পোস্টগুলি

ওপারের সংগীত 134

ছবি
ওপারের সংগীত 134 জন্ম ১৯শে  জুলাই, ১৯৮৫। তিরোধান ৩০শে জুলাই, ১৯৯০   নামনি  প্রিয় নামনি , আসে কোন তরুণ অশান্ত  আজ সকাল থেকে আকাশটা যেন পণ করেছে কিছুতেই মেঘকে ছুটি দেবেনা। পার্ক নার্সিং হোমের পাশে এ জে সি বসু রোডে প্রায় এক হাটু সমান জল জমে গেছে।   বাইরে বিরামহীন  বর্ষনের সুরটা  আমার কাছে আজ  সার্বজনীন  বেদনার অনুভূতিকে বহন করে আনছে। এ যেন প্রিয়জনের বিদায়ের একটানা সানাইয়ের বিষাদের সুর  বেজে যাচ্ছে।  ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী, একা একা করি খেলা     ৩০শে  জুলাই, ১৯৯০, আজকের   থেকে ঠিক  পাঁচ বছর ১১ দিন আগে   বহু প্রলোভন দেখিয়ে এই বিশ্ব প্রকৃতি   আমাকে  এই পৃথিবীতে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছিলে। আজ আমি  পার্ক নার্সিং হোমের ৯ নং বেডে  তোমার  কাছে শুয়ে আছি।  মনে আছে , আমি   হঠাৎ করে  তোমাকে   বলে উঠলাম  আমার বালিশটা একটু উঁচু করে দাও আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তুমি চঞ্চল হয়...

সমাজের রাজন্যবর্গ (133)

ছবি
  সমাজের রাজন্যবর্গ (133) পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর মর্যাদার অবমাননা  এবং ভোগের উপকরণ হিসাবে তাঁর প্রয়োজনীয়তা কাল ও ছিল আজও আছে।  মহাভারতের যুগের সমাজ ব্যবস্থায় প্রচলিত ছিল পুরুষের বহু বিবাহ, উপপত্নী রাখার প্রথা  এবং পরস্ত্রীর প্রতি ভোগের আকাঙ্খা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে জোর করে অধিকার প্রতিষ্ঠা। এমনকি পরস্ত্রীকে পাবার জন্য কিছু মন্ত্র ও ছিল সে যুগে। যেমন রাজার অন্য রাজ্যের প্রতি কুনজর থাকে তাকে পাবার জন্য সংগ্রামে মেতে উঠে , ঠিক তেমনি অর্থবান ও ক্ষমতাবান রাজপুরুষ শতাব্দী প্রাচীন অভ্যাসে পরস্ত্রীকে অধিকার করতে অভ্যস্ত হবে, সেটা আবার নতুন কি ?  তাহলে যে কোন জমিকে ছলে বলে দখল করা যেতে পারে, সেখানে আক্ষরিক জমির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সীমারেখা বা দেশের সার্বভৌমিকত্ব শব্দগুলি যেমন শুধুমাত্র কাগুজে, ঠিক তেমনি সমাজের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ স্ত্রীকে দখলদারি নেওয়ার ক্ষেত্রে পরপুরুষেরও  নিয়মের দরকার পড়েনা।  কেন সমাজ কতৃক এই অবৈধ সম্পর্কের  মান্যতা- চেতন এবং অবচেতন মনে জৈবিক  সম্পর্ক গুলি শত সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বাঁধন দিয়ে বাধা হোক না কেন, দ...

আসা আর যাওয়া (১৩২)

ছবি
  আসা আর যাওয়া (১৩২) কার্য ও কারণ : অদ্বৈত বেদান্ত বলে , কার্য্য কারণের  থেকে আলাদা হতে পারেনা। কেন আলাদা হতে পারেনা - তার ব্যাখ্যায় বলছেন কারণের সৃষ্টিই হয় কার্য্য থেকে। তাইই যদি হয় তাহলে কারণের আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, সেটা সহজেই অনুমেয়। ধরা যাক, বাড়ির রূপ নিয়ে  যে বস্তুটি উপস্থিত হলো, সেটা হলো কার্য্য অর্থাৎ স্থুল বস্তু বা যা দৃশ্যমান আর বাড়িটি তৈরি করতে যে সব বস্তু বা উপাদানগুলির ব্যবহৃত হয়েছিল সেটাই কারণ। যেমন, প্রাণের সঞ্চার হয় বীজ থেকে আবার সেই প্রাণই পরিণত হয়ে বা তার লয় হয়ে বীজে ফিরে যায়। বস্তুর স্থুল অবস্থা হচ্ছে কার্য্য আর সুক্ষ অবস্থা হচ্ছে কারণ।  ক্রমবিকাশবাদ কি ? যে বীজ মাটির তলায়  অপ্রকাশিত অবস্থায় থাকে, সেই অবস্থাটাকে অব্যক্ত বলে বর্ণনা করা হয়। আবার যখন সেই বীজই প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করে মাটির আস্তরণ ভেদ করে দৃশ্যমান পৃথিবীতে মাথা তুলে নিজের অস্তিত্ব জাহির করে, সেই অবস্থাকে বীজের ব্যক্ত অবস্থা বলে। বীজের এই অবস্থাকে ক্রমবিকাশকের দৃষ্টিকোণ থেকে  দুইভাগে ব্যাখ্যা করা যায়, প্রথমত বীজের সূক্ষাবস্থা  হল অব্যক্ত আর স্থুলা...

হালচাল (১৩১)

ছবি
 হালচাল  (১৩১)   মানুষের  ক্ষুধার   উদ্বেগ হলেই খাদ্য গ্রহণ করে। আর সত্যিই যদি ক্ষুধার উদ্বেগ না হয়, তাহলে তাকে কি ক্ষুধাবর্ধক ঔষধ খাওয়াতে হবে ? অর্থাৎ এমন একটা পরিবেশ গড়ে তোলা যাতে সে জীবনের সব অভাব অভিযোগকে ভুলে, আকৃষ্ট হয় ধর্ম কি তা জানতে। আসল ধর্মকে গোপন রেখে নকল ধর্মের বেচাকেনার মাধ্যমে আধুনিক সমাজে এক নৈরাজ্যের   পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে । এটি একদল ক্ষমতাসীন মানুষ এবং একচেটিয়া পুঁজির পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে তোলা এক অদ্ভুত  অপসংস্কৃতি।  ভারতীয় প্রাচীন সংস্কৃতিই এই অপসংস্কৃতির মোকাবিলা করতে পারে। পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, এই ভারতভূমি এমন এক সংস্কৃতির পীঠস্থান, সেখানে দাঁড়িয়ে  স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, সারা বিশ্বের মানবজাতির উন্নয়নের মন্ত্র একমাত্র ভারতীয় সংস্কৃতির মধ্যেই আছে আর তার জন্য ভারতবর্ষকে বাঁচাতে হবে।  প্রাচীন সংস্কৃতি ইতিহাস নির্ভর আর তাকে সন্নিবেশ,পরিবর্তন এবং মুছে দেবার প্রচেষ্টা যুগে যুগে একদল ক্ষমতাসীন মানুষ নিজ স্বার্থের জন্য এই পুরোনো খেলায় মত্ত থাকে। আজকে...

সংঘর্ষ (১৩০)

ছবি
  সংঘর্ষ  (১৩০)   দ্বৈত এবং অদ্বৈতবাদের মহারণে সাধারণ মানুষ আজ তাকেই গ্রহণ করবে যার মধ্যে যুক্তির সমারোহ আছে এবং প্রমান সাপেক্ষ ব্যাখ্যা আছে। গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ ক্রমবিবর্তনটা কি ভাবে এসেছিল  দ্বৈতবাদীরা  বললেন, জীব ও ব্রহ্ম ভিন্ন।  সাময়িকা দ্বৈতবাদীরা বললেন - সংসারে বা অজ্ঞানে থাকাকালীন জীব ও ব্রহ্মের রাস্তা পৃথক হলেও সম্পূর্ণ জ্ঞানদশায় সমস্ত জীব ব্রহ্মে বিলীন হয়ে যায়। উদাহরণ স্বরূপ তারা বললেন নদী সমুদ্রগর্ভে বিলীন হবার পূর্বে নিজ নিজ পরিচয়কে বহন করে চলে, আর যখন তারা পরিণতিতে মিলে যায় তখন তাদের আলাদা কোনো অস্তিত্ব থাকেনা অর্থাৎ সাগরে মিলে যায়। ঠিক তেমনি এই সংসার নামক রঙ্গমঞ্চে নিজ নিজ নামরূপে জীব প্রকাশিত হলেও এই দেহের মুক্তিতে তারা পরম ব্রহ্মের সাথে একত্রিত হয়ে যায়। তখন ব্রহ্ম আর জীবের কোন প্রভেদ থাকে না। তাই এই মতবাদ সাময়িকাদ্বৈতবাদ বলে পরিচিত।    দ্বৈতবাদের অনুসরণকারীরা অদ্বৈতবাদকে কিন্তু অস্বীকার করতে পারেন নি, পক্ষান্তরে অদ্বৈতবাদকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন।  জগৎ ব্রহ্ম শ...

প্রত্যয় (১২৯)

ছবি
প্রত্যয় (১২৯)   জগতের বিকাশের একটা পর্যায়ে মানুষ আর কোন কিছুকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে চায় না। গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ দ্বৈত এবং অদ্বৈতবাদের মহারণে মানুষ আজ তাকেই গ্রহণ করবে যার মধ্যে প্রমান সাপেক্ষ সারবত্তা আছে। শুধু মাত্র তথ্য নয়, তাকে হতে হবে বাস্তবিকই সত্য নির্ভর অর্থাৎ তত্ত্ব।  তথ্য আর তত্ত্বের মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক আছে। কবি সাহিত্যিকদের লেখনীতে আমরা যা পেয়ে থাকি তা হল তথ্য, কেননা সাহিত্য সৃষ্টির কোন দায় নেই সত্যের গভীরে গিয়ে তাকে প্রমান করানোর, সেখানে দর্শনের দায় আছে অকাট্য যুক্তির অবতারণা করে তাদের বক্তব্যকে উপযুক্ত যুক্তি সহকারে  তত্ত্বে উন্নীত করার। আমাদের কাছে কোন মতটি প্রাধান্য পাবে তা নির্ভর করছে উপযুক্ত প্রমান ও যুক্তিতে সমৃদ্ধ   দর্শনে। ধর্মীয় দর্শন অন্যান্য ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বা ম্যাথমেটিক্সের মতো বিজ্ঞান নয় তাই তাকে অকাট্য প্রমান করতে গেলে সেখানে যুক্তি নির্ভর বিশ্লেষন করাটা ভীষণ জরুরি। আবার আজকে বিজ্ঞানও অনেক ক্ষেত্রে দর্শনের তত্ত্বকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রমান করেছে তার সত্যতাকে।  অধ্যাত্ম...

মীমাংসা (১২৮)

ছবি
মীমাংসা (১২৮)   যখন জীব ধীরে ধীরে সাংসারিক মোহ থেকে মুক্ত হতে শুরু করে, তখন তার মনের মধ্যেকার দ্বৈতভাবটাও ধীরে ধীরে সরতে শুরু করে এবং ত্যাগের প্রক্রিয়া যখন সমাপ্ত হয় তখন আলোর দরজাটা উন্মুক্ত হয়ে যায়।      গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ এই মায়ার পৃথিবীতে, যখন আমরা নিজেদের  স্বপ্ন দিয়ে তৈরী করা সৌধগুলি বাস্তবের সংস্পর্শে এসে একের পর এক ভাঙতে দেখি  তখন সেই ধংসস্তূপের মধ্যে থেকে শুধু একটা প্রার্থনা ঘুরে ফিরে আসে, তা হল শান্তির জন্য আকুল আবেদন। সেই আবেদনে সারা দিয়ে বাইরের পৃথিবীতে খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত পথিক যখন নিজেকে একান্তে আপন অন্তরে খুঁজতে শুরু করে, তখনিই সে জ্ঞানের আলোকে তার কাঙ্খিত বস্তুর সন্ধান পায়।  সেই পথে হাটতে হাটতে অন্তরের যা কিছু অসত্য আর অজ্ঞান বৃক্ষের পাতাগুলি একে একে ঝরে যায় আর সেই স্থান দখল করে নেয় নতুন করে গজিয়ে উঠা জ্ঞানবৃক্ষের ফলগুলি। সারা দিনের শেষে শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরে ফিরে আসে, যাকে এতদিন  সত্য বলে জানতাম সে সবই ছিল ভ্রম।    যা জীবনে জানা নেই, যা দেখা নেই সেই অজানা আ...