পোস্টগুলি

(২১৮) জগাখিচুড়ি -চতুর্থ সংখ্যা

ছবি
( ২১৮) জগাখিচুড়ি  -চতুর্থ    সংখ্যা   ১) বিভাজনের ক্রম বিবর্তনবাদ  বিভাজনের সূত্রপাত হয়েছিল সেই দিন, যে দিন এই বিশ্বব্রম্মান্ডের সৃষ্টি কর্তা প্রাণী সৃষ্টি করার জন্য অব্যক্ত অবস্থা থেকে  ব্যক্ত হলেন।  ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী সুপ্রিম পাওয়ার বা পরম ব্রহ্ম  নিজেকে বিভাজিত করে সৃষ্টি করলেন প্রকৃতি আর পুরুষকে।  তিনি হয়ে রইলেন পুরুষ হিসাবে।  এই পুরুষ হলেন চৈতন্য।  সেদিন থেকে চেতন আর অচেতনের দ্বন্দ্ব চিরন্তন  আর সেই পরস্পর বিরোধী সত্ত্বার পূর্ণাঙ্গ রূপ হল এই মানুষ।    শিশুর জন্মকালীন মাতা তাঁর নাড়ীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন  করে বিশ্ব প্রকৃতির কাছে একাকী ছেড়ে দেয়, সেও এক ধরনের বিভাজন।  এই আপাত খণ্ডিত ভাবনাকে , কতখানি আলোর সংস্পর্শে আসলে  বিভাজনের  ভাবনার ভূত মানুষের ঘাড় থেকে নামবে। রবি ঠাকুরের গানের সাথে গলা মিলিয়ে বলতে হবে -এই অন্ধকারের উৎস-হতে উৎসারিত আলো / সেই  তো তোমার আলো! /  সকল দ্বন্দ্ববিরোধ -মাঝে জাগ্রত  যে ভালো / সেই তো তোমার ভালো। অখন্ড ভাবনাই  খণ্ডিত বা বিভাজনের ভাবনার বিয়োগের চ...

(২১৭) জগাখিচুড়ি -তৃতীয় সংখ্যা

ছবি
  ( ২১৭) জগাখিচুড়ি  -তৃতীয়   সংখ্যা    আর্নেস্তো চে গুয়েভারা কি রাজনৈতিক আদর্শের নিয়ন্ত্রক  ?  বিপ্লবীসহ সুবুদ্ধি  সম্পন্ন মানুষের কাছে অবিসংবাদিত আইকন চে গুয়েভারা। আজ পর্যন্ত তাঁর বিকল্প কেউ হয়ে উঠতে পারেননি। অবশ্য চে' সারা জীবন ধরে যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে ইতিহাস হয়ে গেছেন, তারাই আবার তাঁর মৃত্যুর পরে সেই প্রতিকৃতি ও অন্যান্য শারীরিক অলংকারগুলিকে  মূলধন করে সারা বিশ্ব জুড়ে বিপণন করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করে আসছেন।  সারা পৃথিবীতে রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক আন্দোলন  সংগঠিত  করে যাঁরা নিজ দেশে   সমাজতন্ত্র   প্রতিষ্ঠা করে ছিলেন, তাঁরা কিন্তু বিপ্লব পরবর্তী  অভ্যন্তরীণ সংস্কারের মধ্যে জড়িয়ে পড়ে অন্যের সংসারে চুলা জ্বলছে কিনা সেই খবরটা নেবার পর্যন্ত  সময়  পাননি।  তাতে কেউ হয়ত তাদের  জাতীয়তাবাদী বলেন নি কিন্তু আন্তর্জাতিকতাবাদী  বলেও দাবি করেন নি। বিপ্লব পরবর্তী সময়টা যেন অবিবাহিত  ব্যক্তির বিবাহ করার মতো।  সেই যে একবার হেঁশেল ঢুকে যায়, সেখান  যখন বের হয় তখন গানসেলুট আর...

(২১৬) মহাকাব্যের সমুদ্র মন্থন

ছবি
  (২১৬ ) মহাকাব্যের সমুদ্র মন্থন   ভারতবর্ষ কি এখনো  রামায়ন ও মহাভারতময় (চতুর্থ  পর্ব)  সত্যের পথটা যেন সব সময় দুর্গম কি রামায়ণে অথবা মহাভারতে। তাই এই পথে যাত্রী সংখ্যা একান্তই কম।  জীবনের প্রাইম টাইমটা তাঁদের গোটা পরিবারটিকে নিয়ে  জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়ে তাঁরা কাটিয়ে দিয়েছে। যোগ্যতা ছিল  রাজসিক আরাম ভোগ করার, উপাদেয় খাদ্যপানীয়  দিয়ে দেহ মন ভরিয়ে দেবার , আরো কত ঐশো আরামে নিজেদের ভাসিয়ে দেবার কিন্তু কিছুই গ্রহণ করলো না। অনেকটা আজকের দিনের সাবেকী কমিউনিস্টদের মতো। সারা বিশ্বে তাদের অস্তিত্ব আছে, সংখ্যায় তাঁরা নগণ্য,  খুব কম রাষ্ট্রীয়  ক্ষমতায় তাঁদের প্রতিনিধিত্ব  আছে।  আবার কেউবা রাজসিংহাসনের আসে পাশে থেকে নিজেকে সর্বকালের ব্র্যান্ড হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার আকর্ষণ ত্যাগ করতে পারেননি। যাঁকে সারা ভারতবর্ষ  "প্রতিজ্ঞা" নামটা উচ্চারণের সাথে সাথে ভীষ্মকে শব্দের সমার্থক  করে দিয়েছেন।     রাম এবং ভীষ্ম এই দুজনেই আসলে তাঁদের পিতাদের দ্বারা একধরনের প্রতারিত হয়েছিলেন। রাজা দশরথ এবং শান্তনু উভয়েই  উগ্...

(২১৫) সীতা কি পুরুষ শাসিত সমাজে নারী নির্যাতনের শিকার ?

ছবি
(২১৫ )  সীতা কি পুরুষ শাসিত সমাজে নারী নির্যাতনের শিকার ?  ভারতবর্ষ কি এখনো  রামায়ন ও মহাভারতময় (তৃতীয়  পর্ব)  বিচারের বাণী সেদিনও কি নীরবে কেঁদেছিল ?  স্বামীজীর নির্দেশিত পথের আলোকে যদি শিক্ষার ক্ষেত্রে দিশা নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক   অথবা    নেতিবাচক   পথের মধ্যে কোনটা    গ্রহণ করাটা সমীচীন হবে , সেই  সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পাঠকের উপরই বর্তাবে। ইতিবাচক অর্থাৎ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রহণ আর নেতিবাচক অর্থাৎ বিশ্বাসের উপর নির্ভরশীল, যা আসলে মানুষকে ভীষণ দুর্ব্বল করে দেয়।  প্রসঙ্গ যেখানে, রামায়ণে বর্ণিত রাবণ কর্তৃক বনবাসী রামের সহধর্মিনী সীতাকে অপহরণ এবং তাঁর পরবর্তী ঘটনাবলিকে আজকের পটভূমিতে কি ভাবে দেখা হতো , তারই একটা ইঙ্গিত।              প্রশ্ন উত্থাপন হলেই উত্তরের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় থাকেনা।   প্রথম প্রশ্ন-   যদি কোনো বিবাহিত অথবা অবিবাহিত নারীকে  তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অপহরণ করা হয় বা  তার প্রতি বলাৎকারে মতো ঘটনা সংগঠিত  হয়, সে ক্ষেত্রে ...

(২১৪) মহাকাব্যের গহন হৃদয় মাঝে যে গান এখনো বাজে

ছবি
(২১৪) মহাকাব্যের গহন  হৃদয় মাঝে  যে গান এখনো বাজে   ভারতবর্ষ কি এখনো  রামায়ন ও মহাভারতময় (দ্বিতীয়  পর্ব)  রামায়ণ ও মহাভারত উভয়ের জন্ম যখন সেই মহাকাব্যের বংশ থেকে তখন জনমানসে একটা তুলনা করার প্রবণতা বিদ্যমান। নিঃসন্দেহ এই বিতর্ক প্রমান করে যে কোন সাহিত্যের সারাৎসারকে, যা আজও  সমাজে বহুল চর্চিত। 'বিশেষণ' নামক বিষয়টি খুব যে সহজ পাচ্য, সেটা জোর করে বলা যায় না। সেই আপাত কঠিন  বিশেষণকে ব্যাকরণের পাতা থেকে খসিয়ে নিয়ে বাক্যের গূঢ় ব্যাখ্যায় অতীব সহজ সরল পাচ্য করার ক্ষেত্রে রামায়ণ ও মহাভারতের অবদানকে অস্বীকার করা যায় না।  এখানেই  তাঁরা অমরত্বের অবিসংবাদিত দাবিদার শুধু নয়, সেখানে তাঁরা প্রতিষ্ঠিত।  একটু উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে। যেমন, কুটিল শব্দকে মনের অন্দরে চিরস্থায়ী রোপনের জন্য ' শকুনির মতো' বললেই আর কিছু ব্যাখ্যা করার দরকার  নেই।  সত্যবাদীর দৃষ্টান্ত যেমন যুধিষ্ঠির, শক্তিমানকে সংজ্ঞায়িত  করতে গেলে শুধু 'ভীম' নামটি উচ্চারণ করলেই চলবে , পিতার প্রতি আনুগত্যের নিদর্শন শুধু 'রাম' নামটি মুখে আনলেই হয়ে যাবে আর যদি বিশ্বাসঘাতক শব্...

(২১৩) ভারতবর্ষ কি এখনো রামায়ন ও মহাভারতময় (প্রথম পর্ব)

ছবি
  ( ২১৩) ভারতবর্ষ কি এখনো  রামায়ন ও মহাভারতময় (প্রথম পর্ব)    -    পুরাণকে টপকে গিয়ে   রামায়ন ও মহাভারতের  সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা মোটেই সম্ভব নয়।  কোথাও অতিরঞ্জন, কোথাও বা অলৌকিকতা আবার রূপকের বেলাগাম ব্যবহার এবং পরিশেষে প্রিজারভেটিভ হিসাবে ধর্মের ইনগ্রেডিয়েন্ট দিয়ে  ইতিহাসকে আগামীর কাছে পৌঁছে দেবার মহান দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলেন সেদিনের পুরাণ রচয়িতারা।  তাঁরা জানতেন, সব কিছু ধ্বংস হয়ে গেলেও ধর্ম ধ্বংস হবেনা, তাই খুব সচেতন ভাবে ইতিহাসের সংরক্ষণের জন্য এই পথটা বেছে নিয়েছিলেন। (পুরাণের উপর কিছু তথ্য সমৃদ্ধ ব্লগ পূর্বে দেওয়া আছে )  সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে অতিমানব বানানো ভীষণ কঠিন কাজ কিন্তু অতিমানব হিসাবে পরিচিতি  নিয়ে মানবসমাজে অবতীর্ন হলে তাঁর   গ্রহণ যোগ্যতা  অনেক বেশী। এক কথায় ব্র্যান্ড ইমেজ। যাঁর আসনটা হবে সাধারণের থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে। যেই পুরাণটি দায়িত্ব নিয়ে এই অসাধারন কাজটিকে সহজ করেছিল, সেটি  হলো "গরুড় পুরাণ"। সেখানে ভগবান  বিষ্ণুর অবতার  অর্থাৎ ভগবানের মানব সংস্করণ হিসাবে দশ জন...

(২১২) জগাখিচুড়ি -দ্বিতীয় সংখ্যা (09-06-24)

ছবি
  (২১২) জগাখিচুড়ি  - দ্বিতীয় সংখ্যা  সখি ভালোলাগা কারে কয় - এই বিশ্বে ভালোলাগার নির্দ্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা কি  আছে, না সেটা একটি গতিশীল মানব মনের প্রক্রিয়া। ভালোলাগা যদি স্রোতহীন জলাশয়ে  পড়ে আবদ্ধ হয়ে যেত তাহলে তার তো পঙ্কিল  সমাধি হতো। কতকিছু যে অসমাপ্ত হয়ে থাকতো, তার ইয়ত্তা নেই। পারতো কি কবি নিত্য নতুন কাব্য রচনা করতে, তানপুরার তারের সাথে আঙুলের মেল বন্ধনে নিত্য নতুন সুরের জন্ম কোনদিন হতো না, একঘেয়ে উপন্যাস পড়তে পড়তে পাঠক ক্লান্ত হয়ে যেত। সর্বোপরি, আজকের যে প্রথম সারিতে  অলংকৃত করে বসে আছে যেই ভালোলাগার বস্তু একদিন সে সময়ের ডাকে  অস্থাবর সম্পত্তিতে পরিণত হয়ে যাবে , তা কেউ বলতে পারেনা। সেই স্থলে অভিষিক্ত হবে নতুন এক ভালোলাগার বস্তু। এইভাবে বিশ্ব প্রকৃতি তার পরিবর্তনের জয়গান সবার  অলক্ষে গেয়ে যাবে।  যেদিন আকাশ ভরে মেঘের আনাগোনা হয়, কবির মনটা চঞ্চল হয়ে উঠতে শুরু করে, কেননা,  রোদের কষ্ট কেউ বোঝেনা; সারাদিন ধরে একটানা পরিবেশন করতে করতে সেও ক্লান্ত আর মর্ত্যের মানুষরা তো সবসময়ে বৈচিত্রের প্রত্যাশী। এমনিই এক সময়ে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি এলো, কব...