৪৫৬ খেলা ভাঙ্গার এই খেলা
৪৫৬ খেলা ভাঙ্গার এই খেলা
বেচারা ঐ গুপীর দল। একদল লোক এসে বইয়ের স্টল থেকে বই ফেলে দিচ্ছে বলে আর্তনাদের শেষ নেই। কি যে বোকার দল যাদের নির্দেশনায় বইয়ের মেলার পাশাপাশি এত সুন্দর অক্ষর নিধনের জীবন্ত অনুষ্ঠান পরিবেশন করছেন যারা, তাদের বিরুদ্ধে আবার সেই নাটক নির্দেশকদের কাছে মিনতি করছে, অনুষ্ঠান বন্ধ করার।
সে অনেকদিন আগের কথা, আমাদের ছেলেবেলার কথা। গুরুজনেরা বই এগিয়ে দিলে ছোট ছোট অবলা জীবেরা পরম যত্ন সহকারে পাতা গুলি ছিড়ে খেলা করতো।
পাতা ছেড়ার খেলাটা ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেটা সঠিকভাবে বলা যাবেনা। জীবনধারণের জন্য পাতার প্রয়োজন সেটা সেই লম্বা ঠেঙ্গা জিরাফ থেকে ছোট ছোট পোকাগুলি ও জানে। এবছর দেখলাম ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই পাতা ছেড়ার খেলায় মেতে উঠেছে।
খুব কষ্ট করে দেখতে বড় আসলে শিশুরা পাতা ছিড়তে এসেছে। বয়জ্যেষ্ঠ্যরা ছিড়তে দেবেনা আর তাদের বায়না, তাদের ছিড়তে দিতেই হবেই। আসলে কেউ তাদের বুঝতে চেষ্টা করছে না, যেমনটি শিশুদের মস্তিস্ক উর্বর হলে তারা ঐ পাতার মর্ম বুঝতে পারে কিন্তু যাদের দেহের উচ্চভাগে অবস্থিত অঙ্গটি সবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তা আনফর্মাটেড কিংবা অপারেটিং সিস্টেমটা মান্ধাতার আমলের, তাই তারা অপারেটিং সিস্টেমের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী কাজ করছে।
বহু বাড়িতে ঘরের আসবাবপত্রের স্থান বই অধিকার করে বসে আছে। গৃহ রচনার উপাদানের মধ্যে যেমন নির্জীব বইয়ের মতো পদার্থ আছে সেরকম সজীব পদার্থও আছে। ভাগ্যিভালো অপারেটিং সিস্টেম সেই নির্জীব পদার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। যদি কোন দিন ভাইরাস ঢুকে সজীব পদার্থকে ছিড়তে যায় তখন সবাই কি করবে। বাচ্ছাদের অপরিণত মস্তিষ্কের খেলা বলে ক্ষমা ঘেন্না করে দেবেন ?
কলমে - রবীন মজুমদার

মন্তব্যসমূহ