আওয়াজ আর ধোঁয়া। 

অনিমেষ সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলো, কিন্তু তার সহযোদ্ধার একে একে ধরা পরে গেলো। এই প্রথমবার মনে হল বাবার সতর্কতা কি তবে সত্যি ? *************************************************

সেই রাতে অনিমেষ জানালার পাশে বসে মিলির দেওয়া লাল পতাকা হাতে নিয়ে বিড়বিড় করলো -

-- "এটা বিপ্লব নয়। ...... এইটা  আত্মঘাত। "

ভোরের আগেই নিঃশব্দে নিজের জীবন শেষ করলো সে। 

******************************************

মৃত্যুর খবর শুনে মিলি ভেঙে পড়লো, কিন্তু শোকের ভিতর শপথ নিলো ---

"আমার প্রেমিক হারিয়ে গেছে, কিন্তু আমার বিশ্বাস নয়। "
সে নতুন নেতৃত্বে এগিয়ে আসে। 
*********************************************
মিলির পরিকল্পনা -অস্ত্রকে বিসর্জন, কোন লুটপাট নয়, নিরীহ লোককে হত্যাও নয়। আন্দোলনকে আবার মানুষের মাঝে ফিরিয়ে আনতে হবে। সেই মিটিংএ রতন সমর্থন করে, কিন্তু সবাই একমত হয় না। 
*********************************************
ওদিকে পুলিশও বসে থাকে না।  লালবাজারে পুলিশ কমিশনারের ঘরে মিটিং। 
--"ও মেয়েটি আমাদের সমস্যার সৃষ্টি করছে। মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনছে।  বাজারে গুজব ছড়াও - সে পুলিশের গুপ্তচর" । 
কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মিলির উপর দলের সন্দেহ জন্মে যায়। 
***********************************************
১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস। বিশাল মিছিলে লাল পতাকা হাতে মিলি। হঠাৎ  গুলির শব্দ -তারপরেই পতন। 
মাটিতে লুটিয়ে পড়ার আগে মিলি দেখে-- পতাকাটা আকাশে উড়ছে, সূর্য্যের আলোয়  রঙ লাল থেকে সোনালী হয়ে যাচ্ছে। 
***********************************************
কলকাতার মানুষ বলল --" সে ছিল একজন সত্যিকারের বিপ্লবী"।  
অনিমেষ আর মিলি -- একজন হারাল নিজের বিশ্বাস, আরেকজন বিশ্বাস নিয়ে  হারালো জীবন। 
" বিপ্লব বন্দুকের হতেই  পারে না , সে যে এই প্রেমহীন জগতে একান্ত ভালোবাসা।  আর প্রেমকে হারালে বিপ্লবই  মরে যায়। "

তারিখ ১৩/০৮/২৫ 

ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে  শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন।

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)