পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৩২৬ ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ৪ঠা পর্ব

ছবি
  ৩২৬  ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ৪র্থ    পর্ব  এবং শেষ পর্ব     এখানে শেষ হলেও এই শিক্ষার অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে আসার সংগ্রাম অন্তরে ও বাইরে চলতেই থাকবে ঠিক ততদিন, যতদিন চালকদের মনোজগতের পরিবর্তন না হবে।   তৃতীয়  পর্বের পর ......................... পারিবারিক শোষণের প্রথম পদক্ষেপ - কিছুই আর গোপন থাকলো না।  শিক্ষার স্ফুলিঙ্গ বাতাসে ভাসতে ভাসতে পাপিয়ার বাবার কানের দরজায় এসে কড়া নাড়লো। মেয়ে যে অক্ষর চিনতে শিখে গেছে, এটা তাকে ভীষণ আঘাত দিল। আঘাত প্রত্যুত্তরে আক্রোশ হয়ে মেয়ের উপুড় বর্ষাতে লাগলো। তিনি গর্জে উঠলেন - - "কে শেখাচ্ছে এসব? মেয়েদের শুধু একমাত্র ঘরের যাবতীয় কাজ জানাই তাদের  দরকার। বইয়ে মন দিলে ঘরের কাজ তো আর করতে চাইবেনা। " বাবার তীক্ষ্ণ আক্রমণে পাপিয়া কেঁপে উঠলো।  মিতুনের কানে পাপিয়ার প্রতি তার বাবার অবিচারের সংবাদ পৌঁছালে তারও অন্তরাত্মা   কেঁদে উঠল।   যখনই তার মানবাত্মা কেঁদে ওঠে, তখনিই ঠিক সেখান থেকে একটা স্বর উঠে- " মিতুন , জীবনের লড়াইটা কখন একতরফা হয় না , কখন জিৎ হয় কখনো হারও হতে পারে আর যাঁরা...

৩২৫ ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ৩য় পর্ব

ছবি
    ৩২৫  ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ৩য়  পর্ব     দ্বিতীয়  পর্বের পর ......................... ঈশ্বর মিতুনকে আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছে যে মানুষের মধ্যে দিয়ে তারা  কাজ করে থাকে। তাহলে আমার হেরে যাওয়া মানে ঈশ্বরের হেরে যাওয়া। সেটা তো করতে দেওয়া যায় না। আবার সে রাতের বেলায় ছাদে গিয়ে আকাশ পানে চেয়ে বলল - " হে ঈশ্বর  আরো বল দাও, আমি কাউকে হেরে যেতে দেব না। এই ছোট ছোট  বাচ্চাদের দলটিকে নিয়ে শিক্ষার আলো দেখানোই আমার স্বপ্ন আর এই উদ্দেশ্যের সফলতাই আমার লক্ষ্য। " হঠাৎ মনে হলো একটা তারা একটু বেশি আলোকিত হয়ে উঠলো, মিতুনের মনে হলো ঐ আলোর পথ ধরে তাকে চলতে হবে, সেটাই ঈশ্বর তাকে ইঙ্গিত করলো।  মিতুনের ছাত্র সংখ্যা ধীর গতিতে বেড়ে যাচ্ছে। এই সঙ্গে তার চিন্তাও বেড়ে যাচ্ছে। তার এখন দরকার একটা  বড় জায়গা।  ভাবতে ভাবতে মিতুন কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুমের মধ্যে সে দেখলো সারি সারি আম গাছেরা  ডাল পালা মেলে একটা নিঝুম  শান্ত পরিবেশ , সেখানে গাছের গায়ে একটা ব্ল্যাক বোর্ড আর তার পাশে বাঁশের একটা বেঞ্চ, সেখানে চক, ডাস্টার এবং কটা বই রয়েছে। মা...

৩২৪ ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ২য় পর্ব

ছবি
  ৩২৪ ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ২য়  পর্ব     প্রথম পর্বের পর ......................... প্রতিজ্ঞা - গতকাল রতনকে পুকুর পাড়ে বাসন মাজতে দেখে মিতুনের মনে যে দুঃখ জেগে উঠেছিল, আজ কিন্তু সেই একই ছবিটা অজান্তেই দুঃখের জায়গায় একটা জেদ এসে মনের মধ্যে দানা বাঁধলো। সে গতরাতে স্বপ্নের মধ্যে ঈশ্বরের উপদেশ শুনতে পেয়েছে।  আজ থেকে তাকে সেটাই পালন করতেই হবে।  সে মনে মনে বলল- "আমি বড়ো হয়ে একজন শিক্ষক হবো। আমার স্কুলে গরীব বলে কোন ছাত্র বাদ পড়বেনা।  রতন, পাপিয়া ও সাজিয়ার মতো সবাই যারা আছে তারা  সেখানে পড়বে। " নিজের মধ্যেই এক কথাগুলি ভেবে মিতুনের মনে হলো, কে যেন তার মাথায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে  বলল - " সাবাশ মিতুন,  সাবাশ ! তুমি সত্যিকারের একজন সৎ মানুষের মতো চিন্তা করতে শিখে গেছো। " হোক না তার আট বছর বয়স, মানুষের ভালো করার জন্য বয়স কোন বাধাই নয়। আরেকটা জিনিস মিতুন উপলদ্ধি করলো, যত প্রশ্ন সে ঈশ্বরকে  করেছে, তার উত্তর কিন্তু বাইরে থেকে এসে কেউ তাকে বলে দেয়নি, তার বুকের ভিতর থেকে সে আগামী দিনে তাকে কি করতে হবে- তার নির্দেশ এসেছে। ধারণা যে মনে মনে হ...

আমি মহাভারতের পৃথা -প্রথম পর্ব -

ছবি
  আমি  মহাভারতের পৃথা -প্রথম পর্ব     -   আগুনের প্রজ্জ্বলিত লেলিহান শিখা লক্ষ্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌছিয়ে তার ধীরে ধীরে তার সব জৌলুশ  হারিয়ে  ফেলে নিকষ কালো ধোয়া হয়ে উড়ে গিয়ে সেই মহাকাশের বিশাল বক্ষে আশ্রয় গ্রহণ করে আর শুধু এই  পৃথিবীর মানুষদের জন্য রেখে যায়  প্রিয়জনের  অস্তিত্বের অস্তিত্ব হারানোর  একরাশ স্মৃতির বোঝা।   অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা হারানোটাই হচ্ছে মৃত্যু। অস্তিত্ব না থাকলে যেটা  থেকে  যায় সেটাই  হচ্ছে স্মৃতি । অগ্নি এই কাজটি নিরলসভাবে করে যাবে যতক্ষণ না শেষ নিস্প্রান দেহটা  কুরুক্ষেত্রের  মাটি থেকে মুছে না যায় ।  সবে শেষ হল  দীর্ঘ আঠারো দিনের রক্তক্ষয়ী মহা যুদ্ধের। কুরুক্ষেত্রের এই মাটিতে মৃত্যু সবাইকে এক করে দিয়েছে।  আজ তারা কেউ রথী নয় , কেউ  তাদের  মহারথী বলেও  সম্বোধন করবেনা, সৈনিককেও  কোনদিন অস্ত্র নিক্ষেপ করতে হবেনা , আর বাহনদের বইতে হবে না তাদের ইহকালের বোঝা, মৃত্য...

৩২৩ ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ১ম পর্ব

ছবি
  ৩২৩ ছোট্ট মিতুনের প্রার্থনা - ১ম পর্ব  ভোরবেলা পাখির ডাক আর দূরে মসজিদের আজান আবার কোথাও মন্দিরের ঘন্টা ধ্বনির শব্দে প্রত্যেক দিনের মতো মল্লারপুরের মেটেলডাঙ্গা গ্রামটা জেগে উঠে। দোতালা বাড়ির দক্ষিণ খোলা কোনের ঘরে আট বছরের শিশু মিতুন মা-বাবার সাথে ঘুমায়। পাখি, আজান ও ঘন্টা ধ্বনিতে যখন তাদের গ্রামটা জেগে ওঠে, তখন একই সাথে মিতুনও ঘুম থেকে উঠে খাটেই বসে থাকে।   মিতুন খাটের ধারে জানলায় বসে প্রত্যেকদিন জানালা দিয়ে যতটুকু বাইরের গ্রামটাকে দেখা যায়, সেই দেখে দেখে তার মনে অজস্র প্রশ্ন এসে ভিড় করে।  মিতুনের সামনে তার মা বসে যখন তার স্কুলের বই ও পোশাক গোছায়, তখন তার মন বাইরে রতন, পাপিয়া, সাজিয়াদের সাথে কাল্পনিক গল্পে মেতে ওঠে। সে যখন স্কুলের জন্য তৈয়ারি হচ্ছে, তখন রতন গতকালের বাসি হাড়ি ও বাসন  নিয়ে ঠিক পুকুর পাড়ে ঠিক জলের কাছাকাছি যেখানে  বাঁশের সিঁড়ির শেষ ধাপটা নেমে গেছে, সেখানে সে আপন মনে  বাসন মাজছে।  রতন, সাজিয়া, পাপিয়া এরা সকলেই  প্রায় মিতুনের সমবয়সী।  স্কুলে যাবার আগে যখন মিতুনের মা যত্ন করে তার মুখে টিফিন তুলে  দিচ্ছে, তখন নিচে দ...

৩২২ পরিবর্তনের পরিবর্তন--পঞ্চম খন্ড

  ৩২২   পরিবর্তনের পরিবর্তন--পঞ্চম   খন্ড  (একটি  সময়োপযোগী  বিশ্লেষণধর্মী গল্প )   সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর বামপন্থী অরিন্দমের আত্মবিশ্লেষেণ -  চতুর্থ  খন্ডের পর ,,,,,,,,,, বাইরে ধীরে ধীরে আঁধার  নেমে আসছে, একটু আগে বিদ্যুৎও  এসে গেছে।  অনেক  দূরে নীরবতা ভেঙে ট্রেনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।  ঘরের মধ্যে সবাই  এক অদ্ভুত অনুভূতির আস্বাদ গ্রহণ করছে।   পূর্ব দিকের আকাশে  রক্তিম আলোর ছটায় দিনমনি নতুন প্রভাতের বার্তা নিয়ে জানলার ফাঁক দিয়ে অরিন্দমবাবুদের বসার ঘরটাকে আলোকিত করে দিলো।  টেবিলের এক প্রান্তে বসে  সুচেতা খাতা ও পেন নিয়ে বসে লিখতে শুরু করলো- " আমাদের ইতিহাসের প্রশ্নটা আসলে শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়।  প্রতিটি পতনের পিছনে মানুষের অন্তর্দন্দ্ব লুকিয়ে আছে।  ইতিহাসে বলছে, বিপ্লব শুধুমাত্র নতুন শাসকের জন্ম দেয় কিন্তু মানুষের মনকে পাল্টাতে পারেনা। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের বাধা ধরা গদ সেই গান,নাটক কিংবা ছবি ইত্যাদিকে হয়তো  ছুটি দেওয়া যেতে পারে কিন্তু অন্তরের বিপ্লবকে পরিবর্তনের আঙি...

৩২১ পরিবর্তনের পরিবর্তন--চতুর্থ খন্ড

ছবি
৩২১   পরিবর্তনের পরিবর্তন--চতুর্থ  খন্ড  (একটি  সময়োপযোগী  বিশ্লেষণধর্মী গল্প )   সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর বামপন্থী অরিন্দমের আত্মবিশ্লেষেণ -  দ্বিতীয়  খন্ডের পর ,,,,,,,,,, ঘরের মধ্যে এক আলোছায়ার খেলা চলছে।  এইমাত্র আবার লোডশেডিং হয়ে গেলো। সুচেতা ঘরের ভিতর থেকে এমার্জেন্সি ল্যাম্পটা নিয়ে এলো।  ল্যাম্পের আলোয় প্রবালের চোখ মুখের ভাবগতি বলছে সে কিছু যেন  খোঁজার চেষ্টা করছে।  সুচেতা সেই নীরবতাকে ভেঙে বললেন -" প্রবাল দা একটু আগে অদ্বৈত বেদান্তকে বেশ সুচিন্তিত ভাবে সমাজতন্ত্র বা রাজনৈতিক পরিবর্তেনের সাথে সম্পর্কিত করলেন। যদি সেটিকে একটু আলোকপাত করো, তাহলে, আমাদের বুঝতে সুবিধা হয়। " প্রবাল সুচেতার কথা শুনে একটু মৃদু হেসে বললেন - " এইটাকে বলতে পারো আমার  জীবন থেকে উঠে আসা একটা শিক্ষার পাঠ। যেখানে আমি ছিলাম, সঙ্গে ছিল আমর বিপ্লব, একদল সহযোদ্ধা আর ছিল আমাদের স্বপ্ন ভঙ্গের লাঠিয়াল, যাদের আমরা শাসকের পেয়াদা বলে থাকি। বেশ,  শুনতে যদি রাজি থাকো, তবে,  আমার সেই অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের গল্প বলি। " সমস্বরে তিনজন বলে উঠলো অবশ্যিই শুন...

৩২০ পরিবর্তনের পরিবর্তন-- তৃতীয় খন্ড

ছবি
  ৩২০  পরিবর্তনের পরিবর্তন-- তৃতীয় খন্ড  (একটি  সময়োপযোগী  বিশ্লেষণধর্মী গল্প )   সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর বামপন্থী অরিন্দমের আত্মবিশ্লেষেণ - দ্বিতীয়  খন্ডের পর ,,,,,,,,,, ভিতর থেকে যেন একরাশ গভীর বেদনা অরিন্দমের গলায় ফুটে উঠলো। " না ! শুধু রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের মধ্যেই  বিপ্লব সীমাবদ্ধ রয়ে গেলো। জড় বস্তুর পরিবর্তন খুব সহজেই হতে পারে আর যেই জড়ের সাথে চেতন যখন জড়িয়ে যায় তখন  তার পরিবর্তন নিয়ে সংশয় আসবেই।  ঐ যে লোভ, ভেদাভেদ , ক্ষমতার প্রতি অনুরাগ তো বাইরে থেকে কেউ এসে অন্তর থেকে মুক্ত করতে পারবে না। সে যে সাধনার বস্তু। তার পরিবর্তে যেটা দেখা গেল, শাসকের বেশে শোষক এসে গদিকে অলংকৃত করলো।  রূপম উসখুস করতে লাগলো কিছু বলার জন্য।  সে বলল-" সাংস্কৃতিক চর্চা যেমন, কবিতা, গান, শিল্প, সাহিত্য এসব কি যথেষ্ট নয়, চেতনাকে জাগ্রত করতে ?" রূপমের কথাটা লুফে নিয়ে প্রবাল বলল, অবশ্যিই শিল্প সংস্কৃতি চেতনার মানকে উন্নত  করতে পারে কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়।  তাছাড়া সমাজতন্ত্রে সেটা তো অলংকার হিসাবে  ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু মাত্র সেজেগু...

৩১৯ পরিবর্তনের পরিবর্তন-- দ্বিতীয় খন্ড

ছবি
  ৩১৯  পরিবর্তনের পরিবর্তন-- দ্বিতীয়  খন্ড  (একটি  সময়োপযোগী  বিশ্লেষণধর্মী রচনা )   সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর বামপন্থী অরিন্দমের আত্মবিশ্লেষেণ - প্রথম খন্ডের পর ,,,,,,,,,, একের পর এক ছবি অরিন্দমের মনের পর্দায় ভেসে আসছে। ঘরের মধ্যে এক আশ্চর্য নীরবতা। বাইরে থেকে একটা শব দেহ নিয়ে পদযাত্রার মধ্যে মধ্যে "বল হরি হরিবোল " শব্দ ভেসে এলো।  তখনিই ভেজানো দরজা ঠেলে প্রবাল ঘরে  ঢুকলো - একসময়ে  অরিন্দমবাবুর ছাত্র, বর্তমানে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। চোখে মুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি, যেন আপাত উত্তেজনা  তাকে স্পর্শ করতে  পারেনা।  অরিন্দমবাবু আর নিজের অনুসন্ধিৎসাকে আটকে রাখতে পারলেন না। " এস প্রবাল, আলোচনাটা যেন তোমার পথ চেয়ে বসে ছিল। " প্রবাল ধীরে ধীরে জানালার ধরে গিয়ে দাঁড়ালো, দক্ষিণের জানলা দিয়ে একটা মিষ্টি হওয়া যেন পথশ্রমে ক্লান্ত প্রবালের শরীরটাকে যেন  জুড়িয়ে দিল। " এর পরে কি ? এই প্রশ্ন তো কালের প্রশ্ন আর পরিবর্তন তো তারই একটা অংশ মাত্র । কাউকে স্থায়িত্বের অংশীদার করতে গেলে তো পৃথিবীই থমকে যাবে; বাহ্যিক পৃথিবীতে  পরি...

৩১৮ পরিবর্তনের পরিবর্তন-- প্রথম খন্ড

ছবি
৩১৮  পরিবর্তনের পরিবর্তন-- প্রথম খন্ড  (একটি  সময়োপযোগী  বিশ্লেষণধর্মী রচনা )   প্রত্যেক দিনের মতো  অরিন্দমবাবু বিকালে পার্কে একটু পায়চারি করে, উমার হাত থেকে চায়ের কাপটা নিয়ে সন্ধ্যে ৭টার খবর শোনার জন্য সাদা কালো টিভিটার সামনে বসলেন।  সেই সাদা- কালো টিভি থেকে খবর ভেসে এলো - -"সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো। .... " অরিন্দমের ভিতর যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা নেমে এলো, চোখে একরাশ শূন্যতা, চোয়ালে যৌবনের সেই লড়াই করার ছাপটা যেন পাকাচুলের আড়ালে ঢাকা  পরে গেল। দীর্ঘদিনের বামপন্থী আন্দোলনের অন্যতম যোদ্ধা। স্বপ্ন দেখতো, একদিন দিন না একদিন পৃথিবী মুক্ত হবে, সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা হবে।  আজকের এই খবরটা তার বুকের ভিতর উথালিপাথালি করতে লাগলো - "তাহলে এত ত্যাগ, এতো রক্ত, এ সবই ব্যর্থ হলো। "  ঠিক এইসময়ে সুচেতা একগাদা খাতা-বই হাতে নিয়ে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকলো।  অরিন্দমবাবুর একমাত্র মেয়ে, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যলয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের  ছাত্রী। বাবার এই উদাসীন চাহনি তার দৃষ্টি এড়িয়ে গেলো না, তার উত্তর খুঁজতে তাকে বেশি ভাবতে হলোনা, টিভির পর্দায় সোভ...