৩৭০ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৭)
৩৭০ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৭ ) ১৮৯৫, আমেরিকা স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত - ।। প্রচারের মেকি বসন যখন কর্মকে আড়াল করে রাখে ।। আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে কাজ করার চেয়ে কাজের ছবি তোলার কদর বেশি। কেউ গাছ লাগালে—প্রথমে সেলফি, তারপর গর্ত। কেউ দান করলে—রসিদ নয়, পোস্টার চাই। কাজটা শেষমেশ হয়েছে কি না, সে খবর গাছ আর গরিবই ভালো জানে, ফেসবুক জানে না। এই রকম এক প্রচার-পিপাসু কালে হঠাৎ যদি স্বামী বিবেকানন্দের ১৮৯৫ সালের আমেরিকা-ফেরত চিঠিখানা পড়ে ফেলেন, তবে হালকা মাথা ঘোরা অবধারিত। কারণ, লোকটি নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে বসেছেন— “আমি একমাত্র কর্ম বুঝি পরোপকার, বাকি সব কুকর্ম।” এই কথাটা আজকের দিনে বলা হলে বক্তাকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করা হতো— “আপনি কোন এনজিওর? আপনার ইউটিউব চ্যানেল আছে তো?” স্বামীজী থাকলে নিশ্চয়ই বলতেন— “চ্যানেল? আমি তো নদীর কথা বলছি বাবা!” স্বামীজীর মতে, যিনি সত্যিই কর্মময় পুরুষ, তাঁকে আলাদা করে প্রচার করতে হয় না। তিনি নিজের গুণেই জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হন। ঠিক যেন পাকা আম—নিজে থেকেই গন্ধ ছড়ায়, আলাদা করে বিজ্ঞাপন দিতে হয়...