পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

৩৮০ বাঘের পিঠের সওয়ারী

ছবি
৩৮০ বাঘের পিঠের সওয়ারী  কিছুক্ষন অন্তর অন্তর কলিং বেলের শব্দ। দরজা খুলে দেখি পার্শেল। অতীতে বিশেষ কোনো জরুরি কারণে পার্শেলটি যে এসেছে সে সম্পর্কে সাধারণ মানুষের এক গভীর ধারণা ছিল। আজ সেই  শব্দটির মাহাত্ম কিভাবে হারিয়ে গেলো, তার বাস্তবতাকে  অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখি সমাজটা কি ভাবে আধুনিক শিল্পায়নের এক কঠিন বিচ্যুতির আবর্তে জড়িয়ে পড়ছে।  সম্ভবতঃ আজ থেকে ২৫-৩০ বছরের আগের কথা , বাজার দখলের কথা প্রসঙ্গে, এক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ফার্স্ট লাইন ম্যানেজারের সাথে কথা হচ্ছিলো। প্রসঙ্গটা ছিল  বিদেশী কোম্পানিদের দৃষ্টিতে ভারতীয় মার্কেটে প্রবেশ করার প্রাথমিক এসেসমেন্ট নিয়ে। তাঁরা ভাবে ভারতের যা জনসংখ্যা তার ১০ শতাংশ বাজার ধরতে পারলে ১০ টা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের  সমান।  আজ শুধু কি তাই ? এর সঙ্গে আমরা পেয়েছি এক নতুন সংস্কৃতিকে যা আজ " ভোগবাদী উদ্বৃত্ত সংস্কৃতি " হিসাবে বেশ পরিচিত। এক সংস্কৃতি মানব সভ্যতার বিকাশে দানব হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। তারই  বাস্তবতা কি সেটাই আমরা জানার চেষ্টা করবো। হয়তো আমরা সবাই এই অবস্থার সাথে কম-বেশি পরিচিত। পার্সেলের কলিংবেলটা নিজের বাড়ি...

৩৭৯ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২৩)

ছবি
  ৩৭৯  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২৩ ) ১৮৯৫ শিষ্যকে লেখা চিঠির ভাবার্থের অনুসরণে  বিশ্বমঞ্চে মানবতার রণদুন্দুভি: স্বামীজীর কর্মযজ্ঞ ও আগামীর আহ্বান স্বামী বিবেকানন্দের কাছে সন্ন্যাস কেবল গৈরিক বসন পরিধান বা সংসার থেকে পলায়ন ছিল না; তাঁর কাছে সন্ন্যাস ছিল এক জ্বলন্ত মশাল, যা দিয়ে তিনি বিশ্বজুড়ে অজ্ঞানতা ও অন্যায়ের অন্ধকার দূর করতে চেয়েছিলেন। তাঁর মানসপটে কোনো কাঁটাতারের বেড়া ছিল না, কোনো নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের সীমানা ছিল না। সমগ্র বিশ্বই ছিল তাঁর কর্মক্ষেত্র। এক মহা কৃষকের মতো তিনি চেয়েছিলেন এমন এক বীজ বপন করতে, যা একদিন মহীরুহে পরিণত হয়ে ক্লান্ত পৃথিবীকে ছায়া দেবে—যে ছায়ায় জাতপাত, ধনী-দরিদ্র আর হিংসার কোনো স্থান থাকবে না, থাকবে কেবল মানবতার জয়গান। রণকৌশল ও আস্তানা নির্মাণ  যেকোনো মহৎ যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন সুশৃঙ্খল প্রস্তুতি। স্বামীজী বুঝেছিলেন, কেবল আবেগের বশে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে জগত জয় করা যায় না। অনৈতিকতার বিরুদ্ধে নৈতিকতার এই সংগ্রাম এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ। তাই একজন দক্ষ সেনাপতির মতোই তিনি যুদ্ধের রসদ ও সৈন্য সংগ্রহের জন্য দুর্গ তৈ...

৩৭৮ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২২)

ছবি
    ৩৭৮  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২২ ) ১৮৯৫ শিষ্যকে লেখা চিঠির ভাবার্থের অনুসরণে  পথ কখনও মসৃণ হয় না—স্বামী বিবেকানন্দ তা জানতেন। তবু তিনি ভীত হননি। কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, বাধা মানেই পরাজয় নয়; বাধা মানেই মানুষের জাগরণের আহ্বান। যুগ যুগ ধরে প্রকৃতি তার ভয়ংকর রূপে মানুষের সামনে দাঁড়িয়েছে, আবার মানুষও তার জ্ঞান নামক প্রদীপ জ্বালিয়ে অন্ধকারের বুক চিরে পথ করে নিয়েছে। কখনও তা বন্যা, কখনও ভূমিকম্প, কখনও আবার মানুষেরই নির্মম হাতে গড়া সভ্যতার ধ্বংসস্তূপ—সব কিছুর মধ্যেই মানুষ এগিয়েছে, কারণ সে জানে—জ্ঞানই তার শেষ আশ্রয়। ইংল্যান্ডের হিমশীতল বাতাসে কাঁপতে কাঁপতে স্বামীজী দেহের দুর্বলতাকে অগ্রাহ্য করেছিলেন, কিন্তু আত্মার দীপ্তিকে নিভতে দেননি। শীত তাঁর শরীরকে বিদ্ধ করলেও মনকে করতে পারেনি অবসন্ন। সেখানে তিনি দেখিয়েছিলেন—প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ নয়, বুদ্ধির আলো জ্বেলে প্রকৃতির মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহসই মানুষকে মানুষ করে তোলে। নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষত, প্রতিটি উপলব্ধি তিনি গোপন রাখেননি। তা তিনি বিলিয়ে দিয়েছেন—সহকর্মী ও শিষ্যদের হাতে তুলে দিয়ে সমাজের হৃদয়ে ...

৩৭৭ মনের দুয়ারে জ্ঞানবাবুর প্রহরা

  ৩৭৭ মনের দুয়ারে জ্ঞানবাবুর প্রহরা শহরের এক কোণে থাকেন শিবু কাকু। মানুষটা ভীষণই সংবেদনশীল। সামান্য কিছু হলেই তাঁর মনের ভেতরে কখনো স্বর্গ, কখনো নরক খুলে বসে। চা বেশি গরম হলে—নরক। পাড়ার ছেলে নমস্কার করলে—স্বর্গ। একদিন শিবু কাকু হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন— “এই ভালো-মন্দের ঝামেলা আর না! এবার জ্ঞান চর্চা করবো।” পরদিন থেকেই তিনি শুরু করলেন বই পড়া। উপনিষদ, গীতা, দর্শনের বই—সব এনে ফেললেন। আর মনের দরজায় বসালেন এক কল্পিত পাহারাদার— জ্ঞানবাবু । জ্ঞানবাবুর কাজ একটাই— মন্দ অনুভূতিকে ঢুকতে না দেওয়া। একদিন সকালবেলা শিবু কাকু হাঁটতে বেরিয়েছেন। হঠাৎ পেছন থেকে একটা কুকুর “ঘেউ” করে উঠল। ভয় নামক মন্দ অনুভূতি দৌড়ে এসে মনের দরজায় কড়া নাড়ল। জ্ঞানবাবু গম্ভীর গলায় বললেন— “আপনি কে?” ভয় বলল, “আমি ভয়। একটু ঢুকতে দেবেন? হার্টটা একটু কাঁপিয়ে দিই।” জ্ঞানবাবু হেসে উত্তর দিলেন— “দুঃখিত। এখানে লেখা আছে— ‘ভয়ং ত্যজ’ । আপনি যেতে পারেন।” ভয় ফিরে গেল। শিবু কাকু অবাক—“আরে! আমি তো ভয়ই পেলাম না!” কয়েকদিন পর বাজারে গিয়ে আলু কেজি ৫০ টাকা শুনে রাগ এল। রাগ সোজা মনের দরজায় হাজির। জ্ঞানবাবু বললেন— “ভাই...

৩৭৬ কাম যখন উত্তরাধিকার রক্ষার অস্ত্র

ছবি
 ৩৭৬   কাম যখন উত্তরাধিকার  রক্ষার অস্ত্র   মহাভারতের রাজনীতি বহু জায়গায় তলোয়ারে নয়,  শয্যার উপর দাঁড়িয়ে  টিকে আছে। নিভু নিভু এক রাজবংশকে বাঁচিয়ে রাখার শেষ প্রদীপটি যে কাম—এ কথা মহাভারত লুকোয় না, বরং নির্মম স্পষ্টতায় তুলে ধরে। বিচিত্রবীর্য্য মৃত। রাজ্য শূন্য। সিংহাসনের চারপাশে নিস্তব্ধতা—কোনো যুদ্ধের নয়,  উত্তরাধিকারের অভাবে জন্মানো শূন্যতা । এই শূন্যতায় ধর্ম, নীতি, লজ্জা—সবকিছুকে সরিয়ে সামনে আসে একমাত্র প্রশ্ন: বংশ থাকবে তো? এখানেই কাম রাজনীতিতে রূপ নেয়। মাতা সত্যবতী জানতেন, রাজ্য রক্ষার জন্য এখানে প্রেম নয়, কাম্য পুত্র চাই। তাই বিধবা রানিদের শোককে সময় না দিয়েই ডেকে পাঠানো হলো ঋষি বেদব্যাসকে। এই মিলন কোনো আকস্মিক আবেগের ফল নয়—এ এক  রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে অনুমোদিত যৌনতা । ধর্মের মুখোশে ঢেকে দেওয়া এক গভীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। অম্বিকা ও অম্বালিকার শয্যায় বেদব্যাসের উপস্থিতি তাই কোনো রোমান্টিক কাহিনি নয়। এটি এক শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত—যেখানে নারী শরীর হয়ে ওঠে রাজনীতির ক্ষেত্র, আর পুরুষ কাম নয়,  ক্ষমতার বাহক । অম্বিকার চোখ বন্ধ হয়ে যায়—ভয়ের, অন...

৩৭৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২১)

ছবি
  ৩৭৫  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২১) ১৮৯৫ : ইংল্যান্ড থেকে লেখা এক পত্র, আর এক জাতির আত্মসমালোচনা ১৮৯৫ সাল। ইংল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্বামী বিবেকানন্দ তখন শুধু একজন ভারতীয় সন্ন্যাসী নন—তিনি এক সচেতন জাতিসত্তার কণ্ঠস্বর। স্বামী অখণ্ডানন্দকে লেখা তাঁর তৃতীয় পত্রটি পড়লে বোঝা যায়, দূরদেশে থেকেও তাঁর দৃষ্টি অবিচল ছিল দেশের মাটিতে, দেশের মানুষের কাজে, আর সেই কাজের অন্তর্নিহিত দুর্বলতায়। তিনি নিয়মিত খবর নিতেন—কে কী কাজ করছে, কোথায় অগ্রগতি, কোথায় স্থবিরতা। স্বামী অখণ্ডানন্দের পত্রে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার আভাস পেলেও স্বামীজীর মনে স্বস্তি আসেনি। কারণ সমস্যাটা ছিল পরিকল্পনার অভাব নয়, ছিল সংঘবদ্ধ মানসিকতার অভাব । তাঁর চোখে এটাই ছিল জাতির সব অনর্থের মূল। স্বামী বিবেকানন্দ স্পষ্ট বুঝেছিলেন—একক সাধনা মানুষকে মহান করতে পারে, কিন্তু জাতিকে জাগাতে পারে না। জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে চাই সংগঠন। আর সংগঠন মানে শুধু লোক জড়ো করা নয়; সংগঠনের মেরুদণ্ড হলো লক্ষ্যপূরণের আদর্শের প্রতি নিঃশর্ত নিষ্ঠা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ আজ্ঞাপালন। তাঁর কাছে আজ্ঞাপালন ছিল অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং ব...

৩৭৪ অভাব কি চেতনার প্রাচীনতম উপাদান ?

৩৭৪    অভাব কি চেতনার প্রাচীনতম উপাদান ? শব্দ একটি কিন্তু  পথ দুটি । অনিমেষ ভাবছিলো "অভাব কি মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক করে তোলে না চেতনা বিকাশের পথ প্রশস্ত করে? "- এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে ?অনিমেষ সকাল সকাল লাইব্রেরিতে গিয়ে উপস্থিত হলো। বইয়ের ক্যাটালগ দেখে ভারতীয় দর্শনের বিশেষ কতগুলি বাইকে শর্ট লিস্ট করল, ক্যাটালগটি লাইব্রেরিয়ানকে হস্তান্তর করার আগে, তার মনে হলো সমাজতত্ত্বের বইয়ের লম্বা লিস্টের মধ্যে কিছু বইকে সে সিলেক্ট করল।  শুরু হলো তার পথ চলা। প্রথমেই সে বৌদ্ধ দর্শনের অনাত্মবাদ অধ্যায়ে গিয়ে তার চোখ আটকে গেল। অনিমেষ দেখলো, এই দর্শনে বলছে আত্মার কোন অস্তিত্ব নেই আর যদি অস্তিত্ব না থাকে তাহলে অনন্তসত্তা নেই, দেহ ও মন এক পরিবর্তনশীল ও একান্ত ক্ষণস্থায়ী মিলনের সমষ্টি।  মানব মনের বিশ্লেষণের সাথে সাথে মানবতা শব্দটি ভীষণ ভাবে যুক্ত। মানবতাকে নিয়ে  চর্চ্চার ক্ষেত্রে স্বামী বিবেকানন্দ এবং রবীন্দ্রনাথের মতাদর্শকে অবশ্যিই প্রাধান্য দিতে হবে। স্বামীজীর মানবতাবাদের প্রধান মন্ত্র ছিল কর্মভিত্তিক আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল সহমর্মিতাভিত্তিক।  এই তাত্ত্বিক ভিত্তির...

৩৭৩ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২০)

ছবি
  ৩৭৩  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (২০) ১৮৯৫  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত - অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে ভারতীয়দের স্বাধীনতার মন্ত্রপাঠ — স্বামী বিবেকানন্দের সমাজভাবনা ও কর্মদর্শন ইতিপূর্বে ভারতবাসী স্বামী বিবেকানন্দের মতো সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীকে এইভাবে দেশের মানুষকে ভালোবাসতে এবং একই সঙ্গে সমাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি চিহ্নিত করে সেখান থেকে উত্তরণের পথ নির্দেশ করতে দেখেনি। তিনি কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার দাবি তোলেননি, অথচ তাঁর প্রতিটি উচ্চারণ, প্রতিটি নির্দেশ, প্রতিটি তিরস্কারই ছিল পরাধীনতার শেকল ভাঙার এক একটি মন্ত্র। মনুষ্যজীবনের সঙ্গে ‘অভাব’ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই অভাবের কিছু অংশ মনগড়া, কিছু আবার আশু প্রয়োজনভিত্তিক—যা পূরণ না হলে জীবনের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়ে। ১৮৯৫ সালে, মাত্র বত্রিশ বছর বয়সেই স্বামীজী এই সূক্ষ্ম পার্থক্যটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, সমাজে কোন কোন অনুশীলন কেবল চর্চার জোরে টিকে আছে এবং কোনগুলো সত্যিই বর্জনীয়। শ্রী রামকৃষ্ণের আদর্শকে মূলধন করে দেশ ও বিদেশ ভ্রমণের মধ্য দিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ গড়ে তুলেছি...

৩৭২ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৯)

ছবি
  ৩৭২   কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৯) ১৮৯৫  স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত - “যখন মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, তখন সৎ বিষয়ের জন্য দেহত্যাগই শ্রেয়ঃ।” এই অত্যন্ত সহজ, সরল, অনাড়ম্বর অথচ বাস্তবের গভীর পটভূমি থেকে উঠে আসা অমোঘ সত্যনিষ্ঠ বাক্যটির মধ্য দিয়েই স্বামী বিবেকানন্দ দিগ্বিদিকশূন্য মানবমনের স্বাধীন চিন্তার বিকাশ ঘটাতে চেয়েছিলেন। তাঁর জীবনব্রত ছিল—মানুষকে ভাবনার দাসত্ব থেকে মুক্ত করা, কুসংস্কার ও আত্মপ্রবঞ্চনার আবরণ সরিয়ে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করানো। যে সমাজ উদ্দেশ্যহীনভাবে কতকগুলি মিথ্যা আচার-আচরণের আড়ালে নিজের প্রকৃত কর্মবোধকে ঢেকে রেখেছিল, সেই সমাজকে যদি না জাগানো যায়, তবে দেশ ও জাতির কোনও প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়—এই বিশ্বাসে তিনি ছিলেন অটল। তাঁর দৃষ্টিতে সমস্যার একটি বড় কারণ ছিল বহু প্রচলিত শব্দের যথার্থ অর্থ অনুধাবনে আমাদের চরম ব্যর্থতা।  শব্দ যদি মানুষকে জাগাতে না পারে, তবে সে শব্দ পাপ। ঈশ্বর যদি জাগেন মানুষের আর্তনাদে, তবে ধাতুর শব্দে তাঁর কী প্রয়োজন? এই কারণেই স্বামীজী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন— “যদি সত্যিই ভালো চাও, তবে ঘন্টা-ফন্টাগু...

৩৭১ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৮)

ছবি
  ৩৭১  কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে  চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৮ ) ১৭ই ফেব্রুয়ারী, ১৮৯৫ স্বামীজীর পত্রাবলী থেকে উদ্ধৃত - ।। কর্মই ধর্ম: স্বামী বিবেকানন্দের ভাবানুবাদ ও পাশ্চাত্য গ্রহণযোগ্যতা ।। কর্মই ধর্ম: স্বামী বিবেকানন্দের ভাবানুবাদ ও পাশ্চাত্য গ্রহণযোগ্যতা “ কর্ম্মে আমাদের অধিকার, ফলে নহে ”—গীতার এই বাণী স্বামী বিবেকানন্দের জীবনে কেবল একটি উদ্ধৃতি ছিল না, ছিল তাঁর ধর্মবোধের কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর কাছে ধর্ম মানে আচার-অনুষ্ঠানের পুনরাবৃত্তি নয়, ধর্ম ছিল  কর্মে আত্মনিবেদন । মানুষের অন্তর্গত শক্তিকে জাগ্রত করে সমাজ ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করাই ছিল তাঁর ধর্মের সংজ্ঞা। তবু স্বামীজী নিজেও অস্বীকার করতে পারেননি যে তাঁর কার্যকলাপ অনেক সময় দেহের গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে। এই আত্মস্বীকৃতিই তাঁর মহত্ত্ব—তিনি জানতেন, আদর্শ ও বাস্তবের সংঘর্ষ অনিবার্য। এই চিঠিতে আমরা সেই দ্বন্দ্বেরই প্রতিধ্বনি শুনতে পাই। কোনো মহৎ কর্মই প্রতিকূলতা অতিক্রম না করে এগিয়ে যেতে পারে না—এ ইতিহাসের চিরন্তন সত্য। প্রাচ্যকে পাশ্চাত্যের দরবারে উপস্থাপন করতে গিয়ে স্বামীজী উপলব্ধি করেছিলেন একটি গভ...