৪৪০ বিকাশের জ্বালা

৪৪০ বিকাশের জ্বালা 

 আবিষ্কার -পাথরের অস্ত্র থেকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা ও শ্রেণী বিভাজন   

হাতে যথেষ্ট সময় আর মাথায় কোন ব্যথা না থাকলে যা হয়। হঠাৎ করে মাথার মধ্যে যে ভাবনাটা চেপে বসে তখন তাকেই যানবাহন বানিয়ে তার পিঠে চড়ে বসতে ইচ্ছা করে। এমনি এক সময়ে রেবতী বর্মনের "সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশ" বইটা পড়ছিলাম।  সভ্যতার ক্রমবিকাশের এক জায়গায় গিয়ে দেখলাম কি ভাবে সমাজে গুটিগুটি পায়ে অর্থনৈতিক ভাবনার বিকাশ হলো আর পাশের বাড়ির লোকটার সাথে দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীর সাথে সম-ভাবনার সুতোটা আলগা হতে শুরু করলো। ঠিক এখান থেকেই প্রশ্নের উদয় হল, উত্তর খোঁজার চেষ্টা চলল, কিভাবে এই সমাজটার মধ্যে প্রতিনিয়ত একটা সংঘর্ষ চলছে এবং তার ফলে সমাজজীবনে মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের নিভৃতে ব্যাবধান রচিত হচ্ছে,  তার ছবিটা তুলে ধরতে হবে। 

আদানের  সাথে প্রদানের এক গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক। একুল যখন গড়বে তখন ধরে নিতে হবে অপর একটি কুলের ভাঙ্গন অনিবার্য।   যে সময়ে শিকার করাই আদিম মানুষের বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। জীবন্ত পশুকে খাদ্য বানাতে গেলে একমাত্র পাথরই তাদের অস্ত্ররূপে সহযোগিতা করতো। লক্ষ্য ছিল খাদ্য উৎপাদন আর সেদিনের গোটা উৎপাদনের প্রক্রিয়ায়, শিকার ছিল পেশা, উৎপাদিত বস্তু হলো পশু আর উৎপাদনের শক্তি হলো পাথর।  অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পাথরই সর্বপ্রথম উৎপাদনের শক্তি হিসাবে পরিচিত হলো। 

এই কাহিনীর মূল উদ্দেশ্য হলো প্রস্তর যুগের থেকে শুরু করে আজকের এই এ আইয়ের যুগের শ্রেণী বিভাজনের চেহারাটাকে একটা ফ্রেমে ধরে রাখা। 

আমরা যত গল্প পড়ি, সে সব অধিকাংশই লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ফসল। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হবে বলে আশা রাখি না। 

এই শ্রেণীবিভাজন নিয়ে বহু মানুষের বিভিন্ন মতামত থাকতে পারে, তবে আমার মতে  -
- যেদিন একজন মানুষ আর একজন মানুষকে বলেছিল
প্রথম জন —ওই পাথরটা আমাকে দাও তো।
অন্যজন বলেছিল—
—কেন?
প্রথমজন বলেছিল—
—আমি পাথর দিয়ে হরিণ মারব।
দ্বিতীয়জন বলেছিল—
- তাহলে তুমি মারো। পাথরটা আমি কেন দেব?
প্রথমজন একটু ভেবে বলেছিল—
—তুমি পাথরটা দাও, আমি হরিণ মারলে তোমাকে মাংস দেব।
-দ্বিতীয়জন রাজি হয়ে গেল।
হরিণ মারা হল। মাংস ভাগ হল।  কিন্তু ভাগের সময় প্রথমজন বলল—
—আমি কিন্তু হরিণটা মেরেছি। তুমি শুধু পাথর দিয়েছ।
দ্বিতীয়জন বলল——কিন্তু পাথরটা যদি না দিতাম?
এই নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হল। তারপর দুজনেই বুঝল, ব্যাপারটি জটিল।
সেদিনই পৃথিবীতে প্রথম অর্থনৈতিক তত্ত্বের জন্ম হয়েছিল। 
এরপর মানুষ আগুন আবিষ্কার করল।
আগুন আবিষ্কার করে সে খুব খুশি। আগে কাঁচা মাংস খেত, এখন একটু পুড়িয়ে খায়। কিন্তু সমস্যা হল—আগুন জ্বালাবে কে? একজন বলল, —আমি আগুন জ্বালাব।
অন্যজন বলল, —বেশ। আমি কাঠ আনব। তৃতীয়জন বলল, —আমি মাংস আনব। চতুর্থজন বলল, —আমি বসে দেখব। তিনজন প্রথমে চতুর্থজনের দিকে সন্দেহের চোখে তাকাল। চতুর্থজন বলল, —কেউ তো পাহারা দেবে! নইলে তোমরা কাজ করতে গিয়ে ঝগড়া করলে মীমাংসা করবে কে?  এই যুক্তিটি অত্যন্ত কার্যকর হল।
চতুর্থজন বসে রইল। বাকি তিনজন কাজ করল। রাতে চারজন মাংস খেল। চতুর্থজন একটু বেশি খেল। কারণ সে সারাদিন পাহারা দিয়েছে।
মানবসভ্যতা তখনও বুঝতে পারেনি, কিন্তু ম্যানেজমেন্টের জন্ম হয়ে গেছে।

হাজার হাজার বছর অতিকান্ত হতে চলল, সেই মানুষদের মনে শিকার ধরার প্রাচুর্যতা ক্রমেই নিম্নমুখী হওয়াতে, মনের এক কোনে বিকল্প খাদ্যের সন্ধান  শুরু হয়ে গিয়েছিল। পথে যেতে যেতে তার দেখতো গাছের থেকে ফল  মাটিতে পড়ছে, তা শুকিয়ে গিয়ে শুধু বীজ পরে থাকছে, তারপর প্রাকৃতিক  পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে সেই বীজ একদিন অঙ্কুরিত হয়ে চারা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করছে আর তারপর আবার বৃক্ষ। 

প্রকৃতির সাথে যতই চেনাজানা হতে লাগলো, প্রকৃতিই তাদের কানে কানে বলে  দিল -"এখানে মাটি আছে আর ওখানে বীজ আছে, বৃষ্টির জল মাটিকে সিক্ত  করবে, আকাশের সূর্য আছে, এই জল আলো বাতাস পেলে ওই  বীজেরা বড় হবে, তার পরে তোমরা তাদের খেয়ে বেঁচে থাকো। " 

আবিষ্কৃত হল কৃষি। 

এটি ছিল পৃথিবীর অর্থনীতিতে এক ভয়ানক বিপ্লব। আগে মানুষ যা পেত, তাই খেত। এখন সে জমিতে বীজ পুঁতে অপেক্ষা করতে পারে। একজন বলল— এই জমিটা আমার। অন্যজন জিজ্ঞেস করল—
—কেন?
—আমি চাষ করেছি। —কিন্তু জমি তৈরি করেছ কে? —প্রকৃতি। —বৃষ্টি দিয়েছে কে?
—প্রকৃতি।
—বীজ?
—প্রকৃতি।
—সূর্যের আলো?
—প্রকৃতি।
দীর্ঘ নীরবতার পরে জমির মালিক বলল— সব ঠিক আছে। কিন্তু জমিটা এখন আমার।
এই যুক্তির বিরুদ্ধে তখনও কোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা ছিল না। ফলে জমি তাঁরই রইল। কেউ জমির মালিক হল, কেউ জমিতে কাজ করল। কেউ ধান ফলাল, কেউ ধানের হিসাব রাখল। কেউ খেতের ধারে দাঁড়িয়ে বলল— 
—এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।
যে লোকটি ধান ফলিয়েছিল সে বলল—
—হ্যাঁ।
যে লোকটি দাঁড়িয়ে ছিল সে বলল—
—আমাদের ফলন ভালো হয়েছে।
কৃষক একটু অবাক হয়ে তাকাল। ‘আমাদের’ কথাটির অর্থ তখন থেকেই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।
এরপর এল রাজা। রাজা বললেন— এই রাজ্য আমার। প্রজারা বলল— কেন?
রাজা বললেন—
—ঈশ্বর আমাকে রাজা করেছেন। প্রজারা ঈশ্বরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারত না। তাই আপত্তি করার উপায়ও ছিল না।
তারপর এল জমিদার।
তারপর এল সৈন্য।
তারপর কর। তারপর খাজনা। তারপর হিসাব। মানুষ সভ্য হল।
অর্থাৎ, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ম মেনে অন্য মানুষের কাছ থেকে কাজ করাতে শিখল।
তারপর এল শিল্পবিপ্লব। কারখানায় মেশিন এল। একদিন এক শ্রমিক মেশিনের দিকে তাকিয়ে বলল—
—এটা কী?
মালিক বললেন—
—এটা মেশিন।
—এটা কী করে?
—তোমার দশজনের কাজ একা করে।
শ্রমিক একটু ভয় পেল।
—তাহলে আমরা কী করব?
মালিক অত্যন্ত আশ্বস্ত হয়ে বললেন—
—তোমরা মেশিন চালাবে।
শ্রমিক বলল—
—মেশিন যদি নিজেই কাজ করে?
মালিক বললেন—
—তাহলে তোমরা মেশিনের দেখাশোনা করবে।
—আর মেশিন যদি নিজেই নিজের দেখাশোনা করে?
মালিক একটু থামলেন।
তারপর বললেন—
—সেটা নিয়ে এখন আলোচনা করার দরকার নেই।
মানুষের ইতিহাসে ‘এখন আলোচনা করার দরকার নেই’ কথাটি বহুবার বিপজ্জনক প্রমাণিত হয়েছে।
শিল্পবিপ্লবের পরে উৎপাদন এত বেড়ে গেল যে মানুষ বুঝল, শুধু উৎপাদন করলেই হবে না, উৎপাদিত জিনিস বিক্রিও করতে হবে।
তখন বাজার এল। বাজারের সঙ্গে এল বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে এল চাহিদা।
আর চাহিদার সঙ্গে এল এমন এক অদ্ভুত ব্যবস্থা— মানুষ এমন জিনিসও কিনতে শুরু করল, যার প্রয়োজন সে আগে জানতই না।
তারপর কম্পিউটার এল।
কম্পিউটার মানুষের হিসাব করতে লাগল।
মানুষ খুশি।
কারণ এতদিন যে কাজ করতে দশজন লোক লাগত, এখন একজন কম্পিউটার দিয়ে করতে পারে।
কিন্তু কম্পিউটারও একদিন বলল—
—আমি হিসাব করতে পারি, তথ্য রাখতে পারি, দ্রুত উত্তর দিতে পারি।
মানুষ বলল—
—বেশ। কিন্তু চিন্তা করতে পারো?
কম্পিউটার বলল—
—না।
মানুষ নিশ্চিন্ত হল।
তারপর ইন্টারনেট এল।
মানুষ পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খবর পাঠাতে লাগল।
মানুষ বলল—
—এবার পৃথিবী ছোট হয়ে গেছে।
পৃথিবী মনে মনে বলল—
—তোমাদের মাথাটাও যদি একটু বড় হত!
তারপর একদিন AI এল।
মানুষ তাকে জিজ্ঞাসা করল—
—তুমি কী করতে পারো?
AI বলল—
—বলুন, কী করতে হবে?
মানুষ বলল—
—তুমি লিখতে পারো?
—পারি।
—ছবি বানাতে পারো?
—পারি।
—গান লিখতে পারো?
—পারি।
—গবেষণা করতে পারো?
—পারি।
—হিসাব করতে পারো?
—পারি।
—কোড লিখতে পারো?
—পারি।
মানুষ একটু চুপ করে রইল।
তারপর জিজ্ঞাসা করল—
—আমার চাকরিটা?
AI বলল—
—আপনার কাজের কিছু অংশ আমি করতে পারি।
মানুষ বলল—
—‘কিছু অংশ’ মানে?
AI বলল—
—আপনার কাজের যে অংশটি আপনি সবচেয়ে ভালোবাসেন, সেটি আপনি করতে পারেন। বাকিটা আমাকে দিন।
মানুষ বলল—
—কিন্তু আমি তো সবটাই করতে চাই!
AI বলল—
—সেটা আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ।
এখানেই ইতিহাস আবার সেই পুরোনো প্রশ্নের সামনে এসে দাঁড়াল।
পাথরের কুঠার যখন প্রথম তৈরি হয়েছিল, তখন যে মানুষটি কুঠার বানিয়েছিল সে তার উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েছিল।
লাঙল এল—মানুষের উৎপাদনশক্তি বাড়ল।
চাকা এল—উৎপাদনশক্তি বাড়ল।
বাষ্পীয় ইঞ্জিন এল—আরও বাড়ল।
বিদ্যুৎ এল—আরও বাড়ল।
কম্পিউটার এল—আরও বাড়ল।
রোবট এল—আরও বাড়ল।
AI এল—এবার প্রশ্নটি শুধু উৎপাদনশক্তির নয়।
প্রশ্ন হল—
উৎপাদন করবে কে?
আরও বড় প্রশ্ন—
উৎপাদনের মালিক হবে কে?
আদিম যুগে যার হাতে পাথরের কুঠার ছিল, তার হাতে ছিল ক্ষমতার সামান্য অংশ।
কৃষিযুগে যার হাতে জমি, তার হাতে ক্ষমতা।
শিল্পযুগে যার হাতে কারখানা, তার হাতে ক্ষমতা।
পুঁজিবাদে যার হাতে মূলধন, তার হাতে ক্ষমতা।
আর AI-এর যুগে?
যার হাতে থাকবে—
ডেটা, অ্যালগরিদম, কম্পিউটিং শক্তি এবং AI অবকাঠামো—
ক্ষমতার বড় অংশ তার হাতেই চলে যেতে পারে।
অর্থাৎ পাথরের কুঠার বদলেছে।
লাঙল বদলেছে।
কারখানা বদলেছে।
কম্পিউটার বদলেছে।
এখন কুঠারটি অদৃশ্য।
তার নাম—
অ্যালগরিদম। 
সেটা আবার কি ?
- ওটা কিছু না , রান্নার রেসিপির মতো, পর পর ঢেলে যাও রান্না হয়ে যাবে। 
একদিন এক শ্রমিক AI-কে জিজ্ঞাসা করল—
—তুমি কি আমাদের কাজ নিয়ে নেবে?
AI বলল—
—কিছু কাজ নেব।
—তাহলে আমরা কী করব?
—নতুন কাজ করবেন।
—কী নতুন কাজ?
AI একটু ভেবে বলল—
—সেটা আপনারা আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।
শ্রমিক চুপ করে গেল।
তারপর বলল—
—তুমি যদি নতুন কাজটাও করে দাও?
AI বলল—
—তাহলে আপনারা অবসর নেবেন।
শ্রমিক বলল—
—কিন্তু অবসর নেওয়ার টাকা?
AI বলল—
—ওটা আমার জানা নেই।
শ্রমিক বলল—
—তাহলে তুমি বুদ্ধিমান নও।
AI বলল—
—আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
শ্রমিক বলল—
—বুদ্ধি আছে, কিন্তু বুদ্ধির মালিকানা নেই।
AI বলল—
—এটাই তো সমস্যার আসল জায়গা।
সেই রাতে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো মানুষটি—যিনি আদিম যুগ থেকে সব দেখে এসেছেন বলে কথিত আছে—একটি পাথরের কুঠার হাতে নিয়ে বসেছিলেন।
তাঁর পাশে বসেছিল আধুনিক AI।
আদিম মানুষ বলল—
—তুমি এত কিছু জানো। বলো তো, আমাদের এত উন্নতি হল কেন?
AI বলল—
—উৎপাদনশক্তির উন্নতির জন্য।
—আর এত শ্রেণী তৈরি হল কেন?
AI বলল—
—উৎপাদনের উপায়ের মালিকানা এবং উৎপাদিত সম্পদের বণ্টনের জন্য।
আদিম মানুষ একটু হাসল।
—তা হলে এত হাজার বছরেও সমস্যাটা বদলায়নি?
AI বলল—
—সমস্যা বদলেছে। কিন্তু প্রশ্নটি একই রয়ে গেছে।
—কী প্রশ্ন?
AI বলল—
“যে উৎপাদন করে, তার হাতে উৎপাদনের ক্ষমতা কতটা?”
আদিম মানুষ পাথরের কুঠারটা মাটিতে রাখল।
বলল—
—তাহলে তোমার এত বুদ্ধি দিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর দাও।
AI কিছুক্ষণ নীরব রইল।
তারপর বলল—
—উত্তরটা আমি দিতে পারি না।
—কেন?
—কারণ উত্তরটা প্রযুক্তির মধ্যে নেই।
—তাহলে কোথায়?
AI বলল—
“মানুষের সমাজ কীভাবে তার উৎপাদনশক্তির মালিকানা ও বণ্টনকে সংগঠিত করবে—উত্তরটা সেখানে।”
আদিম মানুষ একটু হেসে বলল—
—তাহলে তুমি সত্যিই বুদ্ধিমান হয়েছ।
AI বলল—
—কেন?
—কারণ এতক্ষণে তুমি বুঝেছ, সব প্রশ্নের উত্তর মেশিনের কাছে থাকে না।
তারপর দুজনে চুপ করে বসে রইল।
একজনের হাতে পাথরের কুঠার।
অন্যজনের হাতে অদৃশ্য অ্যালগরিদম।
মাঝখানে পড়ে রইল কয়েক হাজার বছরের মানবসভ্যতা।
আর দূরে কোথাও, খুব নিঃশব্দে, নতুন একটি শ্রেণী জন্ম নিচ্ছিল।
তার নাম তখনও কেউ ঠিক করেনি।
হয়তো তার নাম হবে—
ডেটা-মালিক।
হয়তো—
অ্যালগরিদম-প্রভু।
অথবা হয়তো মানুষ এবার এমন একটি সমাজ বানাবে, যেখানে উৎপাদনের শক্তি যতই বাড়ুক, মানুষের মর্যাদা তার চেয়ে ছোট হবে না।
ইতিহাস অবশ্য এ ব্যাপারে এখনও কিছু বলেনি।
ইতিহাসের একটা বদভ্যাস আছে—
ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পরেই সে তার অর্থ বোঝায়।
তাই আপাতত অপেক্ষা করা যাক।
AI-কে দিয়ে অপেক্ষা করানো যাবে কিনা, সেটাই বরং আগে দেখা যাক।

লেখনীতে -রবীন মজুমদার 
তারিখ ২৮/০৮/২৬
যদি একমত হন, তবে বেশী বেশী করে সবার কাছে শেয়ার করুন 
rabinujaan.blogspot.com থেকে অন্যান্য ব্লগগুলি পড়া যাবে। 



 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩৬৬ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১৩)

৩৬৪ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১১)

৩৬৫ কেন আজ স্বামীজিকে নিয়ে চর্চা করার প্রয়োজনীয়তা আছে - (১২)