পোস্টগুলি

(১৪২) আত্মার জবানবন্দি ( ১ম সংখ্যা )

ছবি
  ( ১৪২ )     আত্মার জবানবন্দি ( ১ম সংখ্যা )           আমি আত্মা, এই বিশ্বে মানুষ আমাকে বিভিন্ন নামে সম্বোধিত করে থাকেন। কেহ কেহ আমাকে বলে পুরুষ, এটা অবশ্য বেদান্তবাদীদের ব্যাখ্যা , কেহবা বলেন চৈতন্য, কেউ বলে ব্রহ্মা আবার কেউ বা বলেন ঈশ্বর , তাছাড়া আরো কত নামে এই জগৎ সংসারে আমি পরিচিত। আসলে, যে যেভাবে  আমার অস্তিত্বকে অনুভব করে, সেভাবে তাঁরা প্রকাশ করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, আমাকে কেউও দেখতে পারেনা, কিন্তু আমি সবাইকে দেখতে পারি, তাই আমি দ্রষ্ট্রা।              যেহেতু আমি আত্মপ্রচার করিনি বা কখন মানুষের মতো এক উন্নত জীবের কাছে প্রকাশমান হয়ে পার্থিব বস্তুর সাথে নিজেকে একাকার করে দিইনি, তাই আমাকে নিয়ে তোমাদের  কৌতূহলের সীমা নেই।  কৌতূহল -           এই শব্দটি ভারী সাংঘাতিক। এর বীজটা আমিই মানুষের মনের গভীরে খুব সচেতনভাবে প্রথমদিন বপন করে দিয়েছিলাম। আর সেদিন থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম, এই মানুষ নামক চতুর প্রাণীটি  আমাকে জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে  খুঁজবার চেষ্টা চালিয়...

(১৪১) অহংকারের রসায়ন (ষষ্ঠ পর্ব )

ছবি
 ( ১৪১ )     অহংকারের রসায়ন (ষষ্ঠ পর্ব ) সংক্ষেপে - 

(১৪০) অহংকারের রসায়ন (৫ম পর্ব )

ছবি
   (১৪০ )     অহংকারের রসায়ন (৫ম পর্ব ) সংক্ষেপে - 

ধর্ম ও শাসক (139)

ছবি
  ধর্ম ও শাসক (139) প্রথম সংখ্যা। .           যখন শাসকের কোন নীতি থাকেনা , তখন সে ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে। কেননা, সমাজে একটা ধর্মীয় পরম্পরায় জন্ম থেকে দেশবাসী কয়েদ হয়ে আছে।            রাজনীতির আসল খদ্দের হচ্ছে সাধারণ মানুষ আর সাধারণ মানুষ কোন না কোন ধর্মের দ্বারা পরিচালিত।  ধর্মের নামে ব্যবসা করে একদল সুবিধাবাদী ধর্মগুরুরা। তাই রাজা যদি তাদের উপঢোকন দিয়ে বশে রাখে তাহলে সেই গুরুরা সাধারণ মানুষের কাছে সেটাই প্রচারই করবে, যা রাজা তাদের  শিখিয়ে দেবেন। সব ধর্মেই  কম বেশী এই পরাম্পরাটা চলে আসছে। আর এসবের মুলে আছে সাধারণ মানুষের  অজ্ঞানতা ও মিথ্যাজ্ঞান।  সুতরাং সংগ্রামটা সেখান থেকেই শুরু করতে হবে।            দিকে দিকে যে রাজনৈতিক আন্দোলন দেখা যায় , তার শিকড়টা ভীষণ আলগা। কেননা , আন্দোলনের মূল শক্তিরাই জানে না সঠিক আর বেঠিকের প্রভেদ।  কালস্রোতে তারা গা ভাষায়।  প্রকৃত শিক্ষার আলোকে মূল শক্তিকে যতদিন শিক্ষিত করা যাবে না, ততদিন রাজনৈতিক দলগুলির ট্রাপিজের...

(১৩৮) অহংকারের রসায়ন (৪র্থ পর্ব )

ছবি
  ( ১৩৮)     অহংকারের রসায়ন (৪র্থ পর্ব ) সংক্ষেপে - 

(১৩৭) অহংকারের রসায়ন (৩য় পর্ব )

ছবি
  ( ১৩৭)     অহংকারের রসায়ন (৩য় পর্ব ) ২য় পর্বের পর.........      বিকালে কিছুক্ষন ধরে বেশ কয়েক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল, তার সাথে সাথে  আশ্রমের সমগ্র পরিবেশটাই রাজামশাইকে বর্তমানের কাছ থেকে বেশ খানিকটা দূরে সরিয়ে নিয়ে গেল।  কুটিরের জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখতে দেখতে দুই এক ফোটা বৃষ্টির সাথে অসময়ের দখিনা হাওয়া এসে তার স্মৃতির দরজায় কড়া নাড়িয়ে স্মরণ করিয়ে দিল রাজঅলিন্দে  থাকা তার ছোট্ট রাজকুমারের এবং  সেই সদ্য বিয়ের পর রানীর সাথে প্রথম ছাদে গিয়ে একত্রে আলিঙ্গনরত হয়ে বৃষ্টিতে অবগাহনের  মনমাতানো শিহরনের কথা। শৈশবের সেই বৃষ্টির দিনগুলিতে সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলার কথা, আরো কত কি।  ঠিক এমন সময়, একজন আবাসিক এসে ঋষিবরের আহ্বানের সংবাদ দিয়ে গেল।       আজ বর্ষা মুখর দিনে আর গাছের নিচে নয়, ঠাঁই হলো একটি একচালা ঘরে। গিয়ে দেখলেন বাঁশের মাচার উপর মাথা নত করে ঋষিবর উপবেশন করে আছেন। রাজা মশাই ঠিক তার বিপরীতে একটি প্রশস্ত গাছের সমতল গুঁড়ির উপর বসলেন।       ঋষিবর রাজা মশাইয়ের সাথে সৌহার্দ্য বিনিময় করে শুরু করলেন,...

(১৩৬) অহংকারের রসায়ন (২য় পর্ব )

ছবি
  ( ১৩৬)     অহংকারের রসায়ন (২য় পর্ব ) ১ম পর্বের পর.........      সারা দিনের আশ্রমের পরিচালনা, আবাসিক শিষ্যদের শিক্ষাদানের পর্ব শেষ করে ঋষিবর বেশ খানিক্ষন ধ্যানে মনোনিবেশ করেন। এটা তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস। দিনের শেষে তিনি একটু অবসর পান তার রুটিন বহির্ভূত কাজ করার। সেই কারনে রাজা মশাইকে সন্ধ্যা ঘনানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো ঋষিবরকে একান্তে পাবার জন্য।         পূর্বের দিনের ন্যায় সেই গাছের নিচেই রাজামশাইকে বসবার জন্য আহবান করলেন ঋষিবর। দুই একটা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা শেষ করে তিনি মূলপর্বে প্রবেশ করলেন।  বৈচিত্রময় জগৎ      ঋষিবর বলতে শুরু করলেন,  হে রাজন ! ইন্দ্রিয়ের কার্য্য কারণের উপর সাধারণভাবে যে ধারণা আছে, তার বাইরেও আরো কিছু বৈচিত্র আছে। জগৎ দুই প্রকারের । একটি দৃশ্যমান জগৎ, অর্থাৎ যা আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে দেখে থাকি, তাকে আমরা জানি বহির্জগৎ হিসাবে। আবার আরেকটি জগৎ আছে যাকে আমরা দেখিনা বটে, কিন্তু অনুভব করতে পারি। দেখা ও না দেখার তারতম্যের নিরিখে প্রথমটি হচ্ছে স্থুল জগৎ আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে সুক্ষ...