315 মুক্তি চেতনায় বাংলার কবি শামসুর রহমান
315 মুক্তি চেতনায় বাংলার কবি শামসুর রহমান
মূর্খ এবং জ্ঞানীর মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। মূর্খ ধর্মের নামে , রাজনীতির নামে, জাতপাতের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজনের রেখা টেনে দিয়ে তাদেরকে ব্যস্ত রাখতে চায়, নিজেদের মধ্যে হিংসা ছড়াতে, যাতে করে মূর্খের মুর্খামির দিকে সাধারনের নজর যাতে না যায়। সমাজে এই ভাঙা-গড়ার খেলাটি বড্ড প্রাচীন ।
ঠিক তার পাশাপাশি একদল মানুষ তথাকথিত ভেদাভেদের উর্ধে মানুষকে টেনে তুলবার সংগ্রামটা নিরলসভাবে করে যাচ্ছেন। এই বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে অভিভক্ত বাংলার কবি শামসুর রহমানের নামটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যারা জোর করে কেড়ে নিয়ে গেছে সেই রাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক, ন্যায়ের ও ধর্ম চারণের স্বাধীনতা, তাদের বিরুদ্ধে কবি সর্বদাই মুক্তিকামী মানুষের পাশে।
প্রত্যেক সৃষ্টির পিছনে কিছু না কিছু, প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কারণ থাকবেই। পরোক্ষ কারণ ছিল স্বাধীনতা ভোগের অতৃপ্তিতা আর প্রত্যক্ষ কারণ ছিল দেশভাগ আর ভাষা আন্দোলনের কষাঘাত। একটা ক্ষত শুকাতে না শুকাতে আরেকটি ক্ষতকে বুকে জড়িয়ে তিনি লিখলেন "তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা। "
১৯৭১ সাল মুক্তিযুদ্ধের সময় কখন যেন কবি স্বাধীনতাকে তিনি প্রেমিকার আসনে প্রতিষ্ঠা করে দেয়, পরপুরুষের থাবা থেকে প্রেমিকাকে মুক্ত করার জন্য যেমন প্রেমিক রক্ত ঝরাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না, ঠিক সেই রকম সেই স্বাধীনতাকে কেউ যদি কেড়ে নেয়. তবে সেই ভালোবাসাকে পুনরুদ্ধার করতেই হবে। স্বাধীনতা যখন ধমনীতে বইতে থেকে তখন মুক্তির মন্ত্রে প্রজ্জ্বলিত শিখা একে একে পুড়ে মারে স্বৈরতন্ত্রের পোকাকে।
স্বাধীন সত্তা একটা বাধাহীন নদীর স্রোতের মতো, আপন গতিতে ভাঙতে চায়, যে কোন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বাধাকে। কবির ভাবনায় এবং লেখনীতে সেই সুর বারবার শোনা যায়।
কবির অবিস্মরণীয় সৃষ্টি - "উনিশে নভেম্বর" কবিতাটি। ঐতিহাসিক ভাবে নূর হোসেনের আত্মহুতির দিনকে সযত্নে আলবামে কবি জায়গা করে দিয়েছেন। প্রত্যেক স্বাধীনতার প্রতীকী হচ্ছে তার পতাকা, এখানে নূরই হচ্ছে সেই প্রতীকী পতাকা। আর মৃত্যু যেন অমৃতের সোপান।
শামসুর রহমানের কবিতা, মুক্তি চেতনার এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। স্বাধীনতার যদি যথার্থ যদি অর্থ ধরতে হয়, তাহলে অবশ্যিই রাজনৈতিক লক্ষ্য গোটা স্বাধীনতা অর্থের একটা অংশ মাত্র। তাকে ঘিরে আছে অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় এবং মানবিক মর্যাদার স্বাধীনতা। তাই শামসুর রহমান শুধু কবি হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিলে, অসম্পূর্ণতা থেকে যাবে, তার থেকে আরেকটু এগিয়ে গিয়ে বলা যায়, তিনি মানবমুক্তি আন্দোলনের এক সাংস্কৃতিক সৈনিক।
তারিখ ১৬/০৮/২৫
ভালো লাগলে পরিচিতদের কাছে শেয়ার করুন। খারাপ লাগলে ইগনোর করুন।
rabinujaan.blogspot.com ক্লিক করে যে কোন সার্চ ইঞ্জিন থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে।
মন্তব্যসমূহ