পোস্টগুলি

(২০২) মায়ার স্বরূপের ব্যাখ্যায় স্বামী বিবেকানন্দ

ছবি
 (২০২)  মায়ার স্বরূপের ব্যাখ্যায় স্বামী বিবেকানন্দ   আধুনিক ' মায়া ' শব্দের অর্থের সাথে প্রাচীন বৈদিক সাহিত্যের অর্থের মধ্যে বেশ খানিকটা অসম্পূর্ণতা ছিল। 'কুহক' এই  প্রতিশব্দ দিয়ে মায়াকে পরিচিত করেছিল তাদের সাহিত্যে। স্বামীজির হাত ধরে  মায়া শব্দটি তার মায়াময় অর্থের বাঁধনকে অতিক্রম করে, আমাদের মননে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। এই উত্তরণের যাত্রাটি খুব সহজ ছিল না, তাই তাকে এক ধারাবাহিক পথ অনুসরণ করতে হয়েছিল বিভিন্ন যুক্তিতর্কের বেড়াজাল অতিক্রম করে । এই ছোট্ট শব্দটির বহুগামিতা , প্রকারন্তরে শব্দার্থের ছলনা তাকে প্রকৃত অর্থের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলো।  ইন্দ্র মায়ার সাহায্য নানা রূপ ধারণ করতেন। যেহেতু ইন্দ্র ভিন্ন ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হতেন, সে ক্ষেত্রে মায়া শব্দটি ইন্দ্রজাল অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের শাস্ত্রের বর্ণনা অনুযায়ী ইন্দ্র কোন নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি নন , তিনি রাষ্ট্রের সর্ব্বোচ ক্ষমতার অধিকারী যিনি তারই  উপাধি মাত্র।  অবশ্য ইন্দ্রদের ইন্দ্রজাল বিস্তারের ধারাবাহিকতা আজও প্রাসঙ্গিক। সাধাসিধে জনগণ যুগে যুগে ইন্দ্রদের দ্বারা এই  ধরনের কুহকত...

( ২০১) ইতিহাসের পটভূমিতে শ্রীকৃষ্ণ [ পি ৬ ]

ছবি
 (  ২০১) ইতিহাসের  পটভূমিতে শ্রীকৃষ্ণ [ পি ৬ ]             ইতিহাসের  পটভূমিতে যদি শ্রীকৃষ্ণকে খুঁজতে হয়  তাহলে  মহাভারত নামক এক বিশাল সমুদ্রে অবগাহন না করলে, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এই অন্বেষণের প্রাথমিক শর্ত হলো মহাভারত কি  মহাকাব্য না ইতিহাস সেটা নির্ধারণ করা।  যদি ইতিহাস হয় তাহলে অবশ্যিই তাকে প্রমান দিতে হবে আর কাব্য হলে কালস্রোতে গা ভাসিয়ে দিলেই চলবে অর্থাৎ এখানেই ইতি টানতে হবে।          যে পথ ধরে  ইতিহাসে বেনোজল ঢুকে গিয়ে তার  কৌলিন্যত্বকে মলিন করে দেয়, সেই ফেলে  আসা পথের মধ্যেই লুকিয়ে আছে কি কারণে  ইতিহাস তাঁর  ছন্দকে হারিয়ে ফেলেছিল। এই দীর্ঘ প্রায় পাঁচ হাজার বছরের ফিরে যাবার  পথে বহু কন্টকতা সঙ্গে আছে। যেমন ইতিহাসের ব্যাকরণের সাথে মহাভারতের ঘটনাবলীর বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সিন্টেক্স এরররের ডিবাগ এবং সব বাধা অতিক্রম করে তাকে প্রমান সাপেক্ষে ইতিহাস হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা।      মহাভারত কি  ইতিহাস ?      ঘটনার বাস্তবতা...

(২০০) মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের পদার্পণ [পি ৫ ]

ছবি
(২০০)   মহাভারতে  শ্রীকৃষ্ণের পদার্পণ   [পি ৫ ]    বহু কষ্টে বৃন্দাবন থেকে কৃষ্ণকে মহাভারতের প্রেক্ষাপটে নিয়ে আসতে  হলো। বিদ্যাপতি, জয়দেবদের হাতে পড়ে সুদীর্ঘ কৃষ্ণের জীবন দর্শনটা পাঁচিলের একপ্রান্ত দিয়ে উঁকি দিয়ে ক্ষুদ্র বাতায়নে অবলোকন করার মতো। মহাভারতের পথে হাটতে গিয়ে একটা বিস্তীর্ন  ঐতিহাসিক পটভূমির উপর অন্ধ বিশ্বাসের আবর্জনাকে দূরে সরিয়ে বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত একটি  শক্ত ইমারত না থাকলে অচিরেই সে বিস্মৃতির আড়ালে চলে যাবে। সেদিনের কাহিনীকাররা সেটা জানতেন। এই কথাটি মনে রেখে প্রথমেই কৃষ্ণের ঐতিহাসিক অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রাসঙ্গিকভাবে মহাভারতের ঘটনাবলীর কতটা ঐতিহাসিক আর কতটা অতিরঞ্জন তার অন্বেশন স্বাভাবিকভাবেই এসে পরে।  এই যাত্রার গন্তব্যস্থল সেটাই।    সামাজিক অবস্থান থেকে প্রেরণা            যেই দেশে হরেকৃষ্ণের নাম কীর্তন শুনতে শুনতে ভোর হয়, পাশের বাড়ির  খাঁচার পাখিটা মানুষ দেখলেই বলে উঠে "হরে কৃষ্ণ",   রাসমেলার উৎসব,  প্রহরব্যাপী  কৃষ্ণনামকীর্তন ইত্যাদি নিত্...

(১৯৯) প্রেমাঙ্গনে শ্রীকৃষ্ণ [পি ৪]

ছবি
  ( ১৯৯)  প্রেমাঙ্গনে শ্রীকৃষ্ণ  [পি ৪]               সময়  কখন  যে   জীবনের কীর্তিকে  মানদন্ডে ওজন করে মনুষ্য থেকে ঈশ্বরে উন্নীত করে দেয়, সেটা আগেভাগে বলা  যায় না । সেই বর্ণময় পুরুষটি, যিনি মনুষ্য জীবনকে স্বীয় মর্যাদায় অতিক্রম করে, নিজেকে ভগবান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার  রূপ,রস, গন্ধ ও  কর্মময় জীবনের প্রতি  সাধারণ মানুষের যে কৌতূহল থাকবে, সেটাতো ভীষণ স্বাভাবিক। ব্যতিক্রমীরা চিরকালই চর্চিত।  তাঁকে অবলম্বন করে  কত মানুষ যে কবি  হয়ে গেছেন, তার কোন ইয়ত্তা নেই।  আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সেই সত্ত্বাকে অনুভব  করতে গেলে, সেই সব প্রণম্য রচয়িতাদের রচনার গভীরে যাবার চেষ্টা করে সবকিছুর মধ্যেকার মৌলিকত্বকে  অনুসন্ধান করার প্রয়োজনীয়তা আছে।            যেহেতু চরিত্রটি শ্রীকৃষ্ণ, তাই স্বভাবতই গীতা, মহাভারত, বেদ ও বেদান্ত ইত্যাদির প্রসঙ্গ থাকবেই। বিচার ও বিশ্লেষেণ করে গ্রহণ করা, ভারতীয় দর্শনের ধর্ম।   অনেকে যুক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ক...

(১৯৮) দোলাচলে রাধা কৃষ্ণপ্রেমে -[ পি ৩ ]

ছবি
  (১৯৮)   দোলাচলে রাধা  কৃষ্ণপ্রেমে-[ পি ৩ ] সঙ্গ পাই সবাকার লাভ করি আনন্দের ভোগ - অপ্রতিরোধ্য  গতিতে প্রাণের নিমন্ত্রনে অসীম আকাশ থেকে প্রেম, বর্ষনের ধারার মতো এই  পৃথিবীতে সে একদিন ঝরে পড়েছিল।  সেদিন  ছিল মহাপ্লাবনের মতো  আদি  এক  প্রস্রবন, যে মনের গহনে  গিয়ে চিত্ত, বুদ্ধি ও অহংকারের সাথে আন্দোলিত হয়ে  অকল্পনীয় এক সুরের মূর্ছনার রূপে ঝরে পড়েছিল।   সেই সুরের সাধনায় মগ্ন  কবিরা নানান  দিক থেকে তাদের অব্যক্ততাকে  অকৃপণভাবে  ব্যক্ততায় উন্মুখ করে দিয়েছে  এই   বিশ্ব চরাচরে , শুধুমাত্র নিজ আনন্দের  ভাগিদার  হিসাবে।  যে প্রেম পথ মধ্যে পেতে ছিল নিজ  সিংহাসন -  আঁচল পেতে যাঁরা সেই অঞ্জলি গ্রহণ করেছিল, তার মধ্যে কবি জয়দেব একজন।  অবিনস্ত হয়ে   ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট ছোট কুড়ি গুলি একত্রিত হয়ে তার সংবেদনশীল অঙ্গ প্রতঙ্গকে উত্তেজিত করে তুললো। সেটাই প্রতিধ্বনিত হলো তার  লেখনীতে  ছড়িয়ে পড়লো সারা  বিশ্বময় . আর সেই প্রস্ফুটিত  ফুলের সুবাসে মে...

১৯৭) ভাব আর রসের আলিঙ্গনে কৃষ্ণ লীলা (পি ২)

ছবি
(১৯৭)   ভাব আর রসের আলিঙ্গনে কৃষ্ণ লীলা  (পি ২)   প্রেমের রসায়ন - ভক্তির তীব্রতা থেকে প্রেমের উৎপত্তি। প্রেম আনন্দময়, প্রেম চিন্ময়, অজর, অমর ও অব্যয়, সঠিকভাবে চৈতন্যেরই আরেকরূপে। তাই  তার গ্রহনযোগ্যতা  সর্বকালে এবং সর্বস্তরে। কখনো মানুষ নিজে নিজেই  তার স্বাদ গ্রহণ করতে পারে , আবার অন্য কেহ তাকে প্রেমের স্বাদ  আস্বাদন করাতে  পারে। তাই প্রেম চৈতন্যের ন্যায় সর্বলোকে অবাধে তার বিচরণ। প্রেমের পূর্নতা ভাব আর রসের অভূতপূর্ব সংমিশ্রনে গঠিত।  রসহীন ভাব যেমন কল্পনাতীত আবার ভাবহীন রসও  অবাস্তব।  প্রকৃতিদত্ত প্রেমের রসায়নে ভাব ও রসের মেলবন্ধন থাকবেই।  রসের  বিগ্রহ আবার রাসের পৃষ্ঠপোষক শ্রীকৃষ্ণের সাথে ভাবরূপে রাধার আত্মপ্রকাশই একটা পূর্ণাঙ্গ প্রেম কথা।    রাধা কৃষ্ণের লীলার অন্তরালে ভারতীয় দর্শন-  মানবজীবনের অন্যতম কাম্য বস্তু হচ্ছে প্রেম। ভারতীয় দর্শনে  যার স্বরূপ অনন্ত অর্থাৎ কোন লয়  হয় না, কোন পরিবর্তন হয় না, সে-ই  নিত্য শব্দে ভূষিত হয়, অন্যদিকে  পরিবর্তনশীল বস্তুকে অনিত্য  বস্তু বলা হয় ...

(১৯৬ ) গোপীদের সান্নিধ্যে শ্রীকৃষ্ণের কিছুক্ষন -(পি ১)

ছবি
 (১৯৬ ) গোপীদের সান্নিধ্যে  শ্রীকৃষ্ণের   কিছুক্ষন -(পি ১)  শ্রীকৃষ্ণের জাগতিক ও মহাজাগতিক অবস্থান কখনো দেবরূপে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ,আবার কখনো মানবরূপে বৃন্দাবনে প্রেমলীলার সার্থক  রূপকার , কখন তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে গীতার স্রষ্টা  হিসাবে ধর্মের গূঢ়ভাবের বিশ্লেষক, কখনো সৃষ্টি, স্থিতি এবং ধংসের প্রতীক হিসাবে আবির্ভাব।     গোবর্ধন পর্বতকে ঢাল করে জলপ্লাবনকে রোধ-  শ্র্রীকৃষ্ণকে যদি অবতার হিসাবে চিহ্নিত করতে হয়, তাহলে কোন গল্পের অবতারণা তো করতেই হবে। দৈনিন্দন জীবনের কোন কোন ঘটনাবলীকে তুলে ধরতে এবং  পুরাণের আদর্শকে বাস্তবায়িত করতে গিয়ে নায়ককে অতিরঞ্জনের আতিশয্যে সাধারণ মানুষের থেকে বেশী  উচ্চতায় তাদের পৌঁছে দেবার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।     কাহিনীর বিন্যাস হয়েছিল আর্য্যদের রাজা প্রকান্তরে পূজনীয় দেবতা ইন্দ্রের বহুদিনের ভক্ত গোপজাতি হঠৎ করে তাদের পূজার আসনে ইন্দ্রের স্থলে গিরীপূজা ও গোপূজার প্রবর্তনের মধ্যে দিয়ে ইন্দ্রের বিরাগভাজন হয়ে উঠেছিল  এবং পরবর্তী সময়ে ইন্দ্র তার প্রতিশোধ নিতে  অকাল বৃষ্টি দিয়ে তাদের...