৩৩২ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - ৩

৩৩২   কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - ৩

যদি একমত হন, তবে বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করুন 

          
 
            আমরা সব প্রাণীই ব্রহ্মস্বরূপ 

একদিন গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাঁটছি , একপাল ছাগল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তার মধ্যে একটা ছাগল ঘুরে গিয়ে  তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমাকে দেখতে লাগলো। 
হাবেভাবে মনে হচ্ছে, সে যেন বলতে চাইছে - " ওরে বাবা, তুমি মানুষ বলে নিজেকে খুব বড় ভাবছো? তুমিও এই পৃথিবীর জল-বায়ু খেয়ে থাকো, আমিও সেটাই খেয়ে বাঁচি। আমরা জমি থেকে শুধু ঘাস-পাতা খাই, তোমরা সেগুলিকে  রান্না করে খাও। পার্থক্য শুধু একটাই - আমরা সোজা পথে খাই আর তোমরা ঘুরপথে খাও। "
আমার মনে হলো সে ছাগল হলে কি হবে, বেশ তো বুদ্ধিমানের মতো কথাটা বলল- কথাটাতো ঠিকই বলেছে। তাহলে। ফারাকটা কোথায় ?
                                                      জ্ঞান ও অজ্ঞানের মানচিত্র  
প্রত্যেক আত্মা বা চৈতন্যই  যেন মেঘে( অহংকারে) ঢাকা সূর্য্যের মতো, আর একজনের সঙ্গে আর একজনের তফাৎ কেবল এই - কোথাও সূর্য্যের উপর মেঘের ঘন আবরণ, কোথাও এই আবরণ একটু হালকা। জ্ঞাতসারে  বা অজ্ঞাতসারে এটা সব  ধর্মের ও  প্রাণীদেরও  ভিত্তিস্বরূপ; আর ভৌতিক, মানসিক বা আধ্যাত্মিক ভূমিতে মানবের উন্নতির সমগ্র ইতিহাসের সার কথাটিই এই - আত্মার স্বরূপের কখন ব্যক্ত, কখন বা অব্যক্ত ভাব হচ্ছে।


                                  ক্ষত্রিয়ের উদারতা আর ব্রাহ্মণের সংকীর্ণতা
যখন ক্ষত্রিয়রা ধর্ম প্রতিষ্টা ও শাস্ত্র  লেখার উপাদান দিচ্ছেন -শ্রীরাম, ভগবান কৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ ও মহাবীর - তখন তার বলেছেন-
"সবাই মানুষ, সবার অধিকার আছে সত্য খুঁজে নেবার। "
কিন্তু ব্রাহ্মণসম্প্রদায় সেই পথে তালা ঝুলিয়ে পাহারাদার বসিয়ে দেয়। "
অর্থাৎ বেদ যেন তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি -  শূদ্র ও নারীরা পাছে পড়ে নিয়ে শিক্ষিত হয়ে যায়, তাহলে তো তাদের বুজরুকি ধরে ফেলবে, নারী পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে কথা বলবে  আর শাসকের যথেচ্ছাচারকে ধরে ফেলবে- তাই সত্যকে  তালা বন্ধ করে রাখো। 

ক্ষত্রিয়রা যেখানে মাংস খেয়ে দিব্যি গীতার বাণী শোনালেন,
ব্রাহ্মণরা সেখানে শুধু মাংসের পাতে আঁকড়ে ধরে বললেন—
“ওরে বাপরে! ঈশ্বর কষ্ট পাবেন।”

প্রশ্ন হলো—ঈশ্বর যদি সত্যিই কষ্ট পান, তবে কি তিনি এতই দুর্বল যে এক টুকরা মাংস  তাঁকে বেহুঁশ করে দেয়?



                                 ঈশ্বরের শক্তি আর মানুষের কুসংস্কার 

ভাবুন তো—
যিনি আকাশগঙ্গায় কোটি কোটি নক্ষত্র জ্বালিয়ে দিলেন,
সমুদ্রের ঢেউ তুললেন, পর্বত গড়লেন—
তাঁর কি তবে এক কড়াই মাংসের ঝোল সহ্য করার ক্ষমতাও নেই?

এমনিই যদি  ঈশ্বর হতেন, তবে তাঁর দাম এক কড়ি কানাকড়িও হতো না। বরং আমাদের গলির দিনু ময়রা প্রতিদিন দশ হাঁড়ি জিলিপি ভেজে, এককাঁড়ি  ধোঁয়ার মধ্যেও দিব্যি দাঁড়িয়ে থাকে। ও মিষ্টিওয়ালা যদি টিকে থাকতে পারে, তবে ঈশ্বরের পক্ষে ছাগল-মুরগি ম্যানেজ করা কোন ব্যাপারই নয়।
তাই স্বামী বিবেকানন্দের কথায় আবার ফিরে যেতে হয় -
“ধর্ম মানে যদি কেবল জাতপাত আর খাওয়াদাওয়ার নিয়ম হয়, তবে সেটা ধর্ম নয়, বরং কুসংস্কার।”

তাঁর কথায়, আত্মা যখন সর্বত্র সমান, তখন কারও গায়ে “তুমি শূদ্র”, কারও গায়ে “তুমি অচ্ছুত”—এগুলো কেবল মানুষের বানানো ভাঁওতা। বাধাহীন শোষণকে কন্টকমুক্ত করার জন্য বিভাজন। বিবেকানন্দের ধর্ম মানে হলো—সকল জীবকে ভালোবাসা, কারণ সকলেই সেই এক ব্রহ্মের প্রকাশ। 

ব্লগার- রবীন মজুমদার 
তারিখ -১৬-০৯-২৫
ভালো লাগলে শেয়ার করুণ -

rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

Ani বলেছেন…
এটাও খুবই ভালো। শেয়ার করছি
Ani বলেছেন…
এটাও খুবই ভালো। শেয়ার করছি

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)