পোস্টগুলি

উত্তর মীমাংসা (১২২)

ছবি
উত্তর মীমাংসা (১২২) মনের দ্বৈতভাবের অবসানে অদ্বৈতভাবনায় পার্থিব জগৎকে যখন  পর্য্যবেক্ষন করবে তখন সবকিছুর মধ্যেই অভিন্ন রূপেকেই সে  দর্শন করবে। বিভেদ যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে দ্বন্দ কোথায় আর সেইখানেই অপার শান্তির নিবাস।  গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ দ্বৈত ও অদ্বৈতবাদ বেদান্তের এই দুই দর্শনের মধ্যে বিবাদ জন্মলগ্ন থেকে সুতরাং তাদের  নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বিশেষ শৃঙ্খলা সহকারে এগিয়ে যেতে হবে।     বেদান্ত কি ? ভূমিকা - কৈশোরে বাংলা ও ইংরাজী সাহিত্যের পাঠ্য পুস্তকের সাথে সাথে তার সহায়ক বই ( মানে বই বলে পরিচিত) কিনতে হতো কবি, সাহিত্যিকরা পাঠ্য পুস্তকে কি লিখেছেন তার অর্থ সরলীকরণ করার জন্য। সহায়ক বইতে সবশেষে সেই গদ্য বা পদ্যের একটি সারাংশ এবং কবি বা লেখক তার সেই রচনার  পশ্চাতে  কি বলতে চেয়েছেন তার একটা বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা থাকত। এই সরলীকরণের ট্রাডিশন সাহিত্য থেকে শুরু করে দর্শন,বিজ্ঞান,আইন প্রভৃতির ক্ষেত্রে সর্বসাধারণের জন্য বজায় আছে। বেদ ও এই পরম্পরার ব্যতিক্রম নয়।     ...

আগামী (১২১)

ছবি
আগামী (১২১) জীবনের বহু ক্ষেত্রের অপূর্ণতাকে কবি মেনে নিয়ে ছিলেন কিন্তু আশাহত হননি বরং একটা পরম্পরা তৈরী করে গিয়েছিলেন, যেই পথ দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের কবিরা তাঁর যাত্রার শেষ থেকে তাদের যাত্রা শুরু করবেন। জীবনের প্রান্তে পৌঁছে তিনি এই আত্মপোলদ্ধি করেছেন এতদিন ধরে যা কিছু বাইরে খুজেছিলেন, সেটা তার মনের অন্তরালে বাস করছে আর সেখানে পৌঁছানোর রাস্তাটা ভীষণ দুর্গম। গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ যদি ধরে নেওয়া হয় কবির জীবনের সেই অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আরেক এক নবীন কবি এই দুর্গমতার রহস্য ভেদের মন্ত্র লিখে ফেললেন  -   "দুর্গম গিরি কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার হে !      লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার।  দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ   ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, কার আছে হিম্মত। কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষত  এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।"  কবিতার লাইনগুলিকে যদি রূপক হিসাবে ধরা হয় , তাহলে তাকে এইভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে - জীবনের যাত্রাপথের রাস্তাটা সর্বস্তরেই ভীষ...

ঐকতান (১২০)

ছবি
 ঐকতান  (১২০) জীবনের পথে কেন এই বৈচিত্রতা ? --- গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০   সৃষ্টির রহস্যের মধ্যেই বৈচিত্রতা   লুকিয়ে আছে। যেখানে সৃষ্টির মূলেই আছে দ্বন্দ সেখানে বৈচিত্র শব্দটি সৃষ্টির সহজাত প্রবৃত্তি হতে বাধ্য  । জীবন যদি   একটি প্রবাহ হয় , তাহলে সেই প্রবাহের কোন না কোন  প্রক্রিয়া থাকতেই  হবে আর সেই প্রক্রিয়ার চরিত্রটাই হচ্ছে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য। প্রকৃতির জগতে বৈচিত্র আছে বা থাকবে কিন্তু মানুষকে তাকে নিয়েই চলতে হবে আর এই বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যসাধনই  জীবনের খেলা। এই বৈচিত্রপূর্ণ বহু পথ এসে কিন্তু ঐক্যমতে মহাসাগরে  মিলে সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অব্যহত রেখেছে।  বৈচিত্রকে নিয়ে লক্ষে পৌঁছনো অসম্ভব। বৈচিত্রের লয় হয় ঐকতানে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের "ঐকতান" কবিতার বিষয়বস্তুকে যদি সেই আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করি তাহলে   - এই কবিতাটি কবির একটা স্টেটমেন্ট হতে পারে,একটা বিশ্ব প্রকৃতির একটা ক্যানভাস হতে পারে, অস্তিত্ববাদ( নিজের মনকে নিয়ে চিন্তাভাবনা) হতে পারে ,একটি শ্রেণী চেতনার ইতিহাস হতে পারে, একটা গনসংগীত হতে পার...

সহাবস্থান (১১৯)

ছবি
সহাবস্থান (১১৯) যে আদর্শকে সামনে রেখে ঋষিরা এই সত্য আবিষ্কারের জন্য নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন তাকে বাস্তবায়িত না করে অর্থাৎ তত্ত্বের সঠিক প্রয়োগ না করে ক্ষান্ত হবেন না --- গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ ধর্মীয় দর্শনের সত্যগুলি সাধারণমানুষের নাগালের বাইরে ছিল, কারণ ভাব সাগরের যে  উচ্চতায় সত্যবস্তুগুলি ভেসে বেড়াচ্ছিল তার তুলনায় সাধারণ মানুষের  কামনা আর বাসনাগুলি স্থানের দূরত্ব ছিল ধরা ছোয়ার বাইরে।   পার্থিব জগতের সৃষ্টিকর্তারাও নাছোড়বান্দা; তারও আধ্যাত্মিক সত্যগুলিকে বেদ আর উপনিষদের আলমারিতে রেখে  হিন্দু ধর্মের পৌরাণিক কাহিনীগুলি নিয়ে এলো বহুল প্রচারিত রামায়ন, মহাভারত আর পুরান থেকে। সেগুলি সাধারনের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা আজ ও বর্তমান।   সৃষ্টির কাজকে অব্যাহত রাখতে মানব জীবনের চারটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত কর্ম পদ্ধতি নির্ধারিত করে দিল, তারা যথাক্রমে, ধর্ম, অর্থ ,কাম এবং মোক্ষ। কামনা-বাসনার কেমিস্ট্রি অনুযায়ী অর্থ যেখানে  সম্পদ গঠনের কাজে ব্যস্ত থাকে, সেখানে কাম ভীষণ ব্যস্ত থাকে সুখভোগের ফিরিস্তি তৈরী করতে। একটা পর্য্য...

আমরা বাস করি আনন্দে (১১৮)

ছবি
  আমরা বাস করি আনন্দে  (১১৮) সৃষ্টির প্রথমবস্থায় জগতের উপর মায়া ভীষণ ক্ষুদ্রাকারে ভাসতে থাকে।ধীরে ধীরে মায়ার ভিতর পুঞ্জিভূত হতে থাকে কামনা ও  বাসনা। উপযুক্ত পরিবেশের সান্নিধ্যে এসে সে কলেবরে বৃদ্ধি পেয়ে এক কৃত্তিম জগৎকে মানুষের সামনে হাজির করে এবং সেই জগৎকেই মানুষ প্রত্যক্ষ করে।  গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০     জীবন আর সংগ্রাম এই দুটি শব্দ পাশাপাশি চলতে চলতে  গিয়ে কবে এক দিন একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছে সেটি  বলা অসম্ভব। কখন সে অন্তঃপ্রকৃতিতে আবার কখন সে বাহ্যপ্রাকৃতিতে ভীষণ সমান ভাবে  সক্রিয়। মানুষ যখন চিন্তার জগতে প্রবেশ করে, তখন সে ভাবে যে " আমি আছি " আর পারিপার্শিক দৃশ্যমান পৃথিবীকে দেখে ভেবে নেয়, সঙ্গে " আমার জগৎ আছে " আর "আমি এই জগতের অংশ " এবং  জগৎই শেষ কথা। ঠিক এই জায়গায় থেকে যে দর্শনের জন্ম নেয় সেই দর্শনকে বলে ভৌতবাদ বা বস্তুবাদী দর্শন।  মানুষের চিন্তা ক্রমান্বয়ে আরো এগিয়ে চলে, চলতে চলতে ভাবে; আর বাস্তবের সাথে  সেই চিন্তাকে খাপ খাওয়াতে চায়, চিন্তার সাথে বুদ্ধি জোট বাধে, শুরু হয় চিন্তার থেকে উদ্ভূত ভাবন...

সভ্যতার নামে প্রহসন (১১৭)

ছবি
  সভ্যতার নামে প্রহসন (১১৭)  বর্তমানে পৃথিবীর মানব সমাজকে বিশেষণে ভূষিত করে যত্ন করে সম্বোধন করা হয় সভ্য সমাজ হিসাবে। এই উপাধি কে দিয়েছে, কেন দিয়েছে বা কারা দিয়েছে তা আজ ভেবে দেখা দরকার । আমরা ভারতবর্ষকে এক প্রাচীন সভ্য দেশ বলে থাকি । কিন্তু একথা কি আমরা ভেবে দেখেছি যে এ দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যাবস্থা এ দেশে মানুষের সাথে মানুষের আচরণ বিধি  যা প্রচলিত আছে তা যদি সভ্যতা হয় তা হলে অসভ্য সমাজ বলব কোন সমাজ কে ?  যদি বলা হয় যে ভারতবর্ষ একটি অসভ্য দেশ তা হলে সঙ্গে সঙ্গে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ ও দেশের সরকার সমস্বরে বলে উঠবে, এ কথাটি  অসত্য কথা। কারণ ভারতীয় সভ্যতা হল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন  শ্রেষ্ঠতম সভ্যতা। যদি বলা হয়  এসবের প্রকৃত ব্যাখ্যা কি? তখন তারা বলবেন,  কেন  বেদের মত শ্রুতি সাহিত্য , বুদ্ধ দেবের মত মহান পুরুষ , অশোকের মতো রাজা  ( অন্যন্য রাজার কথা উহ্য থাকবে) ,  শ্রীচৈতন্যর মত  মানব  প্রেমিক , শ্রীরামকৃষ্ণের মত   অবতার, স্বামী বিবেকানন্দর মত দার্শনিক সন্ন্যাসী , রবীন্দ্রনাথের মত  বিশ্ব বন্দিত কবি ও মানবতাবাদী, শরতচ...

সৃষ্টির মুলে দ্বন্দ (১১৬)

ছবি
  সৃষ্টির মুলে দ্বন্দ   (১১৬) মানুষ এই পৃথিবীতে প্রত্যক্ষ করতে পেরেছেন তার এবং তারও  বাইরে অস্তিত্ব আছে, সেটা কিন্তু মানুষের দেখার বা জানার বাইরে, তারাও কিন্তু এই চৈতন্য বা পুরুষের অংশমাত্র।  চৈতন্য হলো এক অখন্ডতার ধারণা , তাকে আলাদা করে ভাবা ভুল।  গত সংখ্যার পর  ০ ০ ০ ০ ০ অংশ কখনই সমগ্রের সমান হতে পারেনা, এইটা ভীষণ সহজ কথা। দৃশ্যমান জগৎই মানুষের পৃথিবী। কেন মানুষ এই চৈতন্যকে প্রতক্ষ্য করতে পারেনা ? দেখা আর না দেখার মাঝখানে পর্দা যদি না থাকতো তাহলে অস্বচ্ছতা থাকতোনা।সেই কারণে  ধরে নেওয়া যেতে পারে দৃষ্টির উপর নিশ্চয়ই কোন আবরণ পরে আছে। সেই আবরণটি কোথায় থাকে? ইতিপূর্বে আমরা জেনে গেছি , ইন্দ্রিয়ের পিছনে মন না থাকলে কোন কিছুকে দেখা বা জানা যায়না। প্রত্যক্ষ করা সব বস্তুকে বিশ্লেষণ করার দায়িত্ব বুদ্ধির আর যখন এই বুদ্ধির উপর অহংকার নামক পর্দা পরে যায়, তখন সে গিয়ে মানুষের বুদ্ধি বা চিন্তা শক্তিকে আছন্ন করে রাখে বা ভুল পথে চালিত করে।  মায়ার ছলনায় মানুষ জাগ্রত , স্বপ্ন ও সুষুপ্তি এই তিন অবস্থার অসাড়ত্বে বাস করে।...