পোস্টগুলি

আত্ম নির্মাণ (২৩৭ )

ছবি
আত্ম নির্মাণ    (২৩৭ ) "ভক্তির অন্বেষণে"র  প্রথম পর্বের পর - নামটা 'ভক্তির অন্বেষণে ' না দিয়ে 'মুক্তির খোঁজে' নাম দিলে ভালো হতো।  যাঁরা আজকে এসেছেন কিংবা কালকে আসবেন বা বিগত দিনগুলিতে এসেছেন, সেখানে প্রত্যেকের মধ্যে বোধ হয় একটা ভাবনাই ভীষণ সক্রিয়, তা হচ্ছে সাময়িক মুক্তি  দৈনিন্দন একঘেয়ে জীবন থেকে। এক রকম পালিয়ে আসা আর যতটা মানসিক  আনন্দ আঁচলে করে বেঁধে নিয়ে যাওয়া যায়। একটা পরিবেশ থেকে অন্য একটি পরিবেশে পা পড়তেই ভাবনাগুলি তাদের সাথে কেমন যেন একাত্ম হয়ে যায়। আবার পরিবেশের পরিবর্তনে সেই পূর্বের চিন্তাগুলি মনের মধ্যে জেগে ওঠে। আবার একরাশ দুঃখের সাগরে ডুবে গিয়ে সঞ্চিত আনন্দের হাড়ি থেকে রস নিষ্কাশন শুরু হয়ে যায়। প্রকৃতির আচরণের সাথে তাল মিলিয়ে আনন্দ আর দুঃখের জোয়ার-ভাটার আমেজে আমরা অসুস্থ বোধ করি। এটাই আমাদের মধ্যে  জাগ্রত করছে মুক্তির আকাঙ্খাকে।   কল্পনা থেকে বাস্তবে  ফিরে এলাম। দূর দূরান্ত থেকে  দলে দলে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, যুবক-যুবতী, পিতামাতার হাতধরে শিশুরাও এসেছেন, কয়েকজনকে দেখলাম সুদূর ফরাসি দেশ থেকে এসেছে ভারতবর্ষের এই আশ্চর্য্য সাধক ও সন...

(২৩৬ ) আত্মবন্দী

  (২৩৬ )  আত্মবন্দী  মানুষ কিংবা  সংগঠন যাঁরা নিজেরাই তাদের মতাদর্শের বন্ধনে আবদ্ধ তারা সাধারণ মানুষকে আদৌ কোন মুক্তির পথ নির্দ্দেশ করতে পারবে ? বোধহয় না। সে তো সব সময় তার বেশভূষা সামলাতেই  ব্যস্ত, অর্থাৎ সে অহংকেই আঁকড়ে ধরে আছেন, পরিত্যাগ করতে পারেনি।   অভিমুখ যদি হয় আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনের মাধ্যমে দুঃখ-কষ্ট থেকে মানুষের মুক্তি, তাহলে আমিষ-নিরামিষ, জাতপাত, ধর্মীয় বিভাজনে নিজেদের  আগাপাছতলা  আবদ্ধ করে মুক্তির খোঁজ করা একান্তই ভাবের  ঘরে চুরি।  পুরাতন মূল্যবোধের সাথে নতুনের যদি সঠিক সংমিশ্রণ না হয় তাহলে চৈতন্যের উদয় কখনই হবে না। পুরোনো দইয়ের সাথে নতুন দুধের অপ্রতিরোধ্য মিশ্রণ যেমন জন্ম দেয় নতুন মাত্রার দইয়ের, ঠিক তেমনটি।   গ্রহণ না ত্যাগ কোনটির প্রাধান্য আজকে বেশী - এই প্রশ্নে ভারতবর্ষের সমাজজীবনে গুটি কতক মানুষ ছাড়া বাদবাকি সবাই গ্রহণের সপক্ষে। যে কারণে স্বামী বিবেকানন্দ যখন মার্কিন মুলুক থেকে ফিরে এসে ভারতবর্ষে অদ্বৈত বেদান্তের ভাবধারা কেন প্রচার করতে রাজী হন নি, সেই প্রশ্নের  কারণ ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, য...

(২৩৫ ) ভক্তির অন্বেষণে ( প্রথম অংশ) -

(২৩৫ )ভক্তির অন্বেষণে ( প্রথম অংশ)   - আমার বেলুড় মঠ ভ্রমণকে অনায়াসে দুটি পর্বে বেটে দেওয়া যায়। একটি ভ্রমনের পূর্বে আর অন্যটি ভ্রমনের পরে। অবশেষে বেরিয়েই পড়লাম।  যাত্রাপথ আপাতত বেলুড়মঠ। ঘড়ির কাটায় ঠিক সকাল ৯টা, নিউটাউন বাস স্ট্যান্ডে এসে দাঁড়ালাম। আমার সাথে সেই স্ট্যান্ডে অনেক চাকুরীরতা  যুবক-যুবতীরা  অপেক্ষা করছিল তাদের নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাবে  সেই  বাসগুলির জন্য। আমার কোন তাড়া ছিল না। খুব প্রয়োজন না থাকলে আজকাল বাড়ি থেকে খুব একটা বেরোই না। কথাবার্তা, আবদার সবটাই আমার নিজের সঙ্গে।  কিছু খেতে ইচ্ছা করলে নিজেকে দিয়েই সেটি পূরণ করে থাকি অর্থাৎ কারোর সাহায্য নিতে চাই না। মনে হয় ভালো থাকার পাসওয়ার্ড হচ্ছে যতদূর সম্ভব নিজের চাহিদা কমানো।  ভাবলাম, মানুষ তো নিজের বাধা ধরা বৃত্তের বাইরে তখনিই যায় যখন  নিজেকে পূর্বের জায়গায় খুঁজে পায়না।  নিজের প্রয়োজনকে মিটাতে, সেখানে সব ধরনের উপকরণ আছে।  আমিও বেরোচ্ছি সেই উদ্দেশে যেটা ঘরে বসে এই মুহূর্তে পাচ্ছিনা বলে।    ভীষণ ইচ্ছা করছিল গভীর ভাবে জানতে যাঁরা  মূর্তির পূজা করে থাকেন  ...

(২৩৪) অতঃকিম

ছবি
(২৩৪)   অতঃকিম  কি অদ্ভুত এই জগৎ !  তার থেকেও আশ্চর্য এই মানুষের ভাবনা।  যখন প্রকৃতি তার ধংসলীলা এই পৃথিবীর বুকে সংগঠিত করে, তখন আমরা তাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিই আবার প্রকৃতিজাত মানব যখন কোন সমাজ বহির্ভূত কর্মে ব্যাপৃত হয়, তখন যাই যাই  রব ওঠে।  তার কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে, প্রথমটি মানুষের নাগালের বাইরে আর অন্যটি আয়ত্তের মধ্যে।  যদিও মানুষ আজ প্রকৃতিকে বাঁধার ক্ষেত্রে যতখানি আন্তরিক, তার সিকি ভাগও কিন্তু ব্যয় করেনা, মানুষের দ্বারা মানুষের ধ্বংসকে প্রতিহত করতে। তার পরিবর্তে সভ্যতাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে  ভীষণ সচেতনভাবে দায়সারা গোছের একটা বন্দোবস্তকে আইন নামক আচ্ছাদনে মুড়ে দিয়ে একধরনের অহমিকায়  শাসকরা  ভুগতে থাকে।  সভ্যতার যে অগ্রগতি হয়নি তার প্রমান হচ্ছে দেশে দেশে সামরিক খাতে আর অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে শান্তি শৃঙ্খলার প্রশ্নে আর্থিক বরাদ্দের  ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি। বিজ্ঞানকে যতনা সৃষ্টিমূলক কর্মে ব্যাবহৃত হয়. তার থেকে অনেক বেশি ব্যবহৃত হয় ধ্বংসমূলক কর্মে।  শাসক  যতনা আগ্রহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে, তার থেকে তাদের...

(২৩৩) একটি ফোঁড়ার জন্মবৃত্তান্ত -

(২৩৩)    একটি ফোঁড়ার  ইতিবৃত্ত  - যুগে যুগে মানব দেহে  কিংবা সমাজে চৈতন্যের অভাবজনিত কারণে অশুভ ব্যাকটেরিয়ারা দানা বাঁধে  আর সেই অপরিপক্ব ব্যক্টেরিয়া থেকে পুঁজ গঠিত হয় আর তাদের সম্মিলিত রূপই ফোঁড়ার আকার ধারণ করে। এই ফোঁড়াটি মানুষ বা সমাজের এক অস্থায়ী রূপ।   এই প্রাক অবস্থানটি  ফোঁড়ার অভ্যন্তরীন অবস্থা। এই অবস্থ্যায় মানুষ দৈহিক যন্ত্রনায় কাতর হয়ে পরে, এই দৈহিক যন্ত্রনা থেকে পরোক্ষ প্রভাবে মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হয়ে পরে। এই যন্ত্রনা যখন তীব্র থেকে তীব্রতর হয় তখন তার পরোক্ষ প্রভাবে মনও সুক্ষ থেকে সূক্ষতর হয়ে চেতনাকে স্পর্শ করে। এই চেতনাই অজ্ঞানতা থেকে মানুষ ও সমাজকে মুক্ত করে।  এই চেতনাই পরিবর্তনের কান্ডারী।    এই পরিবর্তনটা আছে বলেই এই পৃথিবীটা গতিশীল, সেখানে কারোর চাওয়াতে  বা পাওয়াতে  কোন ইতরবিশেষ ফারাক ঘটেনা। এটাই বিজ্ঞান, এটাই সৃষ্টির দ্বান্দ্বিক চরিত্র এবং সেটি অপৌরুষেয় অর্থাৎ ব্যক্তি বিশেষের ক্রেডিট নেবার কিছু নেই।  দীর্ঘদিন ধরে নিভৃতে মনোমন্দিরে যে ফোঁড়াটা পাঁকতে  শুরু করেছিল, সে একদিন বাহ্যিক পৃ...

৩২১ পরিবর্তনের পরিবর্তন-- চতুর্থ খন্ড

ছবি
   ৩২১  পরিবর্তনের পরিবর্তন-- চতুর্থ  খন্ড  (একটি  সময়োপযোগী  বিশ্লেষণধর্মী গল্প )   সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আর বামপন্থী অরিন্দমের আত্মবিশ্লেষেণ - তৃতীয়  খন্ডের পর ,,,,,,,,,, কিছুক্ষন ধরে লোডশেডিং চলছে। ঘরে তখন হালকা আলো বিচরণ করছে, অনেকটা অংশই অন্ধকার জুড়ে বসেছে। সুচেতা হারিকেনের আলোটা জ্বালিয়ে দিলো। আর সেই অন্ধকারে প্রবালদার চাহনিটা দেখে মনে হলো কিছু একটা খুঁজছে।  বিপ্লবের সাথে আধ্যাতিকতার বিলক্ষণ যে একটা যোগসূত্র আছে, সেটা এই প্রথম শুনে সবাই বেশ হতচকিত হয়ে গেলো।  অবশ্য প্রবাল দা একসময় হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিখ্যাত দার্শনিক অধ্যাপক অরিন্দম চক্রবর্তীর সান্নিধ্যে  এসেছিলেন এবং শিক্ষকের বেশ শ্নেহধন্য ছাত্র ছিলেন।  নিঃশব্দতা ভাঙার জন্য সুচেতা বলল - "আপনি ভারতীয় দর্শনের অদ্বৈত বেদান্তের কথা  বলছিলেন  কিন্তু রাজনীতি বা সমাজতন্ত্রের সাথে কখন সে সম্পর্ক  যুক্ত হয়ে উঠল আর পরিবর্তনের সাথে সে কিভাবে জড়িয়ে পড়লো, সেটা যদি একটু ভেঙ্গে বলো।"  প্রবাল প্রশ্নটা শুনে মৃদু একটু হেসে বলল - "তোমরা যাই বল ভাই, এইটা আমি জী...

(২৩২)বোধোদয়

ছবি
    (২৩২)  বোধোদয় যাঁরা জীবনের ওপারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেন, তাঁরা সেই নির্জন পথের পথিক, যে পথে  কদাচিৎ মানুষ হাঁটেন। পথমধ্যে তাদের সাথে হয়তো বা সাক্ষাৎ হয় 'ক্ষমতা' নামক পার্থিব ঐশর্য্যের, তারাই পাৱেন সেই যাত্রা পথে তাকে কাঁকরের মতো পথ থেকে মুক্ত করে সামনের পানে এগিয়ে যেতে। বিস্ময়ে হতবাক হন ক্ষমতাপ্রেমী মানুষেরা।  সেই জাগতিক সম্পদের একান্ত অমনোযোগী এক অনন্য পুরুষকে প্রত্যক্ষ করার জন্য দলে দলে মানুষের ঢল সেদিন কলকাতার রাজপথে নেমে এসে ছিল।  ******************************  এই জগতে কিছু মানুষ ভয়ংকর হয়ে উঠেন মৃত্যুর পরে তাঁর সারা জীবনের সম্পদ একটা বিশাল ক্যানভাসে বিমূর্ত হয়ে আগামীকে আহবান জানায় আর বলে "এসো না এই পথে যেখানে পথমধ্যে বাধাসম বিশাল প্রস্তরখন্ডকে মনে হবে একটা ক্ষুদ্র নুড়ি"।  মৃত্যু হচ্ছে সেই ধারণা, যে ধারণা শুধুমাত্র অস্তিত্ব সম্পর্কিত স্থুল ধারণাকে অতিক্রম করে সূক্ষ অর্থাৎ বাইরের সব আবরণ সরে গিয়ে শুধু আত্মস্থ দীপের উজ্জ্বলতায় মুখরিত হয়। অন্তরে অন্তর মিলালে হয় তার পরিচয়।  ******************************  পাহাড়ের সাথে খাদের কোন তুল...