৩১৪ Che Guevara The Revolutionary Icon all the Time (part V)

৩১৪   Che Guevara The Revolutionary Icon all the Time (part V)



বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট বারিয়েন্টোস এতদিন বলে আসছিল যে দেশের অভ্যন্তরে যে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে, তখন কেউ বিশ্বাস করে নি ; অবশেষে  লা হিগুয়েরা জঙ্গলে চে'র উপস্থিতি প্রমান করলো,  সেটি আদতে  মনগড়া কোন খবর নয়। এক সময়ে ওয়াশিংটন তো  ব্যাপারটা প্রেসিডেন্টের একটা চাল বলেই ধরে নিয়েছিল।
চারিদিকে থমথমে পরিবেশ, ইতস্ততঃ সাংবাদিকদের দৌড়াদৌড়ি, আন্তর্জাতিক প্রেসের কাছে খবর এসেছে চে গুয়েভারা গ্রীন ব্যাটেল আর্মির হাতে লা হিগুয়েরা জঙ্গলে  ধরা পড়েছে।  
চে যেমন প্রকাশ্যেই বলে এসেছেন যে - আগামী দিনে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিউইয়র্ক -এর নামকে মুছে দেবার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ঠিক তেমনি গোটা  ল্যাটিন  আমেরিকা ও আফ্রিকার উপর আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা  সি. আই. এ. চে'র গতিবিধির উপর নজর রাখছিলো। 
ঘটনাটি যখন নজরে এলো, তখন  বলিভিয়ার প্রত্যন্ত এক অঞ্চল থেকে ফরাসি সাংবাদিক রেজি দ্রবেকে বলিভিয়ার সামরিক বাহিনী গ্রেফতার করে, সেই সময় থেকে। রেনি বারিয়েন্টোস প্রচার করে দেন দ্রবে কিউবার বিপ্লবকে গোপনে নিয়ে এসে   বলিভিয়ায় রোপন করেছেন। শুধু তাই নয় , তিনি চে'র একজন নির্ভরযোগ্য অনুচর। ঘটনার মোড় এইভাবে ঘুরে যায় যে, দ্রবেকে বারিয়েন্টোস  ফাঁসিকাঠে ঝুলিয়ে দেবেন।  বিশ্বজুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়। বার্টান্ড রাসেল পর্যন্ত বিচলিত হয়ে ওঠেন, জা পল সাঁত্রে প্যারিসের এক জনসভায় বলেই বসেন, আসলে গেরিলা যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তার করে নি, তার "বিপ্লবের মধ্যে বিপ্লব" বইটি লেখার জন্য আটক করা হয়েছে। বইটার ভিতরের বিষয়বস্তুতে দ্র্রবে মাওয়ের ভাবনাকে বেশ খানিকটা পিছনে রেখে ফিদেলকে একদম মার্কস, লেলিনের পদমর্যাদায় ভূষিত  করতে চেয়েছিলেন আর চে গুয়েভারাকে তার প্রাপ্য মূল্য দেননি।  
 চে'র বলিভিয়া আগমন আর আমেরিকার দ্বিতীয় ভিয়েতনামের আশঙ্কার কথা পেন্টাগন উড়িয়ে দিতে পারছেনা। 
চে'র সাথে সোভিয়েতের মতাদর্শগত সংঘাত ধীরে ধীরে সোভিয়েতের উপর একান্ত নির্ভরশীল  ফিদেলের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ দিনের সংগ্রামের বন্ধু চে'র  সাথে এই কারণে ব্যবধান বেড়ে যায় এবং রাষ্ট্রীয় সবরকম পদ থেকে চে অপসারিত হয়।  কমুনিজম আদর্শের প্রতি একান্ত বিশ্বস্ত সৈনিক চে গুয়েভারা ছিলেন অকুতোভয়।  
১৯৬৫ সালে আফিকার কঙ্গোতে প্রবেশ করে বিপ্লব সংগঠিত করবার চেষ্টা করেন কিন্তু সাংগঠনিকভাবে দুর্বল এবং বিশৃঙ্খল সহযোদ্ধাদের নিয়ে সেই উদেশ্য পূরণ হয় না। তারপরে দীর্ঘদিন চে'র কোন খবর পাওয়া যায় না। 

১৯৬৬ সালের নভেম্বর মাসে ভিন্ন নাম ও ছদ্মবেশে বলিভিয়ার প্রবেশ করেন। বলিভিয়ার আসার উদেশ্য ছিল, এই রাজ্যটির ভৌগলিক অবস্থানটি থেকে ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ রাখার পথে অনুকূল। 

যেটা না বুঝলে,চে'কে কোনদিনই চেনা যাবেনা, যার কারণ হল -একজন জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রনায়কের কাছে দেশের মানচিত্রটার শেষ কথা হলে অপরদেশের প্রান্তিক রেখাটা, সেখানে চে গুয়েভারার কাছে সেগুলি ছিল সম্পূর্ণ অর্থহীন। কঙ্গোর কালো মানুষগুলির দুঃখ-বেদনার কারণ তিনি খুঁজে পেয়েছেন পেরুর তামা শ্রমিকের ঘামের গন্ধে।    ধর্ষিত মানবাত্মার ক্রন্দনের যে রোলটা উঠছিলো গুয়েতেমালার কলা বাগানের সেই  ক্রীতদাসদের  অন্তরে দীর্ঘ পথ আর বেশ কয়েকটি দেশকে অতিক্রম করে বলিভিয়ার টিন শ্রমিকের গলার কাছে দলা পাকানো কান্নার সাথে সেই কান্নার কোন প্রভেদ খুঁজে পাননি।  হয়তো, আমাদের অদ্বৈতবাদীরা বলবেন ,একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের উপলদ্ধি একই রকম হতেই হবে। তাইতো, চে পৃথিবীর কোন এক অজ্ঞাত স্থান থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন, এই বিশ্বের যে কোন স্থানে মানবতা ধর্ষিত হবে   সাম্রাজ্যবাদীদের এবং পুঁজিবাদের হাতে, সেখানেকার সেই সাম্রাজ্যবাদী এবং পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি সর্বদাই প্রস্তুত সাধারণ মানুষের মুক্তি সংগ্রামের পাশে। সেখানে তাঁর মৃত্যু যদি অতর্কিতে নেমে আসে, তাহলে তিনি দুহাতে তাকে স্বাগত জানাবেন, এর সাথে আরো বেশি আনন্দিত হবেন, যদি দেখেন সেই সংগ্রামের আহবানে কিছু আত্মকেন্দ্রিক মানুষের আত্মায় প্রভাব বিস্তার করতে  পেরেছেন এবং যুদ্ধ ক্ষেত্রে আহত হয়ে তাঁর পরে যাওয়া রাইফেলটি তুলে নেবার জন্য অপর একটি হাত প্রসারিত হয়ে রাইফেলটিকে আলিঙ্গন করছেন। অন্তোষ্টি ক্রিয়ার সময় মন্ত্রপাঠের অসমাপ্ত কর্মটি মেশিনগানের বিরামহীন গুলির শব্দ ভরিয়ে দেবে আর তার সঙ্গে গলা মিলিয়ে শোকযাত্রার সঙ্গী বহু মানুষেরা আগামী দিনের সংগ্রামকে আহ্বান  করবেন গানে গানে। শুরু হয়ে গেছে  নতুন রণাঙ্গনে  আহুতির আহবান, হয় মুক্তি নয় মৃত্যু। 

বাস্তবের জমিতে অবগাহন করে কমিউনিস্টদের ভাবনা অনেক পরিণত, কেননা তারা মুক্ত যে কোন সংস্কার থেকে, আদর্শকে সামনে রেখে এগনোর পথে প্রতি পদে পদে শোনিত রক্তে পথ পিচ্ছিল হতে পারে, এই পৃথিবীতে বিনিময় ছাড়া কিছুই লাভ করা যায় না। সেই রক্তই ছিনিয়ে নিয়ে আসবে স্বাধীনতা। 

চে'কে হত্যার পর ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ থেকে  সি. আই. এর. একটা সূত্র থেকে সংগৃহিত দলিলের প্রতিলিপির বাংলায় অনুবাদিত -
ওয়াশিংটন, ডি.সি.--
"১৯৬৭ সালের ৯ অক্টোবর বলিভিয়ার সৈন্যরা আর্নেস্তো "চে" গুয়েভারাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যাদের প্রশিক্ষণ, সজ্জিত এবং মার্কিন গ্রিন বেরেট এবং সিআইএ কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হত। তার মৃত্যুদণ্ড এখনও একটি ঐতিহাসিক এবং বিতর্কিত ঘটনা; এবং ত্রিশ বছর পরেও, বলিভিয়ায় তার গেরিলা অভিযানের পরিস্থিতি, তাকে ধরা, হত্যা এবং সমাধিস্থ করা এখনও বিশ্বজুড়ে তীব্র জনস্বার্থ এবং আলোচনার বিষয়।
চে গুয়েভারার মৃত্যুর ত্রিশতম বার্ষিকীর অংশ হিসাবে, জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণাগারের কিউবা ডকুমেন্টেশন প্রকল্প গুয়েভারা এবং তার মৃত্যু সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিআইএ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং পেন্টাগনের ডকুমেন্টেশনের একটি নির্বাচন প্রকাশ করছে। এই ইলেকট্রনিক ডকুমেন্ট বইটি জাতীয় নিরাপত্তা সংরক্ষণাগার দ্বারা প্রাপ্ত ডিক্লাসিফাই করা রেকর্ড এবং গুয়েভারার উপর দুটি নতুন বইয়ের লেখকদের দ্বারা সংকলিত: জর্জ কাস্তানেদার কম্পানেরো: দ্য লাইফ অ্যান্ড ডেথ অফ চে গুয়েভারা (নপফ), এবং হেনরি বাটারফিল্ড রায়ানের দ্য ফল অফ চে গুয়েভারা (অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস)। নির্বাচিত নথিগুলি, যা তাদের চিত্রিত ঘটনাবলীর ক্রমানুসারে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা বলিভিয়ায় চে গুয়েভারার গেরিলাদের ট্র্যাক এবং "ধ্বংস" করার জন্য মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক মূল্যায়ন, প্রতিবেদন এবং বিস্তৃত অভিযানের একটি আংশিক চিত্রই প্রদান করে; চে গুয়েভারার উপর হাজার হাজার সিআইএ এবং সামরিক রেকর্ড গোপন রাখা হয়েছে। তবে তারা তার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড এবং তার মৃত্যুর পূর্ববর্তী মার্কিন ও বলিভিয়ান কর্মকাণ্ডের উপর নজর রাখার ক্ষেত্রে উচ্চ-স্তরের মার্কিন আগ্রহ সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য এবং মূল্যবান তথ্য প্রদান করে।"

তারিখ ১৬/০৮/২৫ 

ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে  শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন।

rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 














মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)