৩৫৯ নব আঙ্গিকে মহাভারত ( ২য় পর্ব )

 ৩৫৯ নব আঙ্গিকে মহাভারত  ( ২য়  পর্ব ) 


প্রথম পর্বে---সত্য ভোরের আলোর মতো সচ্ছ, তাকে যতই আড়াল করার চেষ্টা করা হোকনা কেন, সে তার স্বকীয়তাকে হারাবেনা। আরেকটা রূপ আছে সত্যের, মিথ্যা যতই আত্মগোপন করুক না কেন,  সত্য ভিন্ন ভিন্ন রূপে এসে তার স্বরূপকে  উদ্ঘাটন করবেই। এই মহারণে অর্জুন, দ্রৌপদী আর কৃষ্ণ তথ্য, সত্য ও সাহসের উপর নির্ভর করে মিথ্যাকে হত্যার দায় নিতে প্রস্তুত। 

তার পর..............

ইন্দ্রপুরী  শহরে সকাল মানে এখন এক কাপ কফি নয় বরং কনটেন্ট। যে আগে “গুড মর্নিং” বলত, সে এখন বলে “গুড ট্রেন্ডিং।”

দ্রৌপদী সেন, “সত্যসন্ধান” নিউজ পোর্টালের সম্পাদক।
চুলগুলো এলোমেলো, চোখে গতকালের নিদ্রাহীনতার ছাপ ফুটে উঠেছে, সেই সব ভেদ করে অন্তরের ধিকি ধিকি করে জ্বলন্ত  আগুনের লেলিহান শিখা উদ্ভাসিত হয়ে উঁকি দিচ্ছে। 
সে জানে, তার প্রকাশ করতে যাওয়া রিপোর্টটা সরকার, কর্পোরেট, আর মিডিয়া—সবাইকে উলঙ্গ  করে দেবে।

রিপোর্টের ক্যাপশন  — “দুর্যোধন সিন্ডিকেট: মিথ্যার বেসাতির ও অবৈধ অর্থের চক্র।”

দ্রৌপদী জানে, এই রিপোর্ট বেরোলেই তার বিরুদ্ধে খেলা শুরু হবে। আর ঠিক তাই হলো।
সকালের প্রথম হেড লাইন - সরকারের পোষা  নিউজ চ্যানেলগুলো তুমুল চিৎকারে বলছে—
“দ্রৌপদী সেন: দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের মুখ!”
“বিদেশি এজেন্টের সঙ্গে লেনদেনের প্রমাণ মিলল!”
টিভি স্ক্রিনে তার মুখ, চোখের ক্লোজআপ, আর নিচে স্ক্রল করে চলেছে "ব্রেকিং নিউজ ।”
দ্রৌপদী প্রথমে হাসল, তারপর উত্তেজনায় কেঁদে ফেলল। তবে কান্না তার দুর্বলতার নয়, রাগের। সে জানে — এবার যুদ্ধটা আর একার নয়, তাকে সে সার্বজনীন করে দিয়েছে।

পাশার খেলা

অন্য প্রান্তে দুর্যোধন , এক মিডিয়া ম্যাগনেট ও রাজনীতিক, নিজের পেন্টহাউসে টেলিভিশনের সামনে বসে খবরটা দেখছে। মুখে সিগারেট, পাশে ল্যাপটপটা খোলা , আর টেবিলের উপর একটা ডাইস— হ্যাঁ, সত্যি পাশা।
সে হেসে বলল, “সব যুদ্ধের শুরুই মিথ্যা দিয়েই  হয়।”

তার পাশে কর্ণ বসে আছে— একজন প্রযুক্তিবিদ, দুর্যোধনের পক্ষে কাজ করছে, কারণ সে বিশ্বাস করে— এই সমাজ দলিত বলে তার শিক্ষাকে কোন দিন মান্যতা দেয় নি, কিন্তু সে মনে প্রাণে ন্যায়ের পক্ষে। তার আত্মগরিমাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য, তাই এখন সে অন্যায়ের পাশে থেকেও ন্যায়ের খোঁজ করে যাচ্ছে। 

 দুর্যোধন কর্নকে বলল, “দ্রৌপদীর সব বানানো ডেটা যত্ন করে ফাঁস করে দিতে হবে। দেখি, এই সমাজ কতটা সহ্য করতে পারে এক জন সৎ মহিলাকে।”

কর্ণ চুপ। মনের মধ্যে ন্যায়- অন্যায়ের দ্বন্দ্ব চলছে। 
তার আঙুল কিবোর্ডে এসে বার বার থেমে যাচ্ছে।

এক মুহূর্তের জন্য তার স্ক্রিনে Krish-AI–এর পুরনো বার্তা ঝলসে উঠল—
“কর্ণ, যা করছো, তাতে সাময়িকভাবে জিতবে হয়তো, কিন্তু যাকে উদ্ধার করার জন্য তুমি জীবনপাত করছো, সেই সম্মান কখনো পাবেনা। ”
সে কৃষ্ণের কথায় সায় না দিয়ে নিঃশব্দে সেই বানানো ফাইলটা পোস্ট করে দিলো।  
পাঠিয়ে দিয়ে দুর্যোধনকে বললো , “হয়ে গেছে , স্যার।”

 ডিজিটাল সভায় দ্রৌপদীর অপমান

রাত ৯টা। ট্রেন্ডিং হ্যাশট্যাগ: #DraupadiExposed

লক্ষ লক্ষ মানুষ, যারা তাকে চিনত না, তার ছবিতে মন্তব্য করছে। কেউ বলছে “নাটক করছে,” কেউ বলছে “দেশদ্রোহী।”একজন লিখেছে—“এমন মেয়েরা জাতির লজ্জা।”

দ্রৌপদী ফোনটা বন্ধ করল। নারীসুলভ আবেগতাড়িত হলেও চোখ তার শুকনো।কারণ সে জানে—এই অপমানের পেছনে আছে এক বহু কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানিক হিংসা। যে সমাজ সত্যকে সহ্য করতে পারে না, সে নারীকে দোষ দেয়।

ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল। অন্য প্রান্তে অর্জুন।
“দ্রৌপদী, এখন যুদ্ধ শুরু হবে। আমরা তোমার পাশে।”
“কিন্তু কে আমরা?”
“আমি, কৃষ্ণ, আর সত্য।”

দ্বিতীয়  পর্ব শেষ আবার তৃতীয়  পর্বে দেখা হবে। 
ক্রমশঃ 
ব্লগার- রবীন মজুমদার 
তারিখ -০২/১১/২৫
ভালো লাগলে শেয়ার করুণ -
rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)