৪০৫ মাথার ভাড়া-বাড়ি: এক দারোয়ান, দুই ভাড়াটে, আর এক অসহায় মালিক
৪০৫ মাথার ভাড়া-বাড়ি: এক দারোয়ান, দুই ভাড়াটে, আর এক অসহায় মালিক
একদিন আবিষ্কার করলাম যে , আমার মাথাটা মানে আমার হেডঅফিস, সে যেন একটা ভাড়া-বাড়ি। তবে এই বাড়ির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, মালিক আমি হলেও, এই মাথার নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই।
বাড়িতে থাকে মোটে তিনজন— একজন নিচতলার ভাড়াটে যার নাম 'উল্টে' তার একটা ইংরেজি নাম আছে 'বটম আপ'। একজন ছাদের ঘরের ভাড়াটে 'পাল্টে' তার আবার ইংরেজি নাম 'টপ ডাউন', আর একজন দারোয়ান 'আবেগ' তার আবার সাহেবি নাম ' অ্যামিগডালা'। আর আমি? একজন বাড়িওয়ালা, আমি শুধু ভাড়া তুলি—তাও মাঝে মাঝে!
এরা আমার বাড়িতে বসবাস করার সাথে সাথে নির্দিষ্ট কিছু কাজও তারা করে। আমি আবার দূর থেকে সেটা নজর করি। আমি দ্রষ্টা আর তারা দৃশ্য।
নিচতলার ভাড়াটে ভীষণ পরিশ্রমী। সে কখনও ছুটি নেয় না, বেতন চায় না, কিন্তু বাড়ির প্রায় সব কাজ করে। সকালে দাঁত মাজা, চা খাওয়া, রাস্তায় হাঁটা—সব সে সামলায়।
আমি তখন ভাবি—“দেখো, আমি কী সুন্দর নিয়ম মেনে জীবন কাটাচ্ছি!” আসলে আমি কিছুই করছি না—সব করছে সে।
কিন্তু এই ভদ্রলোকের একটা সমস্যা আছে—সে একটু বেশিই স্বাধীনচেতা।
যেমন— আমি ঠিক করেছি, আজ থেকে ডায়েট করব। নিচতলার ভাড়াটে বললো—“ঠিক আছে, কিন্তু ফ্রিজে যে কেকটা আছে, ওটা তো ফেলে দেওয়া ঠিক হবে না!”
আসলে সেটা গিয়ে দাঁড়ালো —ডায়েট শুরু হওয়ার আগেই শেষ।
এবার আসা যাক আমার ছাদের ভাড়াটে পাল্টের সম্পর্কে আমার মূল্যায়নে - ছাদের ভাড়াটে খুব ভদ্র, খুব শিক্ষিত, একটু অহংকারীও।সে মাঝে মাঝে নিচে নেমে এসে বলে—
“দেখো, তোমরা যা করছো, সেটা ঠিক হচ্ছে না।”
এই ভদ্রলোকই আমাকে বই পড়তে বসায়, পরিকল্পনা করায়, বড় বড় স্বপ্ন দেখায়।তাঁর জন্যই আমি মাঝে মাঝে ভাবি—“আমি একদিন মহান হবো!”
কিন্তু সমস্যা হলো—এই ভদ্রলোক ঠিক সময়ে ঠিক কাজটা করতে জানেন না।
যেমন, আমি একদিন রাস্তায় হাঁটছি। নিচতলার ভাড়াটে খুব সুন্দরভাবে হাঁটাচলা সামলাচ্ছে। হঠাৎ ছাদের ভাড়াটে নেমে এসে বললো—“দেখি তো, তোর পা ঠিকভাবে পড়ছে তো?”
ব্যস!
তারপর থেকে হাঁটাটা আর স্বাভাবিক রইলো না। ডান পা আগে না বাঁ পা—এই চিন্তায় আমি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম।
যেখানে চিন্তা সেখানেই বিপদ-একবার টিভিতে দেখছিলাম, এক দৌড়বিদ শেষ মুহূর্তে হেরে গেল।
কারণ?
সে ভাবতে শুরু করেছিল—“আমি ঠিকভাবে দৌড়াচ্ছি তো?”
এইটাই মানুষের ট্র্যাজেডি। যে কাজটা আমরা হাজারবার করেছি, সেটাকে যদি একবার চিন্তা করে করতে যাই— তাহলেই সর্বনাশ।
যেমন— সাইকেল চালানো। আপনি যদি হঠাৎ ভাবেন—“আমি কীভাবে ভারসাম্য রাখছি?” তাহলে নিশ্চিত পড়বেন।
মন্তব্যসমূহ