২৯২ ইতিহাসের পূর্ণ আলোকে মেঘদূত দর্শন - দ্বাদশ পর্ব

  ২৯২  ইতিহাসের পূর্ণ আলোকে মেঘদূত দর্শন -  দ্বাদশ  পর্ব  

রামায়ণ ও কালিদাসের মেঘদূত (২) 


কালিদাসের মেঘদূত, বাল্মিকীর রামায়ন, ঋগ্বেদ ও রবীন্দ্রনাথ  এই সবের মধ্যে একটা সাধারণ যোগ সূত্র হচ্ছে প্রকৃতি। প্রকৃতির সাথে মেলামেশা মানেই হচ্ছে এক বাঁধন ছেঁড়া গান। বৃষ্টির মধ্যে যেমন বিরহ আছে, তার পাশাপাশি সৃষ্টিও আছে। সৃষ্টির সাথে যৌনতার মাদকতা অবশ্যিই আছে, তা না হলে সৃষ্টি কোন দিন পূর্নতা পেতো না। 

মেঘের গোটা জীবনের  তিল তিল করে জমিয়ে রাখা জলরাশি সৃষ্টির আহবানে মর্তের পৃথিবীতে  বৃষ্টি হয়ে নেমে এসে নিজের জীবনের অহংকারকে প্রকাশ করে।  বৃষ্টির ফোঁটায় ফোঁটায় প্রকৃতির সৃষ্ট জীবের শুষ্ক হৃদয়ে বেজে ওঠে স্বপ্নের প্রেমিকার উজ্জ্বল উপস্থিতি, তারপর একে একে হারিয়ে যায় আগামীকে আহবান করতে।  তাই বরিষণ শেষে গাছে গাছে অঙ্কুরিত হয় ছোট ছোট মুকুল। যারা সূর্য্যপানে মুখ তুলে জীবনের প্রত্যাশা প্রার্থনা করে।  এইভাবেই প্রকৃতি তার ভাঙ্গাগড়ার খেলা যুগযুগান্ত ধরে চালিয়ে যায়।  জীবন-মৃত্যুর এই রহস্য সৃষ্টির শুরু থেকে কিছু কিছু অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল, তারই অভিব্যক্তির প্রকাশ এই সাহিত্য সৃষ্টি। 

কবিরা দেখেছেন, প্রকৃতির এই কর্মকান্ড। যে গাছে কখনো ফুল ফোটেনি, ফল তো সুদূরপরাহত, বৃষ্টি যেন তার  কানে কানে ফুল ফোটানোর মন্ত্র শুনিয়ে যায়।  সেই গোপন প্রেমের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে মিলনের পূর্ণ আনন্দের প্রেরনায়  প্রাণিকুল তাদের কুশীলবদের সৃষ্টির মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃতির সৃষ্টির চাকাটা এইভাবেই ঘুরতে থাকে। 

প্রিয়া মিলনের দীর্ঘ  প্রতীক্ষার পর রক্তে  তৃষ্ণার ঝড় ওঠে আর সেই ঝড়ের উত্তাপ বহন করে নিয়ে স্বপ্নদ্রষ্টা কবির লেখনীতে অবিরাম লাগামহীন বৃষ্টি ঝরে পরে।  মর্তের তৃষ্ণার্ত চাতক পাখিরা আকন্ঠে তা পান করে, বেশ কিছু জীবকুল এই সময়টা মেতে ওঠে সৃষ্টি সুখের আনন্দে, বনে বনে পূজিত  হন কামদেবের বাসনা, অবশেষে তৃপ্ত হন পৃথিবী। আর এই কল্পিত সুখের অভাবজনিত কারণেই জীবের হৃদয়ে বেজে ওঠে বিরহের বেদনার সুর। সেখানে শুধু মাত্র যক্ষ নন, সে প্রতীকী মাত্র, এ বেদনা সার্বজনীন বেদনা। এখানেই কবিরা স্বার্থক। 

ঋগ্বেদের ঋষিরা যেখানে তাদের ভাবনার বাটনটা যেখানে হস্তান্তর করেছেন, সেখানে ঋষি বাল্মীকি তাকে যারপরনাই টেনে নিয়ে কালিদাসকে দিয়েছেন, তারপর তো  ইতিহাস, সে বিশ্বকবির হাতধরে জগৎ পরিক্রমায় বেড়িয়ে পড়েছে। এটি একটি যৌথ পরিক্রমা, এখানেই ইতিহাসের খন্ডগুলি বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে অখন্ড রূপে প্রকাশমান হয়েছে। এখানে  একের সাথে অন্যের  তুলনা শব্দটি ভীষণ অমুলূক, এখানে শুধুই  আলোচনা।  


চলবে ০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

ব্লগার -রবীন মজুমদার 

তারিখ ২২/০৭/২৫
ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে  শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন। 
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 

মন্তব্যসমূহ

নামহীন বলেছেন…
আমরা মানব জাতি প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করি কিন্তু এগিয়ে আসি না। এটা আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য।

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)