পোস্টগুলি

317 মুক্তি চেতনায় উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ

ছবি
 317   মুক্তি চেতনায় উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ  জীবনের একটা পর্ব থাকে যেখানে মন রোমান্টিকতা ছাড়া আর কাউকে জায়গা দিতে চায় না। এই রোমান্টিকতা মুক্তি দেয় যুক্তি তর্কের হাত থেকে, অবচেতন মনের হাতছানিতে  ভেসে বেড়ায় প্রকৃতির দেশে, যেখানে শুধু আছে ভালোলাগার অনুভূতি।  ওয়ার্ডসওয়ার্থ আর রোমান্টিকতা প্রায় সমার্থক। মুক্তি শব্দটি এক বহুমুখী  অনুভূতির এক সামগ্রিক রূপ আর এই সবই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে  চেতনায় গিয়ে। সেখানে রাজনৈতিক মুক্তি একটি দিক মাত্র। চেতনাকে মুক্ত করতে পারে একমাত্র নিঃস্বার্থ, বাধাহীন ভালোবাসা, যা বাস্তবে হয়তো সম্ভব নয় কিন্তু কল্পনার জগতে হামেশাই হয়ে থাকে। তাই মুক্তি চেতনার যদি আস্বাদ পেতে হয় তবে কবির কবিতায় এক গভীর দার্শনিক বোধের সাথে পরিচিত হতে হবে।  জন্মের প্রথম লগনে দুঃখ এসে বাসা বেঁধেছিলো মানুষের মনে। সারা জীবন ধরে  মানুষ সংগ্রাম করে গেছে সেই দুঃখের ওপারে পৌঁছানোর। মানব জীবনে মাঝে মাঝে  কিছু পথ প্রদর্শক এসে বলেছেন, দুর্গম যে আপন মনের অন্তরালে, তাকে  একমাত্র দূর করতে পারে যে তোমাকে অকৃপণ হস্তে দান করছেন সকল দুঃখ  দুর্দশা। ...

316 একটা ছোট্ট ছেলের মিষ্টি ভাবনার গল্প

ছবি
316    একটা ছোট্ট ছেলের মিষ্টি ভাবনার গল্প  স্বপ্নের সিঁড়ির ছবি  রাত বেশ গভীর। খোলা জানলা দিয়ে রুপালি আলোর বন্যা সারা ঘরকে আলোকিত করে দিয়েছে। মিতুন বিছানায় শুয়ে বিস্তীর্ন আকাশের তারাদের দিকে তাকিয়ে ভাবছিল - আচ্ছা ! "তারারা কি সত্যি কথা বলতে পারে?" মনে মনে কথা বলা, যেন চাঁদ শুনতে পেয়ে গেলো, সে জানালা দিয়ে নেমে এসে যেন একটা ঝোলানো সিঁড়ি মিতুনের কাছ বরাবর নামিয়ে নিয়ে এলো।  সে আর বিছানায় শুতে পারলো না।  পাশে দেখলো মা আর বাবা গভীর ঘুমে  আছন্ন। আস্তে আস্তে পা টিপে টিপে খোলা জানলার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। ভীষণ সাবধানে সেই পাদানিতে পা রাখলো।  ব্যাস! মিতুন উঠতে লাগলো ,   জীবনে সে  এতো  আনন্দ পায়নি। যত উপরে উঠতে লাগলো, ততই চারপাশে কি সুন্দর  ঠান্ডা আর মিষ্টি বাতাস যেন তার ছোট্ট  শরীরটাকে জুড়িয়ে দিলো। কিছুদূর এগিয়ে যেতেই সে পৌঁছে গেলো এক আশ্চর্য জায়গায় , স্তূপাকৃত মেঘ একজোট হয়ে এক পাহাড়ের সৃষ্টি করেছে। কি অদ্ভুত সুন্দর  তাকে দেখতে ! ছোট ছোট পা মেলে যখন হাঁটছে, মনে হচ্ছে যেন নরম বালিশের  উপর দিয়ে  হেটে বেড়াচ্ছে।  ...

315 মুক্তি চেতনায় বাংলার কবি শামসুর রহমান

ছবি
 315   মুক্তি চেতনায় বাংলার কবি শামসুর রহমান  মূর্খ এবং জ্ঞানীর মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। মূর্খ ধর্মের নামে , রাজনীতির নামে, জাতপাতের নামে সাধারণ  মানুষের মধ্যে বিভাজনের রেখা টেনে  দিয়ে তাদেরকে ব্যস্ত রাখতে চায়,  নিজেদের মধ্যে হিংসা ছড়াতে, যাতে করে মূর্খের  মুর্খামির দিকে সাধারনের নজর যাতে না যায়। সমাজে এই  ভাঙা-গড়ার খেলাটি বড্ড প্রাচীন ।  ঠিক তার পাশাপাশি একদল মানুষ তথাকথিত ভেদাভেদের  উর্ধে মানুষকে টেনে তুলবার সংগ্রামটা নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। এই বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে অভিভক্ত বাংলার কবি  শামসুর রহমানের নামটি  বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।  যারা জোর করে কেড়ে নিয়ে গেছে সেই রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক, ন্যায়ের ও  ধর্ম চারণের স্বাধীনতা, তাদের বিরুদ্ধে কবি সর্বদাই মুক্তিকামী  মানুষের পাশে। প্রত্যেক সৃষ্টির পিছনে কিছু না কিছু, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারণ থাকবেই। পরোক্ষ কারণ ছিল স্বাধীনতা ভোগের অতৃপ্তিতা আর প্রত্যক্ষ কারণ ছিল দেশভাগ আর  ভাষা আন্দোলনের কষাঘাত।  একটা ক্ষত শুকাতে না শুকাতে আরেকটি ক্ষতকে বুকে ...

৩১৪ Che Guevara The Revolutionary Icon all the Time (part V)

ছবি
৩১৪   Che Guevara The Revolutionary Icon all the Time (part V) বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট বারিয়েন্টোস এতদিন বলে আসছিল যে দেশের অভ্যন্তরে যে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে, তখন কেউ বিশ্বাস করে নি ; অবশেষে  লা হিগুয়েরা জঙ্গলে চে'র উপস্থিতি প্রমান করলো,  সেটি আদতে  মনগড়া কোন খবর নয়। এক সময়ে ওয়াশিংটন তো  ব্যাপারটা প্রেসিডেন্টের একটা চাল বলেই ধরে নিয়েছিল। চারিদিকে থমথমে পরিবেশ, ইতস্ততঃ সাংবাদিকদের দৌড়াদৌড়ি, আন্তর্জাতিক প্রেসের কাছে খবর এসেছে চে গুয়েভারা গ্রীন ব্যাটেল আর্মির হাতে লা হিগুয়েরা জঙ্গলে  ধরা পড়েছে।   চে যেমন প্রকাশ্যেই বলে এসেছেন যে - আগামী দিনে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নিউইয়র্ক -এর নামকে মুছে দেবার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ঠিক তেমনি গোটা  ল্যাটিন  আমেরিকা ও আফ্রিকার উপর আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা  সি. আই. এ. চে'র গতিবিধির উপর নজর রাখছিলো।  ঘটনাটি যখন নজরে এলো, তখন  বলিভিয়ার প্রত্যন্ত এক অঞ্চল থেকে ফরাসি সাংবাদিক রেজি দ্রবেকে বলিভিয়ার সামরিক বাহিনী গ্রেফতার করে, সেই সময় থেকে। রেনি বারিয়েন্টোস প্রচার করে দেন দ্রবে কিউবার বিপ্লবকে...

৩১৩ একটি জীবনের স্বাধীনতা

 ৩১৩  একটি জীবনের স্বাধীনতা     তেরঙ্গা  পতাকার  নিচে এক শিশু ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল, আকাশে ভাসছে ত্রিবর্ণ পতাকা। বাবার কাঁধে বসে আছে এক বছরের হেমন্ত। বুঝবার বয়স হয়নি, কিন্তু সে দেখছে চারপাশে হইচই, লাল-সবুজ-গেরুয়া পতাকা, আর স্লোগান— “বন্দে মাতরম!” “জয় হিন্দ!” বাবা ধীরে ধীরে বললেন— — হেমু, আজ থেকে আমরা স্বাধীন। ব্রিটিশ শাসন শেষ। তোর জীবন আমার মতো হবে না। মা পরে বলেছিলেন— — তুই এমন এক দেশে বড় হবি যেখানে জমি হবে আমাদের, শিক্ষা হবে সবার, কেউ কারও উপর আর খবরদারি করবে না। দেশের মানুষ তখন বিশ্বাস করত স্বাধীনতা মানে দুঃখের অবসান। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা আসতে যে সময় লাগবে—এ কথা কেউ উচ্চস্বরে বলেনি। আসলে স্বাধীনতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণাই ছিল না।  ১৯৫০-এর দশক আর  নতুন ভারতের প্রথম স্বপ্ন  হেমন্তের শৈশব কাটে নদীর ধারের গ্রামে। বাঁশের বেঞ্চ, মাটির দেওয়ালের স্কুলঘর, শিক্ষক রমেন বাবু। ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়, কাগজে, কলমে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হয়। কিন্তু গ্রামে তখনও বিদ্যুৎ নেই, কাঁচা রাস্তা, বর্ষায় কর্দমা...

৩১২ মুক্তি চেতনায় পল্লী কবি জসীমউদ্দীন

ছবি
  ৩১২  মুক্তি চেতনায় পল্লী কবি জসীমউদ্দীন   কবি, শিল্পী ও সাহিত্যিকদের অন্তর্দৃষ্টির গভীরতা সাধারণ মানুষের থেকে অনেক বেশি। সময়কালটা ছিল ১৯০৩ থেকে ১৯৭৬, এই দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিবেশ, সমাজ ও সামাজিক অব্যবস্থাকে তিনি ভীষণ কাছ থেকে লক্ষ্য করছেন। যখন তাঁর ক্যানভাসে গ্রামের জীবনযাত্রা উঠে এসেছে, তখন তিনি কবিতা, গান ও গল্পে তাকে প্রাণবন্ত  করে তুলেছেন। সেখানেই উঠে এসেছে মানুষের মুক্তির আকাঙ্খা - সেটা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, বরং দারিদ্য, কুসংস্কার, শোষণ ও সামাজিক অসাম্যের হাত থেকে মুক্ত হবার স্বপ্ন। তাই তার সৃষ্টির লব-কুশরা মূলত সাধারণ মানুষ বিশেষত শ্রমিক-কৃষকদের জীবনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।  বন্ধন যদি প্রবল হয় তখন মুক্তিই একমাত্র যাত্রার অভিমুখ হয়। যারা এই রশি দিয়ে সমাজকে বেঁধে রেখেছে, সেই বন্দিদের দায়িত্ব বর্তায়  সেই রশিকে তাদের হাতেই  ফেরত দেবার, তবেই তো রশির ঋণ শোধ হবে।  সেই সময়টা ছিল দেশে ব্রিটিশ শাসন আর গ্রামে জমিদারের শোষণ, যার ফসল  হলো অশিক্ষা আর তাকে  আঁকড়ে বেড়ে ওঠা কুসংস্কার, ঋণ ছিল জন্মজন্মান্তরের সঙ্গী আর দেহটা ছিল হতদরি...

৩১১ ফিরে দেখা সত্তরের দশক ( দ্বিতীয় পর্ব )

  ৩১১ ফিরে দেখা সত্তরের দশক ( দ্বিতীয়  পর্ব ) এক সময়ে, বেলেঘাটা অঞ্চলকে ঘিরে বেশ কিছু ফ্যাক্টরি ছিল। তাদের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানার মধ্যে  উল্লেখযোগ্য ছিল বেঙ্গল পটারী, ন্যাশনাল রাবার ফ্যাক্টরি, স্মল টুলস ইত্যাদি। একে একে সব ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেল, তাদের ঘরে ঘরে নীরব আর্তনাদ অনিমেষদের কানে পৌঁছেছিল। সামর্থের মধ্যে ছিল মধুবাবু, খালের ওপারের রমেশবাবুর রেশন দোকান থেকে সপ্তাহের রেশনটা বিনা পয়সায় পাঠানোর  ব্যবস্থা করা আর কিছু উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে সাহায্য।   ********************************************* একটি রাজনৈতিক আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতে না পেরে শাসক  একের পর এক এনকাউন্টার করতে শুরু করলো। হঠাৎ একদিন দিনের বেলায় জোড়ামন্দিরের রাধামাধব দত্ত গার্ডেন লেন ও তার পার্শবর্তী অঞ্চল  থেকে অনিমেষের একান্ত বন্ধু আশীষ, মানু (দুইভাই), পল্টনদের পুলিশ  হত্যা করে, রাসমণি বাজারের মুরারিকেও  এইভাবেই হত্যা করে, তাদের দমন পীড়নকে অব্যাহত রাখে।  ********************************************** সেদিন অনিমেষ মিলির চোখে আগুন দেখেছিলো, যেদিন লাল পতাকা...