24 নারদের মর্ত্যে ভ্রমণ - দশম সংখ্যা

 নারদের মর্ত্যে ভ্রমণ - দশম সংখ্যা 

Orderly personality 

[ বিশাল কনফারেন্স রুম - উপস্থিত দেবরাজ ইন্দ্র , অগ্নিদেব,ম্যাডাম সরস্বতী ,বেদব্যাস , ঋষি যাজ্ঞবল্ক , বিশ্বামিত্র  মুনি, বাল্মীকি মুনি , নারদ এবং  অধীর বাবু- এজেন্ডার সিডিউল অনুযায়ী চতুর্থ পর্বের  মানসিক স্বাস্থ্যের  অসমাপ্ত  রিপোর্টিং ] 

দেবরাজ ইন্দ্র : উপস্থিত সব সন্মানীয় দেবতা এবং ঋষিগণের সামনে আমি একটা প্রস্তাব দিচ্ছি যে একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিং ডেকে আমাদের একমাত্র নির্ভর যোগ্য এবং করিৎকর্মা সহকর্মী মিঃ নারদকে "স্বর্গশ্রী " উপাধি দিয়ে ভূষিত করা হোক। মি: নারদ শুরু করুন। 

( একযোগে সবাই দেবরাজের প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন )

নারদ : সরি স্যার,  আমরা মাঝখানে অন্যান্য টপিককে টেনে নিয়ে এসে সময় এবং রিপোর্টিংয়ের  ধারাবাহিকতাকে নষ্ট করেছি।  যাই হোক, মানসিক স্বাস্থ্যে ভীষণ গুরুত্ব পূর্ন সাবজেক্ট। এখানে উপস্থিত আছেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়ণ ব্যাসদেব, তিনি পরে এই সাবজেক্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। আমি শুধু একটু মনে করিয়ে দিতে চাই। এই বেদ ভূমিতে পরম পূজনীয় ঋষিগণ বহু পূর্বেই এটা  অনুভব করেছিলেন যে , অন্তঃপ্রকৃতির উন্মেষ না ঘটাতে পারলে , আগামীদিনে  মানব সভ্যতা এক গভীর সংকটের সম্মুখীন হবে।  এইতো   কিছুদিন আগে এক অবতারের মর্ত্যে আগমন ঘটেছিলো, তিনি নতুন করে আবার সেই  ভাবনা নিয়ে চর্চ্চা শুরু করছিলেন  এবং তার অনুশীলনের রাস্তাটাও তিনি  সুদৃঢ় করে যান।

তাঁর দেখানো পথে তার অন্যতম শিষ্য সারা বিশ্ব জুড়ে সেই  আদর্শকে  প্রচার করলেন  , যেটা সমগ্র মানব জাতির কল্যাণের  জন্য একান্তই প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।  শুধু তাই নয়, তিনি সেই প্রচারকে সাংগঠনিক রূপ দিয়ে একদল সন্যাসী তৈরি করে এক পরম্পরার সৃষ্টি করলেন। যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।  

উপস্থিত দেবতাগন, একটা কথা আমাদের বিশেষ ভাবে মনে রাখা উচিত যে, আজকে আমাদর যে প্রতিষ্ঠা তার পিছনে মর্ত্যের মানুষদেরই অবদান আছে। দেবতা মানুষ তৈয়ারি করেননি, মানুষই দেবতাদের তৈরী করছেন। আমরা  তাদের দ্বারা সৃষ্টি বলে আমরা মানুষের  মতোই  দেখতে। যদি অন্য কোন জীব, ধরা যাক মানুষের জায়গায় ছাগলরা আমাদের তৈরি করতো তবে তো আমাদের ছাগলের মতো দেখতে হতো। 

এবার প্রশ্ন হোল, মানসিক রোগের সাথে এই কথা গুলি কেন প্রাসঙ্গিক? প্রথমতঃ পূর্বেকার  রিপোর্টিং-এ আমরা এই মানসিক স্বাস্থ্যের অধোগমনের প্রাসঙ্গিতা হিসাবে চিহ্নিত করেছি অতৃপ্ত কামনা আর বাসনাকে । এই বাসনার সাথে নিবিড় যোগাযোগ আরো তিনটি জিনিসের, তারা যথাক্রমে, স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ব্যাপারকে বাদ দিয়ে যথাক্রমে,  অর্থনীতি, রাজনীতি এবং জ্ঞান। এর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য সাবজেক্ট হলো জ্ঞান বা আলো।  আলোর ঘাটতি থাকলে সামনের বিষয়বস্তুকে দেখতে ভুল করবে, আর ভুল দেখলে তার ব্যাখ্যাও ভুল হবে আর ব্যাখ্যা ভুল তার খেসারত তো দিতেই হবে। সেটাকে বহন করবে প্রথমতঃ মন আর তার সেকেন্ডারি এফেক্ট হচ্ছে  শরীরে ।  "গারবেজ ইন গারবেজ আউট" সংক্ষেপে GIGO ।

" অর্ডারলী ব্যক্তিত্বের"  সাথে কামনা আর বাসনার সম্পর্ক কি ? অবশ্যিই আছে ; অন্যান্য রোগের সাথে এই রোগটির গুনগত পার্থক্য আছে। প্রথম পার্থক্য হচ্ছে একজনের জন্ম শরীরে আর আরেক জনের জন্ম মনে। একজনের ব্যাধির প্রভাবে মন ভারাক্রান্ত হয় আর আরেক জনের প্রভাবে শরীরে  অসুস্থবোধ হয়। একজনকে ক্লিনিক্যালি এবং ইনভেস্টিগেশন উপর নির্ভর করে রোগকে চিহ্নিত করতে হয় , অন্যজনকে তার ব্যবহার , চেতনার এবং আবেগের উপর সেই বাহ্যিক প্রভাব  কতখানি  তা মনোবিজ্ঞানীরা  বিচার বিশ্লেষণ করেন। 

অচেনাকে চেনার, অজানাকে জানার প্রবল ইচ্ছা মানুষকে মর্ত্যের শ্রেষ্ঠ জীবের শিরোপা পরিয়ে দিয়েছে। সে যথেষ্ট সচেতন সে ব্যাপারে এবং তার মর্যাদা রক্ষা করার। বাহ্য প্রকৃতির প্রভাবে অন্তঃপ্রকৃতিতে কতখানি উত্তেজনার জন্ম দেয়, সেই উত্তেজনার প্রভাবের কতটা মাত্রা শরীর সহন করতে পারবে এবং তার প্রতিক্রিয়া কি ? আর তার বোঝার উপায় ও সেই ক্রিয়াকে কোন পদ্ধতি দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে তার জন্য এক ধারাবাহিক গবেষণার মধ্যে দিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে।

ভিতরে থাকা পার্টস গুলির বা অঙ্গ রাজ্যগুলি ভিন্ন ভিন্ন  তার নাম আর বহুবিধ তার  কার্য্য ক্ষমতা । মজার ব্যাপার হোল এই সব ছোটবড় অঙ্গরাজ্যগুলি বিভিন্ন মাপের নল দিয়ে তারা পরস্পরকে আলিঙ্গন করে রয়েছে । যে রক্ত নামে পরিচিত।  সেই নলের মধ্যে প্রতিনিয়ত সে অঙ্গ রাজ্যগুলি     কি করছে তার সংবাদ মাথার উপর বসে থাকা  মহারাজার কাছে গোয়েন্দার মতো বিরামহীন ভাবে দিয়ে যাচ্ছে আর তার সংকেত মহারাজা যথাযথভাবে  পাঠাচ্ছেন । রাজামশাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনটা দেশের অভ্যন্তরীন ঘটনার প্রেক্ষিতে আর কোনটি বহিঃশক্তির আক্রমণে বিধস্ত তা মহারাজা বুঝতে পারেন। আর সেই মহারাজের ভাবনার গতিপ্রকৃতি  ইনভেস্টিগেশনের মাধ্যমে মানুষ বুঝে নেয়। এখন বেশ কিছুদিন আগে থেকে মানুষ নতুন একটা সাবজেক্ট আলোড়ন তুলেছে  তাহলো জেনেটিক কোড। 

এই জেনেটিক্স নিয়ে অগ্রগতির উদাহরণ স্বরূপ ডক্টর রণজিৎ চক্রবর্তীর বহু গবেষণার মধ্যে ,  ফরেনসিক জেনেটিক্স উপর গবেষণা বিশেষ উল্লেখযোগ্য।  তিনি অপরাধীর ডিএনএ এনালাইসিস করে অপরাধ বিজ্ঞান জগতে এক আলোড়ন ফেলে দেন। 

 
এই প্রসঙ্গে শ্রী নয়ন চন্দ মহাশয়ের   " বাউন্ড টোগেদার " নামক বইতে তিনি পৃথিবীর জেনেটিক মানচিত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। রান্ডম স্যাম্পল নিয়ে তিনি   পৃথিবীর নানা জায়গার মানুষের  জিন সংগ্রহ করছেন । সেই ডাটা থেকে জেনেটিক বৈজ্ঞানিকরা প্রমান করেছেন , একজন মহিলার থেকে এক বিশেষ ধরনের জিনের অস্তিত্ব পৃথিবীর সব মহিলার মধ্যে বর্তমান।   এই জিন অপরিবর্তনীয়। আদম-ইভের যে তত্ত্ব বাইবেলে উল্লেখ আছে, সেই মতবাদকে জেনেটিক বিজ্ঞানীরা অস্বীকার করতে পারছেন না। পক্ষান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন। 


পরিশেষে, এই ক্রমবর্ধমান অনুসন্ধিৎসা , আগামী দিনে মানসিক চিকিৎসা শুধু নয়, শারীরিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে জিন সংক্রান্ত গবেষণা মর্ত্যবাসীকে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। 

ক্রমশঃ 





মন্তব্যসমূহ

নামহীন বলেছেন…
Good
My new blog বলেছেন…
ভালো, তথ্যগুলি অনেক প্রয়োজনীয়

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)