মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪৪তম অধ্যায় || (১০৭) Searching for hidden Truth (12) প্রকৃত জ্ঞানের অভাবে যে বুদ্ধির অপুষ্টিজনিত ব্যাধি হয় এবং তা ইন্দ্রিয়দোষে দুষ্ট হয়ে মিথ্যাকে সত্য বলে অনুভব করে, সেই অবস্থাটাই মায়া। গত সংখ্যার পর........ দৃষ্টির বিবর্তন - মানুষের দৃষ্টি দুই প্রকার- যে দৃষ্টি বস্তুর বাহ্যিক রূপকে কেন্দ্র করে প্রতিক্রিয়া দেয়, তাকে বলে লৌকিক দৃষ্টি। যে দৃষ্টির প্রেক্ষাপট ঈশ্বর বা ব্রহ্মকে কেন্দ্র করে আবর্তিত অর্থাৎ কারণ বস্তুকে নিয়ে; তাকে বলে পারমার্থিক দৃষ্টি। লৌকিক আর পারমার্থিক এই দুই দৃষ্টির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে মায়া বা অজ্ঞান। যখন লৌকিক বা অজ্ঞান অবস্থায় জ্ঞানের ভেরিয়েন্টের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে অজ্ঞানের পাত্রকে নিঃশেষ করে ফেলবে তখন দৃষ্টির চারিত্রিক এবং সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটবে। দৃষ্টি তখন পারমার্থিক হয়ে উঠবে। দৃষ্টি এই ভিন্ন অবস্থায় কি কাজ করে - প্রথমে দেখা যাক পারমার্থিক দৃষ্টি কি কাজ করে। সে বস্তুর স্থুল রূপ ভেদ করে সুক্ষ রূপকে খুঁজে তাকে প্রকাশিত ...
পোস্টগুলি
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪৩তম অধ্যায় || (১০৬) Searching for hidden Truth (11)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪৩তম অধ্যায় || (১০৬) Searching for hidden Truth (11) মায়া পরমব্রহ্মর বশ আর জীব মায়ার বশ। গত সংখ্যার পর........ জগৎ মায়াময় - ব্রহ্ম থেকে জগৎ সৃষ্টি ও স্থিতি অবশেষে বিলীন এই ব্রহ্মতেই । জগৎ দেশ কাল পরিমিত অর্থাৎ সে নিয়ম কানুনে আবদ্ধ। যে স্বভাবগত ভাবে বহুভাগে খণ্ডিত , মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তনশীল বা পরিবর্তনশীলতা যার ধর্ম তাই সে সত্যে ধর্মের বিপরীত মেরুতে দাড়িয়ে আছে , তাই সে মিথ্যা এবং সেই কারণেই জগৎ মিথ্যা। তাই এই জগৎ মায়াময়। এই জগৎ কতক্ষন সত্য - যতক্ষন পর্যন্ত মানুষের অদ্বৈত জ্ঞানের উন্মেষ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ এই জগৎকে ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ করতে পারছে। আত্মবিকাশের একটা পর্যায়ে মানুষ যখন উপলদ্ধি করবে, তখন বিলোপ ঘটবে বস্তুর দ্বৈত চরিত্রের ঠিক তখনই তার কাছে জগৎ মিথ্যা হয়ে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় নেকলেস, হার, চুড়ি, আংটি ইত্যাদি সোনা নামক ধাতুর বিকৃত রূপ। সোনাকে বাদ দিলে নেকলেসের কোন অস্তিত্ব থাকেনা , সুতরাং নেকলেস স্বতন্...
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪২তম অধ্যায় || (১০৫) Searching for hidden Truth (10)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪২তম অধ্যায় || (১০৫) Searching for hidden Truth (10) বাইরে খুঁজে কিছু লাভ নেই, মনের দেশের গহন প্রদেশে শান্তির বাস, ওখানে গেলে সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যাবে। ছোট্ট একটা প্রেসক্রিপশন, যাতে লেখা ছিল প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্তি লক্ষণ ধর্মের রাস্তায় হাঁটার অভ্যাস করলে এই রোগের উপশম হবে । গত সংখ্যার পর........ লালন ফকির সেই দর্শনের কথা তার গানে বলে গেছেন ...... মন তুই রইলি খাঁচার আশে , খাঁচা যে তো কাঁচা বাঁশের কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে লালন ফকির কয়। মন যে মানে না, তার রাজ্যে প্রবৃত্তি যে রাজা আর তাকে পেতে কোনো কষ্ট হয়না। মন এই ভাবনা থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারেনা, শুধু খাঁচার অর্থাৎ দেহের মধ্যে দিয়ে মনের তৃপ্তি , সেই চিন্তায় ব্যস্ত। যে দেহ নিয়ে মানুষের মিথ্যা অহংকার, সে তো কাঁচা বাঁশের তৈরী, যে কোন সময়ে ভেঙ্গে পড়তে পারে। এই অবুঝ মন আত্মদর্শন করতে দিচ্ছে না। সেই পথে হাটতে গেলে অনেক কিছুকে ত্যাগ করতে হয় তবেই পরমাত্মা বা পরম ব্রহ্ম-এর সাথে পরিচয় হয়।...
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪১তম অধ্যায় || (১০৪) Searching for hidden Truth (9) গত সংখ্যার পর........ " কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে " - বাউল শিল্পী গগন হরকরার বিখ্যাত সেই গান। জীব মাত্রই স্থায়ী শান্তির জন্য লালায়িত। মানুষ এর মধ্যে এক উন্নততর জীব। যুগ- যুগান্তর ধরে তার ( অর্থাৎ পরমব্রম্মের) খোঁজ চলে আসছে ভিন্ন ভিন্ন ধারায়। পথ ও মত হয়তো আলাদা কিন্তু লক্ষ্যটা এক সে হচ্ছে বন্ধন থেকে মুক্তি । যেই ক্ষেত্রটার উপর মুক্তির সৌধ নির্মিত হবে তার নাম মন। এখানে মনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে "ক্ষেত্র " শব্দটা লিখতে হল, যা চরিত্রগত ভাবে জড় গোত্রের মধ্যে পরে। কাম্য বস্তুকে পেতে গেলে অনুসন্ধান করতে হবে। কাম্য বস্তুটা কি ? তা হল চিরস্থায়ী শান্তি লাভ । একদিন মানুষ বাইরের জগৎ থেকে ভুরি ভুরি সুখ আর সমৃদ্ধি এনে ঘর ভরিয়ে ফেললো। কিছুদিন ভোগ করার পরে সে গুলিতো পুরোনো হয়ে গেল। এবার প্রশ্ন এলো এর পরে কি হলে সুখ পাবে মানুষ, আবার জাগতিক বাজারে খোঁজ চালালো, আর নতুন কিছুই খুঁজে...
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪০তম অধ্যায় || (১০৩) Searching for hidden Truth (8)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৪০তম অধ্যায় || (১০৩) Searching for hidden Truth (8) গত সংখ্যার পর........ অহং সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা - আত্মাকে "আমি" বা অহংরূপে সাধারণভাবে দেখা হয়। মানুষ তার প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী শরীর, ইন্দ্রিয় এবং মনের ধর্মকে আত্মার ধর্ম হিসাবে ভুল করে। 'আমিত্ব'কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানুষ কখন কখন শরীরের আকৃতি, যেমন , স্থুল, কৃশ, অন্ধ বা বধির ইত্যাদিকে 'আমিত্বের ' সাথে একাকার করে ফেলে। শুধু এখানেই থেমে থাকেনা, আবার মনের অনুভূতির ব্যাখ্যা, যেমন , সুখ, দুঃখকে 'আমিত্বের' সাথে মিলিয়ে ফেলে। প্রশ্নত্তোরে আত্মা - প্রশ্ন -আত্মা কি কখন স্থুল বা কৃশ হয় এবং আত্মার কখন সুখ ও দুঃখের অনুভূতি হয় ? উত্তর- উভয় ক্ষেত্রেই আত্মা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা। প্রশ্ন - কেন ভ্রান্ত ধারণা ? উত্তর - আত্মার সম্পর্কে মানুষের ভ্রান্ত ধারণার একটা পরম্পরা আছে। এর পিছনে আছে অধ্যাস বা মিথ্যাজ্ঞান। যেই বস্তু বাস্তবে যা নয় তাকে ভুলভাবে জানাটাকে অধ্যাস বা মিথ্যা জ্ঞান বলে। উদাহরন ...
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৩৯তম অধ্যায় || (১০২) Searching for hidden Truth (7)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৩৯তম অধ্যায় || (১০২) Searching for hidden Truth (7) গত সংখ্যার পর........ দৃশ্য ও দ্রষ্টা - মানুষ এই পৃথিবীতে যা কিছু দেখে, তার মাধ্যম হলো চক্ষু ( চোখের তারায় বস্তুর প্রতিবিম্ব ভেসে উঠে ) । অনেক সময় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষ বলে উঠে " আমি তো দেখতে পাইনি " , অথচ তার চোখ খোলাই ছিল। কারন চোখের পিছনে মন সক্রিয় ছিল না। চোখ দিয়ে মানুষ দেখে, এখন প্রশ্ন হল, সেই চোখকে কি দেখা যায় ? কোন অবস্থায় চোখকে দেখা যায় না, কেবল মাত্র তার প্রতিবিম্ব আয়নাতে দেখা যায়। আসলে কোন অবলম্বন ছাড়া কোন বস্তুকে প্রতক্ষ্য করা যায় না। জাগ্রত অবস্থায় এই জগৎকে একজন দেখছেন, সে হচ্ছে ইন্দ্রিয়, আবার ইন্দ্রিয়ের পিছনে যদি মন না থাকে তাহলে কিছু দেখা যাবেনা। তাই বস্তু হচ্ছে দৃশ্য আর মন হচ্ছে দ্রষ্টা। সেই মন যখন আবার স্বপ্নময় অবস্থায় চলে যায় তখন সেই মনের ভিতরে থাকা আরো সুক্ষ মন তা দেখছেন, তাই সেখানে মন হয়ে গেল দৃশ্য আর সুক্ষ মন হয়ে গেল দ্রষ্টা। মানুষ যখন গভীর ঘুমে আছন্ন হয়ে যায়, যেখানে স্বপ্নময় অবস্থাকে অতিক্রম করে সুষুপ্...
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৩৮তম অধ্যায় || (১০১) Searching for hidden Truth (6)
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
মহাভারতের যাজ্ঞসেনী- ৩৮তম অধ্যায় || (১০১) Searching for hidden Truth (6) গত সংখ্যার পর........ মানুষের শরীর যেমন রোগগ্রস্ত হয় তখন তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়ে পড়ে , মানুষের শরীর সংক্রান্ত বিষয় হল স্থুল শরীরের বিষয়বস্তু। ঠিক তেমনি মন অর্থাৎ সুক্ষ শরীরে ব্যাধির প্রকোপটা আরও গম্ভীর। আপাতদৃষ্টিতে মন রোগাতুর ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হলেও তার কারন নির্ণয় করা বড্ড জটিল কাজ। এই রোগের বিশেষত্ব হলো, কোন লক্ষন ছাড়াই মানুষের মনের জগৎকে অধিকার করে বসে। মানুষ নিজেই জানেনা সে রোগে আক্রান্ত। কেননা, কঠিন বিকার (সত্যবস্তুকে আড়াল করে বুদ্ধিকে অজ্ঞানের আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখে ) তাকে আচ্ছন্ন করে থাকে , ভালো-মন্দের বোধটাও সে হারিয়ে ফেলে। কোন সময়ে বুঝতে পারে তার রোগে আক্রান্ত ? - বিকার যখন বিদায় নেয় ঠিক তখন সে বুঝতে পারে যে সে অসুস্থ। এই রোগের লক্ষণগুলি কি ? - ক্ষনিকের আশা, ক্ষনিকের ব্যাথা। মনের উপরে ভেসে থাকা তরঙ্গের বারংবার আঘাত আর সেই কারণে মানসিক চঞ্চলতা এই রোগের প্রাথমিক কারন। মাঝে মাঝে মন কেঁদে উঠে তার প্রত...