পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৩৭০ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৭)

ছবি
  ৩৭০  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৭ ) ১৮৯৫, আমেরিকা  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত - ।। প্রচারের  মেকি বসন যখন কর্মকে আড়াল করে রাখে ।। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে কাজ করার চেয়ে কাজের ছবি তোলার কদর বেশি। কেউ গাছ লাগালে—প্রথমে সেলফি, তারপর গর্ত। কেউ দান করলে—রসিদ নয়, পোস্টার চাই। কাজটা শেষমেশ হয়েছে কি না, সে খবর গাছ আর গরিবই ভালো জানে, ফেসবুক জানে না। এই রকম এক প্রচার-পিপাসু কালে হঠাৎ যদি স্বামী বিবেকানন্দের ১৮৯৫ সালের আমেরিকা-ফেরত চিঠিখানা পড়ে ফেলেন, তবে হালকা মাথা ঘোরা অবধারিত। কারণ, লোকটি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে বসেছেন— “আমি একমাত্র কর্ম বুঝি পরোপকার, বাকি সব কুকর্ম।” এই কথাটা আজকের দিনে বলা হলে বক্তাকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করা হতো— “আপনি কোন এনজিওর? আপনার ইউটিউব চ্যানেল আছে তো?” স্বামীজী থাকলে নিশ্চয়ই বলতেন— “চ্যানেল? আমি তো নদীর কথা বলছি বাবা!” স্বামীজীর মতে, যিনি সত্যিই কর্মময় পুরুষ, তাঁকে আলাদা করে প্রচার করতে হয় না। তিনি নিজের গুণেই জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হন। ঠিক যেন পাকা আম—নিজে থেকেই গন্ধ ছড়ায়, আলাদা করে বিজ্ঞাপন দিতে হয়...

৩৬৯ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৬)

ছবি
  ৩৬৯  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৬ ) ৫৪১, ডিয়ারবর্ন এভিনিউ, চিকাগো। ৩রা জানুয়ারী,১৮৯৫ যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করু ন  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত  আত্মিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন স্বামী বিবেকানন্দের অন্তর্দৃষ্টিতে আজকের ভারতবর্ষ      আজ পর্যন্ত কোন সন্যাসীকে দেশবাসী দেখেন নি, নিঃস্বার্থভাবে ভারতবর্ষের মানুষকে ভালোবাসতে। দেশের মানুষের অপূর্ণতাকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দেবার জন্য পৃথিবীর যে প্রান্তে তাঁর অবস্থান হউক না কেন, সে কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তাঁর পত্রবর্ষণকে জারি রাখতে।      যে শিক্ষা আজ ভারতবর্ষে পদে পদে লাঞ্ছিত,অবহেলিত এবং প্রতারিত,তাকেই স্বামীজী সমাদরে আহবান করেছিলেন ভারতবাসীদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে। স্বামীজীর প্রদর্শিত পাঠ্যসূচীকে অলংকৃত করেছিল যেমন ভারতের প্রাচীন সাহিত্য, দর্শন ও ভাষা এবং তার সাথে যুক্ত হয়েছিল অবৈদিক ও অন্যান্য ধর্মসমূহের তত্ত্ব।        স্বামীজী তাঁর চিঠিতে বলছেন -" এত দিন তোমরা যাহা করিয়াছ, তাহা বেশ হইয়াছ...

৩৬৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৫)

ছবি
  ৩৬৮  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৫ ) যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করু ন  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত   ১৮ নভেম্বর , ১৮৯৪  নিউইয়র্ক  থেকে লেখা পত্রের ছায়া অবলম্বনে - । । একটি জাতির অগ্রগতি ও অধোগতির ঐতিহাসিক মানচিত্র। ।  ঐক্যই শক্তি আর বিভেদই  ধ্বংস। হারিয়ে যাওয়া সেই নীতি ও আদর্শের কথা স্বামীজী  পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেন  হতদরিদ্র ভারতবাসীর  অন্তরে। একটি  দেশ সর্বংসহা ধরিত্রীর মতো দুবাহু বিস্তার করে তার অভ্যন্তরের মানুষদের  আগলে রাখে বহিঃশক্তির আক্রমণ থেকে। সেখানে সেই শত্রুই যদি হৃদয়ের অভ্যন্তরে বসে সেই পবিত্রতাকে নষ্ট করে, তবে তাকে বাঁচাবে কার সাধ্য ? সেই শত্রুরূপী জাত্যাভিমান, কুরে কুরে দেশের তথা  সমগ্র সমাজের সংহতিকে টুকরো করে দেশটাকেই  দুর্বল করে তোলে এবং  তার ফলে সেই দেশের পতনকে অনিবার্য করে তোলে- সেটা হতে পারে সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক অথবা রাজনৈতিক এইটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য।  এই বিশ্ব চরাচরে ভালোবাসার বহু উপকরণ আছে। কতিপয় স্বাস্থ্যকর ...

৩৬৭ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৪)

ছবি
  ৩৬৭  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৪ ) যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করু ন  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত  ২৭ শে অক্টোবর ,১৮৯৪ ওয়াশিংটন থেকে লেখা পত্রের ছায়া অবলম্বনে - । ।  প্রেমহীনতাই মানুষের সর্বদুঃখের কারণ। । লোকশিক্ষার প্রচলন  ছিল শ্রীরামকৃষ্ণের মুখ্য উদ্দেশ্য। স্বামী বিবেকানন্দ শত কাজের মধ্যে তাঁর গুরুদেবের আদর্শকে পুনরায় প্রচারে ব্রতী হবার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ওনার শিষ্য ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে।  নিজ শক্তির পরিমাপ করার জন্য কাজ একমাত্র মাপকাঠি। অসম্ভব আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্বামীজীর কাছে সত্যকে গোপন করে নিজেকে মহান করে  তুলে ধরার কোন প্রবণতা ছিল না। কঠিন বাস্তবতাকে তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন মানবমুক্তির সোপান হিসাবে, সেখানে না ছিল তথাকথিত অন্তঃসারশূন্য ঈশ্বরকে আরাধনার বাগাড়ম্বর, ধর্মের মূল লক্ষ্যকে অতিক্রম করে  সত্যের অপলাপ। গভীর সত্যে উপলদ্ধির পুঁজি যাঁর অন্তরে তিনিই একমাত্র বলতে পারেন -" যে ধর্ম বা যে ঈশ্বর বিধবার অশ্রুমোচন অথবা পিতৃমাতৃহীন অনাথের মুখে এক টুকরো রুটি দিতে না পারে, আমি সে...

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

ছবি
  ৩৬৬  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩ ) যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করু ন  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত  ১৮৯৪ সালে লেখা একটি পত্রের ছায়া অবলম্বনে - ধর্ম , পবিত্রতা ও আধুনিক ভারতের সংকট স্বামীজীর পত্রগুলি যেন কালকে অতিক্রম করে অনন্তে মিশে গিয়ে তাঁর বাস্তবতা ও প্রাসঙ্গিকতাকে বারবার পাঠককে মনে করাচ্ছে। সত্যিই আজ ভারতবর্ষে ধর্মের উপস্থিতি আজ প্রশ্নের মুখে। এই প্রশ্ন নতুন নয়—স্বামী বিবেকানন্দ এক শতাব্দীরও আগে তীব্র ভাষায় জিজ্ঞাসা করেছিলেন,  “ ধর্ম কি আর ভারতে আছে ? ”  আজ সেই প্রশ্ন আরও গভীর ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। কারণ ধর্ম আছে সর্বত্র, কিন্তু ধার্মিকতার অভাব স্পষ্ট। ভারতের ধর্মচর্চার মূল ধারাগুলি—জ্ঞানমার্গ, ভক্তিমার্গ ও যোগমার্গ—একসময় মানবমুক্তির পথ দেখিয়েছিল। কিন্তু বিবেকানন্দ যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তা আজ বাস্তব। এই পথগুলো বহুক্ষেত্রে সমাজের দায় এড়িয়ে আত্মরক্ষার কৌশলে পরিণত হয়েছে। জ্ঞান হয়েছে তত্ত্বকথা, ভক্তি হয়েছে আবেগের প্রদর্শনী, আর যোগ হয়েছে একান্তে  আত্মকেন্দ্রিকতা। সমাজ, মানুষ...

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)

ছবি
   ৩৬৫  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২ ) যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করু ন  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত  ১৮৯৪ সালে  স্বামী অখণ্ডানন্দকে লেখা ২য় পত্রের ছায়া অবলম্বনে - স্বামীজীর কাছে ধর্মের দুটো দিক ছিল - একটি সজীব ধর্ম অপরটি নির্জীব ধর্ম। যে ধর্ম সম্মুখপানে ধাবিত হয়ে আপামর সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধনে সদাই ব্যস্ত থাকে, সেটাই সজীব ধর্ম। যে ধর্ম গরিব মানুষের উপকার করতে পারেনা, ঠাকুরঘরের চালকলা আর শঙ্খধ্বনির মধ্যে প্রাত্যহিক ধর্মচারণকে  চারদেয়ালের মধ্যে সমাপ্ত করে, সেটি নির্জীব ধর্ম। এই ধর্ম মানুষের কোনো উপকারে আসেনা, ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও সীমিত পরিসরে ঘোরাফেরা করে, উপাসক যিনি, তিনি নিজের পুত্র-কন্যা, নাতি-নাতনির কল্যাণ সাধনায় এতটাই সময় ব্যয় করে ফেলেন যে পাশের বাড়ির মানুষগুলির কল্যাণ সাধনার জন্য আর সময় ব্যয় করতে পারেন না।  স্বামীজীর মতে, চিত্ত শুদ্ধি যদি না হয় তাহলে মানুষের প্রার্থনা ভস্মে ঘি ঢালার মতো নিস্ফল হবে। সমগ্র মানবজাতির মঙ্গল কামনার মধ্যে সার্বজনীন ঐক্যের যে বীজ লুকিয়ে আছে আর সেই বীজটি প...

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

ছবি
  ৩৬৪  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১ ) যদি একমত হন, তবে বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করু ন  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত  ২২শে  অক্টোবর, ১৮৯৪ বাল্টিমোর, আমেরিকা "লোহার উপর ততক্ষন আঘাত হানো  যতক্ষণ না সে তপ্ত  হয়।  "- - গভীর কোন অনুসন্ধান নয়, একান্তই বাস্তবতা, জড়কে বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ব্যবহার্য করে তুলতে  গেলে  সেটাই বস্তুর রূপান্তর প্রয়োজন। তার প্রাথমিক শর্ত হলো চেতনার উন্মেষ আর শিক্ষা হচ্ছে তার বাহক। চৈতন্য  ছাড়া মানুষ ও জড় সম্প্রদায়ভুক্ত।   বাস্তবতা থেকে স্বামীজীর দৃষ্টিভঙ্গিতে এই বিশ্বের যে স্বরূপটি উদ্ভাসিত হয়েছিল তা থেকে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিসরে , কাজকে আঁকড়ে ধরেই এই জগতের উন্নতি করতে হবে। এই জগৎটাকে কাজের ক্ষেত্র ব্যাতিত আর কিছু ভাবতে পারেন নি। সেই কাজটা একমাত্র জগতের উন্নয়ন, যা মানুষের আত্মিক বিকাশ  ছাড়া সম্ভব নয়।  জীবনের ধর্ম হচ্ছে মানব প্রেম আর তার জন্য প্রয়োজন ছিল মুক্ত বাতাবরণের। সেই মুক্ত বাতাস ছিল ব্রিটিশ কারাগারে বন্দী। তাই সেই বন্দিত্বের দশা ...