পোস্টগুলি

(১৪০) অহংকারের রসায়ন (৫ম পর্ব )

ছবি
   (১৪০ )     অহংকারের রসায়ন (৫ম পর্ব ) সংক্ষেপে - 

ধর্ম ও শাসক (139)

ছবি
  ধর্ম ও শাসক (139) প্রথম সংখ্যা। .           যখন শাসকের কোন নীতি থাকেনা , তখন সে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে। কেননা, সমাজে একটা ধর্মীয় পরম্পরায় জন্ম থেকে দেশবাসী কয়েদ হয়ে আছে।            রাজনীতির আসল খদ্দের হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর সাধারণ মানুষ কোন না কোন ধর্মের দ্বারা পরিচালিত।  ধর্মের নামে ব্যবসা করে একদল সুবিধাবাদী ধর্মগুরুরা। তাই রাজা যদি তাদের উপঢোকন দিয়ে বশে রাখে তাহলে সেই গুরুরা সাধারণ মানুষের কাছে সেটাই প্রচারই করবে, যা রাজা তাদের  শিখিয়ে দেবেন। সব ধর্মেই  কম বেশী এই পরাম্পরাটা চলে আসছে। আর এসবের মুলে আছে সাধারণ মানুষের  অজ্ঞানতা ও মিথ্যাজ্ঞান।  সুতরাং সংগ্রামটা সেখান থেকেই শুরু করতে হবে।            দিকে দিকে যে রাজনৈতিক আন্দোলন দেখা যায় , তার শিকড়টা ভীষণ আলগা। কেননা , আন্দোলনের মূল শক্তিরাই জানে না সঠিক আর বেঠিকের প্রভেদ।  কালস্রোতে তারা গা ভাষায়।  প্রকৃত শিক্ষার আলোকে মূল শক্তিকে যতদিন শিক্ষিত করা যাবে না, ততদিন রাজনৈতিক দলগুলির ট্রাপিজের...

(১৩৮) অহংকারের রসায়ন (৪র্থ পর্ব )

ছবি
  ( ১৩৮)     অহংকারের রসায়ন (৪র্থ পর্ব ) সংক্ষেপে - 

(১৩৭) অহংকারের রসায়ন (৩য় পর্ব )

ছবি
  ( ১৩৭)     অহংকারের রসায়ন (৩য় পর্ব ) ২য় পর্বের পর.........      বিকালে কিছুক্ষন ধরে বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল, তার সাথে সাথে  আশ্রমের সমগ্র পরিবেশটাই রাজামশাইকে বর্তমানের কাছ থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল।  কুটিরের জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে দুই এক ফোটা বৃষ্টির সাথে অসময়ের দখিনা হাওয়া এসে তার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়িয়ে স্মরণ করিয়ে দিল রাজঅলিন্দে  থাকা তার ছোট্ট রাজকুমারের এবং  সেই সদ্য বিয়ের পর রানীর সাথে প্রথম ছাদে গিয়ে একত্রে আলিঙ্গনরত হয়ে বৃষ্টিতে অবগাহনের  মনমাতানো শিহরনের কথা। শৈশবের সেই বৃষ্টির দিনগুলিতে সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলার কথা, আরো কত কি।  ঠিক এমন সময়, একজন আবাসিক এসে ঋষিবরের আহ্বানের সংবাদ দিয়ে গেল।       আজ বর্ষা মুখর দিনে আর গাছের নিচে নয়, ঠাঁই হলো একটি একচালা ঘরে। গিয়ে দেখলেন বাঁশের মাচার উপর মাথা নত করে ঋষিবর উপবেশন করে আছেন। রাজা মশাই ঠিক তার বিপরীতে একটি প্রশস্ত গাছের সমতল গুঁড়ির উপর বসলেন।       ঋষিবর রাজা মশাইয়ের সাথে সৌহার্দ্য বিনিময় করে শুরু করলেন,...

(১৩৬) অহংকারের রসায়ন (২য় পর্ব )

ছবি
  ( ১৩৬)     অহংকারের রসায়ন (২য় পর্ব ) ১ম পর্বের পর.........      সারা দিনের আশ্রমের পরিচালনা, আবাসিক শিষ্যদের শিক্ষাদানের পর্ব শেষ করে ঋষিবর বেশ খানিক্ষন ধ্যানে মনোনিবেশ করেন। এটা তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। দিনের শেষে তিনি একটু অবসর পান তার রুটিন বহির্ভূত কাজ করার। সেই কারনে রাজা মশাইকে সন্ধ্যা ঘনানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো ঋষিবরকে একান্তে পাবার জন্য।         পূর্বের দিনের ন্যায় সেই গাছের নিচেই রাজামশাইকে বসবার জন্য আহবান করলেন ঋষিবর। দুই একটা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা শেষ করে তিনি মূলপর্বে প্রবেশ করলেন।  বৈচিত্রময় জগৎ      ঋষিবর বলতে শুরু করলেন,  হে রাজন ! ইন্দ্রিয়ের কার্য্য কারণের উপর সাধারণভাবে যে ধারণা আছে, তার বাইরেও আরো কিছু বৈচিত্র আছে। জগৎ দুই প্রকারের । একটি দৃশ্যমান জগৎ, অর্থাৎ যা আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে দেখে থাকি, তাকে আমরা জানি বহির্জগৎ হিসাবে। আবার আরেকটি জগৎ আছে যাকে আমরা দেখিনা বটে, কিন্তু অনুভব করতে পারি। দেখা ও না দেখার তারতম্যের নিরিখে প্রথমটি হচ্ছে স্থুল জগৎ আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সুক্ষ...

(১৩৫) অহংকারের রসায়ন (১ম পর্ব )

ছবি
 ( ১৩৫)     অহংকারের রসায়ন (১ম পর্ব  )          আমি অনন্য       নিজের অজান্তে কখন যেন দাম্ভিকতা রাজার অঙ্গের ভূষণ হয়ে উঠেছিল তা নিজেই জানেন না। ফিরে দেখা আর হয়ে উঠেনি, কি ভাবে দম্ভ তার মনে বাসা বেঁধেছিল।  অবশ্য সেটার যথার্থতা বুঝতে রাজামশায়ের একটু সময় লেগেছিল । অবশ্য না হবার কোনো কারণ বোধ হয় ছিল না। যা যা উপকরণ থাকলে দম্ভের আত্মপ্রকাশ ঘটে, তার কোন ঘাটতি ছিলনা রাজার ভাণ্ডারে।       উত্তরিধাকারের সূত্রে আর্যদের ন্যায় উজ্জ্বল  গায়ের রঙের সাথে মানানসই নাসিকা ভীষণ মার্জ্জিতভাবে উর্ধমুখী  আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে চক্ষুদ্বয় দুইপাশে যতখানি যথার্থ জায়গা দখল করলে  নিজেকে সুপ্রকাশিত করা যায় ঠিক ততখানি পর্যন্তই  বিস্তারিত, শরীরে বাড়তি মেদের কোন ঘনঘটা নেই। বলা বাহুল্য, সব মিলিয়ে একই বোধ হয় সুপুরুষ বলা যেতে পারে।         রাজ্যটির ভৌগলিক কারণে প্রকৃতি তার ঐশর্য্য বিতরণের জন্য কোনো কার্পণ্য একদম করেনি, তাই ...

ওপারের সংগীত 134

ছবি
ওপারের সংগীত 134 জন্ম ১৯শে  জুলাই, ১৯৮৫। তিরোধান ৩০শে জুলাই, ১৯৯০   নামনি  প্রিয় নামনি , আসে কোন তরুণ অশান্ত  আজ সকাল থেকে আকাশটা যেন পণ করেছে কিছুতেই মেঘকে ছুটি দেবেনা। পার্ক নার্সিং হোমের পাশে এ জে সি বসু রোডে প্রায় এক হাটু সমান জল জমে গেছে।   বাইরে বিরামহীন  বর্ষনের সুরটা  আমার কাছে আজ  সার্বজনীন  বেদনার অনুভূতিকে বহন করে আনছে। এ যেন প্রিয়জনের বিদায়ের একটানা সানাইয়ের বিষাদের সুর  বেজে যাচ্ছে।  ছিন্ন পাতার সাজাই তরণী, একা একা করি খেলা     ৩০শে  জুলাই, ১৯৯০, আজকের   থেকে ঠিক  পাঁচ বছর ১১ দিন আগে   বহু প্রলোভন দেখিয়ে এই বিশ্ব প্রকৃতি   আমাকে  এই পৃথিবীতে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছিলে। আজ আমি  পার্ক নার্সিং হোমের ৯ নং বেডে  তোমার  কাছে শুয়ে আছি।  মনে আছে , আমি   হঠাৎ করে  তোমাকে   বলে উঠলাম  আমার বালিশটা একটু উঁচু করে দাও আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তুমি চঞ্চল হয়...