নারদের মর্ত্যে ভ্রমণ - দ্বাদশ অধ্যায়

 নারদের মর্ত্যে ভ্রমণ - দ্বাদশ  অধ্যায় 


 

শিক্ষার ইহকাল  পরকাল  : 

আজকের পর্বে : 

মর্ত্যের শিক্ষা ব্যবস্থা (রিপোর্টিং- বৈদিক শিক্ষার পর ) 

[কনফারেন্স রুম -উপস্থিত দেবরাজ ইন্দ্র , অগ্নিদেব,ম্যাডাম সরস্বতী, বেদব্যাস , ঋষি যাজ্ঞবল্ক ,  নারদ এবং  অধীর বাবু ]  

নারদ : কি ভাবে শিক্ষা কালের পথ বেয়ে বর্তমানে এসে পৌছালো, তা বলতে গেলে আমাকে সময়কাল , তৎকালীন সমাজনীতি, রাজনীতি ও অর্থনীতির বিবরণ ছাড়া সম্পূর্ণ হবেনা। 

খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০ বছর আগে এই ভূমিতে জন্ম গ্রহণ করলেন সিদ্ধার্থ। জীবনের পথে চলতে চলতে একদিন মানুষের জন্মজন্মান্তরের আর্তনাদের শব্দ তার কানে এসে পৌঁছাল । সেই কান্নার উৎসের সন্ধান করতে গিয়ে    বহু জনপদ, বহু ধর্মগুরুর শরণ গিয়ে ঈপ্সিত ফলের কোন সম্ভবনা খুঁজে পেলেন না। গভীর সাধনায় অবশেষে নিজের অন্তরতম প্রদেশ থেকে উচ্চারিত হোল সেই মানুষের চিরন্তন দুঃখ থেকে উত্তরণের মুক্তির মন্ত্র। তত দিনে তিনি  সিদ্ধার্থ থেকে বুদ্ধ হয়ে গেলেন । তার বাণীর  ক্ষেত্র তো সমগ্র বিশ্ব, সে তো মানুষের মুক্তির মন্ত্র। সেটাই তো ধর্ম। 

ধর্ম এক গতিশীল সামাজিক প্রক্রিয়া আর তাকে বহন করে চলে শিক্ষা। এই শিক্ষাই সমৃদ্ধ করে জ্ঞানকে। সেই জ্ঞানকে তো পৌঁছে দিতে হবে মানুষের দুয়ারে। শুরু হল মঠ নির্মাণ, "ভিক্ষু" নামক এক সম্প্রয়দায়ের সৃষ্টি হল যারা বুদ্ধের এই বাণী পৌঁছে দেওয়ার কাজটা আরম্ভ করলো। বহু বিদ্যালয়, মহা বিদ্যালয় তৈরি হলো শিক্ষার অনুশীলনের জন্য। 

মূলত ধর্মের আঁধারে মানব জীবনের সমস্যার বিশ্লেষণ ছিল তার মুখ্য উদ্দেশ্য। অন্যান্য প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি , স্বাস্থ্যের উন্নয়ন , জ্ঞানের উন্মেষ বা প্রজ্ঞা , আদর্শ ব্যবহার, দয়া প্রদর্শন, সংকৃতিকে যথাযথ রক্ষন এবং তার সাথে বৃত্তিমূলক শিক্ষা দান এসবই বৌদ্ধ শিক্ষার অঙ্গ ছিল। প্রায়  খ্রিস্ট জন্মের ১২০০ সাল পর্যন্ত এই শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ সক্রিয় ছিল। 

বহুধা বিভক্ত ভারতভূমি চিরকালই পদদলিত  হয়ে আসছে  বহু জাতি ,বহু গোষ্ঠীর শাসকদের অনুপ্রবেশে। অবাধে তারা  দেশমাতৃকার স্তন্যপান করে যাচ্ছে। এই শতাব্দীতে বিশ্ব মানচিত্রে  এবং সার্বভৌমিকত্বের বা রাষ্ট্রপূঞ্জে প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে ভারত একটা অখন্ড দেশ  কিন্তু একটু অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, আদতে দেশটা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের দেশ,  তারা প্রতিনিধিত্ব করে মুষ্টিমেয় মানুষের  আর বাদবাকি সব মনুষ্যরূপী সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরীহ তৃণভোজী প্রাণী, যাদের দুধ , মাখন খেয়ে ঐ কতিপয় মানুষ যুগযুগ ধরে নিজেদের অস্তিত্বকে বজায় রেখে চলছে তাদের বঞ্চিত করে । এরা   সম্মিলিতভাবে একটা   প্রতিষ্ঠান। ভিন্ন ভিন্ন নামে বিভিন্ন সময়ে তারা সমাজে এবং রাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় বসে থেকে একচেটিয়া প্রভুত্ব কায়েম রাখে। 

মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীদের গুনগত পার্থক্য জ্ঞান ও বুদ্ধির ব্যবহারের তারতম্যের । জঙ্গলের প্রানীরা এই প্রকৃতিসৃষ্ট বিশ্বে নিজ গুনে প্রান্তিক হয়ে থাকে এক মাত্র বুদ্ধির অভাবে। ঠিক তেমনি এক অদৃশ্য কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে দেশের মূল স্রোতের সাথে সাধারণ মানুষকে আলাদা করে রাখা হয়েছে শুধু মাত্র সাধারণ মানুষের পারস্পরিক বিভাজনের আর অজ্ঞানতার  কারনে। বস্তুত, তারা থাকতে বাধ্য হচ্ছে  একটি মাত্র কারনে, সেটি হলো কাঁটাতারের  বেড়ার দরজার  অপর  প্রান্তে  যাবার পাসওয়ার্ডটা  তারা জানেনা বলে যেখানে  ওই সব মর্ত্যের দেবতারা  থাকে। 

সুতরাং বিকাশই একমাত্র রাস্তা যাতে করে মানুষই পারবে এই মনুষ্য সৃষ্ট ব্যবধান ঘোচাতে এবং   মানুষকেই সেটা ঘটাতেই হবে, তার নিজের এবং আগামী প্রজন্মের জন্য।   প্রকৃত জ্ঞান ও বুদ্ধির বিকাশ  একমাত্র শিক্ষাই দিতে পারে। ওই দীর্ঘদিনের কুক্ষিগতকরা পাসওয়ার্ডটা মানুষ নিজেরাই খুঁজে নিতে  পারবে। এতদিন ওই দেবতারা সঠিক পথ দেখানোর নাম করে যে ভুলভুলাইয়ার পথে সাধারণ মানুষকে টেনে নিয়ে গেছে , তা কখনো ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, সংস্কারের নামে, দল ও মেকী আদর্শের নামে পারস্পরিক  বিভাজন  কায়েম করে রেখেছেন । তারা পরস্পর লড়াই করে ক্রমাগত নিজেদের শক্তিহীন করে তুলছে।               

প্রকৃত জ্ঞানের উন্মেষ না হওয়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নিজেদের এই কষ্টের প্রতিকারের কারন খুঁজে পায়না। সঙ্গবদ্ধ কতিপয় যন্ত্রণাদানকারীদের   ( একচেটিয়া পুঁজি আর তার বংশবদ শাসক )  দয়ায়  সারা ভারতভূমির সাধারণ মানুষের দুঃখ যন্ত্রণার শেষ নেই। এর একমাত্র কারন হচ্ছে  শিক্ষা। 

শিক্ষার অভিমুখ  অন্তঃপ্রকৃতির মান উন্নয়ন আর বস্তুজগতের পরিবর্তনের ইতিহাসটা উপলদ্ধি করার  ।  শিক্ষাকে শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সেই জন্য তৈরি হল সময়োপযোগী পাঠক্রম।  প্রত্যেক বিষয়ের পণ্ডিতগন রচনা করলেন পাঠ্যপুস্তক। শিক্ষার খন্ড খন্ড অংশগুলি হল বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন ইত্যদি কিন্তু  সাহিত্যের লক্ষণ  হল গোটা মানবজীবন। সেখানে আছে মানুষের  অন্তঃপ্রকৃতি  যেখানে বাস করে বুদ্ধি,রুচিবোধ , আচার , ভালোলাগা, খারাপ লাগার অনুভূতি অন্যদিকে  বাহ্য প্রকৃতি যেখানে  আছে পরিবেশ , সমাজ , রাজনীতি, অর্থনীতি আর দুইয়ের ঐকতানে সৃষ্টি হয়  গোটা মানবজীবন। ঠিক এই জায়গায় যুগে যুগে লাগাম পরিয়ে আসছে শাসক। সত্যকে প্রচার অপেক্ষা গোপন রাখা ও বিকৃত করা  শাসকের একমাত্র কাজ যাতে মানুষ কখনই যেন বুঝতে না পারে তার দুর্দশার জন্য  দায়ী কে ? 

সুসংস্কৃতির গতিকে একমাত্র রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরী  সংস্কৃতিই রুখে দিতে পারে।  সেখানে  তার সেন্সরস বোর্ড ভীষণ সক্রিয় থাকে কোন ফাঁক দিয়ে যেন সত্য উৎঘাটিত না হয়।  অবশ্য সেন্সর বোর্ডের সাইনবোর্ডটা থাকে কিন্তু তার পিছনে কাজ করে পুঁজিবাদী সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির গাইড লাইন  যেটা কাজ করে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্ট হিসাবে। বরং সেন্সরবোর্ডকে বলা উচিত ছিল সাহিত্যিক এবং শিল্পীকে যে সাহিত্য-শিল্পকে  যদি সমাজদর্পন বলা হয়,  তাহলে কেন তারা তাদের সৃষ্টিতে  সমাজের কোনে কোনে যে অন্যায় সংগঠিত হচ্ছে , সেই  সত্যকে  তারা উন্মোচিত করছেন না কেন।? যেমন অডিটররা স্টেটমেন্টের পাশে অডিটর নোট দেবার  স্থানে তাদের ওপিনিয়ন লিখে দেয় সংশোধনের জন্য ঠিক তেমনি সেন্সরবোর্ডকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। 
 
এখানে যারা সত্য  ধর্মের  উপাসনা করেন, তারা অজ্ঞাত কারনে এই বিশ্বসংসার থেকে বিদায় নেন অথবা সংশোধনাগারে রাখা হয় "সত্য" নামক ছোঁয়াচে রোগের থেকে সাধারণ মানুষ যাতে অসুস্থ না হয়ে পরে । লোকে অবশ্য বিকৃত করে লুকিয়ে লুকিয়ে বলে ওটা ওঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈয়ারী, যেমন নাকি হিটলারের সময় হতো।

 তবে যুগে যুগে  একটা  প্রথা, তাকে পরম্পরা বলাই  ভালো, যেমন সভাকবিরা সভায় দাঁড়িয়ে রাজবন্দনা করে একটি কাব্য রচনা করতেন , রাজা সঙ্গে সঙ্গে সেই কবির অঙ্গে সোনার চেনটা পরিয়ে পুরস্কৃত করতেন। তবে সেটা এখন একটু অন্যভাবে হয় রাজধর্ম প্রচারকদের  বাহক কবি ও সাহিত্যিকদের প্রতক্ষ্য অংশগ্রহণের জন্য আর একদলকে যাতে তারা "সত্য" নামক  রোগে আক্রান্ত না হয় তার জন্য এই প্রতিষেধেক হিসাবে তাদের সম্বর্ধনা সহযোগে একটা প্যাকেজ দেবার রীতি আছে। অবশ্য  ডেকোরাম মেইনটেইন করে একটা শক্তিশালী কমিটি তৈয়ারি হয়, সেখানে একদল বোদ্ধা খুব যত্ন করে কাদের  প্রশংসিত করতে হবে তাঁদের নাম দিয়ে পারচেজ ডিপার্টমেন্টে  পাঠিয়ে দেয় পুরস্কার কেনার জন্য। শুভদিন দেখে তাকে ঘটা করে পরিবেশন  করা হয় জনসন্মুখে। 

" মানুষ যদি একটা বৃক্ষ হয় তাহলে শিকড় হচ্ছে তার অর্থনীতি" - এটা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। কোন জাতিকে বা সমাজের সাধারণ মানুষকে  নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাইরের জগতের দিকে সব সময় মনোনিবেশ করে থাকতে হয় অর্থাৎ অর্থ উপাৰ্জনের জন্য ব্যস্ত থাকতে হয়, তাহলে সে কোনসময় তার অন্তঃপ্রকৃতির দিকে সময় দেবে।  শিক্ষা, সংস্কৃতির, বিচার বিশ্লেষণ এসবেরই বাসস্থান মনের অন্তকোণে  আর দ্বারে তো দাঁড়িয়ে  আছে নিত্য আশু প্রয়োজনের ফর্দের দরজাটা।  ভিতরে ঢোকার  ইচ্ছা থাকলেও কোন উপায় নেই , এটাই বাস্তব। তাই  সৃষ্টিধর্মী কাজ আজ ভীষণ ভাবে ব্যাহত। সেই জায়গাটা আজ দখল করে নিয়েছে  মোটা দাগের জীবনযাত্রা।   তাই আজ সেই জাতি বা দেশবাসীর কাছে কালস্রোতে ভেসে বেড়ানো ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। কোন আশা করা বৃথা। এইভাবেই একটা জাতি পিছনের দিকে হাটতে থাকে। আজ থেকে বহু যুগ পরে  একদল  প্রত্নতাত্ত্বিক বিশারদ, নৃবিজ্ঞানীরা যৌথ সমীক্ষার মাধ্যমে আজকের এই সভ্যতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। 

এখানে স্বভাবতই একটা প্রশ্ন আস্তে পারে তাহলে সব কিছুতেই ফুলস্টপ পড়ে গেল। বিকাশের পথে অবলুপ্তি আবার অবলুপ্তির পথে বিকাশ। যেমন, সকালের অবলুপ্তির পর দুপুর, দুপুরের অবলুপ্তির পরে বিকাল, আবার বিকালের অবলুপ্তির পরে সন্ধ্যা , সন্ধ্যার অবলুপ্তির পরে রাত্রি আর রাত্রির মৃত্যুর পর সকাল। এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম। সুতরাং শুধু সৃষ্টি বলে যেমন কিছু হয়না আবার শুধু ধংস বলে কিছু হয়না।  সৃষ্টি আর ধংস পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। 

 
মনে রাখতে হবে যে , এই বিশ্বসংসারে সৃষ্টিকর্তা কিন্তু এক। সেই অর্থে পাশের বাড়ির মানুষটাও সম্পর্কে ভাই, ভিন্ন ধর্মের অনুশীলনকারীও ভাই আবার ভিন্ন রাজনীতির বাহকরাও ভাই ।  এইটাই এই দেশের প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা।  আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে যারা মানবজীবনের ধারাকে বিশ্লেষণ করেন, তারা বলেন যে মানুষের চেতনার উন্মেষ হোলে সে নিজেই বুঝতে পারে যে  জগতে সব মানুষই এক। একই সৃষ্টির ভিন্ন ভিন্ন   নাম আর রূপ আর মানুষ নিজের ভ্রান্তিতে তাকে  আলাদা ভাবে আর সেটাই মায়া। 

ধর্ম মানে শুধুমাত্র পূজাআর্চা বা মন্দির, মসজিদ, গির্জ্জা নয়, তার বাইরে আরো কিছু, মানবধর্ম হল সবার উপরে, তাকে কেউ কি চারদেওয়ালে বেঁধে রাখতে পারে,তার মূল সুরটা  তো  অনন্তর পানে সদাই ধাইছে ।   আর যারা রাজনীতির নামে, জাতপাতের নামে, ধর্মের নামে এক ভাইকে অন্য ভাইয়ের থেকে আলাদা করছে, বুঝতে হবে তারা ওই অভাবজনিত কারনে বিভ্রান্ত। সেই অভাবটা প্রকৃত জ্ঞান হতে পারে আবার অর্থ হতে পারে, মিথ্যা ক্ষমতার দম্ভ হোতে পারে অথবা তিনটিই  হতে পারে। অর্থ আর দম্ভ হচ্ছে আকাশের মেঘের মতো সাময়িকভাবে বুদ্ধির আকাশে ছায়া হয়ে নেমে আসে আর জ্ঞান বৃষ্টি হয়ে আকাশকে পরিষ্কার করে বুদ্ধিকে গতিশীল করে। জ্ঞানীব্যক্তি যদি জানে যে , জানা ও অজানার মধ্যে পার্থক্যটা কি তাহলে নিশ্চয়ই সে অজ্ঞান মানুষের মতো আচরণ করবেনা , এটাই প্রত্যাশিত। 


 
ক্রমশঃ 







 

মন্তব্যসমূহ

kumar roy বলেছেন…
খুব সুন্দর করে সাজিয়ে লিখেছিস বন্ধু । শুধু একটা ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে পারিসনি । ধর্ম এবং রিলিজিয়ন সমার্থক শব্দ নয় । রিলিজিয়ন হলো ঈশ্বরের উপাসনা পদ্ধতি । এবং ধর্ম শব্দের অর্থ একটাই । চিনির ধর্ম যেমন মিষ্টি , তেঁতুল এর ধর্ম যেমন টক , ঠিক তেমনি মানুষের একমাত্র ধর্ম মানবিকতা বা মনুষত্ব ।

ধন্যবাদ ,

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)